📘 কোমল হৃদয়ের ক্রন্দন > 📄 তিলাওয়াতের মধ্যে ক্রন্দন

📄 তিলাওয়াতের মধ্যে ক্রন্দন


৭৩. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন:
قَالَ لِيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: اقْرَأْ عَلَيَّ قَالَ: قُلْتُ: أَلَيْسَ تَعَلَّمْتُ مِنْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: إِنِّي أُحِبُّ أَنْ أَسْمَعَهُ مِنْ غَيْرِي ۞ فَقَرَأْتُ عَلَيْهِ سُورَةَ النِّسَاءِ حَتَّى إِذَا بَلَغْتُ: ﴿فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلَاءِ شَهِيدًا﴾ فَاضَتْ عَيْنَاهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, কাছে বসে তিলাওয়াত করো। আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি তো আপনার কাছ থেকেই তিলাওয়াত শিখেছি? তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমি অন্যের কণ্ঠে শুনতে ভালোবাসি। আমি তখন সুরা নিসা তিলাওয়াত করতে লাগলাম। যখন আমি اِذَا ... فَكَيْفَ ‘ আয়াতে পৌঁছলাম তখন দেখি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র নয়নযুগল থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে।
[আয়াতের অর্থ: আর তখন কী অবস্থা দাঁড়াবে, যখন আমি প্রতিটি উম্মত থেকে তাদের অবস্থা বর্ণনাকারী ডেকে আনব এবং আপনাকেও ডাকব তাদের অবস্থা বর্ণনাকারীরূপে।]
৭৪. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: لَمَّا نَزَلَتْ إِذَا زُلْزِلَتِ الْأَرْضُ زِلْزَالَهَا بَكَى أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ رَحِمَهُ اللهُ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَا يُبْكِيكَ يَا أَبَا بَكْرٍ قَالَ : أَبْكَتْنِي يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذِهِ السُّورَةُ সুরায়ে যিলযাল নাজিল হওয়ার পর হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু কাঁদতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, আবু বকর! কাঁদছো কেন? জবাব দিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই সুরাটি আমাকে কাঁদাচ্ছে।
৭৫. হযরত আবু আবদুর রহমান হাবলী রাহিমাহুল্লাহি আলাইহি বলেন, উকবা ইবনে আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু খুব মধুর সুরে তিলাওয়াত করতেন। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু একদিন তাঁকে বললেন, সুরা বারাআত তিলাওয়াত করে শোনাও। তিনি তিলাওয়াত করলেন। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু খুব কাঁদলেন। এরপর বলেন, এই সুরা যে অবতীর্ণ হয়েছে তা আমার ধারণাও ছিলো না।
৭৬. হযরত নাফে রাহিমাহুল্লাহি আলাইহি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা যখন এই আয়াত, أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَن تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ - তিলাওয়াত করতেন, এতো বেশি কাঁদতেন যে, তাঁর দাড়ি ভিজে যেতো। সাথে সাথে বলতেন, হ্যাঁ, হে আমার প্রতিপালক! [আয়াতের অর্থ: আল্লাহর স্মরণে মুমিনদের হৃদয় গলে যাওয়ার কি এখনও সময় হয় নি? (৫৭:১৬)]
৭৭. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাবাহ রাহিমাহুল্লাহি আলাইহি বলেন, সাফওয়ান ইবনে মিহরাজ যখন এই আয়াত, وَسَيَعْلَمُ الَّذِينَ ظَلَمُوا أَيَّ مُنْقَلَبٍ يَنْقِلِبُونَ - তিলাওয়াত করতেন, কাঁদতে থাকতেন। মনে হতো তিনি ভেসে পড়বেন। [আয়াতের অর্থ: যুলুমকারীরা শীঘ্রই জানতে পারবে তাদের গন্তব্যস্থল কিরূপ। (২৬:২২৭)]
৭৮. হযরত ইবনে আজালান রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, কুরআন তিলাওয়াতের সময় ক্রন্দনের প্রতিটি ফোঁটার দ্বারা আল্লাহর করুণা লাভ হয়।
৭৯. হযরত ফজল রুক্বাশী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, সুললিত কন্ঠের তিলাওয়াতে প্রফুল্ল হয়ে ওঠে আবিদদের হৃদয়। যে হৃদয়ে সুন্দর তিলাওয়াতের আওয়াজে সাড়া জাগে না, তা তো মৃত। সুন্দর কন্ঠধ্বনি দ্বারা যে চোখে পানি আসে না, তা তো উদাসীন চোখ।
৮০. হযরত আবু সালামা রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত উমর ইবনে খাতাব রাদিয়াল্লাহু আনহু আবূ মূসাকে যখন বলতেন, আমাদেরকে প্রভূর কথা স্মরণ করিয়ে দিন, তিনি তখন তিলাওয়াত করতেন।
৮১. হযরত আবূ মা’শার রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে কায়েস যখন বন্ধুদেরকে কাঁদানোর ইচ্ছা করতেন, তখন কথা বলার পূর্বে কুরআন শরীফ তilaওয়াত করতেন। তাঁর কন্ঠ ছিলো সুমধুর। তিলাওয়াতের সময় নিজে কাঁদতেন, অন্যকেও কাঁদাতেন। তিলাওয়াত শেষে তিনি কথা বলতেন। যখন কথা বলতেন, চোখদু’টো অশ্রুতে ভিজে যেতো।
৮২. হযরত ইবনে আবি যিব রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত উমর ইবনে আবদুল আজিজ রাহমাতুল্লাহি আলাইহির নিকট এক ব্যক্তি এই আয়াতটি, وَإِذَا أُلْقُوا مِنْهَا مَكَانًا ضَيِّقًا مُقَرَّنِينَ دَعَوْا هُنَالِكَ ثُبُورًا - পাঠ করলেন, তখন খলিফা কাঁদতে লাগলেন। এরপর মজলিস ছেড়ে ঘরে চলে যান। লোকজনও চলে গেলো।
