📘 কোমল হৃদয়ের ক্রন্দন > 📄 দাউদ আলাইহিস সালাম কাঁদলেন যেভাবে

📄 দাউদ আলাইহিস সালাম কাঁদলেন যেভাবে


৩০১. হযরত সুদ্দী রাহমাহুল্লাহি আলাইহি বলেন, শয়তান দাউদ আলাইহিস-সালামের কাছে আসলো। তিনি তখন মেহরাবে ছিলেন। সে কবুতরের আকৃতি ধারণ করলো। তার ডানা ছিলো মোতির তৈরী। মেহরাবের দরজায় পৌঁছিলেই দাউদ আলাইহিস-সালাম তাঁর প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন। পাখীরূপী শয়তান সাথে সাথে উড়ে গেল। উড়ে যাওয়ার পর বাগানে গোসলরতো একজন মহিলার প্রতি তাঁর খেয়াল পড়লো। মহিলাটি সাথে সাথে তার চুল দিয়ে শরীর ঢেকে দিল। তিনি তার পরিচয় জিজ্ঞেস করলেন। বললো, তার স্বামী একজন বৃদ্ধ। তখন দাউদ আলাইহিস-সালাম সেনাপতিকে নির্দেশ দিলেন অমুক সেনাদের সৈনিককে যুদ্ধে পাঠাও। সে যুদ্ধে গিয়ে জয়লাভ করলো। তখন দাউদ আলাইহিস-সালাম সেনাপতিকে আবার নির্দেশ দিলেন, সৈনিককে তারওতে পাঠাও! সৈনিক এবার যুদ্ধে গিয়ে মৃত্যুবরণ করলো। লাইস ইবনে সালিম রাহমাহুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, দাউদ আলাইহিস-সালামের নিকট দু'জন ফিরিশতা মানুষ আকৃতিতে অবতরণ করলেন। তিনি তাঁদের দেখে ঘাবড়ে গেলেন। তাঁরা আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত তাঁর নিকট বর্ণনা করলেন। দাউদ আলাইহিস-সালাম বললেন, বিষয়টি আসলেই এরকম। তখন তাঁরা বললেন, হ্যাঁ। জবাবে দাউদ বললেন, তাহলে আমরা আঘাতও করবো নাকে এবং চেহারায়। তাঁরা বললেন, আপনি প্রহারের উপযুক্ত। একথা বলে উভয় অদৃশ্য হয়ে যান। দাউদ আলাইহিস-সালাম বিষয়টি বুঝতে পেরে চল্লিশদিন একনাগাড়ে সিজদানত অবস্থায় রইলেন। চোখের পানিতে ঘাস-লতা গজে উঠলো। আল্লাহ তাঁকে বললেন, তুমি কি ক্ষুধার্ত - আমি তোমাকে খাওয়াবো। তুমি কি নিপীড়িত- তোমাকে সাহায্য করবো। একথা শোনে তিনি চিৎকার দিয়ে উঠলেন। এই করুণ চিৎকারে লতাপাতা জ্বলে গেল। আল্লাহ তা'আলা আবার বললেন, তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। মাথা ওঠাও।
[বিদ্র: ইমাম ইবনে আবিদুনিয়া ক্রন্দনের আলোচনা প্রসঙ্গে দাউদ আলাইহিস-সালাম সম্পর্কে যে ঘটনার উদ্ধৃতি দিয়েছেন তাতে ইসরাঈলী বর্ণনার মিশ্রণ আছে। অনেক ক্ষেত্রে এ রকম বর্ণনা ইস্সমতে আম্বিয়া বিরোধী হয়ে যায়। ইস্সমত মানে আজীবন নিষ্পাপ থাকা। এটি নবীগণের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। এ ব্যাপারে তাফসিরে ইবনে কাসির অধ্যয়ন করা যেতে পারে।]
৩০২. হযরত কাতাদাহ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, দাউদ আলাইহিস-সালাম চল্লিশদিন সিজদায় কাটালেন। আল্লাহ বললেন, মাথা ওঠাও! তোমাকে ক্ষমা করলাম। তিনি বললেন, এটা কিভাবে হতে পারে? আপনি তো ন্যায়বিচারক! আল্লাহ বললেন, হ্যাঁ, পাপের ফায়সালাও করি, ক্ষমাও করি। বান্দাকে তাওবার তাওফিক দিই। সে সন্তুষ্ট হয়। দাউদ আলাইহিস-সালাম বললেন, এখন আমি তৃপ্তি বোধ করছি। আমার বিশ্বাস হয়েছে, আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন, ঐ মহিলা ছিলেন সুলাইমানের মাতা।
৩০৩. হযরত সুফিয়ান রাহমাতুল্লাহি আলাইহি নিজের আয়াত পাঠ করে বলেন, দাউদ আলাইহিস-সালাম মেহরাবে নামাজ পড়ছিলেন। ত্রিশ হাজার সৈনিক তাঁর পাহারায় আছে। এরপরও দু' ব্যক্তি তাঁর নিকট যেয়ে উপস্থিত হলেন। তিনি ঘাবড়ে গেলেন। তারা বলল ভয় করবেন না। আমরা বিদ্যমান দুটি পক্ষ, একে অপরের প্রতি বাড়াবাড়ি করছি। তাই আমাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করুন। অবিচার করবেন না। আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করুন। সে আমার ভাই। সে নিরানব্বই দুম্বার মালিক। আমি একটি মাদী দুম্বার মালিক। এরপরও সে বলে এটিও আমাকে দিয়ে দাও। সে কথাবার্তায় আমার উপর বল প্রয়োগ করে। দাউদ বললেন, সে তোমার দুম্বাটিকে নিজের দুম্বাগুলোর সাথে সংযুক্ত করার দাবী করে তোমার প্রতি অবিচার করেছে। শরীকদের অনেকেই একে অপরের প্রতি জুলুম করে থাকে। তবে ঐসব লোক করে না, যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী ও সৎকর্ম সম্পাদনকারী। অবশ্য এমন লোকের সংখ্যা অল্প। ‘দাউদের খিয়াল হল, আমি তাকে পরীক্ষা করছি। অতঃপর তিনি পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন, সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন এবং তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করলেন। [কুরআন সূরা ৩৮:২২-২৪ দ্রষ্টব্য।]
