📘 কুফর ও তাকফির > 📄 ঈমানের শাব্দিক অর্থ

📄 ঈমানের শাব্দিক অর্থ


ইমান' শব্দের আক্ষরিক অর্থ নিশ্চিন্ত ও নির্ভয় করা। ইমানকে 'ইমান' শব্দে নামকরণের কারণ হলো, মুমিন ব্যক্তি যাদের প্রতি ইমান আনে, তাদের নিজের পক্ষ থেকে অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করা থেকে নিশ্চিন্ত ও নির্ভয় করে। তা ছাড়া এর মধ্যে নিরাপদ হওয়ার অর্থও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যেহেতু মুমিন ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করার দ্বারা তার প্রাণ, সম্পদ ও সম্ভ্রম নিরাপদ হয়ে যায়, এ জন্য ইসলামে প্রবেশ করাকে ইমান আনয়ন করা বলে আখ্যায়িত করা হয়।
ইমান শব্দের আরেকটি অর্থ হচ্ছে সত্যায়ন করা। এখানে 'সত্যায়ন করা' কথাটি ব্যাপকার্থবোধক; যার মধ্যে কাউকে সত্যবাদী বলে মনে করা, কাউকে আস্থাভাজন বলে আখ্যায়িত করা এবং কারও প্রতি সত্যতার সম্বন্ধ সম্পর্কিত করা সবই অন্তর্ভুক্ত। যেহেতু কাউকে সত্যায়নের মাধ্যমে নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত হয় এবং তাকেও নিশ্চিন্ত ও নির্ভয় করা হয়, এ কারণে সত্যায়নকে ইমান শব্দে অভিহিত করা হয়।
আকিদাশাস্ত্রের কোনো কোনো ইমাম দ্বিতীয় অর্থটিকে (সত্যায়ন) 'ইমান' শব্দের আক্ষরিক অর্থ হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। কিন্তু অসংখ্য মুহাক্কিক (গবেষক) আলিমের মতানুসারে আরবিভাষায়ও এই শব্দটি 'সত্যায়ন' অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যেমন, আল্লামা আহমাদ ইবনু ফারিস রাহ. (মৃত্যু : ৩৯৫ হিজরি) লেখেন,
الإيمان من الأمن، مصدر من باب الإفعال، وخاصيته التعدية. فإن من خواص باب الإفعال التصيير، كقولهم: ألحم زيد، يعني به صار ذا لحم। এটাকে পরিভাষায় تسمية الشيئ باسم مسببه বলা হয়।
(أمن) الهمزة والميم والنون أصلان متقاربان: أحدهما الأمانة التي هي ضد الخيانة، ومعناها سكون القلب، والآخر التصديق।
অর্থাৎ, ইমান শব্দের একটি অর্থ হচ্ছে সত্যায়ন করা।
আল্লামা সাআদ তাফতাজানি রাহ. (মৃত্যু: ৭৯২ হিজরি) লেখেন,
(والإيمان) في اللغة التصديق، أي إذعان حكم المخبر وقبوله وجعله صادقا، إفعال من الأمن كان حقيقة آمن به آمنه من التكذيب والمخالفة.
'ইমান শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো "সত্যায়ন করা”। অর্থাৎ, সংবাদদাতার হুকুমের আনুগত্য করা, তা গ্রহণ করে নেওয়া এবং তা সত্যে পরিণত করা। এটি "আমনুন” শব্দ থেকে উদ্ভূত, “বাবুল ইফআল”-এর মাসদার (ক্রিয়ামূল)। ইমানকে ইমান নামে নামকরণের তত্ত্বকথা হলো, ইমান গ্রহণকারী যাদের প্রতি ইমান এনেছে, তাদের অস্বীকার ও বিরুদ্ধাচরণ করা থেকে নিরাপদ করেছে।"
আল্লামা সাআদ তাফতাজানি রাহ.-এর বক্তব্যের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আল্লামা আবদুল আজিজ ফারহাওয়ি রাহ. (মৃত্যু : ১২৩৯ হিজরি) সুদীর্ঘ আলোচনা করেছেন। তাঁর পুরো আলোচনার সারকথা হলো, ইমান শব্দটি উপরিউক্ত দুটি অর্থেই ব্যবহৃত হয়। উভয়টিই এই শব্দের মূল অর্থ; কোনোটি রূপক অর্থ নয়।