[আয়াতের অর্থ: যখন এক শিকলে কয়েকজন বেঁধে জাহান্নামের কোন সংকীর্ণ স্থানে নিক্ষেপ করা হবে, তারা সেখানে মৃত্যুকে ডাকবে। (২৫:১৩)]
৮৩. হযরত সাঈদ ইবনে আবি আরুবা রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, উমার ইবনে আবদুল আজিজ ছেলেকে বললেন, আমাকে তিলাওয়াত করে শোনাও। ছেলে জিজ্ঞেস করলেন, কি তিলাওয়াত করবো? বললেন, সূরা কাফ। ছেলে যখন তিলাওয়াত করে এই আয়াতে وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ذَلِكَ مَا كُنْتَ مِنْهُ تَحِيدُ -আসলেন তখন উমর কাঁদতে লাগলেন। এরপর আবার বললেন, বৎস! তিলাওয়াত করো। ছেলে জিজ্ঞেস করলেন, কি তিলাওয়াত করবো? বললেন, সুরায়ে কাফ। ছেলে তিলাওয়াত করে যখন মৃত্যুর আলোচনার আয়াতে আবার আসলেন, উমর খুব বেশী কাঁদলেন। এভাবে তিনি কয়েক বার তিলাওয়াত করালেন আর কাঁদলেন।
[আয়াতের অর্থ: মৃত্যুযন্ত্রণা নিশ্চিতই আসবে, এ থেকে তুমি টালবাহানা করতে। (কাফ:১৯)]
৮৪. হযরত মু'তামির রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, উবাই ফযরের নামাযে আমাদের ইমামতি করছিলেন। তিনি সুরায়ে কাফ তিলাওয়াত করে যখন এই আয়াতে, وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ذَلِكَ مَا كُنْتَ مِنْهُ تَحِيدُ -আসলেন তখন খুব বেশী কাঁদলেন। পরবর্তী আয়াত তিলাওয়াত করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেললেন। অতঃপর রুকুতে চলে যান।
[আয়াতের অর্থ: মৃত্যুযন্ত্রণা নিশ্চিতই আসবে, এ থেকে তুমি টালবাহানা করতে। (৫০:১৯)]
৮৫. হযরত সালূত ইবনে হাকিম রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, মক্কা শরীফে একজন ক্বারী সাহেব আমাদের কাছে বসে তিলাওয়াত করলেন। তিনি যখন সূরা ক্বাফের এই আয়াতে, وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ذَلِكَ مَا كُنْتَ مِنْهُ تَحِيدُ তখন ফুজায়েলের দরজার সামনে উপস্থিত ছিলাম। তাঁর কণ্ঠে সজোরে ক্রন্দন শোনাচ্ছিল।
৮৬. হযরত সুফিয়ান রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, তালক রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তিলাওয়াতের সময় নিজে কাঁদাতেন লোকদেরকেও কাঁদাতেন। কোমল হৃদয়ে মধুর কণ্ঠে ক্ষণিত তিলাওয়াত শুনে কেউ না কেঁদে পারতেন না। তাঁর মা তাঁকে বললেন, প্রিয় সন্তান! তোমার কণ্ঠ কতোই না সুন্দর! তবে ক্বিয়ামতের দিন এটাও (রিয়া হেতু) শাস্তির কারণ হতে পারে। একথা শ্রবণ করে তালক বেশ কাঁদলেন। কাঁদতে কাঁদতে বেহুঁশ হয়ে গেলেন।
৮৭. হযরত সাঈদ ইবনে ফুজায়েল রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, উমর ইবনে আবদুল আজিজের কাছে বসে এক ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত করলেন। যখন তিনি এই আয়াতে فَمَنَّ اللَّهُ عَلَيْنَا وَوَقَانَا عَذَابَ السَّمُومِ - পাঠ করলেন তখন উমর অঝোর ধারায় কাঁদতে লাগলেন। শেষ পর্যন্ত কাঁদতে কাঁদতে অজ্ঞান হয়ে যান। [আয়াতের অর্থ: অতঃপর আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন। (৫২:২৭)]
৮৮. হযরত ইবরাহীম তায়মী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হারিস ইবনে সুয়ায়দ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি এই দু'টি আয়াত, فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ তিলাওয়াত করে কাঁদতে লাগলেন। এরপর বলেন, পরকালের শাস্তি খুবই কঠিন। [আয়াতের অর্থ: অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে। কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে। (৯৯:৭-৮)]
৮৯. হযরত হারিস ইবনে সাঈদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমরা মালিক ইবনে দীনার রাহমাতুল্লাহি আলাইহির কাছে বসা ছিলাম। তখন একজন কারী সাহেব সূরায়ে যিলযাল তিলাওয়াত করেন। মালিক কাঁদতে শুরু করলেন, সাথে সাথে মজলিসের সবাই চিৎকার দিয়ে কাঁদতে লাগলেন। কারী সাহেব যখন إِذَا زُلْزِلَتِ الْأَرْضُ زِلْزَالَهَا আয়াতটি পাঠ করলেন, মালিক কেঁদে কেঁদে একেবারে অজ্ঞান হয়ে যান এবং এই অবস্থায়ই তাঁকে মজলিস থেকে উঠিয়ে নেওয়া হয়।
[আয়াতের অর্থ: যখন পৃথিবী তার কম্পনে প্রকম্পিত হবে। (৯৯:১)]
৯০. হযরত আবু মাওদূদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত উমর ইবনে আবদুল আযীয এই আয়াতটি: وَمَا تَكُونُ فِي شَأْنٍ وَمَا تَتْلُو مِنْهُ مِنْ قُرْآنٍ وَلَا تَعْمَلُونَ مِنْ عَمَلٍ إِلَّا كُنَّا عَلَيْكُمْ شُهُودًا
তিলাওয়াত করতে করতে কাঁদতে থাকেন। ঘরের লোকজন ক্রন্দনের আওয়াজ শুনতে পেলেন। স্ত্রী ফাতিমা কাছে এসে কাঁদলেন। এরপর ঘরের সকলেই কাঁদতে লাগলেন। এসময় আবদুল মালিক ঘরে প্রবেশ করলেন। দেখেন সবাই কাঁদছেন। বাবাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি এতো বেশী কাঁদছেন, কারণ কী? জবাব দিলেন, প্রিয় পুত্র! বেশ ভালো কথা। তোমার বাবা যদি এ দুনিয়াকে চিনত না এবং দুনিয়াও তোমার বাবাকে না চিনতো তবে তো ভালো হতো! আল্লাহর শপথ! আমার ভয় হচ্ছে, আমি যেমন ধ্বংস হয়ে যাবো! আমার ভয় হয়, আমি কি জাহান্নামী হয়ে যাবো!