তিনি সাথে সাথে সিজদায় পড়ে গেলেন। চল্লিশ রাত একনাগাড়ে ক্রন্দন করলেন। চোখের অশ্রুতে ঘাস-লতা গজে উঠলো। লতা-পাতায় মাথা আবৃত হয়ে যায়। তিনি বললেন, প্রভু! আমার দাগ পড়ে গেছে। জানি না পাপের পরিণতি কী? আল্লাহ বললেন, দাউদ! তুমি কি ক্ষুধার্ত? তোমাকে আহার করাবো। তুমি কি পিপাসু? তোমাকে পান করাবো। তুমি কি বস্ত্রহীন? তোমাকে কাপড় পরাবো। একথা শুনে দাউদ আলাইহিস-সালাম খুব আহাজারি করলেন। ফলে তাঁর পার্শ্বস্থ ঘাস ও লতাপাতা শুকিয়ে যায়।
৩০৪. হযরত ইবনে সাবিও রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আদম আলাইহিস-সালামের পর যদি হযরত দাউদ আলাইহিস-সালামের ক্রন্দনকে ওজন করা হয়, গোটা বিশ্ববাসীর ক্রন্দনের সমান হয়ে যাবে।
৩০৫. হযরত আতা খোরাসানী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, দাউদ আলাইহিস-সালাম নিজের হাতে একটি চিহ্ন তৈরী করেছিলেন। এটা করেছিলেন তাঁর ভুলের একটি নিদর্শন স্বরূপ। যখন এই চিহ্নের দিকে তাকাতেন, উভয় হাত কাঁপতে থাকতো।
৩০৬. হযরত মুজাহিদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, দাউদ প্রভুর দরবারে প্রার্থনা করলেন, ভুলের জন্য তিনি যেনো হাতের মধ্যে চিহ্ন অঙ্কন করে দেন। পানাহার বা অন্য কোন কাজের জন্য তিনি যখন হাত ব্যবহার করতেন, এই চিহ্ন তাঁর চোখে পড়তো আর তিনি খুব বেশী কাঁদতেন।
৩০৭. হযরত আওজায়ি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দাউদ আলাইহিস-সালামের উভয় চোখ ছিলো পানির ব্যাগের মতো যা থেকে শুধু পানি পড়তো। জমিনে যেরকম গর্ত আছে, তদ্রূপ চোখের পানিতে তাঁর চেহারায় গর্ত হয়ে যায়।
৩৩৯. হযরত ইউনুস ইবনে বাক্কার রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, দাউদ আলাইহিস-সালাম চল্লিশদিন পর্যন্ত সিজদায় পড়ে থাকেন। চোখের পানিতে তাঁর চতুর্দিকের যমিনে ঘাস উঠে যায়। তিনি বললেন, প্রভু! কপালে চিহ্ন পড়ে গেছে, চোখের পানি শুকিয়ে গেছে। জানি না পাপের পরিণাম কি? তখন আল্লাহ তা‘আলা বললেন, দাউদ! তুমি কি ক্ষুধার্ত, তোমাকে খাবার দিব? তুমি কি পিপাসার্ত? তোমাকে পান করাবো। তুমি কি নির্যাতিত, তোমাকে সাহায্য করব? একথা শোনে তিনি খুব আহাজারি করলেন। আর তখনই তাঁকে ক্ষমা করা হয়।
৩৪০. হযরত ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, দাউদ আলাইহিস-সালাম ততক্ষণ পর্যন্ত সিজদা থেকে মাথা উঠান নি, যতক্ষণ না ফিরিশতা এসে তাঁকে বললেন, আপনার কাজের প্রথমারম্ভ হচ্ছে ছোট গুনাহ এবং শেষাংশ হলো বড় গুনাহ। এরপর তিনি মাথা ওঠালেন। তখন থেকে পানাহার বর্জন করে দিলেন। চোখের পানি যেন তাঁর খাবারে পরিণত হল।
৩৪১. সুলায়মান তাইমি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম চল্লিশ রাত সিজদায় পড়ে থাকলেন। চোখের পানিতে সবুজ ঘাস গজিয়ে উঠে। আহাজারি করে বলেন, ‘প্রভু! তুমি যদি আমাকে অবাধ্যতা থেকে বাঁচাতে।’ তাঁর মনে হলো দোয়া কবুল হবে না। কাঁদন রোদন আরো বাড়িয়ে দিলেন। এক পর্যায়ে আল্লাহ তাঁকে করুণা করলেন। ঘোষণা আসল দাউদ! মাথা উঠাও। তোমাকে ক্ষমা করলাম।
৩৪২. সুলায়মান তাইমি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম কাঁপতে থাকেন। পানাহার ত্যাগ করেন। স্ত্রীর সান্নিধ্য ছেড়ে দেন। এভাবেই মৃত্যু বরণ করেন।
৩৪২. উবায়দ ইবনে উমায়ার রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম চল্লিশ বছর যাবত রাতের বেলা সিজদায় পড়ে থাকেন। আর কাঁদেন।
৩৪৩. সুলায়মান ইবনে কুমারার রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম নিজের হাতে লিখে রাখছিলেন ‘দাউদ এক পাপী’। এ লেখায় চোখ পড়লে কেঁপে উঠতেন। চোখ অশ্রুসজল হয়ে যেত। সন্তানহারা মায়ের মত কাঁদতেন।
৩৪৪. মুজাহিদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম রাতের মধ্যে তাঁর পাপের কথাটি লিখে রাখছিলেন, যেন তা ভুলতে পারেন না। তাই যখনই ওদিকে লক্ষ্য করতেন কেঁপে উঠতেন।
৩৪৫. আবু কুদামা রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম বলতেন চোখের সামনে পাপটি লিখলাম যেন পুনর্বার না করি।
৩৪৬. ইবনে আবু আউদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম সিজদায় পড়ে কাঁদতে থাকেন। চোখের পানিতে সবুজ ঘাস গজিয়ে উঠে। তিনি প্রার্থনা করেন প্রভু! জবাব আসলো, তুমি কি ক্ষুধার্ত আমি আহার দিব? পিপাসু আমি তৃষ্ণা দূর করব? বস্ত্রহীন আমি কাপড় পরাব?
