📘 কুবুরীদের সংশয় নিরসন 📄 বাতিলপন্থি মুশরিকদের জবাব দেওয়ার দুটো ধারা এবং তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ

📄 বাতিলপন্থি মুশরিকদের জবাব দেওয়ার দুটো ধারা এবং তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ


প্রথম ধারা: হালের মুশরিকরা আমাদের বিরুদ্ধে যেসব যুক্তি-প্রমাণ দেয় সেসবের জবাবস্বরূপ- আল্লাহ তাঁর কিতাবের মধ্যে যা উল্লেখ করেছেন, তন্মধ্যে কয়েকটি বিষয় আমি আপনার কাছে উল্লেখ করছি। আমরা বলি, বাতিলপন্থিদের জবাব দেওয়ার দুটো ধারা আছে- একটি সংক্ষিপ্ত, আরেকটি বিস্তারিত।

সংক্ষিপ্ত জবাবটি আসলে মহান একটি বিষয় এবং জ্ঞানী ব্যক্তির জন্য বড়ো ধরনের ইলমি অবগতি। জবাবটি হলো— মহান আল্লাহ বলেছেন, “তিনিই তোমার ওপর কিতাব নাজিল করেছেন, তার মধ্যে আছে দ্ব্যর্থহীন আয়াতসমূহ। সেগুলো কিতাবের মূল, আর অন্যগুলো দ্ব্যর্থবোধক। ফলে যাদের অন্তরে রয়েছে বক্রতা, তারা ফিতনার উদ্দেশ্যে এবং ভুল ব্যাখ্যার অনুসন্ধানে দ্ব্যর্থবোধক আয়াতগুলোর পেছনে লেগে থাকে। অথচ আল্লাহ ছাড়া কেউ এর ব্যাখ্যা জানে না।”

রসুলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, “যারা দ্ব্যর্থবোধক আয়াতের পেছনে ছোটে, তাদের যখন তোমরা দেখবে, তখন মনে রাখবে, তাদের কথাই আল্লাহ কুরআনে বলেছেন। সুতরাং তাদের থেকে সতর্ক থাকবে।”

উক্ত বিষয়টির দৃষ্টান্ত: কোনো মুশরিক যদি তোমাকে বলে, আল্লাহ বলেছেন, “জেনে রেখ, আল্লাহর অলিদের (সাহায্যপ্রাপ্ত নেক বান্দাদের) না কোনো ভয় আছে, আর না তারা চিন্তিত হবে।” কিংবা মুশরিক বলে, অবশ্যই শাফায়াত সত্য। কিংবা বলে, নিশ্চয় আল্লাহর কাছে নবীগণের মর্যাদা রয়েছে। অথবা সে নবী (ﷺ)-এর কোনো বক্তব্য উদ্ধৃত করে স্বীয় বাতিল মতাদর্শের পক্ষে দলিল পেশ করতে চায়। কিন্তু তার বলা কথাগুলোর অর্থ আপনার বুঝে আসে না। সেক্ষেত্রে আপনি এ কথা বলে জবাব দেবেন, মহান আল্লাহ জানিয়েছেন, যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে, তারা সুস্পষ্ট দলিল ছেড়ে দিয়ে দ্ব্যর্থবোধক দলিলের পেছনে লেগে থাকে। আমি তোমার কাছে যা বলেছি, অর্থাৎ মুশরিকরা তাওহিদুর রুবুবিয়্যাহর স্বীকৃতি দিত এ কথা আল্লাহ বলেছেন এবং ফেরেশতাবর্গ, নবীগণ ও অলিদের ইবাদত করার দরুন— 'তারা আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করবে' এ কথা বলা সত্ত্বেও—তাদেরকে কাফির বলেছেন। আমার ব্যক্তীকৃত এ কথাগুলো সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন। কেউ এর অর্থ পরিবর্তন করতে পারবে না।

