📘 কম হাসো বেশী কাঁদো > 📄 দুঃখের বছর

📄 দুঃখের বছর


নবুওয়াতের দশম বছর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবন ছিল অত্যন্ত কষ্টের। কুরাইশরা তিন বছর যাবত বয়কটনীতি গ্রহণ করে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সঙ্গী সাথীসহ আবু তালেব মহল্লায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। শিয়াব অর্থ ঘাঁটি, শিয়াবে আবু তালেব অর্থ আবু তালেবের ঘাঁটি। বর্তমানে এটিকে শিয়াবে বনু হাশেম বলা হয়। তারা তিনটি বছর অবরুদ্ধ করে বনু হাশেমের মেরুদন্ড একেবারে চূর্ণ করে দিয়েছিল। এ সময় এমন হয়েছিল ঘাস ও গাছের পাতাও তাদের ভাগ্যে জোটেনি। ঘটনা আরো মারাত্মক হয় যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চাল এর মত চাচা ১) আবু তালেব এ সময় ইন্তেকাল করেন। ২) চাচা আবু তালেবের- মৃত্যুর এক মাস যেতে না যেতেই প্রিয়তমা স্ত্রী জীবন সঙ্গিনী খাদিজাতু (রাঃ) ইন্তেকাল করেন, যিনি শাতুনার আশ্রয় স্থল ছিলেন। ৩) এ বছরটিকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমুল হুন বা দুঃখের বছর বলে অভিহিত করেন। ৪) এমন সময় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পক্ষে ধর হতে বের হওয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এ সময় নিচের কয়েকটি ঘটনা ঘটে:-
১) কুরাইশের এক ব্যক্তি বাজারে প্রকাশ্যে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মাথায় মাটির নিক্ষেপ করে।
২) বনী সকীফ গোত্রকে দাওয়াত দেয়ার জন্য তায়েফ যাবার সঙ্কল্প করেন। আশা করেছিলেন দাওয়াত কবুল না করলেও নির্বিঘ্নে সেখানে থাকা যাবে। কিন্তু তা হয়নি। লোম হর্ষক ঘটনা ঘটে:-
৩) অর্থের সংকট এতই ছিল যে তায়েফ যাবার জন্য একটি উটও কিনতে পারেননি। পায়ে হেঁটে যায়েদ বিন হারেস (রাঃ) সহ তায়েফ পৌছেন। তারা তাে দাওয়াত কবুল না বরং ....
৪) সকীফ সরদার গুন্ডাদেরেক তাঁর পিছন লাগিয়ে দিল।
৫) অপমান সূচক গদ ও গালাগাল করল।
৬) পাগল তাড়ানোর মত করে পাথর নিক্ষেপ করে রক্তাক্ত করল।
৭) ক্ষত বিক্ষত চামড়া থেকে প্রবাহিত রক্ত জুতাও ভরে গেল।
৮) এ সময়ে একটি বাগানের প্রাচীরের ছায়ায় বসে করুন ও কাতর কণ্ঠে তার প্রভুর কাছে প্রার্থনা করেন。
“হে আমার দয়াময় আল্লাহ!
* আমি তোমারই নিকট অসহায়ত্ব এবং আমার প্রতি লোকেদের অসম্মান ও অপমানের অভিযোগ পেশ করছি। হে দয়াময়, অসহায় লোকেদের রব।
* তুমি আমাকে কার হাতে সোপর্দ করছ? তুমি কি এমন লোকেদের নিকট আমাকে ন্যস্ত করছ যারা আমার প্রতি কঠোর ও নির্মম আচরণ করবে? তুমিই তো আমার একমাত্র প্রভু।
* হে আমার জীবন মরণের মালিক আল্লাহ! তুমি যদি আমার প্রতি অসন্তুষ্ট না হয়ে থাক তাহলে আমি কোন বিপদেই ভয় করি না! তোমার নিকট থেকে যদি আমি নিরাপত্তা লাভ করি তাহলে আমি কাউকেও পরোয়া করি না। তুমিই আমার কাছে সেই নূর কামনা করি যা অন্ধকারে আলো দেবে, দুনিয়া ও আখিরাতের সব ব্যাপার ঠিক করে দিবে। আমার উপর তোমার গদ্বব হওয়া থেকে তুমি আমাকে রক্ষা কর। আমি যেন তোমার অসন্তোষের পাত্র হয়ে না পড়ি। তোমার সন্তোষেই আমি সন্তুষ্ট, তুমিই আমার প্রতি সস্পৃষ্ট থাক। তোমাকে ছাড়া আমার কোথাও কোন শক্তি নেই। (‘হিযবে ছায়াফ’ হয খন্ড-৬৭৭) (তাফসীরদের সুরা আহকামেশ- শানে নুযুল দ্রষ্টব্য)। ফিরতি পথে نابলা নামক স্থানে তিন জাতির কুরআন পাঠ শোনার খবর জানানো হল। মানুষ আপনার দাওয়াত অস্বীকার করলেও অবসর ঋণ ও দাওয়াতও প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তারা নিজেদের মধ্যে প্রচার করছে।
উদ্দেশ্য এ সময়ে পাহাড়দের ফেরেশতা এসে কাফেরদের ধ্বংস করার প্রস্তাব দিলে নবী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভবিষ্যত্বাদের তাদের মধ্যে ইসলাম কবুল করার শোক আসব বলে তা প্রত্যাখ্যান করেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি আয়াত তেলাওয়াত করতে করতে সারারাত বুক ভাসিয়ে ক্রন্দন করতেন。
إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ (۱۱۸)
হে আল্লাহ, তুমি যদি এদেরকে শাস্তি দাও, তাহলে তো তারা তোমার বান্দাহ আর যদি তুমি ক্ষমা করে দাও, তাহলে তুমি মহা ক্ষমতাশালী ও বিজ্ঞ।