[আয়াতের অর্থ: বস্তুত: যে কোন অবস্থাতেই তুমি থাক এবং কুরআনের যে কোন অংশ থেকেই পাঠ কর কিংবা যে কোন কাজই তোমরা কর, অথচ আমি তোমাদের নিকট উপস্থিত থাকি, যখন তোমরা তাতে আত্মনিয়োগ কর। (১০:৬১)]
৯১. হযরত হিশাম ইবনে হাসসান রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি এবং মালিক ইবনে দীনার রাহমাতুল্লাহি আলাইহি হাসান বসরী রাহমাতুল্লাহি আলাইহির কাছে গেলাম। দেখি সেখানে এক ব্যক্তি বসে তিলাওয়াত করছেন। তিনি যখন إِنْ عَذَابَ رَبِّكَ لَوَاقِعٌ مَا لَهُ مِنْ دَافِعٍ - আয়াতদ্বয় তিলাওয়াত করলেন, তখন হাসান ও তাঁর সাথীরা কাঁদতে লাগলেন। মালিক ইবনে দীনার অস্থির হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। [আয়াতের অর্থ: আপনার পালনকর্তার শাস্তি অবশ্যম্ভাবী। কেউ তা প্রতিরোধ করতে পারবে না। (৫২:৭-৮)]
৯২. হযরত মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল আজিজ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, একজন মানুষ উবাই এর কাছে এই আয়াতগুলো, وَالطُّورِ وَكِتَابٍ مَسْطُورٍ فِي رَقٍّ مَنْشُورٍ وَالْبَيْتِ الْمَعْمُورِ وَالسَّقْفِ الْمَرْفُوعِ وَالْبَحْرِ الْمَسْجُورِ এবং إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ لَوَاقِعٌ مَا لَهُ مِنْ دَافِعٍ তিলাওয়াত করলেন। তখন উপস্থিত লোকজন কাঁদতে লাগলেন। তাঁদের ক্রন্দনের আওয়াজে আমি কারী সাহেবের বাকী তিলাওয়াত আর শুনতে পারি নি। [আয়াতের অর্থ: কসম তুর পর্বতের! কসম প্রশস্ত পত্রে লিখিত কিতাবের! কসম বায়তুল-মামুর তথা আবাদ গৃহের! কসম সমুন্নত ছাদের এবং উত্তাল সমুদ্রের! আপনার পালনকর্তার শাস্তি অবশ্যম্ভাবী। কেউ তা প্রতিরোধ করতে পারবে না। (৫২:১-৮)]
৯৩. হযরত মুকাতিল ইবনে হাইয়ান রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি উমর ইবনে আবদুল আজিজ রাহমাতুল্লাহি আলাইহির পেছনে নামায আদায় করেছিলাম। তিনি এই আয়াতটি وَقِفُوهُمْ إِنَّهُمْ مَسْئُولُونَ কাঁদতে কাঁদতে বার বার পাঠ করতে থাকেন। ক্রন্দনের কারণে তিনি আর সামনে এগিয়ে তিলাওয়াত করতে পারছিলেন না। [আয়াতের অর্থ: এবং তাদেরকে থামাও, তারা জিজ্ঞাসিত হবে। (৩৭:২৪)]
৯৪. হযরত আ'মাশ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আবু সালেহ নামক একজন মুয়াজ্জিন ছিলেন। ইমাম সাহেব দেরী করলে তিনি ইমামতি করতেন। কোমল হৃদয়ের এই মানুষটি প্রবল ক্রন্দনের কারণে নামাজের মধ্যে যেন অবসন্ন হতে পারতেন না।
৯৫. হযরত আবদুল্লাহ আনাসী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, শুক্রবার দিন উমর ইবনে আবদুল আযীয ময়লা কাপড় পরে বেরিয়ে আসলেন। তাঁর পেছনে ছিলো একজন হাবশী ভৃত্য। তিনি যখন লোক সমাগমে পৌঁছলেন গোলামটি চলে গেল। উমর মিম্বরে আরোহণ করেন। এরপর এই আয়াত দুটি إِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ وَإِذَا النُّجُومُ انْكَدَرَتْ -তিলাওয়াত করে বলেন, সূর্য ও নক্ষত্রের কী অবস্থা হবে? এরপর আবার তিলাওয়াত করে এই আয়াতগুলোতে আসলেন وَإِذَا الْجَنَّةُ أُزْلِفَتْ وَإِذَا الْجَحِيمُ سُعِّرَتْ কাঁদতে লাগলেন। মসজিদের সবাই কাঁদতে শুরু করলেন, এমনকি গোটা মসজিদে ক্রন্দনের রোল পড়ে গেল। মনে হলো, মসজিদের দেওয়ালও কাঁদতে আছে। [আয়াতের অর্থ: যখন জাহান্নামের আগুন প্রজ্জ্বলিত করা হবে। এবং যখন জান্নাত নিকটবর্তী করা হবে। (৮১:১-২)]
৯৬. হযরত হাকিম ইবনে নূহ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি জায়গাম রাহমাতুল্লাহি আলাইহির কাছে ছিলাম। বিশর ইবনে মানসুর তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে আসলেন। জায়গাম আমাকে বললেন, আমাদের ঐ সাথী খুব সুন্দর তিলাওয়াত করেন। বিশর ইবনে মানসুর সুললিত কণ্ঠে তিলাওয়াত শুনতে খুবই ভালোবাসতেন। আমি তখন ঐ কারী সাহেবকে নিয়ে আসি। তিনি পারস্যের অধিবাসী, খুব সুন্দর কণ্ঠের অধিকারী। যখন তিনি তিলাওয়াত আরম্ভ করলেন, লোকজন কাঁদতে লাগলো। কারী নিজেও ফারসী ভাষায় বলতে বলতে কাঁদলেন। আল্লাহর শপথ! উপস্থিত সকলেই সন্তানহারা মায়ের মতো চিৎকার করে কাঁদছিলেন। চিৎকারে বাহির লোকজন জমায়েত হলো। বিশর ইবনে মানসুর বার বার বেহুঁশ হয়ে পড়েছিলেন। আবু মালিক উটাওয়াসা করতে লাগলেন। মনে হচ্ছিলো, তিনি অজ্ঞান হয়ে যাবেন। আল্লাহর শপথ করে বলছি, এ রাত্রটি আমার কাছে ছিল অত্যন্ত সুখকর, প্রশংসাদায়ক। বিশর আমাকে বললেন, হাকিম! ঐ পারস্য অধিবাসী কারী কী করলেন! তিনি তো চোখের সামনে কষ্ট দিয়ে মানুষকে মেরে ফেললেন!