পক্ষান্তরে, ওহে মুশরিক, তুমি আমার কাছে কুরআনের যে অংশ বা নবী (ﷺ) এর যে হাদিস পেশ করেছ, সেগুলোর প্রকৃত অর্থ আমার জানা নেই। কিন্তু এ বিষয়টি আমি সুনিশ্চিত জানি যে, আল্লাহর কথা কখনোই পরস্পরবিরোধী হয় না এবং নবী (ﷺ)-এর কথাও আল্লাহর কথার বিপরীত হতে পারে না। এটি সঠিক ও উত্তম জবাব। কিন্তু মহান আল্লাহ যাকে তৌফিক দিয়েছেন, সে ব্যতীত আর কেউ তা বুঝতে পারে না। সুতরাং আপনি এই জবাবকে ছোটো করে দেখবেন না। এ জবাবের ব্যাপারটি আসলে তেমনই, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন, “এই গুণ কেবল তারাই লাভ করে, যারা ধৈর্যশীল। এই গুণ কেবল তারাই লাভ করে, যারা মহাভাগ্যবান।”

টিকাঃ
২৭. সুরা আলে ইমরান-৩:৭।
২৮. সহিহ বুখারি, হা/৪৫৪৭; সহিহ মুসলিম, হা/২৬৬৫।
২৯. অনুবাদকের টীকা: সুরা ইউনুসের আয়াতটি দিয়ে কবরপূজারিরা যুক্তি দেয়। যারা আউলিয়াদের ইবাদত করে, তাদের কাছে ফরিয়াদ করে, তারা এ আয়াতটি দিয়ে বোঝাতে চায়, অলিরা আল্লাহর নৈকট্যশীল ও মর্যাদাবান বান্দা।
৩০. সুরা ইউনুস-১০:৬২।
৩১. অনুবাদকের টীকা: এসব বলে কবরপূজারি বোঝাতে চায়, এগুলো যেহেতু সত্য, সেহেতু কবরে শায়িত মরা মানুষের কাছে শাফায়াত চাওয়া যাবে এবং মৃত নবিদের কাছেও প্রার্থনা করা যাবে।
৩২. সুরা ফুসসিলাত-৪১:৩৫।

📘 কুবুরীদের সংশয় নিরসন 📄 ১ম সংশয়: যে ব্যক্তি তাওহিদুর রুবুবিয়্যাহর প্রতি স্বীকৃতি দিয়েছে এবং বুজুর্গ ব্যক্তিদের মর্যাদা ও শাফায়াত ছাড়া অন্যকিছু কামনা করেনি, সে মুশরিক নয়

📄 ১ম সংশয়: যে ব্যক্তি তাওহিদুর রুবুবিয়্যাহর প্রতি স্বীকৃতি দিয়েছে এবং বুজুর্গ ব্যক্তিদের মর্যাদা ও শাফায়াত ছাড়া অন্যকিছু কামনা করেনি, সে মুশরিক নয়


আর বিস্তারিত জবাবের ব্যাপারে বলতে গেলে, বাস্তবিক অর্থেই আল্লাহর শত্রুদের অনেক আপত্তি রয়েছে রসুলদের দ্বীনের বিরুদ্ধে; সেসব আপত্তি পেশ করে তারা জনমানুষকে উক্ত দ্বীন গ্রহণ করতে বাধা দেয়।

সেসব অভিযোগ ও আপত্তির অন্যতম বিষয়: তারা বলে, আমরা আল্লাহর সাথে শরিক স্থাপন করি না। বরং আমরা সাক্ষ্য দিই, শরিকবিহীন এক আল্লাহ ছাড়া কেউ সৃষ্টি করে না, রিজিক দেয় না এবং উপকার ও ক্ষতিও করতে পারে না। আমরা স্বীকৃতি দিই, আব্দুল কাদির জিলানি বা অন্য কেউ তো দূরের কথা, স্বয়ং মুহাম্মাদ (ﷺ)ও নিজের উপকার ও ক্ষতি করার মালিক নন। কিন্তু আমি একজন পাপী গুনাহগার বান্দা। আল্লাহর কাছে সৎকর্মশীল বুজুর্গ বান্দাদের মর্যাদা আছে। তাই আমি তাঁদের মাধ্যমে আল্লাহর কাছ থেকেই চাইছি!