📘 কম হাসো বেশী কাঁদো > 📄 মায়ের কবরের পাশে কান্না

📄 মায়ের কবরের পাশে কান্না


মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হুদাইবিয়ার চুক্তির সময় যখন আবওয়াব উপর দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন মায়ের কবর যিয়ারাত এর জন্য মায়ের কবরের কাছে গেলেন। কবর ঠিকঠাক করে দিয়ে কেঁদে ফেললেন। তাঁর কান্নার সাথে সাহাবীগণও কেঁদে ফেললেন। সাহাবীগণ প্রশ্ন করলেন আপনি তো কাঁদতে নিষেধ করেছেন। উত্তরে তিনি বললেন
أَدْرَكَنِي رَحْمَةُ أُمِّي
তাঁর স্নেহ মমতা আমার মনে পড়ল, আমি কেঁদে ফেললাম (আহমাদ, বায়হাকী)
* আব্বা বালাযুরীর বর্ণনা:- মক্কা বিজয় কালে হযরত হালীমাতু চদ্রী এসে তার বোন হালিমাৎ ইন্তেকালের খবর দেন। দুঃখু হালিমাৎ ইন্তেকালের খবর শুনে তার দু'টি চোখ অশ্রুপূর্ণ হয়ে যায়। তিনি তার দু'ধখালাকে কিছু কাপড় চোপড়, সত্তরানীর জন্য উট এবং নগদ দুইশত দিরহম দিয়ে বিদায় করেন।
* উম্মে আয়মান বলেন ৮ ববছর বয়সে আফফল মুত্তালিবের মৃত্যুর সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার দাদুর শিবিরে দাঁড়িয়ে কেঁদেছিলেন।