৩৪৭. ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম যখন কাঁদতেন চোখের পানিতে তাঁর সামনে ভিজে যেত। ঘাস গজিয়ে উঠত। কেঁদে কেঁদে দুর্বল হয়ে পড়তেন।
৩৪৮. ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ রাহমাতুল্লাহি বলেন, দাউদ আলাইহিস সালাম নামাযে দাঁড়িয়ে জোরে জোরে কাঁদতেন। চোখের পানিতে মাটি সিক্ত হত। এরপর রুকু করতেন। ক্রন্দন চলছে আর মাটি সিক্ত হচ্ছে। এরপর সিজদা করতেন।
৩৫০. ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, দাউদ আলাইহিস সালাম বালুপূর্ণ একটি মুসাল্লায় নামায পড়তেন। চোখের পানিতে তা ভিজে যেত। সেজদায় মাথা রেখে বলতেন, কপাল রক্তাক্ত। চোখের পানি শুকিয়ে গেছে। কিন্তু আমার পাপ মোচন হয় নি। তখন ঘোষণা আসল - দাউদ! তুমি কি পিপাসু? পান করাবো। তুমি কি ক্ষুধার্ত? আহার করাবো। তুমি কি বস্ত্রহীন? কাপড় পরাবো। একথা শোনে দাউদ আলাইহিস-সালাম খুব বেশী আহাজারি করলেন। আর তখনই তাঁকে ক্ষমা করা হয়।
৩৫১. সাবিত রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, দাউদ আলাইহিস সালাম সাতটি বিছানা বালু দিয়ে ভরে রাখলেন। এরপর খুব কাঁদলেন। চোখের পানি যেন নিঃশেষ হয়ে গেল।
৩৫২. উমর ইবনে যার রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আল্লাহ দাউদ আলাইহিস সালামের তাওবা কবুল করলেন। তখন তিনি একদিন নির্ধারণ করলেন প্রয়োজন সমাধান করার জন্য, একদিন ক্রুদের জন্য, একদিন কিনার জন্য। আরামের বিছানাটি বালু দিয়ে ভরে দিলেন। হাতের মধ্যে পাপের কথা লিখে রাখলেন। তাতে চোখ পড়লে বেশ কাঁদতেন।
৩৫৩. আবু সাইদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, দাউদ আলাইহিস সালাম পরনের কাপড় খুলে ছুঁড়ি পরলেন। শরীরের মধ্যখানে একটি বেল্ট বাঁধলেন। ভৃত্য শামউনকে বললেন যেভাবে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে তাড়িয়ে নেওয়া হয় আমাকেও তাড়িয়ে নাও। সে তাকে তাড়িয়ে নেয় মেহরাবের দিকে। সেখানে গিয়ে তিনি সিজদায় পড়ে যান।
৩৫৪. আবুল আফিয়া রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, দাউদ আলাইহিস সালাম প্রার্থনা করতেন, গুণগান গাই সেই সত্তার যিনি আলোর সৃষ্টিকর্তা। প্রভু! পাপের কথা স্মরণ হলে গোটা দুনিয়া আমার কাছে সংকীর্ণ হয়ে উঠে। তবে যখন তোমার করুণার প্রতি দৃষ্টি দিই, মনে হলো প্রাণ ফিরে পেলাম। গুণগান গাই সেই সত্তার যিনি আলোর সৃষ্টিকর্তা। প্রভু! তোমার কাছে তোমার চিকিৎসক বান্দাদেরকে চাই, যারা আমার পাপের চিকিৎসা করে দিবে।
৩৫৫. সাফওয়ান ইবনে মিহরায রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, দাউদ আলাইহিস সালাম প্রার্থনা করতেন, আল্লাহর শাস্তি ভোগ করার আগেই আমি এ থেকে পরিত্রাণ কামনা করি। সাফওয়ান যখনই এই ঘটনা স্মরণ করতেন কেঁদে উঠতেন।
৩৫৬. সাবিত বুনানি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, দাউদ আলাইহিস সালাম যখন কৃত পাপ স্মরণ করতেন আল্লাহর ভয় বেড়ে যেত। অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কেঁপে উঠত। তা যেন বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। আবার যখন পাপাচরীদের উপর আল্লাহর করুণার কথা স্মরণ করতেন, অঙ্গ প্রত্যঙ্গ স্বস্থানে ফিরে যেত।
৩৫৭. আবু আতাফ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, দাউদ আলাইহিস সালাম পান করার জন্য পাত্র হাতে নিতেন। তখন চোখের পানিতে পাত্র ভরে যেত।
৩৫৮. মুজাহিদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, দাউদ আলাইহিস সালাম পান করার জন্য পাত্র হাতে নিতেন। তখন এর তৃতীয়াংশ বা অর্ধেক পানের আগেই পাপের কথা স্মরণ করতেন। কাঁদার প্রাবল্যে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ পরস্পরে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। অশ্রুজলে পাত্র ভরে যেত।
৩৫৯. ইসমাঈল ইবনে উবাইদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, দাউদ আলাইহিস সালামকে যখন অধিক ক্রন্দনের কারণে তিরস্কার করা হত বলতেন, আযাজ্জাবির দিন আসার আগে, হাড় মাংস এবং চুল দাড়ি অগ্নিদগ্ধ হওয়ার আগে আর যে সব ফিরিশতা কঠোর ও আল্লাহর অবাধ্যতা করেন না তাদের পাকড়াওএর আগে আমাকে কাঁদতে দাও।