আপনি এ সংশয়ের জবাব দিবেন পূর্বোক্ত প্রামাণ্য আলোচনার মাধ্যমে। উল্লেখিত সংশয়ের জবাব- রসুলুল্লাহ (ﷺ) যাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, তারা আপনার বলা কথাগুলো স্বীকার করত। তারা স্বীকৃতি দিত, তাদের উপাস্যগুলো (মহাবিশ্বের) কোনোকিছুই পরিচালনা করে না। তারা কেবল মর্যাদা ও শাফায়াতেরই উদ্দেশ্য করত (বুজুর্গদের মর্যাদা ও শাফায়াতের জন্যই তাদের ইবাদতে লিপ্ত হত)। আল্লাহ তদীয় কিতাবে যা বলেছেন এবং স্পষ্ট ব্যাখ্যা করেছেন, তা আপনি তার বিরুদ্ধে প্রমাণস্বরূপ পাঠ করুন।

টিকাঃ
৩৩. অনুবাদকের টীকা: এ সংশয়ের মৌলিক জবাব জানতে পড়ুন শাইখ সুলাইমান আর-রুহাইলির ব্যাখ্যাসংবলিত পুস্তিকা 'শির্ক খণ্ডনের চারটি নীতি'-র প্রথম ও দ্বিতীয় নীতি পরিচ্ছেদ দুটো। বলা বাহুল্য, কবরপূজারিরা এটা কোনোভাবেই মানতে রাজি না যে, মক্কার তৎকালীন মুশরিকরা তাওহিদুর রুবুবিয়্যাহ স্বীকার করত। এজন্য আমরা প্রখ্যাত হানাফি বিদ্বান ইমাম মাহমুদ শুকরি আল-আলুসি (রহ.) প্রদত্ত বক্তব্য পেশ করছি। ইমাম মাহমুদ আলুসি (রহ.) বলেছেন, “কাফিররা সবাই তাওহিদুর রুবুবিয়্যাহর স্বীকৃতি দিত। কেবল দ্বৈতবাদী ও অগ্নিপূজক সম্প্রদায় ছাড়া কাফিরদের কেউ এই মূলনীতির ক্ষেত্রে বিরোধিতা করেনি। পক্ষান্তরে এ সম্প্রদায় দুটো বাদে কুফর ও শির্কের সমুদয় সম্প্রদায় এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছিল যে, মহাবিশ্বের স্রষ্টা, তাদের রিজিকদাতা, তাদের সর্ববিষয়ের নিয়ন্ত্রক, তাদের উপকার ও ক্ষতি সাধনকারী একজন।”

📘 কুবুরীদের সংশয় নিরসন 📄 ২য় সংশয়: কবরপূজারিরা বুজুর্গদের বাদ দিয়ে স্রেফ মূর্তিপূজার মধ্যে শির্ককে সীমাবদ্ধ করে

📄 ২য় সংশয়: কবরপূজারিরা বুজুর্গদের বাদ দিয়ে স্রেফ মূর্তিপূজার মধ্যে শির্ককে সীমাবদ্ধ করে


যদি সে বলে, এসব আয়াত তাদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে, যারা মূর্তিপূজা করত। তোমরা কীভাবে বুজুর্গ বান্দাদেরকে মূর্তির মতো বানিয়ে দিচ্ছ? কিংবা বলে, তোমরা কীভাবে নবীদেরকে মূর্তি বানিয়ে দিচ্ছ?