📘 কম হাসো বেশী কাঁদো > 📄 হৃদয় বিদারক সাহাবা চিত্র

📄 হৃদয় বিদারক সাহাবা চিত্র


১) সাহাবী হযরত বিলাল (রাঃ) কে দুপুরের তপ্ত বালুর উপরে শোয়াইয়া ভারী পাথর বুকের উপর চাপা দিল, রাত্রে শিকলে বেঁধে বেত্রাঘাত করল। শরীর রক্তে ভেসে গেল। চোখের পানি ও রক্ত একাকার হয়ে গেল। তবু 'আহাদ' 'আহাদ' করে ইসলামের উপর টিকে রইল। পরে আবু বকর (রাঃ) তাকে মুক্ত করেন।
২) হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ) মসজিদে হারামে গিয়ে তাওহীদের কালেমা জোরে চিৎকার করে উচ্চারণ করল। কাফেররা সঙ্গে সঙ্গে তার মুখের উপর মার দিয়ে শরীর রক্তাক্ত করল। রক্ত দিয়েও কালেমা প্রচার করল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চাচা আবু তালিব সিনায় যাবার রাস্তা নিরাপদ রাখার অজুহাতে তাকে রক্ষা করেন।
৩) হযরত বাক্কার ইবনে আরাত (রাঃ) কে দগদগে জ্বলন্ত কয়লার উপর শোয়াইয়া রাখত। তার কোমরের চর্বি ও রক্ত দ্বারা ঐ আগুন নিভে যেত। এত কষ্ট করে দ্বীনের উপর টিকেছিলেন।
৪) হযরত আম্মার (রাঃ) ও তাঁর পরিবার ইতিহাসে স্মরণীয়। হযরত আম্মার (রাঃ) এর পিতা হযরত ইয়াসীর (রাঃ) কাফেরদের নির্যাতনে শাহাদাত বরণ করেন। মা সুমাইয়া (রাঃ) কে আবু জেহেল লজ্জাহীন বর্ষা নিক্ষেপ করে শহীদ করে। ইতিহাসের প্রথম মহিলা শহীদ হযরত সুমাইয়া (রাঃ)। হযরত আম্মার (রাঃ) মদিনার কূবা নামক স্থানে মসজিদ নির্মাণের জন্য প্রথম পাথর জমা করেন। পরবর্তীতে জিহাদে অংশ গ্রহণ করে তিনি শহীদ হন।
৫) হযরত ওমর (রাঃ) ইসলাম গ্রহণের সময় মুসলিম বোন ও ভগ্নিপতিকে প্রহার করে রক্তাক্ত করে। নিজের বোনের রক্ত ঝরিয়ে মর্মিকভাবে দুর্বল হলে তাদের কিতাব পড়ার জন্য চাইলেন। পবিত্র হয়ে সুরা ত্বা-হা এর যে আয়াত পড়া হলে মুসলমান হলেন, তা ছিল
إِنِّي أَنَا اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدْنِي وَأَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي (١٤)
নিশ্চয়ই আমিই আল্লাহ, আমি ব্যতীত আর কোন মাবুদ নেই তোমরা আমারই ইবাদত করো, আমার স্মরণে নামাজ কায়েম কর। (ত্বা-হা-১৪)
৬) হযরত ওমর (রাঃ) শত মানুষ হত্যা সত্ত্বেও তাওবা ছাত্রদের মধ্যে আখেরাতের চেতনা এত বেশি ছিল যে, কুরআনের আয়াত শুনে উপায় দুর্বল হয়ে পড়তেন। হিসাবের অভাবে বলতেন ওমরই যদি মানুষ না হয়ে অণ্ডভূতা হত- তবে আখেরাতে হিসাব দিতে হত না। হযরত আবু বকর (রাঃ) আখেরাতের জন্য এত সচেতন ও ভীত ছিলেন যে তিনি বলতেন 'হায়' আমি যদি কোন বৃক্ষ হতাম, যা কেটে ফেলা হত। আমি যদি ছাই হতাম, পথেতে খেয়ে ফেলত, আখেরাতে হিসাব লাগত না।
৭) তাবুক যুদ্ধ থেকে ফেরার আসার পথে কাওম সামুদের এলাকা অতিক্রম কালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সহ সকল সাহাবী দ্রুত সে এলাকা অতিক্রম করলেন। জালেমদের এলাকাগুলো কাঁদতে কাঁদতে দ্রুত অতিক্রম করার নির্দেশ ছিল। সাহাবাগণ আল্লাহর গজব থেকে ধ্বংস প্রাপ্ত জাতি ও এলাকাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবন পরিচালনা করেছিলেন।
৮) হযরত হানযালা (রাঃ) একবার মুনাফিকীর ভয়ে চিৎকার করে রাস্তায় বের হয়ে যায়। হযরত আবু বকর (রাঃ) তাকে জিজ্ঞেস করেন কি হয়েছে- জবাব আসল আখেরাতের চিন্তায় বাধ্য হয়ে নাড়িভুড়িও পরিবার ও সন্তান-সন্তুতি। তাদের কাছে থাকলে সব ভুলে যায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে দুজনে এসে একই কথা বললে তিনি বলেন সব সময় যদি পরকালের চেতনা থাকত তাহলে ফেরেশতারা এসে তোমাদের সাথে করমর্দন করত এবং তোমাদের বিছানা ঠিক করে যেত।
৯) হযরত খাদীজা (রাঃ) মক্কার সর্বশ্রেষ্ঠ ধনী ছিলেন। ইসলামের জন্য তার সমস্ত সম্পদ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে সোপর্দ করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দ্বীনের জন্য এমনভাবে খরচ করলেন শেষ পর্যন্ত দাওয়াতি কাজ করতে যাওয়ার সময় একটি যানবাহনেও যোগাড় করতে পারেন নি। পায়ে হেঁটেই দাওয়াতি কাজ করে গেছেন।

📘 কম হাসো বেশী কাঁদো > 📄 জান্নাতের পথ

📄 জান্নাতের পথ


পূর্ববর্তী শরীফে হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন জাহান্নাম কে ঢেকে রাখা হয়েছে কামনা বাসনা লোভ লালসা দ্বারা। আর জান্নাতকে ঢেকে রাখা হয়েছে দুঃখ কষ্ট বিপদ মসিবত দ্বারা।
জান্নাতে যেতে হলে দুঃখ কষ্ট বিপদ মসিবত এর রাস্তা অতিক্রম করার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। একটি হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে ভালোবাসার কথা উল্লেখ করলে তাকে দারিদ্রতা গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হল। ইসলামের পথে চলতে গেলে দারিদ্রতা দেখে ভয় পাওয়া যাবে না। "যে ব্যক্তি আমাকে মহব্বত করে দারিদ্রতা তার কাছে বন্যার পানির গতি অপেক্ষা দ্রুত গতিতে পৌঁছে।" (তিরমিযী, আব্দুল্লাহ ইবন মুগাফ্ফাল রাঃ)। যে ব্যক্তি দুনিয়াকে ভালোবাসে সে আখেরাতকে ক্ষতিগ্রস্থ করবে। আর যে আখেরাতকে ভালোবাসে সে দুনিয়াকে ক্ষতিগ্রস্থ করবে।
জান্নাতে যাবার জন্য ওলাহুড়া মাফ করে নিতে হবে। আল্লাহর রহমত পাওয়ার জন্য দুচোখ থেকে পানি বের করে আল্লাহর কাছে চাইতে হবে।
وَآخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
সমাপ্ত

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00