📄 ইমাম শাতিবির দৃষ্টিতে লুজুম ও ইলতিজামের পার্থক্য
ইমাম শাতিবি রাহ. (মৃত্যু: ৭৯০ হিজরি) লেখেন,
الذي كنا نسمعه من الشيوخ أن مذهب المحققين من أهل الأصول أن الكفر بالمآل ليس بكفر في الحال، كيف والكافر ينكر ذلك المآل أشد الإنكار ويرمي مخالفه به، ولو تبين له وجه لزوم الكفر من مقالته لم يقل بها على حال.
'আমরা শায়খদের থেকে শুনে আসছি যে, উসুল-শাস্ত্রবিদ মুহাক্কিক আলিমগণের মাজহাব হলো, কোনো কথা বা কাজের লাজিম কুফর হলে সেটাকে তৎক্ষণাৎ কুফর বলার সুযোগ নেই। সেটাকে কুফর বলা কীভাবে সম্ভব, যেখানে সেই ব্যক্তি এসব লাজিমকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে এবং তার বিরোধীদের সেই অভিযোগ ছুঁড়ে মারে। এমনকি তার সামনে যদি স্পষ্ট হয়ে যেত যে, তার কথার লাজিম হিসেবে কুফর সাব্যস্ত হচ্ছে, তাহলে সে কোনো অবস্থাতেই সেই কথা বলত না।’
টিকাঃ
** আল-ইতিসাম, মাসায়িল ফি হাদিসি ইফতিরাকিল উম্মাতি আলা সালাসিন ওয়া সাবইনা ফিরকাতান: ২/৭০৮।
📄 ইবনু তাইমিয়ার দৃষ্টিতে লুজুম ও ইলতিজামের পার্থক্য
ইমাম ইবনু তাইমিয়া রাহ. (মৃত্যু : ৭২৮ হিজরি) লেখেন,
لا يلزم إذا كان القول كفرا أن يكفر كل من قاله مع الجهل والتأويل؛ فإن ثبوت الكفر في حق الشخص المعين كثبوت الوعيد في الآخرة في حقه، وذلك له شروط وموانع.
'কোনো কথা কুফর হওয়ার দ্বারা এটা অপরিহার্য হয় না যে, যারাই অজ্ঞতা বা তাওয়িলের (ব্যাখ্যা) সঙ্গেও সেই কথা বলবে, তাদের সবাইকে তাকফির করা হবে। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ব্যাপারে কুফর সাব্যস্ত হওয়া আখিরাতে তার ব্যাপারে শান্তি সাব্যস্ত হওয়ার মতোই। আর এর অনেক শর্ত ও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে।
টিকাঃ
*** মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়া, ফাসলু কালামি রাফিজি আলা দালালাতিল আকলি ইনদাহু আলাল আফআলিল ইখতিয়ারিয়া ওয়ার রাদ্দি আলাইহি : ৫/২৪০।
📄 আল্লামা শামির দৃষ্টিতে লুজুম ও ইলতিজামের পার্থক্য
আল্লামা ইবনু আবিদিন শামি রাহ. (মৃত্যু: ১২৫২ হিজরি) লেখেন,
أما المعتزلة فمقتضى الوجه حل مناكحتهم؛ لأن الحق عدم تكفير أهل القبلة، وإن وقع إلزاما في المباحث اه. وقوله: "وإن وقع إلزاما في المباحث" معناه: وإن وقع التصريح بكفر المعتزلة ونحوهم عند البحث معهم في رد مذهبهم بأنه كفر، أي يلزم من قولهم بكذا الكفر، ولا يقتضي ذلك كفرهم؛ لأن لازم المذهب ليس بمذهبهم.
'দলিলের দাবি হলো, মুতাজিলাদের সঙ্গে বিয়ে বৈধ হবে। কারণ, হক মত হলো, আহলে কিবলাকে তাকফির করা হবে না; যদিও বিভিন্ন অধ্যায়ে লাজিম হিসেবে তাদের তাকফিরের কথা এসেছে। অর্থাৎ, মুতাজিলাদের খন্ডন প্রসঙ্গে ফকিহগণের বিভিন্ন আলোচনায় এরূপ কথা এসেছে যে, এটা (মুতাজিলা মতবাদের ১. অন্তর্ভুক্ত বিষয়) কুফর। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, তাদের এ কথার কারণে কুফর লাজিম (অপরিহার্য) হয়; কিন্তু এ কারণে তারা কাফির হবে না। কারণ, মাজহাবের লাজিম মূল মাজহাব নয়। (তাই স্রেফ এর ভিত্তিতে তাকফির হয় না।)'
টিকাঃ
১১০ হাশিয়াতু ইবনি আবিদিন আলাদ দুররিল মুখতার, কিতাবুন নিকাহ, ফাসলুন ফিল মুহাররামাত: ৩/৪৫।
📄 সুস্পষ্ট লুজুম ইলতিজামের অনুরূপ
এখানে একটি বিষয় ভালোভাবে বোঝা দরকার। উপরিউক্ত পুরো আলোচনা সে ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেখানে লুজুম পুরোপুরি নিশ্চিত ও অকাট্য নয় এবং তার কারণে কুফরের যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে তা-ও একেবারে স্পষ্ট নয়। কারণ, ধারণা, অনুমান বা সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে তাকফির করা যায় না। পক্ষান্তরে কোথাও যদি লুজুম পুরোপুরি সুনিশ্চিত এবং লাজিম একেবারে স্পষ্ট ও সুবিদিত হয়, তাহলে তা ইলতিজামের অনুরূপ বলেই বিবেচিত হয়। এর ভিত্তিতে তাকফিরও করা যায়। সুতরাং কুফরি কথা বা কাজ ইলতিজাম করার দ্বারা ব্যক্তি যেমন কাফির হয়ে যায়, অনুরূপ এমন কাজে লিপ্ত হওয়ার কারণেও ব্যক্তি কাফির বলে বিবেচিত হয়, যার সঙ্গে কুফর এতটাই ওতপ্রোতভাবে জড়িত যে, প্রত্যেক বিবেকবান মানুষ সে সম্পর্কে জ্ঞাত। ইমাম আবু বাকা কাফাওয়ি রাহ. (মৃত্যু : ১০৯৪ হিজরি) লেখেন,
لزوم الكفر المعلوم كفر، لأن اللزوم إذا كان بينا فهو في الالتزام، لا اللزوم مع عدم العلم به.
'কুফরের সুবিদিত “লুজুম” ও কুফর। কারণ, লুজুম যদি সুস্পষ্ট হয় তা ইলতিজামের অন্তর্ভুক্ত বলে বিবেচিত হবে। তবে লুজুম সুবিদিত না হলে তা কুফর নয়।”
টিকাঃ
১১১ আল-কুল্লিয়াত, ফাসলুল কাফ, কুফর: ৭৬৬।