তাহলে আপনি পূর্বোল্লিখিত আলোচনার মাধ্যমে জবাব দেবেন। সে যদি স্বীকার করে নেয়, কাফিররা রুবুবিয়্যাহর (প্রভুত্বের) সমুদয় অধিকার আল্লাহর জন্য ধার্য করত, আর যাদের ইবাদত করত তাদের কাছ থেকে কেবল শাফায়াতই চাইত। কিন্তু এসব স্বীকার করেও সে তাদের কর্ম ও নিজের কর্মের মাঝে পার্থক্য করতে চায় তার ব্যক্তীকৃত কথাগুলো বলে।

সেক্ষেত্রে আপনি তাকে বলবেন, কাফিরদের কেউ কেউ মূর্তিপূজা করত। আবার তাদের কেউ কেউ আল্লাহর সাহায্যপ্রাপ্ত নেক বান্দাদেরও ডাকত, যাদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেছেন, “তারা যাদেরকে আহ্বান করে, তারাই তো তাদের রবের নৈকট্য কামনা করে যে, কে কত নিকটতর হতে পারে, আর তাঁর দয়া প্রত্যাশা করে এবং তাঁর শাস্তিকে করে ভয়। নিশ্চয় তোমার রবের শাস্তি ভয়াবহ।”

তারা মারইয়াম তনয় ঈসা ও তাঁর মাকে ডাকত। মহান আল্লাহ বলেছেন, “মারইয়াম তনয় মাসিহ কেবল একজন রসুল। তার পূর্বে অনেক রসুল বিগত হয়েছে এবং তার মা ছিল অতি সত্যবাদী। তারা উভয়ে খাবার খেত। দেখ, কীভাবে আমি তাদের জন্য আয়াতসমূহ বর্ণনা করছি। এরপর লক্ষ করো, কীভাবে তারা (তারাই) বিপরীত পথে চলে যাচ্ছে। তুমি বলে দাও, তোমরা কি আল্লাহ ছাড়া এমন বস্তুর ইবাদত করবে, যা তোমাদের না কোনো অপকার করার ক্ষমতা রাখে, আর না কোনো উপকার করার? অথচ আল্লাহ সবই শোনেন ও জানেন।"

আপনি তার কাছে মহান আল্লাহর এই বাণীটিও পেশ করুন, "সেদিন তিনি তাদের সবাইকে একত্র করবেন এবং ফেরেশতাদের জিজ্ঞেস করবেন, এরা কি তোমাদেরই উপাসনা করত? ফেরেশতারা বলবে, আপনি মহাপবিত্র! আমাদের সাহায্যকারী আপনিই, তারা নয়। তারা তো উপাসনা করত জিনদের এবং তাদের অধিকাংশই ছিল তাদের প্রতি বিশ্বাসী।”

আপনি তাকে বলুন, সুতরাং তুমি জেনে গেছ, যারা মূর্তিপূজা করত আল্লাহ তাদেরকে কাফির বলেছেন, আর যারা বুজুর্গ বান্দাদের ইবাদত করত, আল্লাহ তাদেরকেও কাফির বলে অভিহিত করেছেন এবং রসুলুল্লাহ (ﷺ) তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন।

টিকাঃ
৩৪. সুরা ইসরা-১৭:৫৭।
৩৫. সুরা মায়িদা-৫:৭৫-৭৬।
৩৬. সুরা সাবা-৩৪:৪০-৪১।
৩৭. অনুবাদকের টীকা: ভারতবর্ষের যশস্বী হানাফি বিদ্বান, কবরপূজারিদের নির্বাপক ইমাম মুহাম্মাদ বাশির বিন বাদরুদ্দিন আস-সাহসাওয়ানি (রহ.) পূর্ববর্তী মুশরিকদের আকিদার সাথে কবরপূজারিদের আকিদার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে বলেছেন, “এ বিষয়টি যখন সাব্যস্ত হয়ে গেল, তখন এতে আর কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই যে, কোনো মৃত বা জীবিত ব্যক্তির ব্যাপারে কেউ যদি এমন বিশ্বাস রাখে, সে স্বতন্ত্রভাবে কিংবা মহান আল্লাহর সাথে উপকার বা ক্ষতি করতে পারে, কিংবা সে তাকে ডাকে, তার অভিমুখী হয়, মাখলুকের ক্ষমতা নেই এমন কোনো বিষয়ে তার কাছে ফরিয়াদ করে; তাহলে বাস্তবিক অর্থে সে আল্লাহর জন্য তাওহিদকে একনিষ্ঠ করেনি এবং ইবাদতের ক্ষেত্রেও আল্লাহর একত্ব বাস্তবায়ন করেনি।”

