📘 কম হাসো বেশী কাঁদো > 📄 আবু বকরের কান্না

📄 আবু বকরের কান্না


عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ مَرِضَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاشْتَدَّ مَرَضُهُ فَقَالَ مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ قَالَتْ عَائِشَةُ إِنَّهُ رَجُلٌ رَقِيقٌ إِذَا قَامَ مَقَامَكَ لَمْ يَسْتَطِعْ أَنْ يُصَلِّيَ بِالنَّاسِ قَالَ مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ فَعَادَتْ فَقَالَ مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ
হযরত উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রোগ যখনা এক সময় তীব্র আকার ধারণ করলো। তখন একদিন তাকে নামাজ পড়ানোর আহ্বান করা হলে তিনি আয়েশা (রাঃ) কে বললেন, আবু বকরকে বলো সে যেন ইমাম হয়ে সাহাবীদের নামাজ পড়ায়। আয়েশা (রাঃ) বললেন, আবু বকর (রাঃ) তো অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের মানুষ। তিনি যখন কুরআন তেলাওয়াত করবেন তখন কান্নার বেশি তীব্রভাবে প্রভাবিত করবে। এরপর আবার তিনি বললেন, তাকে বলো সে যেন লোকেদের নামাজ পড়ায়।
অন্য বর্ণনায় আয়েশা (রাঃ) বলেন আমি বললাম আবু বকর (রাঃ) যখনই আপনার স্থানে দাঁড়াবেন তখন কান্নার দরুন তিনি নামাজীদের কুরআন শুনাতে পারবেন না (অর্থাৎ কান্নার দরুন তার কুরআন তেলাওয়াত কেউ শুনতে পাবে না)। (বুখারী ও মুসলিম)

📘 কম হাসো বেশী কাঁদো > 📄 জিহাদে যেতে না পারার কান্না

📄 জিহাদে যেতে না পারার কান্না


وَلَا عَلَى الَّذِينَ إِذَا مَا أَتَوْكَ لِتَحْمِلَهُمْ قُلْتَ لَا أَجِدُ مَا أَحْمِلُكُمْ عَلَيْهِ تَوَلَّوْا وَأَعْيُنُهُمْ تَفِيضُ مِنَ الدَّمْعِ حَزَنًا أَلَّا يَجِدُوا مَا يُنْفِقُونَ (۹۲)
যারা তোমার কাছে যানবাহনের জন্য এসেছিল, তুমি বলেছিলে তোমাদের জন্য আমি এমন কিছু পাচ্ছিনা যার উপর আমি তোমাদের আরোহণ করাতে পারি- তারা তাদের চোখ থেকে ফেলতো ভীষণ দুঃখ নিয়ে ফিরে গেল যুদ্ধে যাবার খরচ যোগাড় করতে না পেরে। (তওবা -৯২)
আল্লাহর পথে জিহাদ করার জন্য অভুক্ত থেকে চাইছিল কিছু যানবাহন। কিন্তু অভাবের কারণে না পেয়ে যানবাহন পাওয়ার জন্য এসেছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে। তিনি যানবাহন যোগাড় করতে না পেরে তাদেরকে তা দিতে পারলেন না। ফলে মনে দুঃখ বেদনা আর অনুশোচনা নিয়ে ফিরে এল। শুধু অনুশোচনাই নয়, চোখের পানিতে দুচোখ ভাসিয়ে চলে গেল। জীবন কুরবানী করার কত উচ্চ আগ্রহ ও আন্তরিকতা থাকলে এ দৃশ্য হতে পারে- তা কল্পনা করেও শেষ করা যায় না।

📘 কম হাসো বেশী কাঁদো > 📄 কুরআন শুনেই কান্না

📄 কুরআন শুনেই কান্না


وَإِذَا سَمِعُوا مَا أُنْزِلَ إِلَى الرَّسُولِ تَرَى أَعْيُنَهُمْ تَفِيضُ مِنَ الدَّمْعِ مِمَّا عَرَفُوا مِنَ الْحَقِّ يَقُولُونَ رَبَّنَا آمَنَّا فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ (۸۳)
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে নাজিল হওয়া বাণী শুনতেই তাদের চোখের পানি গড়িয়ে পড়ে সত্য উপলব্ধি করার কারণে। তারা বলে, হে রব আমরা ঈমান আনলাম কাজেই আমাদেরকে সাক্ষ্য দাতাদের মধ্যে শামিল করুন। (মায়েদা-৮৩)
وَمَا لَنَا لَا نُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَمَا جَاءَنَا مِنَ الْحَقِّ وَنَطْمَعُ أَنْ يُدْخِلَنَا رَبُّنَا مَعَ الْقَوْمِ الصَّالِحِينَ (٨٤) فَأَثَابَهُمُ اللَّهُ بِمَا قَالُوا جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ جَزَاءُ الْمُحْسِنِينَ (٨٥)
তারা আরো বলে, কেন আমরা আল্লাহর উপর এবং তার কাছ থেকে আসা হকের উপর ঈমান আনব না, যখন আমরা আশা করি আমাদের রব আমাদেরকে তার সব রামদাদাদের দলভুক্ত করে নেবেন? তাদের এ (হৃদয়ের অনুভূতি সহ) উক্তি করার কারণে আল্লাহতায়ালা সন্তুষ্ট হলেন এবং এমন এক জান্নাতে তাদের প্রবেশ করাবেন যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা থাকবে, সেখানে তারা হবে চিরস্থায়ী, আর তা হচ্ছে নেককার লোকের পুরস্কার। (মায়েদা-৮৪-৮৫)