৯৭. হযরত মাসরূক রাহিমাহুল্লাহু আলাইহি বলেন, আমি হযরত আয়শা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার কাছে যেয়ে এই আয়াত, فَمَنَّ اللَّهُ عَلَيْنَا وَوَقَانَا عَذَابَ السَّمُومِ -তিলাওয়াত করলাম। তিনি কেঁদে কেঁদে দু'আ করলেন, প্রভু! আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রেহাই দিন। [আয়াতের অর্থ: অতঃপর আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন। (৫২:২৭)]
৯৮. হযরত আবদুল আজিজ রাহিমাহুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমরা একস্থানে জমায়েত হলাম। প্রথম রাতে আমাদের সাথে ছিলেন রবি ইবনে সাবী এবং আরো কয়েকজন ফকীর। লোকজন বলতে লাগলো আবদুল ওয়াহিদ ইবনে জায়দ এসেছেন। মানুষ তা শ্রবণে সমবেত হতে থাকে। তিনি যখন আমাদের কাছে আসলেন একজন কারী সাহেব এই আয়াতদ্বয়, يَوْمَ تَمُورُ السَّمَاءُ مَوْرًا وَتَسِيرُ الْجِبَالُ سَيْرًا তিলাওয়াত করছিলেন। আবদুল ওয়াহিদ তা শ্রবণ করে খুব জোরে চিৎকার দিলেন। উপস্থিত লোকজনও কাঁদতে লাগলো। আবদুল ওয়াহিদ বেহুঁশ হয়ে যান। রবি এবং তাঁর সাথীরা তাঁকে ঘিরে কাঁদতে থাকেন। তিনি মাটিতে বেহুশ হয়ে পড়লেন। এ অবস্থায় বেশ গভীর রাতে তার জ্ঞান ফিরে আসলো। [আয়াতের অর্থ: সেদিন প্রবলভাবে আকাশ প্রকম্পিত হবে এবং পর্তমালা হবে চলমান। (৫২:৯-১০)]
৯৯. হযরত শা'বী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত উমর ইবনে খাত্তাব রাদিআল্লাহু আনহু এক লোকের কণ্ঠে এই আয়াতখানা إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ لَوَاقِعٌ শুনে কাঁদতে লাগলেন। ক্রমান্বয়ে ক্রন্দন বাড়তে লাগলো। এক পর্যায়ে অস্থির হয়ে মাটিতে পড়ে যান। লোকজন তাঁকে কাঁদার কারণ জিজ্ঞেস করলো। জবাব দিলেন, আমাকে ছেড়ে দাও! আমি প্রভুর পক্ষ থেকে সত্যের শপথ শুনতে পাচ্ছি। [আয়াতের অর্থ: আপনার পালনকর্তার শাস্তি অবশ্যম্ভাবী। (৫২:৭)]
১০০. হযরত আবু খুরাইম রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত হাসান বসরী রাহমাতুল্লাহি আলাইহিকে জিজ্ঞেস করা হলো, এখানে কিছু লোক আছেন তারা তিলাওয়াত শোনে জোরেসুরে কাঁদেন (এটা কি ঠিক)? তিনি বললেন, জিকির ও তিলাওয়াতের সময় লোকজন সব সময়ই কেঁদে আসেন।

📘 কোমল হৃদয়ের ক্রন্দন > 📄 ওয়াইজদের ক্রন্দন

📄 ওয়াইজদের ক্রন্দন


১০১. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিআল্লাহু আনহুমা বলেন: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُ وَهُوَ يَقُولُ : لَا تَنْسَوُا الْعَظِيمَتَيْنِ قُلْنَا : وَمَا الْعَظِيمَتَانِ ◌ قَالَ : الْجَنَّةُ وَالنَّارُ ◌ ثُمَّ ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا ذَكَرَ ◌ ثُمَّ بَكَى حَتَّى جَرَى أَوَائِلُ دُمُوعِهِ جَانِبَيْ لِحْيَتِهِ ◌ ثُمَّ قَالَ : وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ ◌ لَوْ تَعْلَمُونَ مِنْ عِلْمِ الْآخِرَةِ مَا أَعْلَمُ ◌ لَمَشَيْتُمْ إِلَى الصَّعِيدِ ◌ فَلْتَخْشَيَنَّ عَلَى رُؤُوسِكُمُ التُّرَابَ ◌
আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য শুনছিলাম। তিনি বললেন, বড় দু’টি বিষয়কে তোমরা ভুলে যেও না। জিজ্ঞেস করি, বড় দু’টো বিষয় কী? জবাব দিলেন, জান্নাত ও জাহান্নাম। এরপর তিনি উপদেশ প্রদান করতে থাকেন আর কাঁদেন। চোখের পানিতে দাড়ি ভিজে যায়। আরো বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি আখিরাতের যৎটুকু জ্ঞান রাখি তা যদি তোমরা রাখতে, তাহলে পাহাড়ে চলে যেতে এবং মাটিতে পড়ে গড়াগড়ি করতে।
১০২. হযরত বকর ইবনে আবদুল্লাহ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আবু মূসা বসরায় এক বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি জাহান্নাম নিয়ে আলোচনা করেন। তখন কাঁদতে লাগলেন। চোখের পানি মিশ্র দিয়ে গড়িয়ে যেতে লাগলো। দৃশ্যটি দেখে উপস্থিত লোকজনও কাঁদলেন।
১০৩. হযরত আবু কুরাইল রাহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিআল্লাহু আনহুমা বলেন, যদি কোন জাহান্নামী দুনিয়াতে ফিরে আসতো, তাহলে তার বীভৎস চেহারা ও দুর্গন্ধে দুনিয়ার সকল মানুষ মৃত্যুবরণ করতো। একথা বলে তিনি খুব কাঁদেন।
