📄 বিনা ওযরে জামাআত ত্যাগ করা ও একাকী নামায পড়া
সহীহ মুসলিম ও সুনানে ইবনে মাজাহতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা) জামায়াত ত্যাগে অভ্যস্ত একদল লোক সম্পর্কে বলেছেন: "আমার ইচ্ছা হয়, অন্য কাউকে নামায পড়ানোর দায়িত্বে নিয়োজিত করে জামায়াত ত্যাগকারীদের ঘরবাড়ী জ্বালিয়ে দিয়ে আসি।" সহীহ মুসলিমের আর একটি হাদীসে রাসূল (সা) বলেছেনঃ "যারা জামায়াত ত্যাগে অভ্যস্ত, তাদের এই অভ্যাস ত্যাগ করতেই হবে, নচেত আল্লাহ তাদের হৃদয়ে অবশ্যই মোহর মেরে দেবেন এবং তারা অবশ্যই শিথিল হয়ে যাবে।"
সুনানে আবু দাউদ ও সুনানে ইবনে মাজাহতে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূল (সা) বলেছেন: যে ব্যক্তি অবজ্ঞার মনোভাব নিয়ে তিনটি জুময়া ত্যাগ করবে, আল্লাহ তার হৃদয়ে সিল মেরে দেবেন। রাসূল (সা) আরো বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি বিনা ওযরে ও কোন ক্ষতির আশংকা ব্যতীতই জুময়ার নামায ত্যাগ করে, তাকে এমন এক খাতায় মুনাফিক লেখা হয়, যে খাতা থেকে কিছুই মোছা হয়নি এবং কোন কিছুই রদবদল করা হয়না।"
সুনানে নাসায়ীতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা) বলেছেনঃ "প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের ওপর জুময়ার নামায পড়া অবশ্য কর্তব্য"
সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা) বলেছেন, "যে ব্যক্তি আযান শুনলো এবং কোন ওযর ছাড়াই জামায়াতে যাওয়া থেকে বিরত থাকলো, তার (ঘরের মধ্যে পড়া) নামায কবুল হবে না।"
📄 ওসিয়্যতের মাধ্যমে কোন উত্তরাধিকারীর ক্ষতি সাধন
জামে তিরমিযী, সুনানে আবু দাউদ ও সুনানে ইবনে মাজাহতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা) বলেছেন: "কোন পুরুষ ও স্ত্রী ষাট বছর ব্যাপী আল্লাহর পূর্ণ আনুগত্য করে অতঃপর মৃত্যুর সম্মুখীন হয় এবং ওসিয়তের মাধ্যমে অন্যের ক্ষতি সাধন করে। এর ফলে জাহান্নাম তার জন্য অনিবার্য হয়ে যায়।"
সুনানে ইবনে মাজাহতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কারো উত্তরাধিকার হরণ করে, আল্লাহ তা'য়ালা তাঁর জান্নাতের উত্তরাধিকার হরণ করবেন।"
জামে তিরমিযীতে আছে যে, রাসূল (সা) বলেছেন: "আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেকের জন্য তার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করেছেন। সুতরাং কোন উত্তরাধিকারীর জন্য ওসিয়ত করা চলবেনা।"
📄 ধোকাবাজি, ছলচাতুরী ও ষড়যন্ত্র করা
আল্লাহ তা'য়ালা বলেনঃ “যারা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তকারীকেই চারদিক থেকে ঘেরাও করে।” রাসূল (সা) বলেছেনঃ ষড়যন্ত্রকারী ও ধোকাবাজের স্থান জাহান্নামে।
রাসূল (সা) বলেছেনঃ "কোন ধোকাবাজ, কৃপণ ও খোটাদানকারী জান্নাতে যাবে না।"
পবিত্র আল কুরআনে আল্লাহ তা'য়ালা ধোকাবাজিকে মুনাফিকদের স্বভাব বলে অভিহিত করেছেনঃ “তারা (মুনাফিকরা) আল্লাহকে ও মুমিনদেরকে ধোকা দিয়ে থাকে।”
সহীহ মুসলিমের হাদীসে রাসূল (সা) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কারো ধন-সম্পদ ও পরিবার-পরিজনের ব্যাপারে ধোকা দেয় সে জাহান্নামী।
(পণ্য দ্রব্যের নকল, ভেজাল, মুদ্রা, সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট ও অন্যান্য দলিল জাল করা এবং ভিন্ন পেশার লোকের পোশাক পরে ছদ্মবেশ ধারণ পূর্বক অসৎ উদ্দেশ্য সাধনের চেষ্টা করাও প্রতারণা ও জালিয়াতির অন্তর্ভুক্ত। অনুবাদক)।
📄 কৃপণতা, অপচয় ও অপব্যয় তথা অবৈধ ও বিশৃঙ্খল ব্যয়
আল্লাহ তা'য়ালা বলেনঃ “তোমার হাত কাঁধের সাথে বেঁধে রেখনা এবং তা পুরোপুরিভাবে ছড়িয়েও দিওনা।” অর্থাৎ কৃপণতাও করোনা, অপচয় অপব্যয়ও করোনা। আল্লাহ আরো বলেনঃ “অপব্যয় করোনা। অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই।” (সূরা বনী ইসরাইল)
রাসূল (সা) বলেনঃ “কৃপণ জান্নাতে যাবে না। আল্লাহ বলেনঃ যারা আল্লাহর দেয়া সম্পদ নিয়ে কার্পণ্য করে, তারা যেন মনে না করে যে, এই কার্পণ্য তাদের জন্য ভালো। বরং ওটা তাদের জন্য খারাপ। যে জিনিস নিয়ে তারা কার্পণ্য করে, তা কিয়ামতের দিন তাদের গলায় ঝুলিয়ে দেয়া হবে।”
আল্লাহ আরো বলেনঃ “যারা নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস ধার দেয়না তাদের জন্য ধ্বংস। (সূরা মাউন)।
এক কথায়, সম্পদ উপার্জনে যেমন শরীয়তের বিধান মেনে চলতে হবে, তেমনি তা ব্যয়েও শরীয়তের বিধান অনুসরণ করতে হবে। প্রয়োজনীয় ও শরীয়ত নির্দেশিত ক্ষেত্রে ব্যয় না করা বা কম ব্যয় করা (কৃপণতা), প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যয় করা (অপচয়) এবং অর্থনষ্ট করা (অপব্যয়) এ সবই অবৈধ ও বিশৃংখল ব্যয়ের আওতাভুক্ত এবং কবীরা গুনাহ। বিলাসিতাও এক ধরনের অপব্যয়।