৩৬২. ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, দাউদ আলাইহিস সালাম পাপের কথা স্মরণ করলে, বেশ সংকীর্ণতাবোধ করতেন। বায়তুল মুকাদ্দাসের পার্শ্ববর্তী ঘর থেকে বের হয়ে কেবল ঘুরতেন। বনি ইসরাইলের আবিদদের কাছে চলে যেতেন। তাদেরকে বলতেন, প্রতিটি পাপী যেন পাপের জন্য কাঁদতে থাকে। এসময় তারা তাকে অনুসরণ করতেন এবং সবাই একত্রে আহাজারি শুরু করতেন।
৩৬৩. আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, দাউদ আলাইহিস সালাম শেষ রাতে সিজদায় পড়ে কেবল কাঁদতেন। তখন জলে স্থলের প্রতিটি প্রাণী নীরব হয়ে যেত। তারা ক্রন্দন ধ্বনি শুনত। এরপর নিজেরাও কাঁদত।
৩৬৪. ইয়াহইয়া ইবনে কাসির রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, দাউদ আলাইহিস সালাম যখন ভুল করে ফেললেন তাঁর পাশের সব প্রাণী পালিয়ে যায়। তিনি প্রার্থনা করলেন, প্রভু! প্রাণীগুলো ফিরিয়ে দাও। আমি তাদের ঘনিষ্ঠতা চাই। আল্লাহ্ এগুলো ফিরিয়ে দিলেন। তারা তাঁকে ঘিরে থাকল। তাঁর দিকে কান পাতল। তখন তিনি জোরে জোরে যাবুর পড়তে লাগলেন। আহাজারি শুরু করলেন। পশুরা বলল দাউদ! আপনার মধুর কণ্ঠে পাপ মোচন হয়ে গেছে।
৩৬৫. ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, পাহাড়ের উপর নির্দেশ আসল, দাউদ যখন যাবুর পড়েন তোমরা তাঁর সাথে কণ্ঠ মিলাও। পাখিরা তোমাদেরকে সাহায্য করবে। তাই যখন দাউদ ক্রন্দন করতেন পাহাড় পর্বত তাতে সাড়া দিত। উপর দিয়ে উড়ন্ত পাখিরা দাঁড়িয়ে যেত।
৩৬৬. ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, দাউদ আলাইহিস সালাম যখন পড়তেন তাঁর চার পাশে পাখিরা উপচে পড়ত, বহমান পানি থেমে যেত তার সুমধুর ধ্বনি শুনে। চোখের পানিতে ঘাস গজিয়ে উঠত।
৩৬৯. আওয়াযী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, দাউদ আলাইহিস সালাম যখন উচ্চ ধ্বনি দিয়ে পড়তেন, পশু পাখি তার মিহরাবের পাশে থেমে যেত।
৩৭০. যহাদ ইবনে মুনাফিক রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, দাউদ আলাইহিস সালাম যখন যাবুর পড়তেন, তখন কেবল কাঠ ভাঙার মত শব্দ শুনা যেত।
১৭১. যায়দ ইবনে আসলাম রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, দাউদ আলাইহিস সালাম যখন যাবুর পড়তেন পাখিরা তাঁর পাশে জমে যেত। মাটি সিক্ত হয়ে যেত চোখের পানিতে। পান পাত্র যখন হাতে নিতেন পানি ও অশ্রুজল একত্র হয়ে যেত।
৩৭২. হযরত মুয়ার রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, দাউদ আলাইহিস সালাম যখন পড়তেন পশু পাখি তাঁর মিহরাবে ভিড় করতো। সুন্দর ধ্বনি শুনে তারা যেন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ত।
৩৭৩. হযরত কাসম রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত দাউদ আলাইহিসসালাম যখন তিলাওয়াত করতেন, পাখিরা তাদের নীড় ছেড়ে চলে আসতো। জঙ্গলের প্রাণীরা স্বস্থান ছেড়ে তাঁর নিকট এসে ঘিরে বসতো। তাঁর মধুর কণ্ঠে তিলাওয়াতের প্রভাবে তারা যেন ছটফট করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ত।
৩৭৪. শাহর ইবনে হাওশাব রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, দাউদ আলাইহিস সালামকে ‘নাওয়ায’ [অতি ক্রন্দনকারী] বলা হতো।
৩৭০. মুহাম্মদ ইবনে খাওয়াত বলেন, দাউদ আলাইহিস সালাম যখন দীর্ঘ দিন কাঁদলেন তাকে বলা হলো ঐ স্ত্রীর [আগের] স্বামীর কবরে যাও। তুমি যে কাজ করেছ এ জন্য তার কাছে ক্ষমা চাও। আল্লাহ তখন কবরবাসী লোকটিকে কথা বলার শক্তি দিলেন। দাউদ আওয়াজ দিলেন আনওরিয়া! আমি দাউদ। আমার কাছে তোমার একটি প্রাপ্য আছে। লোকটি জবাব দিলেন আমি তো আপনাকে ক্ষমা করে দিলাম। এরপর তিনি চলে আসলেন। তার মন প্রশান্ত হলো। কিছুদিন পর আবার বলা হলো সেখানে যাও, তোমার কর্মের বর্ণনা দাও। তিনি গেলেন এবং অনুরূপ কথা বললেন। কবর থেকে ধ্বনি আসল দাউদ! নবীগণ তো অনুরূপ করেনই।
৩৭৪. ইমরান জুনী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, দাউদ আলাইহিস সালাম বললেন, প্রভু! তোমার শত্রু শয়তান আমাকে লজ্জা দিচ্ছে। সে বলছে তুমি যখন ভুল করেছিলে তখন তোমার প্রভু কোথায় ছিলেন?