১০৪. হযরত আব্বাদ ইবনে মানসুর রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আদি ইবনে আরাতা আমাদের নিকট বক্তব্য দিয়েছিলেন। ওয়াজ করার সময় নিজে কাঁদলেন, উপস্থিত সকলকেও কাঁদালেন। বললেন, তোমরা ঐ লোকটির মতো হয়ে যাও, যে তার ছেলেকে উপদেশ দিয়েছিল, 'বৎস! মৃত্যু পর্যন্ত এমনভাবে নামায পড়ো যেনো এটাই তোমার জীবনের শেষ নামায। বৎস! এসো আমরা এমন দু'জন লোকের মতো আমল করি, যাদেরকে জাহান্নামের পাশে দাঁড় করিয়ে প্রশ্ন করা হচ্ছে।' আব্বাদ একজন সাহাবীর সূত্রে বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'একদল ফিরিশতার হৃদয় আল্লাহর ভয়ে কাঁপছে। চোখ দিয়ে পানি ঝরছে। আকাশ ও জমিন সৃষ্টির পর থেকে একদল ফিরিশতা সিজদাবান আছেন, কিয়ামত পর্যন্ত তাঁরা মাথা উত্তোলন করেন না। আরেক দল ফিরিশতা কাতারে কাতারে দাঁড়িয়ে আছেন, কিয়ামত পর্যন্ত তারা সারি ভাঙবেন না। কিয়ামতের দিন যখন তাঁদের সামনে আল্লাহ তা'আলা প্রকাশ হবেন, তারা তাঁর দিকে দৃষ্টিপাত করবেন এবং বলবেন, আপনার পবিত্রতার বর্ণনা দিচ্ছি। আমরা তো আপনার শান অনুযায়ী ইবাদাত করতে পারি নি।
১০৫. মক্কার শায়খ হযরত আবু জারিদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি উমর ইবনে আবদুল আজিজকে মিম্বরে বসে কাঁদতে দেখেছি। অধিক ক্রন্দনে তিনি কথা বলতে পারছিলেন না।
১০৬. হযরত আবু জাফর রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, খানাচিরা নামক স্থানে আমি উমর ইবনে আবদুল আজিজকে মিম্বরে উঠতে দেখি। তখন তাঁর দাড়ি বেয়ে চোখের পানি পড়ছিলো। যখন মিম্বর থেকে নেমে পড়লেন, তখনও কাঁদছিলেন।
১০৭. হযরত হাজ্জাজ ইবনে সাফওয়ান রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, মদীনা মুনাওয়ারার এক ব্যক্তি মুহাম্মাদ ইবনে কা’বকে সঙ্গে নিয়ে উমর ইবনে আবদুল আজিজের সাথে সাক্ষাৎ করেন। উমর মুহাম্মাদকে বললেন, আবু হামযা! তোমার ভাই বুসর ইবনে সাঈদের এই নিম্নসঙ্কতার মধ্যে কী ক্ষতি ছিল! এটুকু বলে তিনি এতো কাঁদলেন, মনে হচ্ছিলো মাটিতে পড়ে যাবেন। এরপর আবার বলেন, আল্লাহর শপথ! বুসর যেভাবে নিম্নসঙ্কতা ও ইবাদতের মধ্যে অটল ছিলেন, অনুরূপভাবে জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় অবিচল ছিলেন।
১০৮. হযরত আবু বকর হাযালী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি হাজ্জাজকে মিশরে বসে খুতবা দিতে দেখেছি। তিনি বলেন, লোকজন! আগামীকাল তোমরা আল্লাহর সম্মুখে দাঁড়ায়ে। সবাইকে তখন প্রশ্ন করা হবে, তাই প্রত্যেকেরই উচিৎ আল্লাহকে ভয় করা। সেদিনের অবস্থান নিয়ে চিন্তা করা উচিৎ। ঐ জায়গায় ভ্রান্ত লোকেরা ধ্বংস হবে। জ্ঞানবুদ্ধি বিলুপ্ত হবে। ফায়সালা থাকবে একমাত্র আল্লাহর কাছে। প্রত্যেকেরই বিনিময় পাবে নিজ নিজ কর্মানুসারে। নিশ্চয় আল্লাহ অতি দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। আমল করো, সেদিন আসার আগেই ছুটে চলো, যেদিন আকাঙ্ক্ষা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। এটুকু বলে তিনি মিশরে থেকেই কাঁদতে লাগলেন। চোখের পানি তার দাঁড়িয়ে বয়ে গড়িয়ে পড়তে লাগলো।
১০৯. হযরত আবু সাঈদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হাজ্জাজ আমাদেরকে বক্তব্য দেন, আদমসন্তান! আজ তুমি আহার করছো, আগামীকাল তোমাকে খাওয়া হবে! এরপর তিনি কাঁদতে কাঁদতে তিলাওয়াত করলেন- كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ তখন চোখের পানিতে তাঁর পাগড়ির শিমলা ভিজে গেলো। [আয়াতের অর্থ- প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। (৩:১৮৫)]
১১০. হযরত আবু বকর ইবনে আবু সাঈদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হাজ্জাজকে একদিন মিম্বরে খুত্বা দিতে শুনলাম। তিনি বলছিলেন, আদমসন্তান! তুমি ঘরে বসে আছো, এরপর তোমার কাছে একজনের আগমন হলো যিনি হচ্ছেন মৃত্যুর ফিরিশতা। তিনি তার হাত তোমার শরীরে রাখলেন, এতে নিস্তেজ হয়ে পড়লো তোমার দেহখানা। এরপর তিনি চলে গেলেন তোমার আত্মা নিয়ে। পরিবার পরিজন তোমাকে গোসল দিয়ে কাফন পরালো। কবরে নিয়ে দাফন করলো। তখন তোমাকে নিয়ে দু'জন বন্ধু তর্ক- বিতর্ক করতে লাগলো। এর একজন হচ্ছেন তোমার পরিবার থেকে আর অপরজন তোমার অর্থ-সম্পদ থেকে। তাই আল্লাহকে ভয় করো। আজকে তুমি খাচ্ছো। কাল তো তোমাকে খাওয়া হবে। এরপর তিনি চিৎকার দিলেন। মনে হলো এখনই মরে যাবেন। তার চোখে অশ্রু এসে গেলো। কপোল বেয়ে তা গড়িয়ে গড়িয়ে শিমলা সিক্ত করে দিল। এরপর মিম্বর থেকে নেমে গেলেন। পুনরায় মিম্বরে উঠলেন। এবার