📘 কুবুরীদের সংশয় নিরসন 📄 ৩য় সংশয়: নেককার বান্দাদের কাছ থেকে শাফায়াত চাওয়া শির্ক নয়

📄 ৩য় সংশয়: নেককার বান্দাদের কাছ থেকে শাফায়াত চাওয়া শির্ক নয়


সে যদি বলে, কাফিররা তাদের কাছে চাইত। কিন্তু আমি স্বীকার করি, আল্লাহই উপকার ও ক্ষতির মালিক, সর্ববিষয়ের নিয়ন্ত্রক। আমি তাঁর কাছ থেকেই চাই। বুজুর্গ বান্দাদের কোনো কর্তৃত্বই নেই। কিন্তু আমি আল্লাহর কাছে তাঁদের শাফায়াত চাইতে গিয়ে তাদের অভিমুখী হই (তাদের কাছে প্রার্থনা করি)। এ কথার জবাব— অবশ্যই এটা হুবহু কাফিরদের কথা।

আপনি তার বিরুদ্ধে প্রমাণস্বরূপ পাঠ করুন মহান আল্লাহর এ বাণী, “যারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্যকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে, তারা বলে, আমরা তো এদের ইবাদত এ জন্যই করি যে, এরা আমাদেরকে আল্লাহর সান্নিধ্য এনে দিবে। তারা যে বিষয়ে নিজেদের মধ্যে মতভেদ করছে, আল্লাহ তার ফায়সালা করে দেবেন। নিশ্চয় যে মিথ্যাবাদী ও কাফির, তাকে আল্লাহ সৎপথে পরিচালিত করেন না।”

আরও পাঠ করুন মহান আল্লাহর এই কথা, “তারা আল্লাহ ছাড়া এমন বস্তুসমূহের ইবাদত করে যারা তাদের কোনো অপকার করতে পারে না এবং তাদের কোনো উপকারও করতে পারে না। আর তারা বলে, এরা হচ্ছেন আল্লাহর নিকট আমাদের জন্য শাফায়াতকারী (সুপারিশকারী)।”

জেনে রাখবেন, আলোচিত এ তিনটি সংশয় তাদের সবচেয়ে বড়ো সংশয়। আপনার যখন জানা থাকবে, মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে এ সংশয়গুলোর সুস্পষ্ট নিরসন করেছেন এবং বিষয়গুলো আপনি উত্তমরূপে উপলব্ধি করবেন, তখন এর পরবর্তী বিষয়গুলো এসবের চেয়ে সহজতর হয়ে যাবে।

টিকাঃ
৩৮. সুরা যুমার-৩৯:৩।
৩৯. সুরা ইউনুস-১০:১৮।
৪০. অনুবাদকের টীকা: তাফসিরে রুহুল মাআনির লেখক ইমাম মাহমুদ আলুসির সুযোগ্য পুত্র, যুগশ্রেষ্ঠ হানাফি বিদ্বান, ইমাম নুমান বিন মাহমুদ আল-আলুসি বলেছেন, “যে ব্যক্তি ইনসাফের দৃষ্টি দিয়ে বেইনসাফির পথ বর্জন করবে, আর পূর্ববর্তী মুশরিকদের অবস্থা নিয়ে চিন্তা করবে, তাদের শির্কি পরিস্থিতি আর কবরপূজারিদের পরিস্থিতি বুঝতে পারবে, আর জানতে পারবে, নবী (ﷺ) তাদের কাছে কী নিয়ে প্রেরিত হয়েছিলেন, এও জানতে পারবে, তাওহিদ আসলে কেমন, উপাস্যের মানে কী এবং উপাসনার অর্থই বা কী, তখন সে সুনিশ্চিত জেনে যাবে, শাফায়াত কামনার জন্য এসব আশ্রয়কামনা ও আহ্বান থেকেই মূলত পূর্ববর্তী মুশরিকদের নিষেধ করা হয়েছিল।”

ফন্ট সাইজ
15px
17px