📘 কুবুরীদের সংশয় নিরসন 📄 ১১শ সংশয়: আমরা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র সাক্ষ্য দেওয়া সত্ত্বেও তোমরা কীভাবে আমাদেরকে পূর্ববর্তী মুশরিকদের অনুরূপ গণ্য করছ?

📄 ১১শ সংশয়: আমরা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র সাক্ষ্য দেওয়া সত্ত্বেও তোমরা কীভাবে আমাদেরকে পূর্ববর্তী মুশরিকদের অনুরূপ গণ্য করছ?


আপনি যখন নিশ্চিত হলেন, রসুলুল্লাহ (ﷺ) যেই মুশরিকদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন, তারা এদের তুলনায় অধিকতর স্বচ্ছ বিবেকবুদ্ধি এবং অধিকতর হালকা শির্কের অধিকারী ছিল। তখন আরেকটি বিষয় মনে রাখবেন। এদের আরেকটি সংশয় আছে। সংশয়টি হচ্ছে— তারা বলে, যাদের ব্যাপারে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে, তারা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' তথা 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই'- এ কথার সাক্ষ্য দিত না। বরং তারা আল্লাহর রসুল (ﷺ)-কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করত, পুনরুত্থান অস্বীকার করত এবং মিথ্যা অভিহিত করত ও জাদু সাব্যস্ত করত কুরআনকে। অথচ আমরা সাক্ষ্য দিই, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রসুল। আমরা কুরআনকে সত্যায়ন করি, পুনরুত্থান বিশ্বাস করি, সালাত পড়ি, রোজা রাখি। তাহলে তোমরা কীভাবে আমাদেরকে ওদের অনুরূপ গণ্য করছ?

[এই সংশয়ের প্রথম জবাব]
এর জবাব হলো— উলামাদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, কোনো ব্যক্তি যদি আল্লাহর রসুল (ﷺ)-কে কোনো ক্ষেত্রে বিশ্বাস করে এবং কোনো ক্ষেত্রে অস্বীকার করে, তাহলে সে কাফির; যে এখনো ইসলামে প্রবেশ করতে পারেনি। অনুরূপ অবস্থা তাদেরও, যারা কুরআনের কিয়দংশের প্রতি ইমান আনে আর কিয়দংশকে করে অস্বীকার। যখন আল্লাহই স্বীয় কিতাবে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন, যে কিছু বিধান বিশ্বাস করে, আর কিছু বিধান অস্বীকার করে, সে প্রকৃত কাফির; তখন এ সংশয়ের নিরসন হয়ে গেছে।

[এই সংশয়ের দ্বিতীয় জবাব]
তাকে আরও বলতে হবে, তুমি যদি এ কথা মান, কোনো ব্যক্তি রসুলকে সত্যায়ন করার পরও সালাতের আবশ্যকতা অস্বীকার করলে সর্বসম্মতিক্রমে কাফির হয়ে যায়, যার জানমাল হালাল। তুমি যদি উক্ত বিষয়গুলো মান, তাহলে এটা তো সুবিদিত বিষয় যে, নবী (ﷺ) যত ফরজ বিধান এনেছেন, সবগুলোর বড়ো ফরজ তাওহিদ। এটা সালাত, জাকাত, রোজা ও হজের চেয়েও বড়ো ফরজ। তাহলে এটা কীভাবে হতে পারে, রসুল (ﷺ) আনীত সকল বিধানের আমল করা সত্ত্বেও এসব কাজের কোনোটি অস্বীকার করলে ব্যক্তি কাফির হয়ে যায়; অথচ সকল রসুলের অভিন্ন দ্বীন— তাওহিদ অস্বীকার করলে ব্যক্তি কাফির হবে না?! সুবহানাল্লাহ! এ অজ্ঞতা তো বড়োই আশ্চর্যজনক!

[এই সংশয়ের তৃতীয় জবাব]
তাকে আরও বলতে হবে, রসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবিবর্গ বনু হানিফার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন, অথচ তারা নবী (ﷺ)-এর সাথে ইসলাম মান্য করেছিল। তারা সাক্ষ্য দিত, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রসুল। সে যদি বলে, তারা বলত, 'মুসাইলামা একজন নবি।' তাহলে আমরা বলব, এটাই তো কাঙ্ক্ষিত কথা। কেউ যদি কোনো ব্যক্তিকে নবী (ﷺ)-এর মর্যাদায় উন্নীত করে কাফির হয়, তার জানমাল হালাল হয়ে যায়; তাহলে ওই ব্যক্তির ব্যাপারটি কীরূপ হতে পারে, যে শামসান, বা ইউসুফ, কিংবা কোনো সাহাবি, বা নবিকে আকাশমণ্ডলী ও জমিনের প্রতাপশালী সম্রাটের মর্যাদায় আসীন করে?!