বৃষ্টির জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করলেন। অনুতাপভাবে আগেও তিনি বৃষ্টির জন্য দু'আ করেছেন। কিন্তু আজকে মিম্বর থেকে নামার পূর্বেই বৃষ্টিপাত শুরু হয়ে যায়। অতঃপর কিবলামুখী হয়ে নামায পড়লেন। চাঁদার মুসাল্লায় পড়ে যায়। দু'আ যেহেতু কবুল হয়েছে তাই আরো বেশি কাঁদলেন। সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বান্দা যখন প্রভুর দরবারে হাত পেশ করে, প্রভু যদি তার ডাকে সাড়া দেন তবে দীর্ঘ সময় অতিক্রম হয়। যাতে করে প্রয়োজন সমাধানের পর সে বেশী কৃতজ্ঞতা আদায় করতে পারে। আল্লাহর শপথ করে বলতে পারি, এ কারণেই তোমরা তিনদিন রোযা রাখতে পেরেছো। এ কথা বলে বের হয়ে যান।

📘 কোমল হৃদয়ের ক্রন্দন > 📄 ওয়াজ শ্রবণকারীদের ক্রন্দন

📄 ওয়াজ শ্রবণকারীদের ক্রন্দন


১১১. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উবায়দ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, তাঁর বাবা উবায়দ আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়র ও আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাহমাতুল্লাহি আনহুমা’র সাথে কথাবার্তা বলতেন। তাঁর বাবা যখন এই আয়াতটি- يَوْمَئِذٍ يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَعَصَوُا الرَّسُولَ لَوْ تُسَوَّى بِهِمُ الْأَرْضُ وَلَا يَكْتُمُونَ اللَّهَ حَدِيثًا তিলাওয়াত করেন, তখন ইবনে উমর এতো বেশি কাঁদলেন যে, তাঁর দাড়ি ভিজে গেলো চোখের পানিতে। [আয়াতের অর্থ- যে সব লোক কাফির হয়েছিল এবং রাসূলের নাফরমানী করেছিল, সেদিন তারা কামনা করবে যেন জমিনের সাথে মিশে যায়। কিন্তু আল্লাহর নিকট কোন বিষয় গোপন করতে পারবে না। (৪:৪২)]
১১২. হযরত আওয়াম ইবনে হাওশাব রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, উবায়দ ইবনে উমায়য়ার হালকায় আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাহমাতুল্লাহি আনহুকে দেখা যেতো। তিনি খুব কাঁদতেন। চোখের পানিতে মাটিও ভিজে যেতো।
১১৩. হযরত মুআররাফ ইবনে ওয়াসিল রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি শফিক ইবনে সালামাকে ইবরাহীম তায়িমির হাতে হাত ধরা অবস্থায় দেখেছি। ইবরাহীম যখন কথা বলেন, শফিক কাঁদতে থাকেন।
১১৪. হযরত মুহাম্মাদ ইবনে কায়েস রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, উমর ইবনে আব্দুল আযীয একদা যুহরের নামাযের সালাম ফিরিয়ে বলেন, আরু ইবরাহীম! জান্নাত ও জাহান্নামের আলোচনা করো। তখন আমি আলোচনা করলাম। আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে উমর ইবনে আব্দুল আযীযের চেয়ে আর কাউকে এতো বেশি কাঁদতে দেখি নি।
১১৯. হযরত কাতাদা রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, উমার ইবনে আবদুল আজিজের কাছে এক ব্যক্তি আসলো, তাকে ইবনে আতআম ডাকা হতো। তিনি ওয়াজ করছেন আর উমার কাঁদছেন। কেঁদে কেঁদে এক পর্যায়ে বেহুঁশ হয়ে পড়েন।
১২০. হযরত খালিদ ইবনে সাফওয়ান রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, উমার ইবনে আবদুল আজিজ আতআমকে বললেন, ইবনে আতআম! তোমার বাস্তবিতা তোমার নিরপেক্ষই চলে যাবে। তাই সার সংক্ষেপ বক্তব্য দাও। আল্লাহর কাছে জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করো। তখন ইবনে আতআম কাঁদলেন। উমারও কাঁদলেন। ক্রন্দনের আওয়াজে গৃহ কেঁপে উঠলো। ইবনে আতআমকে ইতোপূর্বে আর কোনদিন এতো বেশি কাঁদতে দেখি নি।
১২১. হযরত মুবারক ইবনে ফুজালা রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে আতআম উমার ইবনে আবদুল আজিজের কাছে গেলেন। তিনি খাটের উপর বসে আছেন। ইবনে আতআম আল্লাহর প্রশংসা গেয়ে লম্বা উপদেশ দিলেন। উমার খাট থেকে নেমে মাটিতে বসে যান। ইবনে আতআম বললেন, উমার! তুমি রাজাদের সন্তান। জন্ম নিয়েছে আরাম আয়েশের মধ্যে। মজাদার খাবার খেয়েছো। বিলাসিতা ছাড়া অন্য কিছু চিন না। উমার কেঁদে কেঁদে বললেন, ইবনে আতআম আরো বেশী কথা বল। ইবনে আতআম উপদেশ দিচ্ছেন। উমার কাঁদতে আছেন। শেষে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
১২২. হযরত মূসা ইবনে জায়েদ হাসানী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, একজন মানুষ আবদুল্লাহ ইবনে হাসানের সাথে কথা বললো। উপস্থিত লোকজনকে কাঁদালো। সকলে চলে যাওয়ার পর আবদুল্লাহ বললেন, আগেকার লোকজন অনুরূপ কাঁদাতেন।
