📘 কম হাসো বেশী কাঁদো > 📄 কুরআন শুনেই সিজদা

📄 কুরআন শুনেই সিজদা


فَلْيُؤْمِنُوا بِهِ أَو لَّمْ يُؤْمِنُوا إِنَّ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ مِن قَبْلِهِ إِذَا يُتْلَى عَلَيْهِمْ يَخِرُّونَ سُجَّدًا (১০৭) وَيَقُولُونَ سُبْحَانَ رَبِّنَا إِن كَانَ وَعْدُ رَبِّنَا لَمَفْعُولاً (১০৮) وَيَخِرُّونَ لِلْأَذْقَانِ يَبْكُونَ وَيَزِيدُهُمْ خُشُوعًا (১০৯)
যে সব লোককে ইতিপূর্বে ইলম দেয়া হয়েছে, তাদেরকে যখন ইহা শুনানো হয় তখন তারা নতমুখে সিজদায় পড়ে যায়। আর চীৎকর করে উঠে “পবিত্র আমাদের প্রভু, তাঁর ওয়াদা অবশ্যই পূর্ণ হবে”। আর তারা কাঁদতে কাঁদতে নতমুখে পড়ে যায়, আর উহা জনওে পাওয়ায় তাদের নিবিড় আনুগত্য আরো বৃদ্ধি পায় (বনী ইসরাঈল-১০৭-১০৯)
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ (۲) الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ (۳)
প্রকৃত ঈমানদার তো তারাই যাদের দিল খোদার স্মরণে কেঁপে উঠে, আর আল্লাহর আয়াত যখন তাদের সামনে তেলাওয়াত করা হয় তখন তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায়, তারা তাদের রবের উপর আস্থা ও নির্ভরতা রাখে। নামাজ কায়েম করে, আর যা কিছু আমরা তাদেরকে দিয়েছি তা থেকে খরচ করে। (আনফাল ২-৩) কুরআন যেহেতু কেয়ামত পযর্ন্ত পক্ষে অথবা বিপক্ষে সাক্ষী দিবে-তাই কুরআনের প্রতি গভীর আকরণ সুচি করতে হবে। দুনিয়ায় কুরআনের পক্ষে কাজ করলেই কুরআন কেয়ামত পযর্ন্ত পক্ষে কথা বলবে। তা না হলে দুনিয়া ও আখেরাতে উভয় যায়গায় জীবন বরবাদ হয়ে যাবে। তাই কুরআন শুনে সিজদায় পড়ে কাঁদতে হবে।

📘 কম হাসো বেশী কাঁদো > 📄 কাঁদতে কাঁদতে সিজদায়

📄 কাঁদতে কাঁদতে সিজদায়


وَمَنُ هَدَيْنَا وَاجْتَبَيْنَا إِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُ الرَّحْمَانِ خَرُّوا سُجَّدًا وَبُكِيًّا (৫৮)
যাদেরকে তাদের মধ্য থেকে আমরা হেদায়েত দান করেছি এবং অবশ্যা এ ছিল যে, রাহমানের আয়াত যখন তাদেরকে শুনানো হত তখন তারা কাঁদতে কাঁদতে সিজদায় পড়ে যেত। তাদের পর অরাজিস্তিতো অধোরাত্ত্বো লোকেরা তাদের স্থলাভিষিক্ত হল যারা নামাজকে বিনষ্ট করল নফসের লালসা বাসনার অনুসরণ করল। সেদিন নিকটেই যখন তারা ওমরায়ীদের পরিণামের সম্মুখীন হবে। (মরিয়ম ২৫-২৬)
এই সেই কুরআন যাকে পাহাড়ের নিকট নাযিল করার জন্য পেশ করা হলে তা খরখর করে কাঁপতে কাঁপতে বিলীন হয়ে যায়। কুরআনের ভাষায়
لَوْ أَنزَلْنَا هَذَا الْقُرْآنَ عَلَى جَبَلٍ لَّرَأَيْتَهُ خَاشِعًا مُتَصَدِّعًا مِّنْ خَشْيَةِ اللَّهِ وَتِلْكَ الْأَمْثَالُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ (২১)
আমরা যদি এই কুরআন কোন পাহাড়ের উপর অবতীর্ণ করে দিতাম তাহলে তুমি দেখতে যে উহা আল্লাহর ভয়ে থরথর কাঁপছে, চূর্ণ বিচূর্ণ হচ্ছে -এ দৃষ্টান্তগুলো আমরা লোককের সামনে এ উদ্দেশ্যে পেশ করছি যে তারা চিন্তা বিবেচনা করবে। (হাশর-২১)

