📄 ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান
এই বিশ্বাস লালন করা যে, ফেরেশতা নুরের সৃষ্টি বিশেষ ধরনের মাখলুক। তারা আল্লাহ কর্তৃক বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত। তাদের কিছু কাজ হলো: আল্লাহর নির্দেশে মানুষকে হিফাজত করা, মানুষের আমলের হিসাব রাখা, ওহি নিয়ে অবতরণ করা, প্রাণ সংহার করা, বৃষ্টি বর্ষণ করা, চাঁদ ও সূর্যের উদয়-অস্ত নিয়ন্ত্রণ করা, জিকিরের মজলিসে উপস্থিত হওয়া ও আমল নিয়ে ঊর্ধ্বাকাশে ওঠা ইত্যাদি। কুরআন ও হাদিসে তাঁদের যেসব কাজের বর্ণনা এসেছে, আমরা সেগুলোতে বিশ্বাস করি। আল্লাহ বিভিন্ন কাজে তাঁদের লাগিয়ে রেখেছেন তাঁদের প্রতি কোনো মুখাপেক্ষিতা ছাড়াই। এর পেছনে আল্লাহর হিকমাহ এবং অন্তর্নিহিত রহস্য রয়েছে, যার ব্যাপারে তিনিই সর্বাধিক অবগত। কুরআনুল কারিমের অসংখ্য আয়াতে এবং রাসুলের অগণিত হাদিসে ফেরেশতাদের আলোচনা এসেছে। তাঁরা যেহেতু দৃশ্যমান ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয়, সুতরাং তাঁদের ব্যাপারে নুসুসে বিশুদ্ধ সূত্রে আমাদের যতটুকু জানানো হয়েছে, এর বাইরে তাঁদের ব্যাপারে আমরা কিছু জানি না। সুতরাং ফেরেশতাদের প্রতি তাফসিলি ইমান নয়; বরং ইজমালি ইমানই যথেষ্ট।
📄 কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান
আল্লাহ তাআলা নবি ও রাসুলগণের প্রতি যত কিতাব ও সহিফা অবতীর্ণ করেছেন, সবগুলোর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। তাওরাত, জাবুর, ইনজিল, কুরআন এবং সহিফাসমূহ হক-সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, এই আকিদা অন্তরে বদ্ধমূল রাখতে হবে। তবে আমরা এ-ও বিশ্বাস করি, কুরআনের পূর্বে আল্লাহর পক্ষ থেকে যেসব কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে, সেগুলো মানুষের হাতে বিকৃত ও পরিবর্তিত হয়েছে। শুধু এই কুরআন সংরক্ষণের দায়িত্ব আল্লাহ নিজে নিয়েছেন। [সুরা হিজর (১৫) : ৯] কুরআন মাজিদ পূর্ববর্তী সব কিতাব রহিতকারী এবং সেগুলোর বক্তব্যের সত্যায়নকারী। [সুরা মায়িদা (৫): ৪৮] একইভাবে আমরা সকল নবি ও রাসুলের প্রতিও ইমান রাখি। আমরা কারও নবুওয়াত ও রিসালাতকেই অস্বীকার করি না। [সুরা বাকারা (২) : ২৮৫] তবে শরিয়ত পালনের ক্ষেত্রে আমরা কেবল মুহাম্মাদ ﷺ -এর শরিয়ত অনুসরণ করি। কারণ, সবার দীন ও মিল্লাত এক থাকলেও প্রত্যেকের শরিয়ত ছিল স্বতন্ত্র। [সুরা মায়িদা (৫) : ৪৮] তবে কুরআনের ওপর থাকবে তাফসিলি ইমান এবং পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের ওপর থাকবে ইজমালি ইমান। কুরআন পূর্ববর্তী সব আসমানি কিতাবের সত্যায়নকারী। তাই কুরআনের ওপর তাফসিলি ইমান আনয়নের দ্বারা পূর্বের সব কিতাবেরও সত্যায়ন হয়ে যাবে। আর বিশ্বাস রাখতে হবে, কুরআন আল্লাহ নাজিল করেছেন। এটি তাঁর কালাম। কুরআন মাখলুক (সৃষ্ট) নয়; বরং এটি স্রষ্টার সিফাত (গুণ)। কুরআন মহান রব থেকে প্রকাশিত এবং তা তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তন করবে।
