📄 আরো কয়েকজনের অত্যাশ্চর্য ক্রন্দন
৪১২. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, উমর ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু নামাযে কাঁদতেন। তিন সারি পেছন থেকেও ক্রন্দনের আওয়াজ শোনা যেতো।"
৪১৩. হযরত আলকামা ইবনে ওয়াক্কাস রাহিমাহুল্লাহি আলাইহি বলেন, উমর ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুএর পেছনে নামায পড়েছি। তিনি সূরা ইউসুফ পাঠকালে ইউসুফ আলাইহিস-সালামের আলোচনা আসলেই কেঁদে উঠতেন। অনেক সারির পেছন থেকেও কাঁদার শব্দ শোনা যেতো।"
৪১৪. হযরত আবু মামার রাহিমাহুল্লাহি আলাইহি বলেন, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তিলাওয়াত করে সিজদায় গেলেন। মাথা উঠিয়ে বললেন, সিজদা তো হলো- কিন্তু ক্রন্দন আসলো না!"
৪১৫. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি উমর ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুএর সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তার সামনে কিছু মাল রাখা ছিলো। তখন বেশ আওয়াজ দিয়ে কাঁদলেন। শরীরের হাড়িউ ও পাঁজরো কম্পন শুরু হলো। এরপর বলেন, আমি তা থেকে মুক্তি চাই!"
৪১৬. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, উমর ইবনে খাত্তাব আমাকে ডাকলেন। তার কাছে যাই। সামনে ছিলো একগাদা কাপড়। তাতে জড়িয়ে রাখা সোনা-গয়না। আমাকে বললেন, এগুলো নিয়ে যাও। লোকদের মাঝে বন্টন কর। আল্লাহই বেশী অবগত, তিনি তার নবী ও হযরত আবু বকর সিদ্দিক থেকে এগুলো দূরে রেখেছিলেন। জানি না, আল্লাহর পক্ষ থেকে আমার নিকট আসা এসব জিনিস কল্যাণকর না অকল্যাণকর! এরপর বেশ জোরে কাঁদলেন।
৪১৭. হযরত কাতাদাহ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, উমর ইবনে খাত্তাব রাদিআল্লাহু আনহু শাম দেশে আসলেন। তার জন্য এমন খাবার পাকানো হয় যা ইতোপূর্বে দেখা যায় নি। তিনি বললেন, এগুলো গরীব-নিঃস্ব মুসলিমদের মধ্যে বিলিয়ে দাও!
৪১৮. হযরত আওন ইবনে আবি জুহায়ফা রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, একদল মানুষ উমর ইবনে খাত্তাব রাদিআল্লাহু আনহুর কাছে এসে অভাব-অনটনের অভিযোগ করলেন। তিনি কেঁদে উঠলেন। দু' হাত উঠিয়ে বললেন, আল্লাহ! আমার হাতে তাদেরকে ধ্বংস করুন না। এরপর তাদের জন্য খাবার প্রস্তুতির নির্দেশ দিলেন।
৪১৯. হযরত জিয়াদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, উমর ইবনে আব্দুল আজিজের সাথে এক রাতে সাক্ষাৎ করলাম। তিনি বললেন, জিয়াদ গল্প বলো! বললাম, আমি তো গল্পকার নই! আবার বললেন, তাহলে কথা বলো! জবাব দিই, জিয়াদের আবার কথা বলার কী আছে? সে যদি জাহান্নামে যায়, কোন জান্নাতী তার উপকার করবে না। আর যদি জান্নাতে যায়, কোন জাহান্নামী ক্ষতি করতেও পারবে না। উমর বললেন, আল্লাহর শপথ! সত্য বলেছো! কথাগুলো বলার সময় তিনি চুলার পাশে ছিলেন। তার চোখের পানিতে চুলার অঙ্গার নিভে যায়।
৪২০. হযরত জিছর ইবনে হাসান রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমরা উমর ইবনে আব্দুল আজিজের পাশে বসে কোন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলাম। তিনি তখন কাঁদতে থাকেন। এমনকি দেখতে পেলাম তাঁর অন্ত্রের মধ্যে রক্তও আছে। আওয়ায়াী ঘটনাটি শুনে মন্তব্য করলেন, তাহলে তো উমর ইবনে আব্দুল আজিজ দাউদ আলাইহিস-সালামের মতো হয়ে গিয়েছিলেন!
৪২১. হযরত মায়মুন ইবনে মেহরান রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, উমর ইবনে আবদুল আজিজ সূরা তাকাসুর তিলাওয়াত করলেন। খুব বেশী কাঁদলেন। এরপর বললেন, যে ব্যক্তি কবরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে সে হয় জান্নাতে যাবে, না হয় জাহান্নামে যাবে।
৪২২. হযরত মুকাতিল ইবনে হাইয়ান রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, উমর ইবনে আবদুল আজিজের পেছনে নামায পড়েছি। তিনি যখন এই আয়াতটিতে আসলেন وَقِفُوهُمْ إِنَّهُمْ مَسْئُولُونَ তখন তা বার বার পাঠ করতে লাগলেন। আর যেনো সামনে এগুতে পারছিলেন না। [আয়াতের অর্থ: এবং তাদেরকে থামা, তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে (৩৭:২৪)]।
৪২৩. হযরত আবু ইমরান জাওনী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমার মা আমাকে বলতেন, তুমি কি এ জায়গায় কালো চিহ্নটি দেখতে পাচ্ছ? এটা তোমার বাবার চোখের পানির চিহ্ন। তাকে বলতাম, আর কতো কাঁদবেন? তিনি জবাব দিতেন, প্রশ্ন করো না। জানি না আমার ফাতেমা কিসের উপর হবে?
৪২৪. হযরত আমবাসা খাওয়াস রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে ওয়াসিয়্যা প্রতি রাত 'هَلْ أَتَاكَ حَدِيْثُ الْغَاشِيَةِ' সূরাটি তিলাওয়াত করতেন আর কাঁদতেন।