৩৭৬. মালিক ইবনে দিনার রাহমাতুল্লাহি আলাইহি, فَغَفَرْنَا لَهُ ذَلِكَ وَإِنَّ لَهُ عِنْدَنَا لَزُلْفَى وَحُسْنَ مَآبِ আয়াতটির ব্যাখ্যায় বলেন, কিয়ামতের দিন একটি উঁচু মিম্বর তৈরী করে জান্নাতে রাখা হবে। এরপর ঘোষণা হবে, দাউদ! দুনিয়াতে যেভাবে মধুর কণ্ঠে আমার গুণগান বর্ণনা করতে এভাবে গুণগান গেয়ে যাও। জান্নাতের প্রত্যেক অধিবাসী তখন দাউদ আলাইহিস সালামের কণ্ঠ শুনবেন। এটাই হলো আল্লাহর এই কথার মর্ম। [আয়াতের অর্থ: আমি তার সে অপরাধ ক্ষমা করলাম। নিশ্চয় তার জন্য আমার কাছে রয়েছে উচ্চ মর্যাদা ও সুন্দর আবাসস্থল। (৩৮:২৫)]
৩৭৭. ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ বলেন, পাপ ঘটে যাওয়ার পর দাউদ আলাইহিস সালাম নারীদের কাছ থেকে দূরত্ব অবলম্বন করেন। সব সময় কেবল উপাসনা করতে থাকেন।
৩৮৯. সুলাইমান তাইমি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, পাপ ঘটে যাওয়ার পর দাউদ আলাইহিস সালাম আর স্ত্রীর সাথে সহবাস করেন নি।
৩৯০. আবু আমার আওয়াই রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, দাউদ আলাইহিস সালাম যখন কাঁদতেন পশু পাখি তাঁর কাছে ভিড় করতো। ক্রন্দন ধ্বনি শুনে তারা যেন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তো।
৩৯১. দাউদ আলাইহিস সালাম প্রার্থনা করতেন, প্রভু! পাপাচারদের ক্ষমা কর। তাদের সাথে দাউদকেও ক্ষমা করো। গুণগান গাই তারই যিনি সৃষ্টি করেছেন আলো। প্রভু! ভুল করে ফেলেছি। ভয় করি, যদি ক্ষমা না করো, কিয়ামতের দিন আমি শান্তি পেয়ে যাব। গুণগান গাই তারই যিনি সৃষ্টি করেছেন আলো। প্রভু! চিকিৎসকদের কাছে ঘুরে বেরিয়েছি, তাদের কাছে পাপের চিকিৎসার আবেদন করেছি। তারা সবাই আমাকে তোমার পথ দেখিয়েছেন।
৩৯২. মুজাহিদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, পাপ ঘটে যাওয়ার পর দাউদ আলাইহিস সালাম চল্লিশ দিন সিজদায় পড়ে থাকেন। চোখের পানিতে ঘাস গজিয়ে উঠে। মাথা আছড়িত হয়ে যায়। তখন প্রার্থনা করেন, প্রভু! কপাল রক্তাক্ত। চোখের পানি শেষ। আল্লাহ তাকে বললেন, তুমি কি ক্ষুধার্ত - তোমাকে খাওয়াবো, নিপীড়িত- তোমাকে সাহায্য করবো। একথা শুনে চিৎকার দিয়ে উঠলেন। এই করুণ চিৎকারে লতাপাতা জ্বলে গেল। এ সময়ই তাঁর তাওবা কবুল হয়।
তিনি হাতের মধ্যে পাপটি লিখে রাখতেন। পান পাত্র হাতে নিয়ে কেবল একটু পানি পান করতে পারতেন, ক্রন্দনের প্রাবল্যে। পাত্র ভরে যেত অশ্রুজলে। বলা হয়ে থাকে, দাউদের চোখের পানি সমগ্র সৃষ্টির চোখের পানির সমান হবে। আর আদমের চোখের পানি দাউদ ও সমগ্র সৃষ্টির চোখের পানির সমান হবে।
৩৬২. ইবনে সাবিত বলেন, পাপ ঘটে যাওয়ার পর দাউদ খুব কাঁদেন। তার চোখের পানি সমস্ত সৃষ্টির চোখের পানির সমান হবে। আর জান্নাত থেকে বের হওয়ার পর আদমও খুব কেঁদেছিলেন। তার চোখের পানি দাউদ ও সমস্ত সৃষ্টির চোখের পানির সমান হবে।
৩৬৩. ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ বলেন, পাপ ঘটে যাওয়ার পর দাউদ প্রার্থনা করেন, প্রভু! ক্ষমা করো। তখন আল্লাহ বললেন তোমাকে ক্ষমা করলাম। আর বোবা চেপে দিলাম বনি ইসরাঈলের উপর। তিনি বললেন, প্রভু! এটা কেমন কথা? তুমি তো সুবিচারক। কারো উপর অন্যায় করো না। পাপ করেছি আমি। আর এর শাস্তি ভোগ করবে অন্যজন। আল্লাহ বললেন তুমি যখন পাপ করেছিলে তারা দ্রুত এটা ঘৃণা করে নি।
৩৬৪. কাব বলেন, দাউদ নিঃস্ব দরিদ্র লোকদের কাছে বসে থাকতেন। খুব কাঁদতেন। প্রার্থনা করতেন, প্রভু! নিঃস্ব ও পাপীদের ক্ষমা করো। আর তাদের সাথে দাউদকে ক্ষমা করে দাও। উল্লেখ্য এর আগে তিনি পাপীদের জন্য বদ দোয়া করতেন।
৩৬৫. কাব বলেন, দাউদ বলতেন প্রভু! পাপ ভুলতে পারি না, এজন্য যে আমি এটা স্মরণ করে চিহ্নিত হই। কাঁদি। তোমার কাছে ক্ষমা মাগি।
৩৬৬. উবায়দ ইবনে উমায়র বলেন, দাউদ জোরে কাঁদতেন। উদ্দেশ্য, ক্রন্দন শুনে যেন আরো ক্রন্দন করতে পারেন।
৩৬৭. ওহাব বলেন, পাপ হয়ে যাওয়ার পর দাউদ জঙ্গলে বেড়িয়ে যান। পশুদল তাঁর পাশে জমে যায়। তিনি কাঁদেন। পশুরাও কাঁদে। দীর্ঘ সময় পর সিজদায় পড়ে যান। অশ্রুতে ঘাস-লতা গজে উঠলো। আল্লাহ বললেন, দাউদ! তুমি কি ক্ষুধার্ত? তোমাকে আহার করাবো। পিপাসু? পান করাবো। বস্ত্রহীন? কাপড় পরাবো। একথা শোনে দাউদ আলাইহিস-সালাম বলেন, পাপ আমাকে চেপে ধরেছে। এরপর সিজদায় কাঁদতে থাকেন। তখনই থাকে করুণা করা হয়।
৩৮৮. ওহাব বলেন, দাউদ আলাইহিস সালাম যখন কাঁদতেন পঙ্গদল তাঁর কাছে ভিড় করতো। পাখিরা থেমে যেতো। তিনি বলতেন, ‘প্রভু! পৃথিবী সংকীর্ণ হয়ে গেছে। কপাল রক্তাক্ত। চোখের পানি একদম শেষ। কিন্তু পাপ মোচন হয় নি’। এভাবে কাঁদতে থাকেন। তখনই থাকে করুণা করা হয়।
