📘 কবিরা গুনাহ ইমাম যাহাবী > 📄 মাপে ও ওজনে কম দেয়া

📄 মাপে ও ওজনে কম দেয়া


আল্লাহ বলেন: “যারা ওজনে ও মাপে কম দেয়, তাদের জন্য সর্বনাশ। যারা মানুষের কাছ থেকে মেপে আনার সময় ঠিকমত আনে, আর মেপে দেয়ার সময় কম দেয়।" ইমাম সুদী বলেন: রাসূল (সা) যখন হিযরত করেন তখন সেখানে আবু জুহায়না নামক একজন ব্যবসায়ী ছিল। তার দুটো পাল্লা ছিল। একটা দিয়ে নিজের জিনিস মেপে নিত, অপরটি দিয়ে অন্যের জিনিস মেপে দিত। তার প্রসংগে এ আয়াত নাযিল হয়।

রাসূল (সা) বলেছেন: "পাঁচটি জিনিসের ফলে পাঁচটি জিনিস অনিবার্য: কোন জাতি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে আল্লাহ তার ওপর তার শত্রুকে চাপিয়ে দেবেন। কোন জাতি আল্লাহর বিধান ছাড়া মনগড়া বিধান দ্বারা দেশ শাসন করলে তাদর মধ্যে দারিদ্র ছড়িয়ে পড়বে, কোন জাতিতে অশ্লীলতা ও ব্যভিচারের ব্যাপকতা বৃদ্ধি পেলে তাদের মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি মাবে, মাপে ও ওজনে কম দিলে ফসল কম হবে ও দুর্ভিক্ষ হবে, আর যাকাত দেয়া বন্ধ করলে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যাবে।" লক্ষণীয় যে, মাপে কম দেয়া ব্যক্তি প্রকৃত পক্ষে তিল তিল করে অলক্ষ্যে চুরি করে এবং হারাম উপার্জন করে।

📘 কবিরা গুনাহ ইমাম যাহাবী > 📄 আল্লাহর আযাব ও গযব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া

📄 আল্লাহর আযাব ও গযব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া


আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ "তাদেরকে যে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছিল, তা যখন তারা ভুলে গেল, তখন আমি তাদের জন্য সবকিছুর দ্বার উন্মুক্ত করে দিলাম (অর্থাৎ প্রাচুর্য ও সমৃদ্ধির দুয়ার খুলে দিলাম) অতপর তারা যখন তাদেরকে দেয়া সম্পদের জন্য আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেল, তখন আমি আকস্মিকভাবে তাদেরকে পাকড়াও করলাম। তখন তারা চরম হতাশায় নিমজ্জিত হলো। অতঃপর যালিমদের মূলোৎপাটন করা হলো।" এখানে আকস্মিকভাবে পাকড়াও করার অর্থ হলো, তারা টের পায়না এমনভাবে পাকড়াও করা। Imam হাসান বসরী বলেন:
আল্লাহ কাউকে অঢেল সম্পদ দেয়ায় সে যদি মনে করে যে, তাকে পরীক্ষা করা হবে না, তাহলে সেটা তার বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক নয়। আবার কাউকে চরম দৈন্যদশায় নিক্ষেপ করা হলে সে যদি মনে করে যে, তাকে পরিত্যাগ করা হয়েছে এবং তার দিকে কোন দৃষ্টি দেয়া হচ্ছেনা, তবে সেও ভ্রান্ত ধারণায় লিপ্ত।

রাসূল (সা) বলেছেনঃ "যখন দেখতে পাও যে, আল্লাহ কোন বান্দাকে সে যা পছন্দ করে তা দিয়ে যাচ্ছেন, অথচ সে আল্লাহর নাফরমানী অব্যাহত রেখেছে, তখন বুঝতে হবে যে, তাকে সময় দেয়া হচ্ছে এবং তার ওপর আযাব নাযিল হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।" অতঃপর তিনি এই আয়াত তিলাওয়াত করেন।

