📄 প্রকৃত স্বস্তি তাঁরই সান্নিধ্যে
প্রকৃত স্বস্তি আর প্রশান্তি শুধু এক সত্তার সান্নিধ্যে মধ্যেই। এই অন্তর কখনোই ক্লান্ত হয় না তাঁর অবিরাম স্মরণে ও বিরতিহীন প্রশংসায়। বরং আত্মা-মনন সব একাগ্র হয়ে যায় তাঁকে পাবার আকাঙ্ক্ষায়। তাঁকে ডেকে চলার মধ্যে হৃদয়ে যে উষ্ণতা মেলে, এর কোনো তুলনা নেই। তাঁর রহমতের ভিখারির চোখ বেয়ে যে অশ্রু ঝরে পড়ে, এর নেই কোনো উপমা। তাঁর দরজায় অনবরত কড়া নাড়ার মাধ্যমে যে প্রশান্তি লাভ হয়, রাজা বাদশাহরা তা কল্পনাও করতে পারবে না।
তিনিই মাবুদ, সীমাহীন দয়াবান। তিনি অপরাজেয়, অসীম রাজত্বের অধিকারী, অসীম দানশীল। তিনিই মাবুদ, আর তাই দাসেরা তাঁকে মেনে চলে পরমানন্দে। তিনিই মাবুদ, তাঁর সাহায্য ছাড়া কোনোকিছুই করা যায় না। তিনি ব্যতীত সমগ্র সৃষ্টিকুলের কোনো পরিচয় নেই। প্রাণের স্পন্দন থেমে যাবে যদি তিনি একমুহূর্তের জন্যও আড়াল হয়ে যান। বস্তুত তাঁকে ছাড়া একমূহূর্তও বেঁচে থাকা সম্ভব নয়।
আমরা মানুষদের ভালোবাসি তাদের কাজের জন্য, যে গুণগুলো তারা অর্জন করেছে সেসবের জন্য। তথাপি কেবল সত্তাগত কারণে চূড়ান্ত ভালোবাসার অধিকার রাখে বাস্তবে এমন কেউ নেই; এমনকি নবি রসূলগণও নন। এই নিয়মের ব্যতিক্রম কেবল একজনই। আর তিনি হলেন আমাদের রব, আল্লাহ তাআলা।
ওপরের আলোচনা থেকে পরিষ্কার, কেন রসূল বলেছিলেন, কবিদের ভিতর সর্বাধিক সত্য কথা কবি লাবীদের কথা। যিনি বলেছেন, 'জেনে রেখো, আল্লাহ ছাড়া সবকিছুই মিথ্যে'। [৩১২]
এমন গুণসম্পন্ন রবকে যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে, সে তো অন্যদের মতো নয়। তাই তোমার দিন-রাতের ঘণ্টাগুলো অন্যদের মতো হতে পারে না। তোমার প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য মুহূর্তগুলো অন্যদের মতো হতে পারে না। অতএব লুটিয়ে পড়ো তাঁর সাজদায়। আনন্দ-উচ্ছ্বাসের ক্রন্দনে ভাসিয়ে দাও জমিন। সত্যনিষ্ঠ একজন মুসলিমের ছাঁচে নিজেকে গড়ে তোলো এবং প্রকৃত সুখের সন্ধানে লেগে যাও নতুন উদ্যমে।
টিকাঃ
[৩১২] বুখারি: ৬১৪৭; মুসলিম: ২২৫৬