📘 কম হাসো বেশী কাঁদো > 📄 কম হাসো, বেশী কাঁদো

📄 কম হাসো, বেশী কাঁদো


কুরআন মাজিদে সূরা. তওবার ৮২ নম্বর আয়াতে কম হাসতে বেশী কাঁদতে বলা হয়েছে। আল্লাহর বিধান চালু করার জন্য মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি রাষ্ট্রের সহযোগিতা চেয়ে দোয়া করেছিলেন। "اَجَعَلَاللَّهَ مِن لَّدُنْكَ سُلْطَانَا نَصِيرًا" আমাকে তোমার পক্ষ থেকে একটি সাহায্যকারী রাষ্ট্রশক্তি দাও- যাতে তোমার নাবিলকৃত কুরআনের বিধান চালু করা সহজ হয়। আল্লাহ তায়ালা মদীনায় ইসলামী রাষ্ট্র তাঁকে দান করেনন। কিন্তু কাফের শক্তিগুলো একযোগে ইসলামী রাষ্ট্রকে উৎখাত করার জন্য যুদ্ধ শুরু করে। মদীনার ইসলামী রাষ্ট্রকে রক্ষা করার লক্ষ্যে আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের জন্য জিহাদ ফরজ করে দিলেন। বদর, ওহুদ, খন্দকের প্রায় ১২টি যুদ্ধ স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পরিচালনা করতে হয়। সর্বশেষ যুদ্ধ ছিল তাবুক যুদ্ধ। যুদ্ধের সময় অত্যন্ত কঠিন ও প্রতিকূল পরিবেশ থাকায় কিছু লোক জিহাদে যেতে গড়িমসি করেছিল। যারা যুদ্ধে গেল না তারা অন্যদেরকেও বলল, এই কঠিন গরমে বের হয়ো না। আল্লাহ জবাবে বলে দেয়ার জন্য বললেন- قُلْ نَارُ جَهَنَّمَ أَشَدُّ حَرًّا (৪১) বল, জাহান্নামের আগুন তো এর চেয়েও অনেক বেশী গরম। জিহাদে না যাবার জন্য যে ত্রুটি করল তার জন্য তাদেরকে বলা হল- فَلْيَضْحَكُوا قَلِيلاً وَلْيَبْكُوا كَثِيرًا (৪২) তাদের উচিত কম হাসা ও বেশী কাঁদা। (তওবা-৪২)

📘 কম হাসো বেশী কাঁদো > 📄 তিনিই হাসান, তিনিই কাঁদান

📄 তিনিই হাসান, তিনিই কাঁদান


আল্লাহ তায়ালা মানুষের সকল চেষ্টা পরীক্ষা করে দেখেন এবং এর ভিত্তিতেই তিনি তাকে পূর্ণ প্রতিফল দিয়ে থাকেন। পৃথিবীতে সুখ দুঃখ আল্লাহই মানুষকে দিয়ে থাকেন।
وَأَنَّهُ هُوَ أَضْحَكَ وَأَبْكَى (৬৩)
তিনি হাসেন, তিনিই কাঁদান (নাজম-৪৩) এখানে কেউ হাসে, কেউ কাঁদে। সারা রাত্রিতে কেঁদে কেঁদে চোখের পানি শেষ করে। দুঃখ ব্যথা বেদনা, যন্ত্রণায় ছটফট করে। চোখের ঘুম হারাম হয়ে যায়- চোখের পানি ঝরতে থাকে। প্রিয়জনের মৃত্যুতে কয়েকদিন শোকা হত অবস্থায়ও যাওয়া ছেড়ে দিয়ে শুধু কেঁদাতে থাকে। আল্লাহ পাকই জীবন দিয়েছেন। তিনিই মৃত্যু দিয়েছেন। যখন ইচ্ছা দিয়েছেন, যখন ইচ্ছা ফিরিয়ে নিয়েছেন। এ জন্য কাঁদতে হবে না- কাঁদতে হবে আখেরাতের জন্য - নিজের গুনাহ খাতার জন্য। কাঁদার সময় কাঁদতে হবে। আল্লাহর হুকুমের বিরুদ্ধে কাজ করায় লুত জাতিকে ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের বসতিকে মৃত সাগরের (Dead sea) জলাশিয়ি প্রভাবিত করেছিল-আজো তার সাক্ষী রয়ে গেছে। এসব থেকে শিক্ষা নিয়ে কাজ করতে হবে। যে কোন মুহুর্তে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে এখান থেকে চলে যেতে হবে। কেউ টের পাবে না। এসব কথায় আশ্চর্য না হয়ে মাথা নিচু করে আত্মসমর্পন করতে হবে। আল্লাহর গোলামী করতে হবে। বিস্ময় প্রকাশ না করে কাঁদতে থাকবে, হাসি গান বাজনা ছেড়ে দাও।
وَمَنْ حَكُمُ وَلَا تَحْزَنُونَ (৭০) وَآَنَمُ سَابِدُونَ (৭১)
হাসতেছো, অথচ কাঁদতেছনা? গান বাজনায় মগ্ন হয়ে এসব এড়িয়ে যেতে চাচ্ছ? (নাজম-৭০-৭১)