১২৩. হযরত উকায়বা ইবনে ফুজালা রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি সাঈদ ইবনে দা'লাজের কাছে গেলাম। তাঁর সামনে এক ব্যক্তিকে প্রহার করা হচ্ছিলো। আমি বললাম, আল্লাহ! আমিরকে সংশোধন করুন। আমি আপনার সাথে একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চাই। এরপর আপনি যথেষ্টাতাই করবেন। বললাম, কিয়ামতের দিন অপকর্মের ফলে লোকজনের হৃদয় কাঁপতে থাকবে। অহঙ্কারীরা তখন সমগ্র সৃষ্টির পদতলে থাকবে। একথা শুনে তিনি খুব বেশি কাঁদলেন। লোকটিকে ছেড়ে দেন। এরপর থেকে যখনই তাঁর কাছে যেতাম আমাকে বেশ শ্রদ্ধা করতেন। একদিন বলেন উকায়রা! তোমার কথা আমাকে কাঁদায়। একথা বলে কাঁদতে লাগলেন।
১২০. হযরত মুদার রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, এক রাতে আমরা ক’জন সমুদ্র সৈকতে সমবেত হই। মুসলিম আবু আবদুল্লাহ ও সাথে ছিলেন। এক পর্যায়ে ইজদ অঞ্চলের এক লোক বললো, প্রেমিকের জন্য ইশকের সম্পর্ক ছাড়া আর কি আছে? প্রেমিক কল্যাণকর কাজের সন্ধানে লেগেই থাকে। একথা শ্রবণ করে মুসলিম খুব কাঁদলেন। আল্লাহর শপথ করে বলছি, তখন আমার ভয় হয়েছিল, তিনি যেন মরে যাবেন।
১২১. হযরত আবু জাফর রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, সালেহ ইবনে আবদুল করিম আমাকে বললেন, রাহমানের জন্য ক্রন্দনকারীদের কাঁদনে চোখের পানি ভাসে, জমিনের বিভিন্ন অংশ আত্মপ্রকাশ করতে থাকে, তারা কখন আমাদের উপর সিজদা করবে। এটুকু বলে তিনি কাঁদতে লাগলেন। মনে হলো তাঁর প্রাণ বেরিয়ে যাবে।
১২২. হযরত সালত ইবনে হাকিম রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, এক বন্ধুর সাথে আমি রাত্রি যাপন করলাম। আমাদের মধ্যে একজন ক্বারী একথা বলতে লাগলেন, আমার কি হলো, আমি কোনো পাপের জন্য কাঁদছি না? পাপ তো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও অন্তরের জন্য ব্যাধি।
১২৩. হযরত রিয়াহ ইবনে উবায়দা রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি উমর ইবনে আব্দুল আজিজ রাহমাতুল্লাহি আলাইহির নিকট বসা ছিলাম। একজন গ্রাম্য লোক সেথায় উপস্থিত হয়ে বললো, অনেক দূর থেকে একটি প্রয়োজনে এসেছি। কিয়ামতের দিন আমার সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা আপনাকে প্রশ্ন করবেন। উমার জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কী বলতে চাচ্ছো আবার বলো। তার মাথা নীচু হয়ে যায়। চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে। অশ্রুর ফোঁটায় মাটি সিক্ত হয়ে যায়। এরপর মাথা উঠিয়ে উমার জিজ্ঞেস করলেন, তোমার পরিবারের সদস্য কতজন? লোকটি জবাব দিল, আমি ও আমার তিন মেয়ে আছে। তখন তিনি তার জন্য তিনশ দিরহাম ও প্রত্যেক মেয়ের জন্য একশ দিরহাম নির্ধারণ করলেন। নগদ একশ দিরহাম দিয়ে বললেন, আমার নিজের সম্পদ থেকে এই টাকা প্রদান করছি, মুসলমানদের মাল থেকে নয়। এগুলো খরচ করো, মুসলমানদের দান-খয়রাতও আমার হাতে আসলে বাকি টাকা এসে নিয়ে যেয়ো।
১২৪. হযরত উবায়দা ইবনে হাসসান রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আজারবাইজান থেকে এক ব্যক্তি উমার ইবনে আবদুল আজিজের নিকট আসলো। সে বললো, আমি এই স্থানে দাঁড়িয়ে আরেকটি জায়গার কথা আপনাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। সেখানকার মানুষের মধ্যে যে ঝগড়া বিবাদ হচ্ছে সে ব্যাপারে আপনাকে আল্লাহ তা'আলা জিজ্ঞাসাবাদ করত ভুলবেন না। কথাটি শুনে উমার কাঁদতে লাগলেন। তিনি বললেন, আবার বলো। লোকটি বার বার উক্ত কথা বলছিলো আর তিনি কাঁদতে থাকেন। অবশেষে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কী অভিযোগ? জবাব দিলো, আজারবাইজানের শাসক আমার উপর যুলম করেছেন। আমার কাছ থেকে বারো হাজার দিরহাম বলপূর্বক আদায় করে বায়তুল মালে নিয়ে জমা করেছেন। অভিযোগ শ্রবণ করে উমার কর্মচারীকে নির্দেশ দিলেন, শাসকের নিকট পত্র লিখ, সে যেনো লোকটির টাকা ফেরৎ দেয়।

📘 কোমল হৃদয়ের ক্রন্দন > 📄 নামাযের মধ্যে ক্রন্দন

📄 নামাযের মধ্যে ক্রন্দন


১২৬. হযরত মুহাম্মাদ ইবনে আবু হারিস রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, উমর ইবনে আবদুল আজিজকে দেখেছি, সিজদা থেকে মাথা উঠালেন। উভয় সিজদার মধ্যে বিশ আয়াত পরিমাণ সময় বসে রইলেন। আবার সিজদা করলেন। যখন মাথা উঠালেন, দেখলাম চোখের পানিতে কপাল বয়ে যাচ্ছে। মক্কা শরীফে অবস্থানকালে নফল নামাযে আমি এ দৃশ্যটি অবলোকন করি।
