📘 কুবুরীদের সংশয় নিরসন 📄 ৮ম সংশয়: শির্ক মানে মূর্তিপূজা, আমরা তো মূর্তিপূজা করি না

📄 ৮ম সংশয়: শির্ক মানে মূর্তিপূজা, আমরা তো মূর্তিপূজা করি না


সে যদি বলে, 'শির্ক মানে মূর্তিপূজা। আর আমরা মূর্তিপূজা করি না!'

[এই সংশয়ের প্রথম জবাব]
সেক্ষেত্রে আপনি তাকে বলবেন, মূর্তিপূজার মানে কী? তুমি কি মনে করছ, তৎকালীন মুশরিকরা বিশ্বাস রাখত, কাঠ ও পাথর সৃষ্টি করে, রিজিক দেয়, আর তাদের পূজক তথা উপাসকদের বিষয়াদি পরিচালনা করে?! এ দাবিকে স্বয়ং কুরআন মিথ্যা প্রতিপন্ন করে!

পক্ষান্তরে সে যদি বলে, মূর্তিপিয়া মানে কাঠ, অথবা পাথর, কিংবা কবর বা অন্যকিছুর ওপর নির্মিত সৌধের ইবাদত করা। তারা এসবকে ডাকত এবং এসবের উদ্দেশ্যে জবেহ করত। তারা বলত, সে আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করবে, আর তার বরকতে আল্লাহ আমাদের (বিপদাপদ) প্রতিহত করবেন, কিংবা তাঁর বরকতে আমাদেরকে প্রদান করবেন।

তাহলে আপনি বলবেন, তুমি সত্য বলেছ। কবর বা অন্যকিছুর ওপর নির্মিত সৌধ ও পাথরের নিকটে তোমরা যা করো, এটাই সেই কাজ। এ ব্যক্তি স্বীকৃতি দিল, তাদের এ কাজই মূর্তিপূজা। আর এটাই তো কাঙ্ক্ষিত।

[এই সংশয়ের দ্বিতীয় জবাব]
তাকে আরও বলতে হবে, তুমি যে বলছ, শির্ক মানে মূর্তিপূজা। এর মানে কি তুমি বোঝাতে চাইছ, কেবল মূর্তিপূজার মাঝেই শির্ক সীমাবদ্ধ? সৎ ব্যক্তিবর্গের ওপর ভরসা করা এবং শিশুকে ডাকাডাকি করা এর আওতাভুক্ত নয়? আল্লাহ তাঁর কিতাবে যেই আলোচনা করেছেন, তা এই দাবিকে খণ্ডন করে দেয়; আর কুরআনে এসেছে, ফেরেশতাবর্গ, অথবা ঈসা, কিংবা বুজুর্গ লোকদের যারা ইবাদত করেছে তারা কাফির। এজন্য সে স্বীকার করতে বাধ্য হবে, আল্লাহর ইবাদতে যে ব্যক্তি কোনো একজন বুজুর্গ বান্দাকে শরিক করেছে, সেটাই কুরআনে বর্ণিত শির্ক। আর এটাই কাঙ্ক্ষিত।

এ মাসআলার তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়: সে যদি বলে, 'আমি আল্লাহর সাথে শরিক করি না।' আপনি তাকে জিজ্ঞেস করবেন, 'আল্লাহর সাথে শরিক করা বলতে কী বোঝায়? তুমি আমার কাছে ব্যাখ্যা করো।' সে যদি বলে, 'শির্ক হচ্ছে মূর্তিপূজা।' আপনি বলবেন, 'মূর্তিপূজার কাকে বলে? আমার কাছে ব্যাখ্যা করো।' সে যদি বলে, 'আমি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত (উপাসনা) করি না।' তাহলে আপনি বলবেন, 'এক আল্লাহর ইবাদত বলতে কী বোঝায়? আমার কাছে ব্যাখ্যা করো।' সে যদি কুরআনের বিবরণ মোতাবেক ব্যাখ্যা করে, তবে ভালো। সেটাই কাঙ্ক্ষিত। আর সে যদি এসব না জানে, তাহলে সে কীভাবে এমন জিনিস দাবি করছে, যা তার জানাই নেই? অপরপক্ষে সে যদি এগুলোর ভুল ব্যাখ্যা করে, তাহলে আপনি তার কাছে আল্লাহর সাথে কৃত শির্ক এবং মূর্তিপূজার পরিচয় বিষয়ক সুস্পষ্ট আয়াতগুলো বর্ণনা করে জানিয়ে দেবেন, বর্তমান যুগে তারা হুবহু সেই কাজটিই করে চলেছে।

