📘 কুফর ও তাকফির > 📄 কুফরের প্রকার

📄 কুফরের প্রকার


কুফরকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন, এক ভাগ হচ্ছে নিম্নরূপ:
কেউ যদি স্রষ্টার অস্তিত্বই স্বীকার না করে, তাহলে তাকে ‘দাহরি’ বলা হয়। আর যদি সে আল্লাহর অস্তিত্ব স্বীকার করে; কিন্তু তাঁর তাওহিদে (একত্ব) বিশ্বাস না করে, তাঁর সঙ্গে অংশীদার সাব্যস্ত করে, তাহলে তাকে ‘মুশরিক’ বলা হয়। কিছু মানুষ এমন আছে, যারা আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস করে; কিন্তু নবিগণের ওপর ইমান রাখে না। যেমন, ব্রাহ্মণগোষ্ঠী নবুওয়াতে বিশ্বাস করে না। একদল বিবেকপূজারি দার্শনিকও আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছার ক্ষেত্রে নবুওয়াতকে মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করাকে নিজেদের জন্য লজ্জার বিষয় মনে করে।
কেউ যদি অন্যান্য নবির নবুওয়াত স্বীকার করে; কিন্তু মুহাম্মাদ ﷺ -এর নবুওয়াত অস্বীকার করে কিংবা তাঁকে নবি মেনে নেওয়া সত্ত্বেও তার শরিয়া অনুসরণ থেকে নিজেকে বিরত রাখে; অথবা শুধু আরবজাতির জন্য তাঁর নবুওয়াত সীমাবদ্ধ মনে করে, তাহলে তাদের নিজ নিজ বিশ্বাস অনুসারে ইয়াহুদি, খ্রিষ্টান, জরাথ্রুস্ট ইত্যাদি বলা হয়।
কেউ যদি ইসলাম ত্যাগ করে কুফর অবলম্বন করে, তবে তাকে ‘মুরতাদ’ এবং তার এমন কাজকে ‘ইরতিদাদ’ ও ‘রিদ্দাহ’ বলা হয়। আর যদি সে বাহ্যত মুসলিম পরিচয় ধারণ করে অন্তরে কুফরি আকিদা-বিশ্বাস ও ভুল মতাদর্শ লালন করে এবং তার লালিত সেই কুফরকে ইসলামের নামে প্রচার করে, তবে তাকে ‘মুলহিদ’ বা ‘জিন্দিক’ এবং তার এমন কাজকে ‘ইলহাদ’ ও ‘জানদাকা’ নামে অভিহিত করা হয়।
দ্বিতীয় ভাগ হচ্ছে এরূপ :
১. অন্তর দ্বারাও তাসদিক (সত্যায়ন) করে না এবং মুখ দ্বারাও ইকরার (স্বীকারোক্তি) করে না। এটাকে 'কুফরে ইনকার' বলে।
২. অন্তর দ্বারা তাসদিক করে; কিন্তু মৌখিকভাবে ইকরার করে না। এটাকে 'কুফরে জুহুদ' বলে।
৩. মুখ দ্বারা ইকরার করে; কিন্তু অন্তর দ্বারা তাসদিক করে না। এটাকে 'কুফরে নিফাক' বলে।
৪. অন্তর দ্বারা তাসদিক করে এবং মুখ দ্বারা ইকরারও করে; কিন্তু একগুঁয়েমি, হঠকারিতা বা জিদবশত তা গ্রহণ করে না। এটাকে 'কুফরে ইনাদ' বলে。

টিকাঃ
الرِّدَّةُ فِي الإِصْطِلاح: هي كُفْرُ الْمُسْلِمِ بِقَوْلٍ صَرِيحٍ أَوْ لَفْظٍ يَقْتَضِيهِ أَوْ فِعْلٍ يَتَضَمَّنُهُ. - لسان العرب، والصحاح والخرشي ٦٢/٨ ، والقليوبي ٤ / ١٧٤٠
الزَّنْدَقَةُ عِنْدَ جُمْهُورِ الْفُقَهَاءِ إِظْهَارُ الْإِسْلَامِ وَإِبْطَانُ الْكُفْرِ، فَالزَّنْدِيقُ هُوَ مَنْ يُظْهِرُ الْإِسْلَامَ وَيُبْطِنُ الْكُفْرَ . قَالَ الدُّسُوقِي: وَهُوَ الْمُسَمَّى فِي الصَّدْرِ الأَوَّل مُنَافِقًا، وَيُسَمِّيهِ الْفُقَهَاءُ زِنْدِيقًا. – الموسوعة الفقهية الكويتية: لفظ زَنْدَقَة.
৮৬ * দ্রষ্টব্য—শারহুল মাওয়াকিফ, তাজনিব ফি আসনাফিল কুফফার : ৮/৩৪২; শারহুল মাকাসিদ, আস-সামইয়াত: ৩/২৪১; ফাতহুল মুলহিম, কিতাবুল ইমান: ১/৫১১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00