১২৭. হযরত আদহাম ইবনে জাকারিয়া রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, খুরাসানের একজন শায়খ আমার নিকট বর্ণনা করেন, বায়তুল মুকাদ্দাসের উদ্দেশ্যে আবু জা'ফর যখন যাত্রা করলেন, তখন এক দরবেশের ঘরে মেহমান হলেন। উমর ইবনে আবদুল আজিজও ইতোপূর্বে বায়তুল মুকাদ্দাস যাত্রাপথে ঐ দরবেশের ঘরে অতিথি হয়েছিলেন। আবু জা'ফর দরবেশকে জিজ্ঞেস করলেন, জনাব! উমর ইবনে আবদুল আজিজের কোন কাজটি আপনার নিকট সর্বাপেক্ষা আশ্চর্যজনক মনে হয়েছে? দরবেশ জবাব দিলেন, হ্যাঁ, আমীরুল মু'মিনীন! তিনি একবার আমার ছাদে অবস্থান করছিলেন আর আমি চিৎ হয়ে শুয়েছিলাম। হঠাৎ অনুভব করি নালা বেয়ে আমার বুকে পানি পড়ছে। বিষয়টি আমাকে ভাবাল। বাইরে কোন বৃষ্টিপাতও হচ্ছে না আর আমার ঘরেও পানি নেই। তাই উপর তলায় যাই। উঠে দেখি উমর ইবনে আবদুল আজিজ সিজদায় আছেন, আর তাঁর চোখের পানি গড়িয়ে পড়ছে।
১২৮. হযরত আলী ইবনে শাবীব রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমার কাছে কয়েক জন বন্ধু বর্ণনা করেছেন, উমর ইবনে আবদুল আজিজ যখন সিজদা থেকে মাথা উঠালেন, দেখা গেল চোখের পানিতে সিজদার জায়গা সিক্ত হয়ে গেছে।
১২৯. হযরত মুহাম্মদ ইবনে জা'ফর রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, খালিদ জাইয়াদকে দেখেছি। যখন সিজদা থেকে মাথা ওঠালেন, সিজদা স্থলের ধুলো অশ্রুতে ভিজে গেছে।
১৩০. হযরত মাকহুল রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি এক নেতাকে তাওয়াফ করতে দেখেছি। আমার ইচ্ছা হলো তিনি কী করছেন তা দেখব। লক্ষ্য করলাম তিনি রুকনে আসওয়াদের সামনে দাঁড়িয়ে চল্লিশ আয়াত পর্যন্ত সময় অবস্থান করলেন। এরপর পাথরের পাশে গিয়েও অনুরূপ সময় দাঁড়ালেন। সেখান থেকে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে একই পরিমাণ সময় অতিবাহিত করলেন। তারপর চলে গেলেন রুকনানে হাজরায় (সম্ভবত হাতীমে)। সেখানে এসে দু রাকআত নামাজ পড়লেন। উপস্থিত নামাযিদের মধ্যে তার নামাজ ছিলো সব চেয়ে আকর্ষণীয়। যখন সিজদায় গেলেন দু‘আ করতে শুনলাম, আল্লাহ! পাপ ক্ষমা কর। অতীতে ও বর্তমানে যত পাপ করেছি, ক্ষমা কর। এরপর খুব কাঁদলেন। চোখের পানিতে পাথর ভিজে গেল।
১৩۱. হযরত মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি রাইয়াহ কাইসীর পাশে নামাজ পড়ছিলাম। তখন দেখি, তার চোখের পানি টপ টপ করে মাটিতে পড়ছে।
১৩২. হযরত মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ইসমাইল ইবনে দাউদের পাশে নামাজ পড়ি। তখন অনবরত পাই তার চোখের পানি টপ টপ করে চাটাইয়ের উপর পড়ছে।
১৩৩. হযরত উবাইদুল্লাহ ইবনে আইজার রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হাসান বসরী রাহমাতুল্লাহি আলাইহিকে যখনই দেখেছি, তাঁর উভয় চোখের মধ্যেখানে একটি দাগ লক্ষ্য করেছি। মনে হতো এটা কোন ক্ষতচিহ্ন। কিন্তু আসল কথা, তাঁর সামনে যখন আখিরাতের আলোচনা হতো, চোখদ্বয় অশ্রুতে ভারী হয়ে যেতো।
১৩৪. হযরত আব্দুল জাব্বার ইবনে নহর রাহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত, তার কাছে মুহাম্মাদ ইবনে সিরীনের একজন পরিবারের সদস্য বলেন, জামে মসজিদে দেখি মুসলিম ইবনে ইয়াসার সিজদা থেকে মাথা উঠাচ্ছেন। সিজদার জায়গা চোখের পানিতে একদম ভিজা। মনে হলো এখানে পানি ঢালা হয়েছে।
১৩৫. হযরত কাদির দাইলামী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ফুজাঈলের ইবনে আয়াজ আমার হাত ধরে বলেন, ফুজাঈলের জন্য কাঁদো। আমি তোমার এক বন্ধুকে দেখেছি, কুফার মসজিদে যখন তিনি সিজদা থেকে মাথা উঠালেন সিজদার জায়গাটি অশ্রুতে সিক্ত হয়ে গিয়েছে।
১৩৬. হযরত উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ইমার ইবনে মুসলিম আমাকে মসজিদের মধ্যে একটা আরেকটার বিপরীতে স্থাপিত দুটি ভেজা জায়গা দেখালেন। আমি বললাম, এসব কী? উত্তর দিলেন, আল্লাহর শপথ! এটা জায়গাম রাহমাতুল্লাহি আলাইহির চোখের পানি। তিনি মাগরিব থেকে ইশা পর্যন্ত রুকূ অবস্থায় ছিলেন।
১৩৭. হযরত আমর ইবনে কায়েস রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, শফীক ইবনে সালামা মসজিদে প্রবেশ করে নামাজ পড়তেন এবং খুব বেশী কাঁদতেন।
১৩৭. [এ নামাযের কোন বর্ণনা মূল কিতাবে পাওয়া যায় নি। -অনুবাদক]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00