[এই সংশয়ের চতুর্থ জবাব]
তাকে আরও বলা হবে, আলি বিন আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু যাদেরকে আগুনে পুড়িয়ে মেরেছিলেন, তারা সবাই নিজেদেরকে মুসলিম দাবি করত। সাহাবিদের কাছ থেকে তারা ইলম শিখেছিল। কিন্তু তারা আলির ব্যাপারে ঠিক সেরকম বিশ্বাস পোষণ করত, যেরকম বিশ্বাস রাখা হয় ইউসুফ, শামসান ও তাদের অনুরূপ লোকদের ব্যাপারে। তো সকল সাহাবি তাদের কাফির হওয়ার বিষয়ে এবং তাদেরকে হত্যা করার ব্যাপারে কীভাবে একমত হয়েছিলেন?!

[এই সংশয়ের পঞ্চম জবাব]
তাকে আরও বলতে হবে, বনু আব্বাসের শাসনামলে মরক্কো ও মিশরে আধিপত্য কায়েমকারী বানু উবাইদ আল-কাদ্দাহ জনগোষ্ঠীর প্রত্যেকেই সাক্ষ্য দিত, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রসুল। তারা নিজেদের মুসলিম দাবি করত এবং জুম্মা ও জামাতবদ্ধ সালাতও আদায় করত। তারা যখন কিছুক্ষেত্রে শরিয়তবিরোধিতা জাহির করল, তখন উলামাগণ তাদের কাফির হওয়ার বিষয়ে এবং তাদেরকে হত্যা করার ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছিলেন।

[এই সংশয়ের ষষ্ঠ জবাব]
তাকে আরও বলা হবে, পূর্ববর্তী মুশরিকরা যদি শির্ক, রসুল ও কুরআনকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা প্রভৃতি সমুদয় কুফর সংঘটিত করার পরই কেবল কাফির হয়; তাহলে 'মুরতাদ তথা ইসলামগ্রহণের পর কাফির হয়ে যাওয়া মুসলিমের বিধান' শীর্ষক অধ্যায়ের মানে কী, যে অধ্যায়টি প্রত্যেক মাযহাবের উলামাগণ উল্লেখ করেছেন? ছাড়াও তাঁরা অনেকগুলো প্রকার উল্লেখ করেছেন। প্রত্যেকটি প্রকার (স্বতন্ত্রভাবে) ব্যক্তিকে কাফির করে দেয়।

টিকাঃ
৬৯. অনুবাদকের টীকা: বর্তমান মুশরিকদের শির্কের চেয়ে পূর্ববর্তী মুশরিকদের শির্ক যে তুলনামূলক হালকা ছিল তা প্রমাণ করতে হানাফি বিদ্বান আল্লামা মাহমুদ শুকরি আল-আলুসি তাঁর 'গায়াতুল আমানি' গ্রন্থে হুবহু 'কাশফুশ শুবুহাতের' এই পরিচ্ছেদ উল্লেখ করেছেন।
৭০. সূরা আলে ইমরান-৩:৯৭।
৭১. অনুবাদকের টীকা: জানমাল হালাল মানে এ ধরনের ব্যক্তি মুরতাদ তথা ধর্মত্যাগী। এদের জান ও মাল হরণ করা বৈধ। কিন্তু এই বিধান সব কাফিরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
৭২. সুরা নিসা-৪:১৫০-১৫১।
৭৩. তারিখুত তাবারি, খণ্ড: ২; পৃ.২৭৫; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড: ৬; পৃ.৩২৩।
৭৪. অনুবাদকের টীকা: শামসান ও ইউসুফ দুজন মানুষের নাম। এরা ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের নিকটবর্তী সময়ের মানুষ ছিল।
৭৫. সুরা রুম-৩০:৫৯।
৭৬. অনুবাদকের টীকা: সহিহ বুখারির বর্ণনায় এসেছে, ইকরিমাহ বর্ণনা করেছেন, আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু একটি সম্প্রদায়কে পুড়িয়েছেন।