৩৮৯. বাকর ইবনে আবদুল্লাহ মুয়ানি বলেন, দাউদ আলাইহিস সালাম পাপের কারণে ৪০ দিন সিজদায় পড়ে কাঁদতে থাকেন। চোখের পানিতে ঘাস-লতা গড়ে উঠে। আল্লাহ বলতেন, তুমি কি পিপাসু, পান করাবো? ক্ষুধার্ত - তোমাকে খাওয়াবো। বস্ত্রহীন, কাপড় পরাবো? একথা শুনে তিনি চিৎকার দিয়ে উঠলেন। তখনই তাঁকে ক্ষমা করা হয়।
৩৯০. আব্দুল আযিয ইবনে ওমর বলেন, পাপ ঘটে যাওয়ার পর দাউদের সুন্দর কণ্ঠ ক্ষীণ হয়ে উঠে। তিনি বলতেন সত্যবাদীদের স্বচ্ছ কষ্টের সামনে আমার ধ্বনি বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
৩৯১. পাপ ঘটে যাওয়ার পর বনি ইসরাইলের কাছে গিয়ে কাঁদতে থাকেন। তারাও তার সাথে কাঁদেন। এরপর চলে যেতেন জঙ্গলে। পঙ্গদল তাঁর কাছে আসত। তিনি কাঁদেন, তারাও কাঁদে। পাখিরা কাছে থেমে যেতো। তার কাঁদা দেখে তারাও কাঁদে। এরপর আরো সংকীর্ণতা বোধ করতেন। পাহাড়ে ঘুরতেন। চিৎকার দিয়ে বলেন, প্রভু! পাপের কারণে! তোমাকে ভয় করছি। এভাবে সন্ধ্যা পর্যন্ত করতে থাকেন। এরপর চলে যেতেন পরিবারের কাছে। ইবাদতের কামড়ায় প্রবেশ করতেন। কেবল নামায পড়তেন। সেজদায় পড়ে কাঁদেন। ছোট ছেলে এসে বলতেন বাবা! রাত গভীর। রোয়াদারগণ ইফতার করে ফেলেছেন। তিনি জবাব দেন, বাবারে তোমার পিতা তো এ সব লোকদের মত নয়। তোমার বাবা তো বড় একটি অন্যায় করে ফেলেছেন। এখন তিনি, তুমি ও তোমার রাত থেকে তিনি একদম উদাসিন। তখন ছেলে ক্রন্দন করে মায়ের কাছে চলে যেতেন। স্ত্রী এসে বলতেন, আল্লাহর নবী! রাত হয়ে গেছে। রোযাদারদের ইফতারের সময় আসন্ন। আপনার খাবার কি নিয়ে আসব? দরজার পাশ থেকে জবাব দিলেন, পাপ করার পর খাবার খেয়ে দাউদ আর কী করবে? এভাবেই চলতে থাকে তার অবস্থা। তখনই তাঁকে ক্ষমা করা হয়।
৩১. ইয়াহিদি রুকায়ি বলেন, দাউদ আলাইহিস সালাম যখন কাঁদতেন আশে পাশের পাখিরাও করুণা হত। দীর্ঘ ক্রন্দনে তারাও তাঁর সাথে আহাজারি করত। তিনি কাঁদতেন আর ঘুরতেন। ‘প্রভু! আমি তো পাপ করে ফেলেছি’ এ কথা বলেন আর কাঁদেন।
৩২. মালিক ইবনে দিনার বলেন, দাউদ যখন রাতে পাপের কথা স্মরণ করতেন, ঘর থেকে বেরিয়ে যেতেন। তখন বলতেন, ‘আকাশের অধিপতি! তোমার দিকে মাথা উঠালাম। মূঢ়েরা তো তাদের মালিকের দিকে চেয়ে থাকে।’ এভাবে সকাল পর্যন্ত কাঁদতে থাকেন।
৩৩. হাসান বলেন, ক্ষমা লাভ করার পর দাউদের রোদন আরো বেড়ে যায়। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো- আল্লাহর নবী! আপনি কি মাফি পান নি? জবাব দেন আল্লাহর কাছে লজ্জা লাগছে, আমি কি করতে পারি?
৩৪. মালিক ইবনে দিনার বলেন, দাউদ বলতেন লোকজন! নারী হলো তিক্ত গাছ। এ গাছ দিয়ে যাওয়ার সময় চোখ নীচের দিকে রাখবে। পাপী দাউদ যে রকম পাপ করেছে তা থেকে বেচে থাকতে তোমরা আখেরাতের কথা স্মরণ রাখবে। পবিত্রতা বর্ণনা করি আলো সৃষ্টিকারীর। প্রভু! পানি দিয়ে উভয় চোখে, সেজদার মাধ্যমে আমার কপালে আর রুকুর মাধ্যমে হাঁটুতে শক্তি দাও। উদ্দেশ্য, যেনো তোমার সন্তুষ্টি লাভ করি। পবিত্রতা বর্ণনা করি আলো সৃষ্টিকারীর।
৩৫. হাযহায ইবনে জিমার বলেন, দাউদের আঁশ ভর্তি সাতটি বিছানা ছিল। প্রতিদিন তাতে বসতেন। তাঁর চারপাশে ত্রিশ ক্রন্দনকারী সমবেত থাকতেন। চোখের পানি মাটি দিয়ে গড়িয়ে যেত।

📘 কোমল হৃদয়ের ক্রন্দন > 📄 ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম কাঁদলেন যেভাবে

📄 ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম কাঁদলেন যেভাবে


৩৫৭. আব্দুল্লাহ ইবনে আমর বলেন, ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়্যা এত বেশি কাঁদতেন যে সামনের দাঁত বেরিয়ে আসত। তার মা বলতেন বাবা! তুমি যদি অনুমতি দাও তবে দাঁতগুলো আমি পশম দিয়ে ঢেকে দেব। কারো দৃষ্টিতে তা পড়বে না। তিনি জবাব দিলেন, মা আপনি করতে পারেন। তখন মা তা তার গালে পশম পেঁচিয়ে দিলেন। চোখের পানিতে যখন তা ভিজে যেত মা কাছে এসে পশম নিংড়িয়ে দিতেন। তখন পানি গাল বয়ে গড়িয়ে যেত।
৩৫৮. ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়্যার উভয় গালে দুটি দাগ ছিল। বাবা যাকারিয়্যা তাকে বলতেন, আমি এমন সন্তান আল্লাহর কাছে চাইলাম যার দ্বারা আমার চোখ শীতল হয়ে যায়। ইয়াহইয়া জবাব দিলেন, বাবা! জিব্রাঈল আমাকে সংবাদ দিলেন, জান্নাত ও দোযখের মধ্যে একটি ময়দান আছে, একমাত্র ক্রন্দনকারী ছাড়া তা কেউ অতিক্রম করে যেতে পারবে না।
৩৫৯. মা'মার বলেন, শিশুরা যাকারিয়্যাকে বলল, এসো খেলতে যাই। তিনি জবাব দিলেন, আমরা কি খেলা ধুলার জন্য সৃষ্টি হয়েছি? তখন আল্লাহ্ যোযনা দিলেন صَبِيًّا الْحَكَمَ وَآتَيْنَا وَআ আমি তাকে শৈশবেই বিচার বুদ্ধি দান করেছিলাম। [মরিয়ম:১২]
