📘 কম হাসো বেশী কাঁদো > 📄 আসমান জমীন কাঁদেনি

📄 আসমান জমীন কাঁদেনি


আল্লাহর ইচ্ছায় হযরত মুসা (আঃ) বনি ইসরাঈলকে সাথে নিয়ে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে পার হয়ে গেলেন। আল্লাহর হুকুমে সমুদ্র দুই ভাগ হয়ে পানি পাহাড়ের মত দাঁড়িয়ে রইল। যখন তারা দেখল সমুদ্রের রাস্তা দিয়ে মুসা (আঃ) ও তাঁর বাহিনী বনি ইসরাঈল পার হয়ে গেলেন তখন ফেরাউন ও তার দলবল যারা তাদের পশ্চাদ্ধাবন করছিল তারা মনে করল সমুদ্রতাদের এ শুকনো রাস্তা দিয়ে তারাও পার হয়ে যাবে এবং মুসা (আঃ) ও তার জাতি বনি ইসরাঈলকে ধরে ফেলতে পারবে। যেই মাত্র তারা দরিয়ায় ফেরাউন ও তার সেনাবাহিনী গিয়ে পড়লো, সেই সময়ই পানি সমতল হয়ে গিয়ে তাদেরে সলিল সমাধি (কবর) রচনা করেছে। তারা ডুঃখল হল এবং তাদের সব শেষ হয়ে গেল। কুরআনের ভাষায়
كَمْ تَرَكُوا مِن جَنَّاتِ وَعُيُونٍ (۲٥) وَزُرُوعٍ وَمَقَامٍ كَرِيمٍ (۲٦) وَنَعْمَةٍ كَانُوا فِيهَا فَاكِهِينَ (۲۷) كَذَلِكَ وَأَوْرَثْنَاهَا قَوْمًا آخَرِينَ (۲۸) فَمَا بَكَتْ عَلَيْهِمُ السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ وَمَا كَانُوا مُنْظَرِينَ (۲۹)
“কতনা বাগ-বাগিচা, ঝরনাধারা, ক্ষেত্র ও সুরম্য প্রাসাদাদি ছিল, যা তারা পিছনে ফেলে গিয়েছিল, কতই না বিলাস সামগ্রী যাতে তারা আনন্দ করছিল, তাদের পিছনে পড়ে থাকল। এই হল তাদের পরিণাম, আর আমরা অন্য লোকদের এ সব জিনিসের উত্তরাধিকারী বানালাম; অতঃপর না আসমান তাদের জন্য কাঁদল না যমীন কাঁদল। তাদের খানিকটা অবসরের দরকার হয়নি।" (দুখানঃ ২৯-২৯) যারা আল্লাহর আইনের সাথে দুশমনী করে তাদের পরিণতি এরকমই হয়। এখনও সময় আছে সাবধান হয়ে আল্লাহর আইনের বিরোধিতা ছেড়ে দিয়ে তওবা করে আল্লাহর আইনের পক্ষে কাজ করতে। অতীতের বিদ্রোহের জন্য চোখের পানি ফেলে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে।