📘 কুবুরীদের সংশয় নিরসন 📄 বনু ইসরাইল ও জাতু-আনওয়াতের ঘটনায় বিদ্যমান জ্ঞাতব্য বিষয়াবলি

📄 বনু ইসরাইল ও জাতু-আনওয়াতের ঘটনায় বিদ্যমান জ্ঞাতব্য বিষয়াবলি


সর্বোপরি এই ঘটনা থেকে জানা যায়, একজন সাধারণ মুসলিম, বরং একজন আলিম পর্যন্ত কখনো কখনো অজ্ঞতাবশত শির্কের নানাবিধ প্রকারে নিপাতিত হতে পারে। এ থেকে বোঝা যায়, তাওহিদ বিষয়ক জ্ঞান চর্চা করা এবং এ বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। এও জানা যায় যে, অজ্ঞ ব্যক্তির ব্যক্তীকৃত-'আমাদের তাওহিদ বোঝা হয়ে গেছে'- কথাটি সবচেয়ে বড়ো অজ্ঞতা এবং শয়তানি চক্রান্তগুলোর অন্যতম।

ঘটনা থেকে প্রতিভাত হয়, ইবাদত ও ইসলাম সচেষ্ট মুসলিম যদি না জেনে কুফুরি কথা বলে ফেলে, এরপর তাকে সতর্ক করা হলে তৎক্ষণাৎ তা থেকে ফিরে আসে, তাহলে সে কাফির হবে না। যেমনটি করেছিল বনু ইসরাইল সম্প্রদায়ের লোকেরা এবং রসুলুল্লাহ (ﷺ)-কে প্রশ্নকারী সাহাবিবর্গ।

ঘটনা থেকে আরও জানা যায়, ব্যক্তি যদি (কুফুরি কথা বলার পরে) কাফির নাও হয়, তবুও তার বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর কথা বলতে হবে। যেমনটি করেছেন রসুলুল্লাহ (ﷺ)।

📘 কুবুরীদের সংশয় নিরসন 📄 ১২শ সংশয়: যে বান্দা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে, সে যা-ই করুক না কেন, তাকে কোনোভাবেই কাফির বলা কিংবা হত্যা করা চলবে না

📄 ১২শ সংশয়: যে বান্দা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে, সে যা-ই করুক না কেন, তাকে কোনোভাবেই কাফির বলা কিংবা হত্যা করা চলবে না


মুশরিকদের আরেকটি সংশয় আছে। তারা বলে, উসামা রাদিয়াল্লাহু আনহু 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা ব্যক্তিকে হত্যা করলে তাঁকে ভর্ৎসনা করে নবী (ﷺ) বলেছিলেন, “সে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলার পরেও তুমি তাকে হত্যা করলে?!” অনুরূপভাবে নবী (ﷺ) বলেছেন, “মানুষরা যে পর্যন্ত 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' না বলছে, সে পর্যন্ত আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি।” এতদ্ব্যতীত যে কালিমা বলেছে তার ওপর চড়াও হওয়া থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে আরও হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

এই মূর্খ লোকগুলোর কথার উদ্দেশ্য— যে ব্যক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেছে, সে যা-ই করুক না কেন, তাকে কাফির বলা যাবে না এবং হত্যা করাও চলবে না। তো এই মূর্খ মুশরিকদের বলতে হবে, রসুল (ﷺ) যে ইহুদিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন এবং তাদেরকে বন্দি করেছিলেন, তা সুবিদিত বিষয়। যদিও ইহুদিরা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' আওড়াত। এটাও সবার জানা রয়েছে যে, রসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবিগণ বনু হানিফার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। অথচ তারা 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, আর মুহাম্মাদ আল্লাহর রসুল'- কথাটির সাক্ষ্য দিত, সালাত পড়ত এবং নিজেদের মুসলিম বলে দাবি করত। একই অবস্থা ছিল তাদেরও, যাদেরকে আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছিলেন।

কীভাবে এমন হতে পারে, কেউ শাখাগত বিষয় অস্বীকার করলে কালিমা তার কোনো কাজে আসবে না; কিন্তু রসুলদের দ্বীনের মূলভিত্তি ও প্রধান বিষয়— তাওহিদ অস্বীকার করার পরেও তা তার কাজে আসবে?!