টিকাঃ
* মাকায়িসুল লুগাত, বাবুল হামজা ওয়াল মিম ওয়া মা বাদাহুমা ফিস সুলাসি: ১৩৩।
• শারহুল আকায়িদিন নাসাফিয়া, মাকতাবাতুল কুল্লিয়াতিল আজহারিয়া কায়রো প্রকাশিত: ১/৭৮।
* আন-নিবরাস: ২৪৫-২৪৬।

📘 কুফর ও তাকফির > 📄 ঈমানের পারিভাষিক অর্থ

📄 ঈমানের পারিভাষিক অর্থ


আল্লামা আজদুদ্দিন ইজি রাহ. (মৃত্যু: ৭৫৬ হিজরি) লেখেন,
وأما في الشرع وهو متعلق ما ذكرنا من الأحكام فهو عندنا وعليه أكثر الأئمة كالقاضي والأستاذ التصديق للرسول فيما علم مجيئه به ضرورة فتفصيلا فيما علم تفصيلا وإجمالا فيما علم إجمالا
'আমাদের দৃষ্টিতে এবং অধিকাংশ ইমামের মতানুসারে শরিয়তের পরিভাষায় ইমানের অর্থ হচ্ছে সেসব বিষয়ে রাসুল ﷺ-কে সত্যায়ন করা, যা তাঁর দীনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ব্যাপারটি আবশ্যিকভাবে জানা গেছে। যে বিষয়গুলো বিস্তারিত জানা গেছে, সেগুলো বিস্তরভাবে বিশ্বাস করা এবং যে বিষয়গুলো সংক্ষিপ্তভাবে জানা গেছে, সেগুলো সংক্ষিপ্তভাবে বিশ্বাস করা।'
আল্লামা সাআদ তাফতাজানি রাহ. (মৃত্যু: ৭৯২ হিজরি) লেখেন, اعلم أن الايمان في الشرع ( هو التصديق بما جاء به من عند الله تعالى) أي تصديق النبي عليه السلام بالقلب في جميع ما علم بالضرورة مجيئه به من عند الله تعالى اجمالا
'শরিয়তের পরিভাষায় ইমান হচ্ছে রাসুল আল্লাহর পক্ষ থেকে যা কিছু নিয়ে এসেছেন, তা সত্যায়ন করা। অর্থাৎ, যেসব বিধানসহ রাসুলের আগমন আবশ্যিকভাবে জানা গেছে, সেসব বিষয়ে সংক্ষিপ্তভাবে তাঁকে অন্তর দ্বারা সত্যায়ন করা।'

টিকাঃ
• যেমন: তাকদির।
১০ আল-মাওয়াকিফ: ৩/৫২৭১।
১১ অর্থাৎ, সত্যায়িত প্রতিটি বিষয়ের বিস্তারিত জ্ঞান থাকা অপরিহার্য নয়।
১২ শারহুল আকায়িদিন নাসাফিয়া: ১/৭৮।

