📘 কবিরা গুনাহ ইমাম যাহাবী > 📄 ওসিয়্যতের মাধ্যমে কোন উত্তরাধিকারীর ক্ষতি সাধন

📄 ওসিয়্যতের মাধ্যমে কোন উত্তরাধিকারীর ক্ষতি সাধন


জামে তিরমিযী, সুনানে আবু দাউদ ও সুনানে ইবনে মাজাহতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা) বলেছেন: "কোন পুরুষ ও স্ত্রী ষাট বছর ব্যাপী আল্লাহর পূর্ণ আনুগত্য করে অতঃপর মৃত্যুর সম্মুখীন হয় এবং ওসিয়তের মাধ্যমে অন্যের ক্ষতি সাধন করে। এর ফলে জাহান্নাম তার জন্য অনিবার্য হয়ে যায়।"

সুনানে ইবনে মাজাহতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কারো উত্তরাধিকার হরণ করে, আল্লাহ তা'য়ালা তাঁর জান্নাতের উত্তরাধিকার হরণ করবেন।"

জামে তিরমিযীতে আছে যে, রাসূল (সা) বলেছেন: "আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেকের জন্য তার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করেছেন। সুতরাং কোন উত্তরাধিকারীর জন্য ওসিয়ত করা চলবেনা।"

📘 কবিরা গুনাহ ইমাম যাহাবী > 📄 ধোকাবাজি, ছলচাতুরী ও ষড়যন্ত্র করা

📄 ধোকাবাজি, ছলচাতুরী ও ষড়যন্ত্র করা


আল্লাহ তা'য়ালা বলেনঃ “যারা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তকারীকেই চারদিক থেকে ঘেরাও করে।” রাসূল (সা) বলেছেনঃ ষড়যন্ত্রকারী ও ধোকাবাজের স্থান জাহান্নামে।

রাসূল (সা) বলেছেনঃ "কোন ধোকাবাজ, কৃপণ ও খোটাদানকারী জান্নাতে যাবে না।"

পবিত্র আল কুরআনে আল্লাহ তা'য়ালা ধোকাবাজিকে মুনাফিকদের স্বভাব বলে অভিহিত করেছেনঃ “তারা (মুনাফিকরা) আল্লাহকে ও মুমিনদেরকে ধোকা দিয়ে থাকে।”

সহীহ মুসলিমের হাদীসে রাসূল (সা) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কারো ধন-সম্পদ ও পরিবার-পরিজনের ব্যাপারে ধোকা দেয় সে জাহান্নামী।

(পণ্য দ্রব্যের নকল, ভেজাল, মুদ্রা, সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট ও অন্যান্য দলিল জাল করা এবং ভিন্ন পেশার লোকের পোশাক পরে ছদ্মবেশ ধারণ পূর্বক অসৎ উদ্দেশ্য সাধনের চেষ্টা করাও প্রতারণা ও জালিয়াতির অন্তর্ভুক্ত। অনুবাদক)।

📘 কবিরা গুনাহ ইমাম যাহাবী > 📄 কৃপণতা, অপচয় ও অপব্যয় তথা অবৈধ ও বিশৃঙ্খল ব্যয়

📄 কৃপণতা, অপচয় ও অপব্যয় তথা অবৈধ ও বিশৃঙ্খল ব্যয়


আল্লাহ তা'য়ালা বলেনঃ “তোমার হাত কাঁধের সাথে বেঁধে রেখনা এবং তা পুরোপুরিভাবে ছড়িয়েও দিওনা।” অর্থাৎ কৃপণতাও করোনা, অপচয় অপব্যয়ও করোনা। আল্লাহ আরো বলেনঃ “অপব্যয় করোনা। অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই।” (সূরা বনী ইসরাইল)

রাসূল (সা) বলেনঃ “কৃপণ জান্নাতে যাবে না। আল্লাহ বলেনঃ যারা আল্লাহর দেয়া সম্পদ নিয়ে কার্পণ্য করে, তারা যেন মনে না করে যে, এই কার্পণ্য তাদের জন্য ভালো। বরং ওটা তাদের জন্য খারাপ। যে জিনিস নিয়ে তারা কার্পণ্য করে, তা কিয়ামতের দিন তাদের গলায় ঝুলিয়ে দেয়া হবে।”

আল্লাহ আরো বলেনঃ “যারা নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস ধার দেয়না তাদের জন্য ধ্বংস। (সূরা মাউন)।

এক কথায়, সম্পদ উপার্জনে যেমন শরীয়তের বিধান মেনে চলতে হবে, তেমনি তা ব্যয়েও শরীয়তের বিধান অনুসরণ করতে হবে। প্রয়োজনীয় ও শরীয়ত নির্দেশিত ক্ষেত্রে ব্যয় না করা বা কম ব্যয় করা (কৃপণতা), প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যয় করা (অপচয়) এবং অর্থনষ্ট করা (অপব্যয়) এ সবই অবৈধ ও বিশৃংখল ব্যয়ের আওতাভুক্ত এবং কবীরা গুনাহ। বিলাসিতাও এক ধরনের অপব্যয়।

📘 কবিরা গুনাহ ইমাম যাহাবী > 📄 মুসলমানের গোপনীয় বিষয় শত্রুর নিকট ফাঁস করা

📄 মুসলমানের গোপনীয় বিষয় শত্রুর নিকট ফাঁস করা


বিশিষ্ট সাহাবী বদরযোদ্ধা হাতিব ইবনে আবি বালতায়া মক্কায় অবস্থানরত নিজের পরিবার পরিজনের নিরাপত্তার খাতিরে রাসূল (সা) এর মক্কা বিজয়ের পরিকল্পনা 'ফাঁস করে দিতে উদ্যত হয়েছিলেন। সময়মত ওহীর মাধ্যমে এ বিষয়টি জানতে পেরে রাসূল (সা) ত্বরিত ব্যবস্থা নেয়ায় তার চিঠি মক্কা পর্যন্ত পৌঁছতে পারেনি। হযরত উমর এ ঘটনার নায়ক উক্ত সাহাবীকে মুনাফিক আখ্যায়িত করে হত্যা করার অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু রাসূল (সা) অনুমিত দেননি। তিনি হাতিবের ওযর ও ব্যাখ্যা মেনে নিয়ে তাকে ক্ষমা করে দেন। তবে এ কাজটি যে অন্যায় ছিল, তাতে কোন সন্দেহ নেই। শুধুমাত্র বদরযোদ্ধা হওয়ার কারণে তিনি ক্ষমার যোগ্য বিবেচিত হয়েছিলেন। এমন কাজ অন্য কারো বেলায় ক্ষমার যোগ্য হবেনা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00