টিকাঃ
৫৩. অনুবাদকের টীকা: আলোচ্য অষ্টম সংশয়ের প্রথম জবাবে ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহ.) যা বলেছেন, সেটা হানাফি বিদ্বান ইমাম মাহমুদ শুকরি আল-আলুসি হুবহু তাঁর 'গায়াতুল আমানি' গ্রন্থে কবরপূজারিদের খণ্ডন হিসেবে আলোকপাত করেছেন।
৫৪. সুরা সাদ-৩৮:৫।

📘 কুবুরীদের সংশয় নিরসন 📄 ৯ম সংশয়: তদানীন্তন কাফিররা ফেরেশতাবর্গ ও নবিদের ডাকার দরুন কাফির হয়নি, বরং ফেরেশতাবর্গকে আল্লাহর কন্যা বলার কারণে কাফির হয়েছে।

📄 ৯ম সংশয়: তদানীন্তন কাফিররা ফেরেশতাবর্গ ও নবিদের ডাকার দরুন কাফির হয়নি, বরং ফেরেশতাবর্গকে আল্লাহর কন্যা বলার কারণে কাফির হয়েছে।


সে যদি বলে বসে, “তদানীন্তন মুশরিকরা ফেরেশতাবর্গ ও নবিদের ডাকার কারণে কাফির হয়নি। বরং তারা যখন বলেছিল, 'ফেরেশতারা আল্লাহর কন্যা,' কেবল তখনই তারা কাফির হয়েছিল। আর আমরা তো আব্দুল কাদির জিলানি বা অন্য আর কাউকে আল্লাহর পুত্র বলি না।”

তাহলে এর জবাব হবে, আল্লাহর সন্তান আছে—এমন কথা বলা স্বতন্ত্র কুফর। মহান আল্লাহ বলেছেন, “বল, তিনি আল্লাহ এক। আল্লাহ কারও মুখাপেক্ষী নন।” এক মানে যাঁর কোনো নজির বা দৃষ্টান্ত নেই। আর সকল প্রয়োজনে সবাই যাঁর মুখাপেক্ষী হয়, তাঁকে সামাদ (অমুখাপেক্ষী) বলে। কেউ যদি এটা অস্বীকার করে, তবে সে কাফির হয়ে যাবে। যদিও সে সুরার শেষাংশ অস্বীকার না করে থাকে।

এরপর আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “তিনি কাউকে জন্ম দেন না এবং তাঁকেও কেউ জন্ম দেয়নি।” যে ব্যক্তি এটা অস্বীকার করবে, সে কাফির হয়ে যাবে। যদিও সে সুরার প্রথমাংশ অস্বীকার না করে থাকে। মহান আল্লাহ বলেছেন, “আল্লাহ কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে অপর কোনো সত্য মাবুদ নেই। যদি থাকত তাহলে প্রত্যেক মাবুদ স্বীয় সৃষ্টি নিয়ে পৃথক হয়ে যেত এবং একে অপরের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করত। তারা যা বলে তা হতে আল্লাহ মহাপবিত্র।” তিনি দুটো বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। দুটোর প্রত্যেকটিকে স্বতন্ত্র ও আলাদা কুফর নির্ধারণ করেছেন।

মহান আল্লাহ আরও বলেছেন, “এরা জিনদেরকে আল্লাহর শরিক বানিয়ে নিয়েছে; অথচ আল্লাহই তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। আর না জেনে না বুঝে তারা তাঁর জন্য পুত্র-কন্যা সন্তান থাকার কথা রচনা করে; তারা যা বলে তা হতে আল্লাহ মহাপবিত্র ও বহু ঊর্ধ্বে রয়েছেন।” এখানে আল্লাহ দুটো কুফরের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। আমাদের বক্তব্যের পক্ষে এটিও একটি দলিল- লাত একজন সৎব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও তাকে ডাকার কারণে যারা কাফির হয়েছিল, তারা তাকে আল্লাহর পুত্র সাব্যস্ত করেনি। আর জিনের ইবাদত করার দরুন যারা কাফির হয়েছিল, তারাও তাদেরকে আল্লাহর পুত্র সাব্যস্ত করেনি। তদ্রুপ চার মাযহাবের উলামাগণই 'মুরতাদের বিধান' শীর্ষক অধ্যায়ে আলোচনা করেছেন, কোনো মুসলিম যদি মনে করে, আল্লাহর সন্তান আছে, সে মুরতাদ (ধর্মত্যাগী কাফির)। আবার কেউ আল্লাহর সাথে শির্ক করলে সে মুরতাদ। তাঁরা দুটো বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করেছেন।

