📄 দু’জনই কাঁদলেন
عَنۡ أَنَسٍ قَالَ قَالَ أَبُو بَكۡرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنۡهُ بَعۡدَ وَفَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيۡهِ وَسَلَّمَ لِعُمَرَ الطَّلِيْقِ بِنَا إِلَى أُمِّ أَيۡمَنَ نَزُورُهَا كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَزُورُهَا فَلَمَّا انۡتَهَيۡنَا إِلَيۡهَا بَكَتۡ فَقَالَ لَهَا أَبُو بَكۡرٍ مَّا يُبۡكِيكِ مَا عِندَ اللَّهِ خَيۡرٌ لِرَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتۡ مَا أَبۡكِي أَنۡ لَّا أَكُونَ أَعۡلَمُ أَنَّ مَا عِنۡدَ اللَّهِ خَيۡرٌ لِرَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيۡهِ وَسَلَّمَ وَلَكِنۡ أَبۡكِي أَنَّ الْوَحۡيَ قَدۡ انۡقَطَعَ مِنَ السَّمَاءِ فَهَيَّجَتۡهُمَا عَلَى الْبُكَاءِ فَجَعَلَا يَبۡكِيَانِ مَعَهَا
হযরত আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তেকালের পরে একদিন আবু বকর (রাঃ) উমর (রাঃ) কে বললেন, "চলো আমরা উম্মে আয়মানকে (যিনি রাসূলকে কোলে পিঠে নিয়ে বড় করেছিলেন) দেখে আসি যেমন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে যেতেন। তারপর তারা যখন উম্মে আয়মান এর কাছে পৌঁছলেন তখন তিনি কেঁদে ফেললেন। তাঁরা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন 'আপনি কাঁদছেন কেন?' আপনি কি জানেন না রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য কত সুসংবাদ ও মঙ্গল রয়েছে। তিনি বললেন আমি (সে জন্য কাঁদছি) কাঁদছি না। ও জন্য যে আসমান থেকে ওহী আসা বন্ধ হয়ে গেল। এ কথার তাদের দুজনকে অন্তর ভারাক্রান্ত হয়ে গেল এবং উম্মে আয়মানের সাথে তাঁরাও কাঁদতে লাগলেন। (মুসলিম)
📄 হাঁড়ির মত আওয়াজ
عَنۡ مُطَرِّفٍ عَنۡ أَبِيهِ قَالَ أَتَيۡتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يُصَلِّي وَلِصَدۡرِهِ أَزِيزٌ كَأَزِيزِ الْمِرْجَلِ يَعْنِي يَبْكِي
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে শিখখির (রা) বর্ণনা করেন একদা আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে দেখি তিনি নামাজ আদায় করছেন এবং আল্লাহর ভয়ে কান্নার দরুন তার পেট থেকে হাঁড়ির মত আওয়াজ বের হচ্ছে। (নাসায়ী, শামায়েলে তিরমিযী)
কোন কোন সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি এমতিও পড়তে পড়তে সারারাত কাটিয়ে দিতেন
﴿ إِنۡ تُعَذِّبۡهُمۡ فَإِنَّهُمۡ عِبَادُكَ وَإِنۡ تَغْفِرۡ لَهُمۡ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ (١١٨) ﴾
“তুমি যদি তাদের শাস্তি দাও, তাহলে তো তারা তোমার বান্দা আর যদি তাদের মাফ করে দাও তাহলে তুমি মহাপ্রাক্রমশালী সর্বজ্ঞানী।” কখনো সারারাত দাঁড়ানোয় ফলে তাঁর দু টি ফুল যেতো।
📄 আল্লাহর ছায়াতলে
عَنۡ أَبِي هُرَيۡرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ سَبۡعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللَّهُ فِي ظِلِّهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ الْإِمَامُ الْعَادِلُ وَشَابٌّ نَشَأَ فِي عِبَادَةِ رَبِّهِ وَرَجُلٌ قَلۡبُهُ مُعَلَّقٌ فِي الْمَسَاجِدِ وَرَجُلَانِ تَحَابَّا فِي اللَّهِ اجۡتَمَعَا عَلَيْهِ وَتَفَرَّقَا عَلَيْهِ وَرَجُلٌ طَلَبَتۡهُ امۡرَأَةٌ ذَاتُ مَنصِبٍ وَجَمَالٍ فَقَالَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ أَخۡفَى حَتَّى لَا تَعۡلَمَ شِمَالُهُ مَا تُنفِقُ يَمِينُهُ وَرَجُلٌ ذَكَرَ اللَّهَ خَالِيًا فَفَاضَتۡ عَيۡنَاهُ
হযরত আবু হুরাইরা রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন সাত ধরনের লোককে আল্লাহ তাঁর আরশের সুশীতল ছায়াতলে স্থান দিবেন, যেদিন তার ছায়া ছাড়া অন্য কোন ছায়াই থাকবে না- ১) ন্যায় বিচারক ২) আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন যুবক ৩) মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত হৃদয়ের অধিকারী ব্যক্তি ৪) ঐ দুই ব্যক্তি যারা শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পরস্পর বন্ধুত্ব করে একত্রাবদ্ধ থাকে এবং ঐ জন্যই বিচ্ছেদ হয়। ৫) এমন লোক থাকে যাকে কোন উচ্চ বংশীয় সুন্দরী নারী অসৎ কাজের জন্য ডাকলে সে জানিয়ে দেয় আমি আল্লাহকে ভয় করি। ৬) গোপনে এমন দানকারী যার ডান হাত কি করেছে বাম হাতও তা জানতে পারেনি। ৭) এমন ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে তার দু চোখ থেকে পানি ঝরতে থাকে। (বুখারী, মুসলিম)
হাদীসটির সাত নম্বরে নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করতে করতে দুচোখ দিয়ে পানি ঝরার কথা বলা হয়েছে। শেষ রাতে আল্লাহ নিচের আসমানে এসে বান্দাহকে যে ডাক দেয়ার কথা বলা হয়েছে সেখানে সেও রাতকে নির্জন ঘরে নিয়ে তখন কাঁদতে হতে হবে। এখানে নির্জন অর্থ বনে জংগলে চলে যাওয়া নয়।
📄 যে চোখ জাহান্নামে যাবে না
عَنۡ أَبِي هُرَيۡرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَلِجُ النَّارَ رَجُلٌ بَكَى مِنۡ خَشۡيَةِ اللَّهِ حَتَّى يَعُودَ اللَّبَنُ فِي الضِّرۡعِ وَلَا يَجۡتَمِعُ غُبَارٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَدُخَانُ جَهَنَّمَ
হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) বর্ণনা করেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে কাঁদে ও চোখ দিয়ে পানি ফেলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না, যেমন স্তন থেকে দুধ বের করে পুনরায় সে দুধকে স্তনে প্রবেশ করানো অসম্ভব। আল্লাহর পথে ধূলিবালি আর জাহান্নামের ধোঁয়া কখনো এক সাথে হবে না। (তিরমিযী)