বর্ণিত আছে যে, ফিরিশতাদের দলভুক্ত হওয়া সত্বেও যখন ইবলীস আল্লাহর কোপানলের শিকার হলো, তখন জিবরীল ও মিকাইল কাঁদতে লাগলেন। আল্লাহ জিজ্ঞাসা করলেন: তোমাদের কি হয়েছে যে কাঁদছো? তারা বললেনঃ হে প্রভু, আমরা তোমার পরীক্ষার ভয়ে ভীত। আল্লাহ বললেন: "এভাবেই থাক। আমার পরীক্ষা সম্পর্কে নিশ্চিন্ত হয়োনা।" জামে তিরমিযীতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা) এই দোয়াটি খুব ঘন ঘন পড়তেনঃ "হে হৃদয় পরিবর্তনকারী! আমাদের হৃদয়কে তোমার দীনের ওপর স্থির রাখো।" তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো: হে রাসূল, আমাদের ঈমান নিয়ে কি আপনি শংকা বোধ করেন? রাসূল (সা) বললেনঃ "হৃদয়গুলো আল্লাহর দুই আংগুলের ভেতরে রয়েছে, তিনি যখন যেভাবে চান ওগুলোকে ঘোরান।"

সহীহ আল বুখারীতে আছে যে, রাসূল (সা) বলেছেন: কোন ব্যক্তি জান্নাতবাসীর মত কাজ করতে করতে এমন অবস্থায় পৌছে যায় যে, তার মধ্যে ও জান্নাতের মধ্যে মাত্র এক হাত দূরত্ব অবশিষ্ট থাকে। ঠিক এই মুহূর্তে তার ওপর ভাগ্যের লিখন কার্যকর হয় এবং সে জাহান্নামীর মত কাজ করে জাহান্নামে চলে যায়। অনুরূপ সে জাহান্নামবাসীদের মত কাজ করতে করতে জাহান্নামের কাছাকাছি পৌছে যায়। ঠিক এই সময় তার ওপর তার ভাগ্যের লিখন কার্যকর হয় এবং সে জান্নাতের কাজ করে জান্নাতবাসী হয়। মানুষের শেষ কাজগুলো দ্বারাই তার পরিণাম নির্ধারিত হয়।

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র আল কুরআনে বালয়াম বাউরার ঘটনা বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ ও শরীয়তের পূর্ণ জ্ঞান অর্জন করার পরও তার ঈমান নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। অনুরূপভাবে রবসীসা নামক দরবেশ কাফির হয়ে মরেছেন। সুতরাং প্রত্যেকের নিজ ঈমান সম্পর্কে সাবধান হওয়া উচিত এবং এই দোয়া বেশী করে পড়া উচিতঃ "রাব্বানা লা তুযিগ কুলুবানা বা'দা ইয হাদাইতানা ওয়া হাবলানা মিন লাদুনকা রহমাতান ইন্নাকা আনতাল ওয়াহহাব।" "হে আমাদের রব! একবার যখন আমাদেরকে হিদায়াত দান করেছেন, তখন আমাদের মনকে আর বক্র করে দেবেননা, আর আমাদেরকে আপনার পক্ষ থেকে রহমত দান করুন। নিশ্চয় আপনি মস্ত বড় দাতা।"

হযরত আয়িশা (রা) বর্ণনা করেন যে, রাসুল (সা) প্রায়ই এই দোয়া করতেনঃ "হে হৃদয় পরিবর্তনকারী, আপনি আমার হৃদয়কে আনুগত্যের ওপর অবিচল রাখুন।"

আমি জিজ্ঞাসা করলামঃ হে রাসূল! আপনি তো এই দোয়াটা খুব ঘন ঘন করেন। আপনি কি ভয় পান? তিনি বললেনঃ "হে আয়িশা, বান্দাদের মন যখন আল্লাহর দুই আঙ্গুলের মধ্যে এবং তিনি যেভাবে চান, ঘুরান, তখন আমি নিশ্চিত থাকি কিভাবে। সুতরাং হিদায়াত কখন আল্লাহর কাছ থেকেই আসে, তাঁর ইচ্ছার ওপরই। যখন সৎ পথে অবিচল থাকা নির্ভরশীল, মানুষের শেষ ফল যখন আজানা এবং ইচ্ছার দৃঢ়তা, যখন অনিশ্চিত, তখন নিজের ঈমান, সৎকর্ম ও নামায রোযা নিয়ে গর্বিত হওয়া অনুচিত। মনে রাখতে হবে, ঈমান ও নেক আমল বান্দার উপার্জিত, হলেও তার ক্ষমতা, প্রেরণা ও সুযোগ আল্লাহই দিয়ে থাকেন। এ প্রসংগে নিম্নের কথাগুলো সব সময় মনে রাখতে হবেঃ