📘 কম হাসো বেশী কাঁদো > 📄 আসমান জমীন কাঁদেনি

📄 আসমান জমীন কাঁদেনি


আল্লাহর ইচ্ছায় হযরত মুসা (আঃ) বনি ইসরাঈলকে সাথে নিয়ে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে পার হয়ে গেলেন। আল্লাহর হুকুমে সমুদ্র দুই ভাগ হয়ে পানি পাহাড়ের মত দাঁড়িয়ে রইল। যখন তারা দেখল সমুদ্রের রাস্তা দিয়ে মুসা (আঃ) ও তাঁর বাহিনী বনি ইসরাঈল পার হয়ে গেলেন তখন ফেরাউন ও তার দলবল যারা তাদের পশ্চাদ্ধাবন করছিল তারা মনে করল সমুদ্রতাদের এ শুকনো রাস্তা দিয়ে তারাও পার হয়ে যাবে এবং মুসা (আঃ) ও তার জাতি বনি ইসরাঈলকে ধরে ফেলতে পারবে। যেই মাত্র তারা দরিয়ায় ফেরাউন ও তার সেনাবাহিনী গিয়ে পড়লো, সেই সময়ই পানি সমতল হয়ে গিয়ে তাদেরে সলিল সমাধি (কবর) রচনা করেছে। তারা ডুঃখল হল এবং তাদের সব শেষ হয়ে গেল। কুরআনের ভাষায়
كَمْ تَرَكُوا مِن جَنَّاتِ وَعُيُونٍ (۲٥) وَزُرُوعٍ وَمَقَامٍ كَرِيمٍ (۲٦) وَنَعْمَةٍ كَانُوا فِيهَا فَاكِهِينَ (۲۷) كَذَلِكَ وَأَوْرَثْنَاهَا قَوْمًا آخَرِينَ (۲۸) فَمَا بَكَتْ عَلَيْهِمُ السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ وَمَا كَانُوا مُنْظَرِينَ (۲۹)
“কতনা বাগ-বাগিচা, ঝরনাধারা, ক্ষেত্র ও সুরম্য প্রাসাদাদি ছিল, যা তারা পিছনে ফেলে গিয়েছিল, কতই না বিলাস সামগ্রী যাতে তারা আনন্দ করছিল, তাদের পিছনে পড়ে থাকল। এই হল তাদের পরিণাম, আর আমরা অন্য লোকদের এ সব জিনিসের উত্তরাধিকারী বানালাম; অতঃপর না আসমান তাদের জন্য কাঁদল না যমীন কাঁদল। তাদের খানিকটা অবসরের দরকার হয়নি।" (দুখানঃ ২৯-২৯) যারা আল্লাহর আইনের সাথে দুশমনী করে তাদের পরিণতি এরকমই হয়। এখনও সময় আছে সাবধান হয়ে আল্লাহর আইনের বিরোধিতা ছেড়ে দিয়ে তওবা করে আল্লাহর আইনের পক্ষে কাজ করতে। অতীতের বিদ্রোহের জন্য চোখের পানি ফেলে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে।

টিকাঃ
বি:দ্রু: ফ: সিজদায় আয়াত-এটি পড়ে সিজদা দিতে হবে।

📘 কম হাসো বেশী কাঁদো > 📄 নকল কান্না

📄 নকল কান্না


হযরত ইয়াকুব (আঃ) এর ছেলেরা ইউসুফকে হত্যা করার জন্য ষড়যন্ত্র করল। ফেঁসার সাথী বানানোর জন্য ইউসুফকে পিতার কাছ থেকে নেয়ার প্রস্তাব দিয়ে নিয়ে গেল। তাকে অন্ধ কূপে ফেলে দিয়ে তার জামাতেলোতে মিথ্যামিছি রক্ত মাখিয়ে পিতার কাছে নিয়ে আসল। পিতাকে বুঝ দেয়ার জন্য তারা সকলেই কাঁদতে কাঁদতে পিতার কাছে ঘটনা বর্ণনা করল। যুক্তির জন্য জামাতে রক্ত মাখানো এবং দুঃখ প্রকাশের নিমিত্তে কাঁদতে কাঁদতে কথা বলতে থাকল। কুরআনের ভাষায়-
﴿ وَجَآءُوٓاْ أَبَاهُمۡ عِشَآءٗ يَبۡكُونَ (١٦) قَالُواْ يٰٓأَبَانَآ إِنَّا ذَهَبۡنَا نَسۡتَبِقُ وَتَرَكۡنَا يُوسُفَ عِندَ مَتَاعِنَا فَأَكَلَهُ ٱلذِّئۡبُۖ وَمَآ أَنتَ بِمُؤۡمِنٖ لَّنَا وَلَوۡ كُنَّا صَٰدِقِينَ (١٧) وَجَآءُو عَلَىٰ قَمِيصِهِۦ بِدَمٖ كَذِبٖ قَالَ بَلۡ سَوَّلَتۡ لَكُمۡ أَنفُسُكُمۡ أَمۡرٗا فَصَبۡرٌ جَمِيلٞ وَٱللَّهُ ٱلۡمُسۡتَعَانُ عَلَىٰ مَا تَصِفُونَ (١٨) ﴾
হে পিতা আমরা দৌড়ের প্রতিযোগিতায় লেগে গিয়েছিলাম আর ইউসুফকে আমাদের নিজস্বপত্রের কাছে রেখে গিয়েছিলাম, ইতোমধ্যে নেকড়ে এসে তাকে খেয়ে গেল। আপনি হয়ত আমাদের কথা বিশ্বাস করবেন না, আমরা সত্যবাদী হলেও। তারা ইউসুফের জামাতে মিথ্যামিছি রক্ত মাখিয়ে এনেছিল। তাদের পিতা বলল, তোমাদের নফস তোমাদের জন্য একটা বড় কাজকে সহজ বানিয়ে দিয়েছে। আমি সবর করব, ভালভাবেই সবর করে থাকব। (ইউসুফঃ ১৭-১৯) নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য যদি দুনিয়াতেই এভাবে কাঁদা যায়, তবে আখেরাতের জন্য কেন কাঁদতে পারবে না। হাসতে হাসতে জীবন শেষ করে দিলে, কাঁদার জন্য সময় পেলে না। এমন সময় আসবে কাঁদতে কাঁদতে চোখের পানি শেষ হয়ে রক্ত বের হতে থাকবে- তখন সেখানের কান্নার কোনো মূল্য হবে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00