টিকাঃ
বি:দ্রু: ফ: সিজদায় আয়াত-এটি পড়ে সিজদা দিতে হবে।

📘 কম হাসো বেশী কাঁদো > 📄 নকল কান্না

📄 নকল কান্না


হযরত ইয়াকুব (আঃ) এর ছেলেরা ইউসুফকে হত্যা করার জন্য ষড়যন্ত্র করল। ফেঁসার সাথী বানানোর জন্য ইউসুফকে পিতার কাছ থেকে নেয়ার প্রস্তাব দিয়ে নিয়ে গেল। তাকে অন্ধ কূপে ফেলে দিয়ে তার জামাতেলোতে মিথ্যামিছি রক্ত মাখিয়ে পিতার কাছে নিয়ে আসল। পিতাকে বুঝ দেয়ার জন্য তারা সকলেই কাঁদতে কাঁদতে পিতার কাছে ঘটনা বর্ণনা করল। যুক্তির জন্য জামাতে রক্ত মাখানো এবং দুঃখ প্রকাশের নিমিত্তে কাঁদতে কাঁদতে কথা বলতে থাকল। কুরআনের ভাষায়-
﴿ وَجَآءُوٓاْ أَبَاهُمۡ عِشَآءٗ يَبۡكُونَ (١٦) قَالُواْ يٰٓأَبَانَآ إِنَّا ذَهَبۡنَا نَسۡتَبِقُ وَتَرَكۡنَا يُوسُفَ عِندَ مَتَاعِنَا فَأَكَلَهُ ٱلذِّئۡبُۖ وَمَآ أَنتَ بِمُؤۡمِنٖ لَّنَا وَلَوۡ كُنَّا صَٰدِقِينَ (١٧) وَجَآءُو عَلَىٰ قَمِيصِهِۦ بِدَمٖ كَذِبٖ قَالَ بَلۡ سَوَّلَتۡ لَكُمۡ أَنفُسُكُمۡ أَمۡرٗا فَصَبۡرٌ جَمِيلٞ وَٱللَّهُ ٱلۡمُسۡتَعَانُ عَلَىٰ مَا تَصِفُونَ (١٨) ﴾
হে পিতা আমরা দৌড়ের প্রতিযোগিতায় লেগে গিয়েছিলাম আর ইউসুফকে আমাদের নিজস্বপত্রের কাছে রেখে গিয়েছিলাম, ইতোমধ্যে নেকড়ে এসে তাকে খেয়ে গেল। আপনি হয়ত আমাদের কথা বিশ্বাস করবেন না, আমরা সত্যবাদী হলেও। তারা ইউসুফের জামাতে মিথ্যামিছি রক্ত মাখিয়ে এনেছিল। তাদের পিতা বলল, তোমাদের নফস তোমাদের জন্য একটা বড় কাজকে সহজ বানিয়ে দিয়েছে। আমি সবর করব, ভালভাবেই সবর করে থাকব। (ইউসুফঃ ১৭-১৯) নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য যদি দুনিয়াতেই এভাবে কাঁদা যায়, তবে আখেরাতের জন্য কেন কাঁদতে পারবে না। হাসতে হাসতে জীবন শেষ করে দিলে, কাঁদার জন্য সময় পেলে না। এমন সময় আসবে কাঁদতে কাঁদতে চোখের পানি শেষ হয়ে রক্ত বের হতে থাকবে- তখন সেখানের কান্নার কোনো মূল্য হবে না।

📘 কম হাসো বেশী কাঁদো > 📄 ডুকরে ডুকরে কাঁন্না

📄 ডুকরে ডুকরে কাঁন্না


عَنۡ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنۡهُ قَالَ خَطَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيۡهِ وَسَلَّمَ خُطۡبَةً مَا سَمِعۡتُ مِثۡلَهَا قَطُّ قَالَ لَوۡ تَعۡلَمُونَ مَا أَعۡلَمُ لَضَحِكۡتُمۡ قَلِيلًا وَلَبَكَيۡتُمۡ كَثِيرًا قَالَ فَغَطَّى أَصۡحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيۡهِ وَسَلَّمَ وُجُوهَهُمۡ لَهُمۡ خَنِينٌ
হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দিলেন যে রকম ভাষণ আমি আর কখনো শুনিনি। তিনি বললেন (হে আমার সাহাবীগণ) আমি যা জানি, তোমরা যদি তা জানতে পারতে, তাহলে তোমরা হাসতে খুবই কম এবং কাঁদতে খুবই বেশী। এ কথা শুনে সাহাবীগণ কাপড় দ্বারা তাদের মুখ ঢেকে ফেললেন ও ডুকরে ডুকরে কাঁদতে লাগলেন। (বুখারী ও মুসলিম)

📘 কম হাসো বেশী কাঁদো > 📄 দু’টি ফোঁটা, দুটি চিহ্ন

📄 দু’টি ফোঁটা, দুটি চিহ্ন


عَنۡ أَبِي أُمَامَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَيْسَ شَيْءٌ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنۡ قَطۡرَتَيۡنِ وَأَثَرَيۡنِ قَطۡرَةٍ مِنۡ dُمُوعٍ فِي خَشْيَةِ اللَّهِ وَقَطۡرَةِ دَمٍ تُهَرَاقُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأَمَّا الْأَثَرَانِ فَأَثَرٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأَثَرٌ فِي فَرِيضَةٍ مِنۡ فَرَائِضِ اللَّهِ
হযরত আবু উমামাহ সুদাই ইবনে আজলাম আল-বাহেলী (রা) বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন মহান আল্লাহর কাছে দুটি ফোঁটা ও দুটি নিদর্শনের চেয়ে প্রিয় জিনিষ আর কিছু নেই। তার একটি হলো আল্লাহর ভয়ে নির্গত চোখের পানি এবং অন্যটি হলো আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে প্রবাহিত রক্ত বিন্দু। আর দুটি নিদর্শনের একটি হল আল্লাহর রাস্তার জিহাদ ও আঘাত প্রাপ্ত নিদর্শন (চিহ্ন) এবং অন্যটি আল্লাহর ফরজগুলোর মধ্য থেকে কোন ফরজ আদায় করার চিহ্ন। (তিরমিযী)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00