টিকাঃ
৫৫. অনুবাদকের টীকা: এই পরিচ্ছেদ এবং আসন্ন '১০ম সংশয়' শীর্ষক পরিচ্ছেদ দুটো শাইখ মুহাম্মাদ হামিদ আল-ফাকি ও শাইখ আব্দুল মুহসিন আল-কাসিমের তাহকিককৃত নুসখায় নেই।
৫৬. সুরা ইখলাস-১১২:১-২।
৫৭. সুরা ইখলাস-১১২:৩।
৫৮. সুরা মুমিনুন-২৩:৯১।
৫৯. অনুবাদকের টীকা: আল্লাহ তায়ালা সুরা মুমিনুনের এ আয়াতে দুটো বিষয় আলাদাভাবে উল্লেখ করেছেন। এক. তিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি। দুই. তাঁর সাথে অপর কোনো সত্য মাবুদের অস্তিত্ব নেই।
৬০. সুরা আনআম-৬:১০০।

📘 কুবুরীদের সংশয় নিরসন 📄 ১০ম সংশয়: আল্লাহর কাছে অলিদের মর্যাদা রয়েছে; বিধায় তাঁদের কাছে ফরিয়াদ করা বৈধ

📄 ১০ম সংশয়: আল্লাহর কাছে অলিদের মর্যাদা রয়েছে; বিধায় তাঁদের কাছে ফরিয়াদ করা বৈধ


সে যদি যুক্তি দেয়, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “জেনে রেখ, আল্লাহর অলিদের (সাহায্যপ্রাপ্ত নেক বান্দাদের) না কোনো ভয় আছে, আর না তারা চিন্তিত হবে।”

তাহলে আপনি বলবেন, আল্লাহর এ কথা তো সত্য। কিন্তু অলিদের ইবাদত করা যাবে না। আমরা কেবল এ বিষয়েরই বিরোধিতা করি যে, আল্লাহর সাথে তাঁদের ইবাদত করা হবে এবং আল্লাহর সাথে তাঁদেরকে শরিক করা হবে। নচেৎ তাঁদেরকে ভালোবাসা, (আল্লাহর আনুগত্যের ক্ষেত্রে) তাঁদের অনুসরণ করা এবং তাঁদের কারামতের স্বীকৃতি দেওয়া তো তোমার জন্য ওয়াজিব। বিদাতি ও পথভ্রষ্ট লোকজন ছাড়া কেউ অলিদের কারামত অস্বীকার করে না। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর দ্বীন দু প্রান্তের মধ্যবর্তী মধ্যপন্থা, দু ভ্রষ্টতার মধ্যবর্তী হেদায়েত এবং দু বাতিলের মধ্যবর্তী হক (বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির মধ্যবর্তী স্তর)।

টিকাঃ
৬১. সুরা ইউনুস-১০:৬২।
৬২. অনুবাদকের টীকা: হানাফি বিদ্বান, ইমাম শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভি বলেছেন, “শির্কি অজিফাগুলো কবরপূজারিদের আলামত। তারা নিজেদের পিরদের ব্যাপারে বিশ্বাস রাখে, তারা তাদের গুপ্ত বিষয় জানে! আর বিপদের সময় তারা তাদেরকে ডাকে।”

📘 কুবুরীদের সংশয় নিরসন 📄 বর্তমান মুশরিকদের শির্কের চেয়ে পূর্ববর্তী মুশরিকদের শির্ক ছিল অধিকতর হালকা

📄 বর্তমান মুশরিকদের শির্কের চেয়ে পূর্ববর্তী মুশরিকদের শির্ক ছিল অধিকতর হালকা


আপনি যখন জানলেন, হাল আমলের মুশরিকরা যেটাকে 'আকিদা' বলে অভিহিত করে, সেটাই শির্ক, যে ব্যাপারে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং যে কারণে রসুলুল্লাহ (ﷺ) মুশরিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। তখন এ বিষয়টিও মনে রাখবেন, দুটো কারণে আমাদের যুগের মুশরিকদের শির্কের চেয়ে পূর্ববর্তী মুশরিকদের শির্ক অধিকতর হালকা। যথা-

