📄 আহলে কিবলাকে তাকফিরের ব্যাপারে সাহাবিদের সতর্কতা
যে-সকল ব্যক্তি ইসলাম ও তার 'জরুরিয়াতে দীন' স্বীকার করে, তাদেরকে আহলে কিবলা বলা হয়। রাসুল ﷺ আহলে কিবলাকে তাকফির করতে নিষেধ করেছেন। এর আলোকে সাহাবিগণ তাকফিরের ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন। এক বর্ণনায় এসেছে,
سَأَلَ رَجُلٌ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ هَلْ كُنْتُمْ تُسَمُّونَ أَحَدًا مِنْ أَهْلِ الْقِبْلَةِ كَافِرًا؟ قَالَ: مَعَاذَ اللَّهِ، قَالَ: فَهَلْ تُسَمُّونَهُ مُشْرِكًا؟ قَالَ: لَا.
জনৈক ব্যক্তি জাবির ইবনু আবদিল্লাহ রা.-কে জিজ্ঞেস করে, আপনারা কি কোনো আহলে কিবলাকে কাফির আখ্যায়িত করেন? তিনি বললেন, আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। সেই ব্যক্তি জিজ্ঞেস করে, তাহলে আপনারা কি আহলে কিবলাকে মুশরিক বলেন? তিনি বললেন, না।
সাহাবিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য-সংখ্যক মতবিরোধের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি কখনো এর পরিণতিতে যুদ্ধ-বিগ্রহ পর্যন্ত গড়িয়েছে। 'মুশাজারাতে সাহাবা' শিরোনামে যে বিষয়গুলো অদ্যাবধি ইতিহাসের পাতায় সংরক্ষিত রয়েছে। এতৎসত্ত্বেও তারা কখনো এসবের জের ধরে অন্যায়ভাবে কাউকে তাকফির করেননি। কারও কুফর ও রিদ্দাহ সুনিশ্চ истиত ও সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ার আগে কখনো আহলে কিবলার ব্যাপারে কাফির-মুশরিক শব্দ প্রয়োগ করেননি। এ ব্যাপারে তাঁরা ছিলেন অত্যন্ত সতর্ক। পরবর্তী উম্মাহও প্রজন্ম পরম্পরায় তাঁদের এ আদর্শ ধারণ করেছে। ইমাম আজদুদ্দিন ইজি রাহ. (মৃত্যু: ৭৫৬ হিজরি) লেখেন,
جمهور المتكلمين والفقهاء على أنه لا يكفر أحد من أهل القبلة.
'সংখ্যাগরিষ্ঠ মুতাকাল্লিম ও ফকিহ এই আদর্শের ওপর রয়েছেন যে, কোনো আহলে কিবলাকে তাকফির করা হবে না।
টিকাঃ
১২৩ উসুলুস সুন্নাহ, ইবনু আবি জামনিন : ১৪৪১
১২৪ শারহুল মাওয়াকিফ: ৮/৩৭০।