📘 কম হাসো বেশী কাঁদো > 📄 হাদীসের আলোকে কান্না

📄 হাদীসের আলোকে কান্না


নিচে দুটি হাদীস পেশ করা হল। প্রথম হাদীসটি হল:
عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: أَيُّهَا النَّاسُ ابْكُوْا فَإِنْ لَمْ تَبْكُوْا فَشَاكُوْا فَإِنَّ أَهْلَ النَّارِ يَبْكُوْنَ فِي النَّارِ حَتَّى تَسِيْلَ دُمُوْعُهُمْ فِيْ وُجُوْهِهِمْ كَأَنَّهَا جَدَاوِلُ حَتَّى تَنْقَطِعَ الدُّمُوْعُ فَتَسِيْلَ الدِّمَاءُ فَيَغُوْنَ فَلَوْ أَنْ سَفَنَا أَرْجَيْتَ فِيهَا لَجَرَتْ (شرح السنة)
আনাস (রাঃ) নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, হে মানুষ কাঁদো, যদি কাঁদতে না পারো তবে কাঁদার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করো। কেননা জাহান্নামের অধিবাসীরা জাহান্নামেও কাঁদতে থাকবে। তাদেরও চোখের পানি তাদের মুখমন্ডলের উপর দিয়ে স্রোতের ন্যায় প্রবাহিত হবে। যখন চোখের পানি শেষ হয়ে যাবে তখন রক্ত প্রবাহিত হতে থাকবে এবং চোখ ক্ষত বিক্ষত হয়ে যাবে। যদি তার মধ্যে নৌকা ভাসানো যায় তবে তা নিশ্চয় ভাসবে। (শরহুল সুন্নাহ)
দ্বিতীয় আর একটি হাদীস, ইকরা ইবনে আমর (রাঃ) বর্ণনা করেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন নাজাতের উপায় পেতে হলে
১) নিজের জিহ্বাকে আয়ত্তে রাখ ২) নিজের ঘরে পড়ে থাক ৩) নিজের পাপের জন্য কাঁদো - (আহমদ, তিরমিযী)
উপরের দুটি হাদীস বিশ্লেষণ করে যা পাওয়া গেল সে-
১. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাঁদতে বলেছেন ২. কান্না না আসলে কান্নার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করতে বলেছেন ৩. জাহান্নামিরা সর্বদা কাঁদতে থাকবে ৪. চোখের পানি মুখমন্ডলে গড়িয়ে পড়বে ৫. স্রোতের ন্যায় অশ্রু প্রবাহিত হবে ৬. অশ্রু শেষ হলে চোখ থেকে রক্ত বের হবে ৭. চোখ ক্ষত বিক্ষত হয়ে যাবে ৮. রক্ত দিয়ে নৌকাও চলবে ৯. পাপ থেকে মাফ পাওয়ার জন্য কাঁদতে হবে
আরো তিনটি হাদীস-
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَلِجُ النَّارَ رَجُلٌ بَكْى مِنْ خَشْيَةِ اللَّهِ حَتَّى يَعُودَ اللَّبَنُ فِيْ الضَّرْعِ وَلَا يَجْتَمِعُ غُبَارُ فِيْ سَبِيلِ اللَّهِ وَدُخَانُ جَهَنَّمَ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ
(১) হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূল আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে রোদন করেছে, সে জাহাযানামে প্রবেশ করবে না, যে পর্যন্ত (নির্গিত) দুগ্ধ ফিরে কিনার না আসে (অর্থাৎ অসম্ভব সম্ভব না হয়)। আর আল্লাহর পথে জিহাদের- খুলাফা-বালি এবং জাহাযানামের ধোঁয়া কখনো একত্র হবে না। (অথবা যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদ করতে গিয়ে খুলাফা-মলিন হয়েছে, সে জান্নাতে যাবেই) (তিরমিযী)
عَنْ سَعِيدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أَبِي إِبْرَاهِيمَ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ أُتِيَ بِطَعَامٍ وَكَانَ صَائِمًا فَقَالَ فَقَالَ مُصْعَبُ بْنُ عُمَيْرٍ وَهُوَ خَيْرٌ مِنِّي قُتِلَ فِي غَزْوَةٍ إِنْ خَطِيَ رَأْسَهُ بَدَنُهُ وَجَنَاهُ وَإِنْ غَطِيَ رِجْلَاهُ بَدَا رَأْسَهُ وَأَرَادَ قَالَ رَجُلٌ حَمْزَةَ وَهُوَ خَيْرٌ مِنِّي لَمْ يُبْسَطَ لَنَا مِنَ الدُّنْيَا مَا بُسْطَ أَوْ قَالَ أُعْطِينَا مِنَ الدُّنْيَا مَا أُعْطِينَا وَقَدْ خَشِينَا أَنْ تَكُونَ حَسَنَاتُنَا عُجَلَتْ لَنَا ثُمَّ جَعَلَ يَبْكِي حَتَّى تَرَكَ الطَّعَامَ. رواه البخاري
(২) হযরত ইব্রাহীম ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রা) বর্ণনা করেন, একদা ইবনে আওফের সামনে খাবার পেশ করা হলো। সেদিন তিনি ছিলেন রোযাদার। এ সময় তিনি বললেন, মুসআব ইবনে উমায়ের (রা) শাহাদাত বরণ করেছেন। তিনি ছিলেন আমার চেয়ে উত্তম ব্যক্তি। কিন্তু তাঁকে কাফন পরানোর মতো কোনো ব্যবস্থা ছিল-না। তবে একটি চাদর ছিল; তদ্বারা তাঁর মাথা ঢাকতে চাইলে পা দু’টি অনাবৃত থাকতো আর পা ঢাকতে চাইলে মাথা অনাবৃত থাকতো।এরপর আমাদেরকে প্রচুর জাগতিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দেয়া হলো। এখন ভয় হচ্ছে আমাদের সৎ কাজের বিনিময় ইহকালেই দেওয়া শুরু হয়ে গেল নাকি? এরপর তিনি কেঁদে ফেললেন। এমনকি খাবারও পরিত্যাগ করলেন। (বুখারী)
عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ قَالَ وَعَظَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا بَعْدَ صَلَاةِ الْغَدَاةِ مَوْعِظَةً بَلِيقَةٌ ذَرَفَتْ مِنْهَا الْعُيُونُ وَوَجِلَتْ مِنْهَا الْقُلُوبُ رواه الترمذي
(৩) হযরত ইরবাদ ইবনে সারিয়া (রা) বর্ণনা করেন, একদা রাসূল আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে এমন এক উদ্দীপনাময় ভাষণ দেন, যাতে আমাদের হৃদয় অত্যন্ত ভীত- সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে এবং চোখ দিয়ে অশ্রুধারা গড়িয়ে পড়তে থাকে।

