📄 নবীর অশ্রু
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বর্ণনা করেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন “আমার সামনে কুরআন তেলাওয়াত করো"। আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল, আমি আপনার সামনে কুরআন পড়ব, অথচ আপনার প্রতি তা নাজিল হয়েছে। তিনি বললেন আমি অন্যের তেলাওয়াত শুনতে ভালোবাসি। তখন আমি তাকে সূরা নিসা পড়ে শুনাতে লাগলাম। পড়তে পড়তে যখন আমি এই আয়াতটাতে উপনীত হলাম-
﴿ فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَىٰ هَٰؤُلَاءِ شَهِيدًا (٤٧) ﴾
তখন কী অবস্থা হবে যখন আমি প্রত্যেক উম্মাত থেকে একজন করে সাক্ষী উপস্থাপন করব এবং আপনাকে তাদের উপর সাক্ষীরূপে উপস্থিত করব? (নিসা-৪১) তিনি বললেন, বাস, যথেষ্ট হয়েছে এখন তুমি থামো। “এ সময় আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দুচোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ছে”। (বুখারী ও মুসলিম)
📄 উবাই ইবনে কাবের কান্না
হযরত আনাস (রাঃ) বলেন একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনে কাব (রাঃ) কে বললেন, মহান আল্লাহ আমাকে তোমাদের সামনে সূরা বাইয়েনা পড়তে নির্দেশ দিয়েছেন। উবাই ইবনে কাব (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, তিনি কি আমার নাম উল্লেখ করে বলেছেন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন হ্যাঁ। অতঃপর উবাই আবেগের আতিশয্যে কাঁদতে লাগলেন। অন্য বর্ণনায় বলা হয়েছে, এর সাথে সাথেই উবাই কাঁদতে শুরু করলেন। (বুখারী ও মুসলিম)
উল্লেখ্য যে উবাই ইবনে কাব আবু তালিবের মৃত্যুর না থাকার দরুন পঞ্চাশ দিন বয়কটের মধ্যে ছিলেন এবং কান্নার রেকর্ড সৃষ্টি করেছিলেন। এমন অনুতোষ ও কান্না আল্লাহর আসামানে পৌঁছেল। আল্লাহ ওহী নাজিল করলেন।
وَعَلَى الثَّلَاثَةِ الَّذِينَ خُلِّفُوا (۱۱۸)
সে তিনজনকে তিনি ক্ষমা করলেন যাদের ব্যাপারটি মূলতবী করে রাখা হয়েছিল। (তওবা -১১৮)
যে তিনজন পিছিয়ে পড়েছিল তাদের তওবা ও কান্নাকাটি কবুল করা হয়েছে। এরা তিনজনই খাঁটি মুমেন ছিলেন। এর পূর্বে এরা কয়েকবার নিজেদের অকপট নিষ্ঠার প্রমাণ দিয়ে স্বার্থত্যাগ ও দুঃখবরণ করে ছিলেন। কিন্তু নিজেদের এই পূর্ব খেদমত সত্ত্বেও তাবুক যুদ্ধে যাবার ব্যাপারে শিথিলতা প্রদর্শন করেছিলেন। এজন্য তাদের কঠিনভাবে পাকড়াও করা হয়েছিল। যুদ্ধ থেকে ফিরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হুকুম দিয়েছিলেন, কেউ যেন তাদের সাথে সালাম কালাম না করে। ৪০ দিন পরে তাদেরকে তাদের স্ত্রীদের থেকেও পৃথক থাকার নির্দেশ দেয় হয়। বয়কট ৫০ দিনের মাথায় তাদের ক্ষমার হুকুম নাযিল হয়। (তওবা -১১৮)
সুরা বাইয়েনাহর শেষ আয়াতটি প্রতিনিধিত্বাপূর্ণ- যেখানে বলা হয়েছে
رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ ذَلِكَ لِمَنْ خَشِيَ رَبَّهُ (۸)
আল্লাহ তাঁদের প্রতি রাজী হয়েছেন, তাঁরাও আল্লাহর প্রতি রাজী হয়েছে- এসব কিছু তাঁর জন্য যে নিজে তাঁর খোদাকে ভয় করেছে।
📄 আবু বকরের কান্না
عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ مَرِضَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاشْتَدَّ مَرَضُهُ فَقَالَ مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ قَالَتْ عَائِشَةُ إِنَّهُ رَجُلٌ رَقِيقٌ إِذَا قَامَ مَقَامَكَ لَمْ يَسْتَطِعْ أَنْ يُصَلِّيَ بِالنَّاسِ قَالَ مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ فَعَادَتْ فَقَالَ مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ
হযরত উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রোগ যখনা এক সময় তীব্র আকার ধারণ করলো। তখন একদিন তাকে নামাজ পড়ানোর আহ্বান করা হলে তিনি আয়েশা (রাঃ) কে বললেন, আবু বকরকে বলো সে যেন ইমাম হয়ে সাহাবীদের নামাজ পড়ায়। আয়েশা (রাঃ) বললেন, আবু বকর (রাঃ) তো অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের মানুষ। তিনি যখন কুরআন তেলাওয়াত করবেন তখন কান্নার বেশি তীব্রভাবে প্রভাবিত করবে। এরপর আবার তিনি বললেন, তাকে বলো সে যেন লোকেদের নামাজ পড়ায়।
অন্য বর্ণনায় আয়েশা (রাঃ) বলেন আমি বললাম আবু বকর (রাঃ) যখনই আপনার স্থানে দাঁড়াবেন তখন কান্নার দরুন তিনি নামাজীদের কুরআন শুনাতে পারবেন না (অর্থাৎ কান্নার দরুন তার কুরআন তেলাওয়াত কেউ শুনতে পাবে না)। (বুখারী ও মুসলিম)
📄 জিহাদে যেতে না পারার কান্না
وَلَا عَلَى الَّذِينَ إِذَا مَا أَتَوْكَ لِتَحْمِلَهُمْ قُلْتَ لَا أَجِدُ مَا أَحْمِلُكُمْ عَلَيْهِ تَوَلَّوْا وَأَعْيُنُهُمْ تَفِيضُ مِنَ الدَّمْعِ حَزَنًا أَلَّا يَجِدُوا مَا يُنْفِقُونَ (۹۲)
যারা তোমার কাছে যানবাহনের জন্য এসেছিল, তুমি বলেছিলে তোমাদের জন্য আমি এমন কিছু পাচ্ছিনা যার উপর আমি তোমাদের আরোহণ করাতে পারি- তারা তাদের চোখ থেকে ফেলতো ভীষণ দুঃখ নিয়ে ফিরে গেল যুদ্ধে যাবার খরচ যোগাড় করতে না পেরে। (তওবা -৯২)
আল্লাহর পথে জিহাদ করার জন্য অভুক্ত থেকে চাইছিল কিছু যানবাহন। কিন্তু অভাবের কারণে না পেয়ে যানবাহন পাওয়ার জন্য এসেছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে। তিনি যানবাহন যোগাড় করতে না পেরে তাদেরকে তা দিতে পারলেন না। ফলে মনে দুঃখ বেদনা আর অনুশোচনা নিয়ে ফিরে এল। শুধু অনুশোচনাই নয়, চোখের পানিতে দুচোখ ভাসিয়ে চলে গেল। জীবন কুরবানী করার কত উচ্চ আগ্রহ ও আন্তরিকতা থাকলে এ দৃশ্য হতে পারে- তা কল্পনা করেও শেষ করা যায় না।