📘 কুফর ও তাকফির > 📄 সংজ্ঞা বিশ্লেষণ

📄 সংজ্ঞা বিশ্লেষণ


১. রাসুলকে সত্যায়ন করা- التصديق للرسول
শরিয়তের দৃষ্টিতে সত্যায়ন বিবেচ্য হতে তাতে তিনটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকা আবশ্যক:
১. অন্তরে সুনিশ্চিত জ্ঞান।
২. রাসুল -কে সত্যবাদী জানা।
৩. রাসুল কর্তৃক আনীত যাবতীয় বিধান আন্তরিকভাবে মেনে নেওয়া এবং তার আনুগত্য করা।
ইমান আনয়নের জন্য শব্দগত বা মানতিকশাস্ত্রে সংজ্ঞায়িত সত্যায়ন যথেষ্ট নয়; বরং শরয়ি সত্যায়ন সাব্যস্ত হতে উল্লিখিত তিনটি বিষয়ই এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকা আবশ্যক। আল্লামা সাআদ তাফতাজানি রাহ. লেখেন, التصديق. أى اذعان حكم المخبر وقبوله وجعله صادقا
'সত্যায়ন হচ্ছে সংবাদদাতা (আল্লাহ ও তাঁর রাসুল)-এর বিধানের সামনে আনুগত্য প্রদর্শন করা, তা গ্রহণ করে নেওয়া এবং তা সত্যে পরিণত করা।'
وليس حقيقة التصديق أن يقع في القلب نسبة الصدق الى الخبر أو المخبر عن غير اذعان وقبول، بل هو اذعان وقبول لذلك، بحيث يقع عليه اسم التسليم. على ما صرح به الامام الغزالي. وبالجملة: هو المعنى الذي يعبر عنه بالفارسية بگرويدن.
'সত্যায়নের তত্ত্বকথা এ নয় যে, আনুগত্য বরণ ও গ্রহণ ব্যতিরেকে শুধু অন্তরে সংবাদ (কুরআন-সুন্নাহ) বা সংবাদদাতা (আল্লাহ ও তাঁর রাসুল)-এর দিকে সত্যতার নিসবত (সম্বন্ধ) তৈরি হবে; বরং সত্যায়ন হলো সত্যায়িত বিষয়ের উদ্দেশে আনুগত্য বরণ করা এবং তা এমনভাবে গ্রহণ করে নেওয়া, যার ব্যাপারে 'আত্মসমর্পণ' শব্দ প্রয়োগ করা যায়; যেমনটা ইমাম গাজালি রাহ. স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। মোদ্দাকথা, সত্যায়নের অর্থ হলো ফার্সিভাষার گرویدن শব্দের অনুরূপ।' উল্লেখ্য, ফার্সিতে گرویدن শব্দের অর্থ হলো 'ফরমাবরদার' তথা আনুগত্যপরায়ণ। 'মুতি' তথা অনুগত। 'পায়রো' ও 'মুতাকিদ' তথা অনুসারী ও ভক্ত। এরপর তিনি বিষয়টি আরও স্পষ্ট করতে লেখেন,
ولو حصل هذا المعنى لبعض الكفار، كان اطلاق اسم الكافر عليه من جهة أن عليه شيئا من أمارات التكذيب والانكار، كما اذا فرضنا ان أحدا صدق بجميع ما جاء به النبي عليه السلام وسلمه وأقر به وعمل. ومع ذلك شد الزنار بالاختيار، أو سجد للصنم بالاختيار، نجعله كافرا، لما أن النبي عليه السلام جعل ذلك علامة التكذيب والانكار.