৪০০. ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়্যা একরাত তৃপ্তি করে যবের রুটি খেলেন। তখন রাতের অধিফা আদায় না করে ঘুমিয়ে যান। আল্লাহ্ তার কাছে ওহী পাঠালেন, ইয়াহইয়া! আমার ঘর থেকে কি তোমার ঘর উত্তম? আমার প্রতিবেশ থেকে কি তোমার প্রতিবেশ উত্তম? আমার ইযযতের শপথ! ইয়াহইয়া! যদি জান্নাতুল ফেরদাউসের দিকে একটিবার তাকাতে, তোমার প্রাণ উদগ্রীব হয়ে যেত। যদি একটিবার দোযখের দিকে তাকাতে, তোমার চোখ থেকে পানি শেষ হয়ে পূঁজ বের হত। নরম কাপড় ফেলে লুহার কাপড় পরিধান করতো।
৪০۱. ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়া ঘাস খেতেন। আল্লাহর ভয়ে এত বেশি কাঁদতেন যদি চোখে কোন গ্রাস রাখা হয় তবে তা বয়ে যাবে। চোখের পানিতে মুখে নালার বয়ে গিয়েছিল।
৪০২. জাফর বলেন, ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়ার কাছে শয়তান আসল। ইয়াহইয়া বললেন ইবলিস! তোর গলায় এসব কি লটকে আছে জবাব দেয়, এগুলো হলো প্রবৃত্তি। প্রতিদিন আমি তাতে পতিত হই। ইয়াহইয়া বললেন, আমিও কি তাতে পতিত হই? জবাব দেয়, যখন আপনি পেট ভরে খান তখন নামায ও যিকর আদায়ে ভারি অনুভব হয়। ইয়াহইয়া বলেন, আল্লাহর শপথ! আর কভুও পেট ভরে খাব না। তা শুনে ইবলিসও প্রতিজ্ঞা করে, আমিও কভু কোন মুসলমানের মঙ্গল কামনা করব না।
৪০৩. ইয়াহইয়া মানুষের রান্না করা খাবার খেতেন না। আশঙ্কা করতেন তাতে যদি কোন যুলমের অংশিদারিত্ব থাকে। শাক সবজি খেতেন। মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসলে আল্লাহ মওতের ফিরিশতাকে তাঁর কাছে এ বলে পাঠালেন অমুক দেহের ঐ আত্মাকে ক্ববয কর। ঐ শরীরটি কোন পাপ করে নি, এমন কি পাপের ইচ্ছাও করে নি।

📘 কোমল হৃদয়ের ক্রন্দন > 📄 ফিরিশতাদের রোদন

📄 ফিরিশতাদের রোদন


৪০৪. হযরত আনাস ইবনে মালিক রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, আল্লাহ্‌র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জিব্রাঈল আলাইহিস- সালামকে জিজ্ঞেস করলাম, মিকাইলকে কখনো হাসতে দেখি নি কেনো? জবাব দিলেন, জাহান্নাম সৃষ্টির পর থেকে মিকাইল আর হাসেন নি।
৪০৫. হযরত ইব্রাহীম ইবনে মুখাল্লাদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিব্রাঈল আলাইহিস-সালামকে বললেন, আপনি যখনই আমার কাছে আসেন, চোখে আতঙ্কের চিহ্ন দেখতে পাই? উত্তর দিলেন, জাহান্নাম সৃষ্টির পর থেকে আমি হাসি নি।
৪০৬. হযরত বকর আবিদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ইবনে আবি হায়ালার একজন সাথীকে জিজ্ঞেস করলাম, ফিরিশতারা কি হাসেন? জবাব দিলেন জাহান্নাম সৃষ্টির পর থেকে তারা আর হাসেন নি।
৪০৭. হযরত যিয়াদ ইবনে আবি হাবিবা রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আরশ বহনকারী একজন ফিরিশতার উভয় চোখ দিয়ে অধিক ক্রন্দনের কারণে পানির নালার বয়েছিল। তিনি মাথা তুলে বললেন, প্রভু! পবিত্রতা ও গুণগান তোমারই। তোমার প্রাপ্য অনুযায়ী তোমাকে তো ভয় করা হয় নি। তখন আল্লাহ তা'আলা বললেন, যারা আমার নামে মিথ্যা শপথ করে তারা তো এ বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারে না।
৪০৮. হযরত আবু ফুজালা রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আল্লাহ তা'আলার এমন কিছু ফিরিশতা আছেন, যারা জাহান্নাম সৃষ্টির পর আর কোনদিন হাসেন নি। ভয় হয়, যদি আল্লাহ তা'আলা অসন্তুষ্ট হয়ে তাদেরকে শাস্তি প্রদান করেন।
৪০৯. হযরত জাফর রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখন [মিরাজের রাতে] চতুর্থ আসমানে নেওয়া হলো, তিনি একটি ধ্বনি শুনতে পেলেন। জিব্রাঈল আলাইহিস- সালামকে প্রশ্ন করলেন, এটা কিসের আওয়াজ? উত্তর দিলেন, আপনার উম্মাতদের জন্য ক্রন্দন করা হচ্ছে- এটা সেই আওয়াজ।
৪১০. হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মিরাজের রাত আমি জিব্রাঈল আলাইহিস-সালামকে দেখেছি, একখণ্ড পুরাতন কাপড়ের মতো যা আকাশ থেকে পতিত হয়। তার এ অবস্থা পরিলক্ষিত হওয়ার কারণ ছিলো আল্লাহর প্রতি ভীষণ ভয়।
৪১১. হযরত ইয়াযিদ রুক্বাশী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আল্লাহ তা'আলার এমন কিছু ফিরিশতা তার পবিত্র আরশের চতুর্দিকে আছেন যাদের চোখ দিয়ে নালার মতো পানি আসছে। আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে ডেকে বলেন, আমার ফিরিশতারা! তোমরা আমার নিকটে থেকে এতো ক্রন্দন করছো কেন? কিসের ভয় করছো? তারা জবাব দেন, প্রভু! আপনার ইয্যত ও আযমতের শপথ! আমরা যা জানতে পেরেছি, তা যদি পৃথিবীবাসী জানতো তাহলে, পানাহার করতো না ও বিছানায় আরাম করতো না। গরু-গাধার মতো চিৎকার করে ময়দানে বেরিয়ে পড়তো!