📘 কম হাসো বেশী কাঁদো > 📄 কুরআন শুনেই সিজদা

📄 কুরআন শুনেই সিজদা


فَلْيُؤْمِنُوا بِهِ أَو لَّمْ يُؤْمِنُوا إِنَّ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ مِن قَبْلِهِ إِذَا يُتْلَى عَلَيْهِمْ يَخِرُّونَ سُجَّدًا (১০৭) وَيَقُولُونَ سُبْحَانَ رَبِّنَا إِن كَانَ وَعْدُ رَبِّنَا لَمَفْعُولاً (১০৮) وَيَخِرُّونَ لِلْأَذْقَانِ يَبْكُونَ وَيَزِيدُهُمْ خُشُوعًا (১০৯)
যে সব লোককে ইতিপূর্বে ইলম দেয়া হয়েছে, তাদেরকে যখন ইহা শুনানো হয় তখন তারা নতমুখে সিজদায় পড়ে যায়। আর চীৎকর করে উঠে “পবিত্র আমাদের প্রভু, তাঁর ওয়াদা অবশ্যই পূর্ণ হবে”। আর তারা কাঁদতে কাঁদতে নতমুখে পড়ে যায়, আর উহা জনওে পাওয়ায় তাদের নিবিড় আনুগত্য আরো বৃদ্ধি পায় (বনী ইসরাঈল-১০৭-১০৯)
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ (۲) الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ (۳)
প্রকৃত ঈমানদার তো তারাই যাদের দিল খোদার স্মরণে কেঁপে উঠে, আর আল্লাহর আয়াত যখন তাদের সামনে তেলাওয়াত করা হয় তখন তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায়, তারা তাদের রবের উপর আস্থা ও নির্ভরতা রাখে। নামাজ কায়েম করে, আর যা কিছু আমরা তাদেরকে দিয়েছি তা থেকে খরচ করে। (আনফাল ২-৩) কুরআন যেহেতু কেয়ামত পযর্ন্ত পক্ষে অথবা বিপক্ষে সাক্ষী দিবে-তাই কুরআনের প্রতি গভীর আকরণ সুচি করতে হবে। দুনিয়ায় কুরআনের পক্ষে কাজ করলেই কুরআন কেয়ামত পযর্ন্ত পক্ষে কথা বলবে। তা না হলে দুনিয়া ও আখেরাতে উভয় যায়গায় জীবন বরবাদ হয়ে যাবে। তাই কুরআন শুনে সিজদায় পড়ে কাঁদতে হবে।

📘 কম হাসো বেশী কাঁদো > 📄 কাঁদতে কাঁদতে সিজদায়

📄 কাঁদতে কাঁদতে সিজদায়


وَمَنُ هَدَيْنَا وَاجْتَبَيْنَا إِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُ الرَّحْمَانِ خَرُّوا سُجَّدًا وَبُكِيًّا (৫৮)
যাদেরকে তাদের মধ্য থেকে আমরা হেদায়েত দান করেছি এবং অবশ্যা এ ছিল যে, রাহমানের আয়াত যখন তাদেরকে শুনানো হত তখন তারা কাঁদতে কাঁদতে সিজদায় পড়ে যেত। তাদের পর অরাজিস্তিতো অধোরাত্ত্বো লোকেরা তাদের স্থলাভিষিক্ত হল যারা নামাজকে বিনষ্ট করল নফসের লালসা বাসনার অনুসরণ করল। সেদিন নিকটেই যখন তারা ওমরায়ীদের পরিণামের সম্মুখীন হবে। (মরিয়ম ২৫-২৬)
এই সেই কুরআন যাকে পাহাড়ের নিকট নাযিল করার জন্য পেশ করা হলে তা খরখর করে কাঁপতে কাঁপতে বিলীন হয়ে যায়। কুরআনের ভাষায়
لَوْ أَنزَلْنَا هَذَا الْقُرْآنَ عَلَى جَبَلٍ لَّرَأَيْتَهُ خَاشِعًا مُتَصَدِّعًا مِّنْ خَشْيَةِ اللَّهِ وَتِلْكَ الْأَمْثَالُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ (২১)
আমরা যদি এই কুরআন কোন পাহাড়ের উপর অবতীর্ণ করে দিতাম তাহলে তুমি দেখতে যে উহা আল্লাহর ভয়ে থরথর কাঁপছে, চূর্ণ বিচূর্ণ হচ্ছে -এ দৃষ্টান্তগুলো আমরা লোককের সামনে এ উদ্দেশ্যে পেশ করছি যে তারা চিন্তা বিবেচনা করবে। (হাশর-২১)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00