প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর দুশমনরা হাদিসগুলোর মর্মার্থ বুঝতে পারেনি। উসামা রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসটি হচ্ছে, তিনি মুসলিম দাবিদার এক ব্যক্তিকে হত্যা করে ফেলেছিলেন। কারণ তিনি মনে করেছিলেন, সে কেবল জানমালের ভয়েই নিজেকে মুসলিম দাবি করেছে। কিন্তু কোনো ব্যক্তি ইসলাম জাহির করলে, তার থেকে নিবৃত্ত হওয়া ওয়াজিব; যতক্ষণ না তার থেকে ইসলামবিরোধী কোনো বিষয় পরিস্ফুটিত হচ্ছে। মহান আল্লাহ এ ব্যাপারে অবতীর্ণ করেছেন, “ওহে যারা ইমান এনেছ, যখন তোমরা আল্লাহর পথে বের হও, তখন প্রত্যেক বিষয় যাচাই করে নাও, এবং কেউ তোমাদেরকে 'সালাম' দিলে তাকে বল না যে, 'তুমি মুমিন নও'।” অর্থাৎ তোমরা (প্রতিটি বিষয় যাচাই করে) সুনিশ্চিত হও।

এ আয়াত থেকে প্রতীয়মান হয়, মুসলিম দাবিদার ব্যক্তির ওপর চড়াও হওয়া থেকে নিবৃত্ত হওয়া এবং তার ব্যাপারে সুনিশ্চিত হওয়া ওয়াজিব। পরবর্তীতে তার থেকে যদি ইসলামবিরোধী কোনো বিষয় প্রকাশিত হয়, তাহলে তাকে হত্যা করা হবে। কারণ আল্লাহ বলেছেন, 'তোমরা যাচাই করে নাও।' কেউ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বললে তাকে যদি বিলকুল হত্যা করা নাই যায়, তাহলে এই যাচাইয়ের কোনো অর্থ থাকে না।

তদ্রুপ অপর হাদিস ও তার অনুরূপ হাদিসগুলোর অর্থও তাই, যা আমরা উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ যে ব্যক্তি ইসলাম ও তাওহিদ জাহির করবে, তার থেকে নিবৃত্ত হওয়া ওয়াজিব। তবে ইসলাম-বিনাশী কোনো বিষয় তার থেকে প্রকাশিত হলে সে কথা ভিন্ন (তখন আর নিবৃত্ত হওয়া ওয়াজিব নয়)। আমাদের এ কথার পক্ষে দলিল- যেই আল্লাহর রসুল (ﷺ) বলেছেন, “সে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলার পরেও তুমি তাকে হত্যা করলে?!” এবং বলেছেন, “মানুষরা যে পর্যন্ত 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' না বলছে, সে পর্যন্ত আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি।” সেই রসুল (ﷺ)-ই খারেজিদের ব্যাপারে বলেছেন, “তোমরা এদেরকে যেখানেই পাবে, হত্যা করে ফেলবে।” তিনি আরও বলেছেন, “আমি যদি এদেরকে পাই, তাহলে আদ জাতিকে হত্যা করার মতো এদেরকে হত্যা করব।” অথচ খারেজিরা মানুষদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইবাদত করত এবং লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ জপত।

টিকাঃ
৮২. সহিহ মুসলিম, হা/৯৬; ইমান অধ্যায় (১); পরিচ্ছদ: ৪১।
৮৩. সহিহ বুখারি, হা/২৫ ও ৩৯২; সহিহ মুসলিম, হা/২২।
৮৪. সুরা নিসা-৪:৯৪।
৮৫. সহিহ মুসলিম, হা/৯৬; ইমান অধ্যায় (১); পরিচ্ছদ: ৪১।
৮৬. সহিহ বুখারি, হা/২৫ ও ৩৯২; সহিহ মুসলিম, হা/২২।
৮৭. সহিহ বুখারি, হা/৩৬১১; সহিহ মুসলিম, হা/১০৬৬।
৮৮. সহিহ বুখারি, হা/৭৪৩২; সহিহ মুসলিম, হা/১০৬৪।
৮৯. সুরা হুজুরাত-৪৯:৬।

📘 কুবুরীদের সংশয় নিরসন 📄 ১৩শ সংশয়: আল্লাহর পরিবর্তে অন্যের কাছে ফরিয়াদ করা শির্ক নয়; কারণ পরকালে নবিদের কাছে ফরিয়াদ করার বৈধতা বর্ণিত হয়েছে

📄 ১৩শ সংশয়: আল্লাহর পরিবর্তে অন্যের কাছে ফরিয়াদ করা শির্ক নয়; কারণ পরকালে নবিদের কাছে ফরিয়াদ করার বৈধতা বর্ণিত হয়েছে