📘 কম হাসো বেশী কাঁদো > 📄 কম হাসো, বেশী কাঁদো

📄 কম হাসো, বেশী কাঁদো


কুরআন মাজিদে সূরা. তওবার ৮২ নম্বর আয়াতে কম হাসতে বেশী কাঁদতে বলা হয়েছে। আল্লাহর বিধান চালু করার জন্য মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি রাষ্ট্রের সহযোগিতা চেয়ে দোয়া করেছিলেন। "اَجَعَلَاللَّهَ مِن لَّدُنْكَ سُلْطَانَا نَصِيرًا" আমাকে তোমার পক্ষ থেকে একটি সাহায্যকারী রাষ্ট্রশক্তি দাও- যাতে তোমার নাবিলকৃত কুরআনের বিধান চালু করা সহজ হয়। আল্লাহ তায়ালা মদীনায় ইসলামী রাষ্ট্র তাঁকে দান করেনন। কিন্তু কাফের শক্তিগুলো একযোগে ইসলামী রাষ্ট্রকে উৎখাত করার জন্য যুদ্ধ শুরু করে। মদীনার ইসলামী রাষ্ট্রকে রক্ষা করার লক্ষ্যে আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের জন্য জিহাদ ফরজ করে দিলেন। বদর, ওহুদ, খন্দকের প্রায় ১২টি যুদ্ধ স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পরিচালনা করতে হয়। সর্বশেষ যুদ্ধ ছিল তাবুক যুদ্ধ। যুদ্ধের সময় অত্যন্ত কঠিন ও প্রতিকূল পরিবেশ থাকায় কিছু লোক জিহাদে যেতে গড়িমসি করেছিল। যারা যুদ্ধে গেল না তারা অন্যদেরকেও বলল, এই কঠিন গরমে বের হয়ো না। আল্লাহ জবাবে বলে দেয়ার জন্য বললেন- قُلْ نَارُ جَهَنَّمَ أَشَدُّ حَرًّا (৪১) বল, জাহান্নামের আগুন তো এর চেয়েও অনেক বেশী গরম। জিহাদে না যাবার জন্য যে ত্রুটি করল তার জন্য তাদেরকে বলা হল- فَلْيَضْحَكُوا قَلِيلاً وَلْيَبْكُوا كَثِيرًا (৪২) তাদের উচিত কম হাসা ও বেশী কাঁদা। (তওবা-৪২)