📘 কোমল হৃদয়ের ক্রন্দন > 📄 আরো কয়েকজনের অত্যাশ্চর্য ক্রন্দন

📄 আরো কয়েকজনের অত্যাশ্চর্য ক্রন্দন


৪১২. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, উমর ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু নামাযে কাঁদতেন। তিন সারি পেছন থেকেও ক্রন্দনের আওয়াজ শোনা যেতো।"
৪১৩. হযরত আলকামা ইবনে ওয়াক্কাস রাহিমাহুল্লাহি আলাইহি বলেন, উমর ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুএর পেছনে নামায পড়েছি। তিনি সূরা ইউসুফ পাঠকালে ইউসুফ আলাইহিস-সালামের আলোচনা আসলেই কেঁদে উঠতেন। অনেক সারির পেছন থেকেও কাঁদার শব্দ শোনা যেতো।"
৪১৪. হযরত আবু মামার রাহিমাহুল্লাহি আলাইহি বলেন, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তিলাওয়াত করে সিজদায় গেলেন। মাথা উঠিয়ে বললেন, সিজদা তো হলো- কিন্তু ক্রন্দন আসলো না!"
৪১৫. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি উমর ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুএর সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তার সামনে কিছু মাল রাখা ছিলো। তখন বেশ আওয়াজ দিয়ে কাঁদলেন। শরীরের হাড়িউ ও পাঁজরো কম্পন শুরু হলো। এরপর বলেন, আমি তা থেকে মুক্তি চাই!"
৪১৬. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, উমর ইবনে খাত্তাব আমাকে ডাকলেন। তার কাছে যাই। সামনে ছিলো একগাদা কাপড়। তাতে জড়িয়ে রাখা সোনা-গয়না। আমাকে বললেন, এগুলো নিয়ে যাও। লোকদের মাঝে বন্টন কর। আল্লাহই বেশী অবগত, তিনি তার নবী ও হযরত আবু বকর সিদ্দিক থেকে এগুলো দূরে রেখেছিলেন। জানি না, আল্লাহর পক্ষ থেকে আমার নিকট আসা এসব জিনিস কল্যাণকর না অকল্যাণকর! এরপর বেশ জোরে কাঁদলেন।
৪১৭. হযরত কাতাদাহ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, উমর ইবনে খাত্তাব রাদিআল্লাহু আনহু শাম দেশে আসলেন। তার জন্য এমন খাবার পাকানো হয় যা ইতোপূর্বে দেখা যায় নি। তিনি বললেন, এগুলো গরীব-নিঃস্ব মুসলিমদের মধ্যে বিলিয়ে দাও!
৪১৮. হযরত আওন ইবনে আবি জুহায়ফা রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, একদল মানুষ উমর ইবনে খাত্তাব রাদিআল্লাহু আনহুর কাছে এসে অভাব-অনটনের অভিযোগ করলেন। তিনি কেঁদে উঠলেন। দু' হাত উঠিয়ে বললেন, আল্লাহ! আমার হাতে তাদেরকে ধ্বংস করুন না। এরপর তাদের জন্য খাবার প্রস্তুতির নির্দেশ দিলেন।
৪১৯. হযরত জিয়াদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, উমর ইবনে আব্দুল আজিজের সাথে এক রাতে সাক্ষাৎ করলাম। তিনি বললেন, জিয়াদ গল্প বলো! বললাম, আমি তো গল্পকার নই! আবার বললেন, তাহলে কথা বলো! জবাব দিই, জিয়াদের আবার কথা বলার কী আছে? সে যদি জাহান্নামে যায়, কোন জান্নাতী তার উপকার করবে না। আর যদি জান্নাতে যায়, কোন জাহান্নামী ক্ষতি করতেও পারবে না। উমর বললেন, আল্লাহর শপথ! সত্য বলেছো! কথাগুলো বলার সময় তিনি চুলার পাশে ছিলেন। তার চোখের পানিতে চুলার অঙ্গার নিভে যায়।
৪২০. হযরত জিছর ইবনে হাসান রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমরা উমর ইবনে আব্দুল আজিজের পাশে বসে কোন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলাম। তিনি তখন কাঁদতে থাকেন। এমনকি দেখতে পেলাম তাঁর অন্ত্রের মধ্যে রক্তও আছে। আওয়ায়াী ঘটনাটি শুনে মন্তব্য করলেন, তাহলে তো উমর ইবনে আব্দুল আজিজ দাউদ আলাইহিস-সালামের মতো হয়ে গিয়েছিলেন!
৪২১. হযরত মায়মুন ইবনে মেহরান রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, উমর ইবনে আবদুল আজিজ সূরা তাকাসুর তিলাওয়াত করলেন। খুব বেশী কাঁদলেন। এরপর বললেন, যে ব্যক্তি কবরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে সে হয় জান্নাতে যাবে, না হয় জাহান্নামে যাবে।
৪২২. হযরত মুকাতিল ইবনে হাইয়ান রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, উমর ইবনে আবদুল আজিজের পেছনে নামায পড়েছি। তিনি যখন এই আয়াতটিতে আসলেন وَقِفُوهُمْ إِنَّهُمْ مَسْئُولُونَ তখন তা বার বার পাঠ করতে লাগলেন। আর যেনো সামনে এগুতে পারছিলেন না। [আয়াতের অর্থ: এবং তাদেরকে থামা, তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে (৩৭:২৪)]।
৪২৩. হযরত আবু ইমরান জাওনী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমার মা আমাকে বলতেন, তুমি কি এ জায়গায় কালো চিহ্নটি দেখতে পাচ্ছ? এটা তোমার বাবার চোখের পানির চিহ্ন। তাকে বলতাম, আর কতো কাঁদবেন? তিনি জবাব দিতেন, প্রশ্ন করো না। জানি না আমার ফাতেমা কিসের উপর হবে?
৪২৪. হযরত আমবাসা খাওয়াস রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে ওয়াসিয়্যা প্রতি রাত 'هَلْ أَتَاكَ حَدِيْثُ الْغَاشِيَةِ' সূরাটি তিলাওয়াত করতেন আর কাঁদতেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00