📘 কম হাসো বেশী কাঁদো > 📄 দুঃখের বছর

📄 দুঃখের বছর


নবুওয়াতের দশম বছর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবন ছিল অত্যন্ত কষ্টের। কুরাইশরা তিন বছর যাবত বয়কটনীতি গ্রহণ করে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সঙ্গী সাথীসহ আবু তালেব মহল্লায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। শিয়াব অর্থ ঘাঁটি, শিয়াবে আবু তালেব অর্থ আবু তালেবের ঘাঁটি। বর্তমানে এটিকে শিয়াবে বনু হাশেম বলা হয়। তারা তিনটি বছর অবরুদ্ধ করে বনু হাশেমের মেরুদন্ড একেবারে চূর্ণ করে দিয়েছিল। এ সময় এমন হয়েছিল ঘাস ও গাছের পাতাও তাদের ভাগ্যে জোটেনি। ঘটনা আরো মারাত্মক হয় যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চাল এর মত চাচা ১) আবু তালেব এ সময় ইন্তেকাল করেন। ২) চাচা আবু তালেবের- মৃত্যুর এক মাস যেতে না যেতেই প্রিয়তমা স্ত্রী জীবন সঙ্গিনী খাদিজাতু (রাঃ) ইন্তেকাল করেন, যিনি শাতুনার আশ্রয় স্থল ছিলেন। ৩) এ বছরটিকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমুল হুন বা দুঃখের বছর বলে অভিহিত করেন। ৪) এমন সময় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পক্ষে ধর হতে বের হওয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এ সময় নিচের কয়েকটি ঘটনা ঘটে:-
১) কুরাইশের এক ব্যক্তি বাজারে প্রকাশ্যে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মাথায় মাটির নিক্ষেপ করে।
২) বনী সকীফ গোত্রকে দাওয়াত দেয়ার জন্য তায়েফ যাবার সঙ্কল্প করেন। আশা করেছিলেন দাওয়াত কবুল না করলেও নির্বিঘ্নে সেখানে থাকা যাবে। কিন্তু তা হয়নি। লোম হর্ষক ঘটনা ঘটে:-
৩) অর্থের সংকট এতই ছিল যে তায়েফ যাবার জন্য একটি উটও কিনতে পারেননি। পায়ে হেঁটে যায়েদ বিন হারেস (রাঃ) সহ তায়েফ পৌছেন। তারা তাে দাওয়াত কবুল না বরং ....
৪) সকীফ সরদার গুন্ডাদেরেক তাঁর পিছন লাগিয়ে দিল।
৫) অপমান সূচক গদ ও গালাগাল করল।
৬) পাগল তাড়ানোর মত করে পাথর নিক্ষেপ করে রক্তাক্ত করল।
৭) ক্ষত বিক্ষত চামড়া থেকে প্রবাহিত রক্ত জুতাও ভরে গেল।
৮) এ সময়ে একটি বাগানের প্রাচীরের ছায়ায় বসে করুন ও কাতর কণ্ঠে তার প্রভুর কাছে প্রার্থনা করেন。
“হে আমার দয়াময় আল্লাহ!
* আমি তোমারই নিকট অসহায়ত্ব এবং আমার প্রতি লোকেদের অসম্মান ও অপমানের অভিযোগ পেশ করছি। হে দয়াময়, অসহায় লোকেদের রব।
* তুমি আমাকে কার হাতে সোপর্দ করছ? তুমি কি এমন লোকেদের নিকট আমাকে ন্যস্ত করছ যারা আমার প্রতি কঠোর ও নির্মম আচরণ করবে? তুমিই তো আমার একমাত্র প্রভু।
* হে আমার জীবন মরণের মালিক আল্লাহ! তুমি যদি আমার প্রতি অসন্তুষ্ট না হয়ে থাক তাহলে আমি কোন বিপদেই ভয় করি না! তোমার নিকট থেকে যদি আমি নিরাপত্তা লাভ করি তাহলে আমি কাউকেও পরোয়া করি না। তুমিই আমার কাছে সেই নূর কামনা করি যা অন্ধকারে আলো দেবে, দুনিয়া ও আখিরাতের সব ব্যাপার ঠিক করে দিবে। আমার উপর তোমার গদ্বব হওয়া থেকে তুমি আমাকে রক্ষা কর। আমি যেন তোমার অসন্তোষের পাত্র হয়ে না পড়ি। তোমার সন্তোষেই আমি সন্তুষ্ট, তুমিই আমার প্রতি সস্পৃষ্ট থাক। তোমাকে ছাড়া আমার কোথাও কোন শক্তি নেই। (‘হিযবে ছায়াফ’ হয খন্ড-৬৭৭) (তাফসীরদের সুরা আহকামেশ- শানে নুযুল দ্রষ্টব্য)। ফিরতি পথে نابলা নামক স্থানে তিন জাতির কুরআন পাঠ শোনার খবর জানানো হল। মানুষ আপনার দাওয়াত অস্বীকার করলেও অবসর ঋণ ও দাওয়াতও প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তারা নিজেদের মধ্যে প্রচার করছে।
উদ্দেশ্য এ সময়ে পাহাড়দের ফেরেশতা এসে কাফেরদের ধ্বংস করার প্রস্তাব দিলে নবী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভবিষ্যত্বাদের তাদের মধ্যে ইসলাম কবুল করার শোক আসব বলে তা প্রত্যাখ্যান করেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি আয়াত তেলাওয়াত করতে করতে সারারাত বুক ভাসিয়ে ক্রন্দন করতেন。
إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ (۱۱۸)
হে আল্লাহ, তুমি যদি এদেরকে শাস্তি দাও, তাহলে তো তারা তোমার বান্দাহ আর যদি তুমি ক্ষমা করে দাও, তাহলে তুমি মহা ক্ষমতাশালী ও বিজ্ঞ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00