প্রথম কারণ: পূর্ববর্তী মুশরিকরা কেবল স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বচ্ছলতার অবস্থাতেই শির্ক করত এবং আল্লাহর সাথে ফেরেশতাবর্গ, অলি-আউলিয়া ও উপাস্যদের ডাকত। আর দুঃখ-দৈন্যের সময় তারা সমুদয় ইবাদত কেবল আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করত। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন, “তারা যখন নৌযানে আরোহণ করে তখন বিশুদ্ধচিত্তে আল্লাহর জন্য সমগ্র দ্বীনকে (ইবাদতকে) একনিষ্ঠ করে আল্লাহকে ডাকে। এরপর তিনি যখন স্থলে ভিড়িয়ে তাদেরকে উদ্ধার করেন, তখনই তারা শির্কে লিপ্ত হয়।” আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “সমুদ্রে যখন তোমাদেরকে বিপদ স্পর্শ করে তখন শুধু তিনি ছাড়া অপর যাদেরকে তোমরা আহ্বান করো তারা (তোমাদের মন থেকে) হারিয়ে যায়। এরপর তিনি যখন স্থলে ভিড়িয়ে তোমাদেরকে উদ্ধার করেন তখন তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও; বস্তুত মানুষ বড়োই অকৃতজ্ঞ।”

তিনি আরও বলেছেন, “তুমি তাদেরকে বল, তোমরা যদি নিজেদের আদর্শে সত্যবাদী হও তাহলে চিন্তা করে দেখ, যদি তোমাদের প্রতি আল্লাহর শাস্তি এসে পড়ে অথবা তোমাদের নিকট কিয়ামাত দিবস এসে উপস্থিত হয়, তখনও কি তোমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ডাকবে? বরং তাঁকেই তোমরা ডাকতে থাকবে।” তিনি অন্যত্র বলেছেন, “মানুষকে যখন দুঃখ-দুর্দশা স্পর্শ করে তখন সে একাগ্রচিত্তে তার রবকে ডাকে। কিন্তু পরে যখন তিনি তার প্রতি অনুগ্রহ করেন, তখন সে বিস্মৃত হয়ে যায় পূর্বে যাকে সে ডেকেছিল তাঁকে এবং সে আল্লাহর সমকক্ষ নির্ধারণ করে।” তিনি আরও বলেছেন, “যখন তরঙ্গ তাদেরকে আচ্ছন্ন করে মেঘচ্ছায়ার মতো তখন তারা বিশুদ্ধচিত্তে আল্লাহকে ডাকতে থাকে।”

যে ব্যক্তি এই বিষয় উপলব্ধি করতে পেরেছে, যে বিষয়টি মহান আল্লাহ তদীয় কিতাবে ব্যাখ্যা করেছেন। আর তা হলো- রসূলুল্লাহ (ﷺ) যেই মুশরিকদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন, তারা স্বাচ্ছন্দ্যের সময় আল্লাহকে ডাকত এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্যদেরও ডাকত। পক্ষান্তরে দুঃখ-দৈন্যের সময় তারা শরিকবিহীন এক আল্লাহকেই ডাকত।

দ্বিতীয় কারণ: পূর্ববর্তীরা আল্লাহর সাথে এমন লোকদের ডাকত, যারা ছিল আল্লাহর সান্নিধ্যপ্রাপ্ত বান্দা- হয় ফেরেশতাবর্গ, নাহয় নবি-আম্বিয়া, আর নাহয় অলি-আউলিয়া। পক্ষান্তরে আমাদের যুগের মুশরিকরা আল্লাহর সাথে এমন লোকদের ডাকে, যারা সবচেয়ে পাপিষ্ঠ মানুষদের অন্তর্গত। এরা যাদেরকে ডাকে, তাদের থেকে এরা নিজেরাই বর্ণনা করেছে পাপাচারিতা, ব্যভিচার, চুরি, সালাত পরিত্যাগ প্রভৃতির মতো গুনাহয় তাদের লিপ্ত হওয়ার কথা।

টিকাঃ
৬৩. সুরা আনকাবুত-২৯:৬৫।
৬৪. অনুবাদকের টীকা: এ আয়াতটি অনেক নুসখায় নেই। কিন্তু কিছু নুসখায় এটি বিদ্যমান থাকায় আমরা তা যুক্ত করে দিলাম।
৬৫. সুরা ইসরা-১৭:৬৭।
৬৬. সুরা আনআম-৬:৪০-৪১।
৬৭. সুরা যুমার-৩৯:৮।
৬৮. সুরা লুকমান-৩১:৩২।

ফন্ট সাইজ
15px
17px