টিকাঃ
* নুসুস: কুরআন ও হাদিসের পাঠ।
** বিস্তৃত, ব্যাপক।
“ সংক্ষিপ্ত, অস্পষ্ট, মোটামুটি।
* বিস্তারিত জানতে পড়ুন লেখকের অনূদিত গ্রন্থ- মিল্লাতে ইবরাহিমের জাগরণ।
📄 নবিগণের প্রতি ঈমান
'নবি' অর্থ সংবাদদাতা। 'রাসুল' অর্থ দূত ও বার্তাবাহক। পরিভাষায় নবি ও রাসুল বলা হয় সে-সকল মহান ব্যক্তিকে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের কাছে বিধিবিধান পৌঁছানোর জন্য যাদের নির্বাচিত করেছেন। আদম আ. থেকে শুরু করে মুহাম্মাদ ﷺ পর্যন্ত আল্লাহ অসংখ্য-অগণিত নবি-রাসুল পাঠিয়েছেন। তাঁদের প্রকৃত সংখ্যা কত ছিল, তা আল্লাহই ভালো জানেন। আমাদের এই আকিদা পোষণ করা জরুরি যে, তাঁদের সংখ্যা যা-ই হোক, তাঁরা সবাই হকের ওপর ছিলেন। মানবজাতির মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের উত্তম গুণ ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী ছিলেন। আমাদের জন্য ইমান আনয়নের ক্ষেত্রে نبيগণের মধ্যে পার্থক্য করা জায়িজ নেই যে, কোনো নবির ওপর ইমান আনব; আর কোনো নবিকে অস্বীকার করব।
اٰمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَئِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّنْ رُّسُلِهِ ، وَقَالُوا سَمِعْنَا وَ أَطَعْنَا * غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ
রাসুল সেই বিষয়ের প্রতি ইমান এনেছেন, যা তাঁর ওপর তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং (ইমান এনেছে) মুমিনরাও। তারা সবাই আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি এবং তাঁর রাসুলগণের প্রতি ইমান এনেছেন। (তারা বলে,) আমরা আল্লাহর রাসুলগণের মধ্যে পার্থক্য করি না (যে, কারও প্রতি ইমান আনব এবং কারও প্রতি আনব না) এবং তারা বলে, আমরা (আল্লাহ ও রাসুলের বিধানসমূহ মনোযোগসহ) শুনেছি এবং তা খুশিমনে মেনে নিয়েছি। হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা আপনার মাগফিরাতের ভিখারি আর আপনারই কাছে আমাদের ফিরে যেতে হবে। [সুরা বাকারা (২): ২৮৫]
সুতরাং প্রত্যেক মুসলিমের জন্য সকল নবির ওপর ইমান আনা অপরিহার্য। কেউ যদি এমন কারও প্রতি ইমান না রাখে, যাঁর নবুওয়াত বা রিসালাত অকাট্যভাবে প্রমাণিত, কিংবা তাঁর শানে গোস্তাখি করে, তাহলে সে মুরতাদ (ইসলামচ্যুত) হয়ে যাবে।
📄 শেষদিবসের প্রতি ঈমান
এই আকিদা রাখা যে, এই দুনিয়ায় কেউ চিরকাল থাকবে না। একদিন গোটা বিশ্বজগৎ ধ্বংস হয়ে যাবে, যে দিনকে কিয়ামত দিবস বলা হয়। সে সময় প্রাণবিশিষ্ট সব সৃষ্টির ওপর মৃত্যু আপতিত হবে। আবার মৃত্যুর পর নির্ধারিত সময়ে সবাই পুনরুজ্জীবিত হবে। এরপর আল্লাহ প্রত্যেকের ইমান ও আমলের হিসাব নেবেন। তারপর তিনি জান্নাতিদের জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং জাহান্নামিদের জাহান্নামে ছুঁড়ে ফেলবেন।