📘 কম হাসো বেশী কাঁদো > 📄 তিনিই হাসান, তিনিই কাঁদান

📄 তিনিই হাসান, তিনিই কাঁদান


আল্লাহ তায়ালা মানুষের সকল চেষ্টা পরীক্ষা করে দেখেন এবং এর ভিত্তিতেই তিনি তাকে পূর্ণ প্রতিফল দিয়ে থাকেন। পৃথিবীতে সুখ দুঃখ আল্লাহই মানুষকে দিয়ে থাকেন।
وَأَنَّهُ هُوَ أَضْحَكَ وَأَبْكَى (৬৩)
তিনি হাসেন, তিনিই কাঁদান (নাজম-৪৩) এখানে কেউ হাসে, কেউ কাঁদে। সারা রাত্রিতে কেঁদে কেঁদে চোখের পানি শেষ করে। দুঃখ ব্যথা বেদনা, যন্ত্রণায় ছটফট করে। চোখের ঘুম হারাম হয়ে যায়- চোখের পানি ঝরতে থাকে। প্রিয়জনের মৃত্যুতে কয়েকদিন শোকা হত অবস্থায়ও যাওয়া ছেড়ে দিয়ে শুধু কেঁদাতে থাকে। আল্লাহ পাকই জীবন দিয়েছেন। তিনিই মৃত্যু দিয়েছেন। যখন ইচ্ছা দিয়েছেন, যখন ইচ্ছা ফিরিয়ে নিয়েছেন। এ জন্য কাঁদতে হবে না- কাঁদতে হবে আখেরাতের জন্য - নিজের গুনাহ খাতার জন্য। কাঁদার সময় কাঁদতে হবে। আল্লাহর হুকুমের বিরুদ্ধে কাজ করায় লুত জাতিকে ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের বসতিকে মৃত সাগরের (Dead sea) জলাশিয়ি প্রভাবিত করেছিল-আজো তার সাক্ষী রয়ে গেছে। এসব থেকে শিক্ষা নিয়ে কাজ করতে হবে। যে কোন মুহুর্তে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে এখান থেকে চলে যেতে হবে। কেউ টের পাবে না। এসব কথায় আশ্চর্য না হয়ে মাথা নিচু করে আত্মসমর্পন করতে হবে। আল্লাহর গোলামী করতে হবে। বিস্ময় প্রকাশ না করে কাঁদতে থাকবে, হাসি গান বাজনা ছেড়ে দাও।
وَمَنْ حَكُمُ وَلَا تَحْزَنُونَ (৭০) وَآَنَمُ سَابِدُونَ (৭১)
হাসতেছো, অথচ কাঁদতেছনা? গান বাজনায় মগ্ন হয়ে এসব এড়িয়ে যেতে চাচ্ছ? (নাজম-৭০-৭১)

📘 কম হাসো বেশী কাঁদো > 📄 কুরআন শুনেই সিজদা

📄 কুরআন শুনেই সিজদা


فَلْيُؤْمِنُوا بِهِ أَو لَّمْ يُؤْمِنُوا إِنَّ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ مِن قَبْلِهِ إِذَا يُتْلَى عَلَيْهِمْ يَخِرُّونَ سُجَّدًا (১০৭) وَيَقُولُونَ سُبْحَانَ رَبِّنَا إِن كَانَ وَعْدُ رَبِّنَا لَمَفْعُولاً (১০৮) وَيَخِرُّونَ لِلْأَذْقَانِ يَبْكُونَ وَيَزِيدُهُمْ خُشُوعًا (১০৯)
যে সব লোককে ইতিপূর্বে ইলম দেয়া হয়েছে, তাদেরকে যখন ইহা শুনানো হয় তখন তারা নতমুখে সিজদায় পড়ে যায়। আর চীৎকর করে উঠে “পবিত্র আমাদের প্রভু, তাঁর ওয়াদা অবশ্যই পূর্ণ হবে”। আর তারা কাঁদতে কাঁদতে নতমুখে পড়ে যায়, আর উহা জনওে পাওয়ায় তাদের নিবিড় আনুগত্য আরো বৃদ্ধি পায় (বনী ইসরাঈল-১০৭-১০৯)
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ (۲) الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ (۳)
প্রকৃত ঈমানদার তো তারাই যাদের দিল খোদার স্মরণে কেঁপে উঠে, আর আল্লাহর আয়াত যখন তাদের সামনে তেলাওয়াত করা হয় তখন তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায়, তারা তাদের রবের উপর আস্থা ও নির্ভরতা রাখে। নামাজ কায়েম করে, আর যা কিছু আমরা তাদেরকে দিয়েছি তা থেকে খরচ করে। (আনফাল ২-৩) কুরআন যেহেতু কেয়ামত পযর্ন্ত পক্ষে অথবা বিপক্ষে সাক্ষী দিবে-তাই কুরআনের প্রতি গভীর আকরণ সুচি করতে হবে। দুনিয়ায় কুরআনের পক্ষে কাজ করলেই কুরআন কেয়ামত পযর্ন্ত পক্ষে কথা বলবে। তা না হলে দুনিয়া ও আখেরাতে উভয় যায়গায় জীবন বরবাদ হয়ে যাবে। তাই কুরআন শুনে সিজদায় পড়ে কাঁদতে হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00