'এই বৈশিষ্ট্য যদি কোনো কাফিরের অর্জিত হয়, তাহলে তার ওপর 'কাফির' শব্দ প্রয়োগ করা হবে এই বিবেচনায় যে, তার মধ্যে নাকচ ও অস্বীকারের প্রতীক রয়েছে। যেমন ধরুন, কেউ নবি -এর আনীত সবকিছু সত্যায়ন করল, স্বীকারোক্তিও দিলো এবং তা অনুযায়ী আমলও করল; কিন্তু পাশাপাশি সে ইচ্ছাকৃতভাবে (বিধর্মীদের প্রতীক বিশেষ ধরনের) বেল্ট বাঁধল অথবা স্বেচ্ছায় মূর্তিকে সিজদা করল, তাহলে আমরা তাকে কাফির বলে গণ্য করব। কারণ, নবি এগুলোকে নাকচ ও অস্বীকারের প্রতীক বলে নির্ধারণ করেছেন।'
২. আবশ্যিকভাবে বিদিত - معلوم بالضرورة
এর দ্বারা সেসব বিষয় বোঝানো হয়েছে, যেগুলো এতটা ব্যাপক ও বিস্তৃত যে, সাধারণ ও অসাধারণ সবাই তা দীনি আকিদা বা বিধানের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি জানে।" এ ধরনের সব বিষয়ের সত্যায়ন করা এবং এর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা ইমান আনয়নের জন্য অপরিহার্য। শরিয়তের পরিভাষায় এসব বিষয়কে 'জরুরিয়াতে দীন' বলা হয়। কেউ যদি এ ধরনের কোনো বিষয় প্রত্যাখ্যান করে বা সত্যায়ন করতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে সে মুমিন বলে বিবেচিত হবে না। কারণ, জরুরিয়াতে দীনের সত্যায়ন ছাড়া কারও ইমান বিবেচ্য ও গ্রহণীয় হয় না। আল্লামা সাআদ তাফতাজানি রাহ. লেখেন,
تصديق النبي فيما علم مجيئه به بالضرورة أي فيما اشتهر كونه من الدين بحيث يعلمه العامة من غير افتقار إلى نظر واستدلال كوحدة الصانع ووجوب الصلاة وحرمة الخمر ونحو ذلك.
'যা কিছুসহ রাসুলের আগমন আবশ্যিকভাবে বিদিত হয়েছে, সেসব ব্যাপারে তাঁকে সত্যায়ন করা। অর্থাৎ, সেসব ব্যাপারে, যেগুলো দীনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি এতটাই প্রসিদ্ধি লাভ করেছে যে, সাধারণ জনতাও তা জানে। এর জন্য আলাদাভাবে গবেষণা ও যুক্তি-প্রমাণ উপস্থাপনের প্রয়োজন হয় না। যেমন : স্রষ্টার একত্ব, সালাতের অপরিহার্যতা ও মাদকের নিষিদ্ধতা ইত্যাদি। ' ১৬ আল্লামা আবদুল হাকিম শিয়ালকোটি রাহ. লেখেন,
قوله: (فيما علم مجيئه به ضرورة أي فيما اشتهر كونه من الدين بحيث يعلمه العامة بلا دليل.
'যেসব বিষয়সহ রাসুলের আগমন আবশ্যিকভাবে বিদিত হয়েছে, অর্থাৎ, যা কিছু দীনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি এতটা প্রসিদ্ধি লাভ করেছে যে, জনসাধারণও দলিল-প্রমাণ ছাড়াই তা জানে। '১৭ ইমামুল আসর আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশমিরি রাহ. (মৃত্যু: ১৩৫২)-ও একই সংজ্ঞা উল্লেখ করেছেন এবং এর ওপর বিস্তৃত আলোচনা করেছেন তার কালজয়ী ইকফারুল মুলহিদিন গ্রন্থে।