এদের আরেকটি সংশয় আছে। সংশয়টি হলো- নবী (ﷺ) জানিয়েছেন, কেয়ামতের দিন মানুষেরা বিপদ থেকে উদ্ধার কামনা করবে আদম আলাইহিস সালামের কাছে, এরপর ফরিয়াদ করবে নুহ আলাইহিস সালামের কাছে, তারপর ইবরাহিম আলাইহিস সালামের কাছে, তারপর মুসা এবং তারপরে ঈসা আলাইহিমাস সালামের কাছে। কিন্তু তাঁরা সবাই ওজর পেশ করে দায়িত্বমুক্ত থাকবেন। পরিশেষে তারা রসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে পৌঁছবে। এ হাদিস দিয়ে এরা বলে, এ থেকে প্রতীয়মান হয়, আল্লাহর পরিবর্তে অন্যের কাছে ফরিয়াদ করা শির্ক নয়।

এর জবাবে আপনি বলবেন, সেই সত্তা মহাপবিত্র, যিনি তাঁর শত্রুদের অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন। কারণ মাখলুক যে কাজ করতে সক্ষম, সেক্ষেত্রে তার কাছে ফরিয়াদ করা বা ত্রাণ চাওয়ার বিরোধিতা আমরা করি না। যেমন মহান আল্লাহ মুসা আলাইহিস সালামের ঘটনায় বলেছেন, “সার সম্প্রদায়ভুক্ত লোকটি তার শত্রুর বিরুদ্ধে মুসার কাছে ফরিয়াদ করল (সাহায্য চাইল)।” এমনিভাবে মানুষ যুদ্ধ বা অন্য কোনো পরিস্থিতিতে স্বীয় সাথীবর্গের কাছে সাহায্য চায়— এমনকিছু বিষয়ে, যেসব বিষয়ে মাখলুকরা তাকে সাহায্য করার ক্ষমতা রাখে।

আমরা কেবল ইবাদতমূলক ফরিয়াদের বিরোধিতা করেছি, যে ফরিয়াদ তারা অলিদের কবরের নিকট করে থাকে। কিংবা অলিদের অবর্তমানে এমন বিষয়ে ফরিয়াদ করে বা সাহায্য চায়, যে বিষয়ে আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ সাহায্য করার ক্ষমতা রাখে না। এ বিষয়টি যখন সুসাব্যস্ত হয়ে গেল, তখন কেয়ামতের দিন নবিদের কাছে ফরিয়াদ করা প্রসঙ্গে বলতে হয়। সেদিন মানুষ তাঁদের কাছে চাইবেন, তাঁরা যেন আল্লাহর কাছে মানুষের হিসাব আরম্ভ করার প্রার্থনা করেন। যাতে জান্নাতবাসীরা কেয়ামত-প্রান্তরের দুর্বিষহ দুর্দশা থেকে স্বস্তি লাভ করতে পারে। এ কাজ ইহলৌকিক ও পারলৌকিক উভয় জগতেই বৈধ রয়েছে যে, তোমার সাথে ওঠাবসা করেন এবং তোমার কথা শোনেন, এমন একজন জীবিত সৎ ব্যক্তির কাছে গিয়ে তুমি বলবে, 'আপনি আমার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন।' যেমন রসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবিগণ তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পরে কখনোই তাঁরা তাঁর কবরের কাছে গিয়ে দোয়া চাননি। বরং তাঁর কবরের নিকট গিয়ে যে ব্যক্তি এক আল্লাহর কাছে দোয়া করে, সালাফগণ তারই বিরোধিতা করেছেন। তাহলে তার ব্যাপারটি কেমন হতে পারে, যে সরাসরি নবিজির কাছেই প্রার্থনা করে?

টিকাঃ
৯০. সুরা কাসাস-২৮:১৫।
৯১. অনুবাদকের টীকা: ইমাম শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভির সুযোগ্য পৌত্র ইমাম শাহ ইসমাইল দেহলভি তাঁর 'তাকবিয়াতুল ইমান' (উর্দু) গ্রন্থে কবরপূজারিদের খণ্ডন করেছেন। গ্রন্থটি 'রিসালাতুত তাওহিদ' নামে আরবিতে অনুবাদ করেছেন জনাব সাইয়্যিদ আবুল হাসান আলি নদভি আন-নাকশাবান্দি।

ফন্ট সাইজ
15px
17px