টিকাঃ
১৩ শারহুল আকায়িদিন নাসাফিয়া: ১/৭৮।
১৪ শারহুল আকায়িদিন নাসাফিয়া: ১/৭৮।
১৫ আন-নিবরাস: ২৪৯।
১৬ শারহুল মাকাসিদ, দারুল মাআরিফিন নুমানিয়া পাকিস্তান প্রকাশিত: ২/২৪৭।
১৭ শারহুল মাওয়াকিফ: ৮/৩৫২।
* ইকফারুল মুলহিদিন: ৪১-৪২

📘 কুফর ও তাকফির > 📄 একটি সংশয় নিরসন

📄 একটি সংশয় নিরসন


উপরিউক্ত আলোচনা দেখে পাঠকের মনে হতে পারে, শুধু 'জরুরিয়াতে দীন' অস্বীকার করলেই বোধ হয় ব্যক্তি কাফির হয়। যেসব বিষয় জরুরিয়াতে দীনের অন্তর্ভুক্ত নয়, তা অস্বীকার করলে ইমানের কোনো ক্ষতি হয় না। এ ক্ষেত্রে আমরা বলব, ইসলামের যাবতীয় বিধান বিস্তৃতভাবে বা মোটামুটিভাবে সত্যায়ন করা প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর অপরিহার্য। আকিদা-বিশেষজ্ঞগণ ইমানের সংজ্ঞায় জরুরিয়াতে দীনের কথা উল্লেখের কারণ হলো, এটা তাদের বিশেষ পরিভাষা। আকিদাশাস্ত্রে সাধারণত অকাট্য ও সুনিশ্চিত বিষয়াদি সম্পর্কে আলোচনা হয়। এ জন্য তাঁরা সংজ্ঞার মধ্যেও জরুরিয়াতে দীনের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। অন্যথায় বাস্তবতা হলো, প্রকৃত মুসলিম হতে শুধু 'জরুরিয়াতে দীন' মানাই যথেষ্ট নয়; বরং ইসলামের প্রতিটি প্রমাণিত বিধান সত্যায়ন করা অপরিহার্য, তা যতই সাধারণ হোক না কেন।
তবে এ ক্ষেত্রে লক্ষণীয় বিষয় হলো, তাকফির (কাউকে কাফির বলে ফাতওয়া দেওয়া)-এর সম্পর্ক স্রেফ অকাট্য বিধিবিধানের সঙ্গে। কেউ যদি ইসলামের এমন কোনো বিধান প্রত্যাখ্যান করে, যা অকাট্যভাবে সাব্যস্ত নয়, তাহলে তাকে কাফির বলা যাবে না। আল্লামা আবুল মুয়িন নাসাফি রাহ. লেখেন,
ثم إن هذا المعنى اللغوي وهو التصديق بالقلب هو حقيقة الإيمان الواجب على العبد حقا لله تعالى، وهو أن يصدق الرسول ﷺ فيما جاء به من عند الله تعالى، فمن أتى بهذا التصديق فهو مؤمن فيما بينه وبين الله تعالى، والإقرار يحتاج إليه ليقف عليه الخلق فيجروا عليه أحكام الإسلام.
'ইমানের শাব্দিক অর্থই—অর্থাৎ, অন্তর দ্বারা সত্যায়ন করা—হলো ইমানের তত্ত্বকথা, যা বান্দার ওপর আল্লাহর হক হিসেবে অবধারিত। সুতরাং ইমান হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসুল ﷺ যা কিছু এনেছেন, তা সত্যায়ন করা। যে ব্যক্তি এরূপ সত্যায়ন করবে, সে আল্লাহর কাছে মুমিন বলে বিবেচিত হবে। আর মৌখিক স্বীকারোক্তির প্রয়োজন এ কারণে যে, মানুষ যাতে তার ইমানের ব্যাপারে অবগত হয়ে তার ওপর ইসলামের বিধিবিধান প্রয়োগ করতে পারবে।
উপরিউক্ত সংজ্ঞায় দেখা যাচ্ছে, আল্লামা আবুল মুয়িন নাসাফি রাহ. আকিদা- বিশেষজ্ঞ অন্য ইমামগণের তুলনায় কিছুটা ব্যতিক্রমভাবে এর উপস্থাপন করেছেন। অন্যরা সংজ্ঞা বর্ণনা করতে গিয়ে জরুরিয়াতে দীনের কথা উল্লেখ করে সংজ্ঞা সীমিত করে ফেলেন। অপরদিকে আল্লামা আবুল মুয়িন নাসাফি রাহ. সংজ্ঞার ব্যাপকতা ঠিক রেখেছেন। তিনি শুধু জরুরিয়াতে দীন সত্যায়নের কথা বলেননি; বরং রাসুল কর্তৃক আনীত সব বিধান (তা জরুরিয়াতে দীনের অন্তর্ভুক্ত হোক বা না হোক) সত্যায়নের কথা বলেছেন।
ইমামুল আসর আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশমিরি রাহ. বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন,
من قصره من المتكلمين على الضروريات فلأن موضوع فنهم هو القطعي، لا أن المؤمن به هو القطعي فقط، نعم التكفير إنما يكون بجحوده فقط.
'আকিদা-বিশেষজ্ঞ ইমামগণের মধ্যে যাঁরা ইমানের সংজ্ঞা জরুরিয়াতে দীনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন, তাঁদের এমন করার কারণ হলো, তাঁদের শাস্ত্রের আলোচ্যবিষয় শুধু অকাট্য বিষয়গুলো। এমন নয় যে, ইমান শুধু অকাট্য বিষয়গুলোর ওপরই আনতে হয়। হ্যাঁ, তাকফির শুধু অকাট্য বিষয় অস্বীকারের কারণেই করা যায়।

টিকাঃ
১৯ আত-তামহিদ লি কাওয়ায়িদিত তাওহিদ: ৩৭৭-৩৭৮।
২০ হাশিয়াতু ইকফারিল মুলহিদিন-মাজমুআতু রাসায়িলিল কাশমিরি: ৩/৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00