(১) দুনিয়ার কোন সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে অহংকারী হওয়া নিজের চেয়ে ক্ষুদ্র ও বঞ্চিতদেরকে হেয় ও তুচ্ছ জ্ঞান করার কারণে যেমন আল্লাহ উক্ত সম্পদ ছিনিয়ে নিতে পারেন এবং কারূন প্রমুখের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছেনও তেমনি ঈমান, নেক আমল তথা আখিরাতের সম্পদের জন্যও অহংকারী হওয়া ও অপেক্ষাকৃত নিম্নস্তরের লোকদেরকে ঘৃণা করা, হেয় করা ও হিংসা করার কারণে উক্ত নেক আমল বাতিল হয়ে যেতে পারে এবং ঈমানও ছিনতাই হয়ে যেতে পারে। যেমন, ইবলীসের এবং বরসীমা ও বালয়াম বাউরার তাই হয়েছিল। সুতরাং নিজের ঈমান খোদাতীতি ও সততার জন্য প্রতি মুহুর্তে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানানো ও তার স্থায়িত্বের জন্য দোয়া করা কর্তব্য।

(২) হিংসা বিদ্বেষ, রিয়া ও নিয়তের গোলমালের কারণে ঈমান ও নেক আমল বাতিল হয়ে যায়। রাসূল (সা) বলেছেনঃ হিংসা নেক আমলকে এমনভাবে গ্রাস করে, যেভাবে আগুন শুকনো কাঠকে গ্রাস করে। সুতরাং এই সব জিনিস এসে নিজের বহু কষ্টের অর্জিত অমূল্য সম্পদ ঈমান ও আমল যেন নষ্ট করে না দেয়, সে জন্য মনকে সব সময় পাহারা দেয়া উচিত এবং আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া উচিত।

📘 কবিরা গুনাহ ইমাম যাহাবী > 📄 আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া

📄 আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া


আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: “বল, হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজেদের জীবনকে হেলায় নষ্ট করেছে, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়োনা। আল্লাহ সকল গুনাহ মাফ করে দিয়ে থাকেন। তিনি ক্ষমাশীল ও দয়াশীল।” (সূরা আয যুমার)

"কাফিররা ছাড়া কেউ আল্লাহর রহমত থেকে হতাশ হয়না।” (সূরা ইউসুফ)

এক হাদীসে আছে যে, কিয়ামতের দিন আরশের দিক থেকে জনৈক আহবানকারী উচ্চস্বরে বলতে থাকবে “অমুক কোথায়? অমুক কোথায়?” “এই ডাক যে ব্যক্তি শুনবে, সে ভয়ে ঠক ঠক করে কাঁপতে থাকবে। আল্লাহ তাকে বলবেন: “তোমাকেই ডাকা হয়েছে। তুমি এস, আকাশ ও পৃথিবীর স্রষ্টার নিকট নিজেকে পেশ কর। এই সময় আল্লাহর বান্দারা সকলে শুয়ে চক্ষু বিস্ফারিত করে আরশের দিকে তাকাবে। আয় যার নাম ধরে ডাকা হয়েছে, সেই ব্যক্তি আল্লাহর সামনে দাঁড়াবে। তখন আল্লাহ নিজের নূর দিয়ে তাকে অন্য সকলের দৃষ্টির আড়াল করে ফেলবেন। তারপর তাকে বলবেন হে আমার বান্দা! তুমি কি জানতে না যে, আমি সৃষ্টিজগতের তোমার যাবতীয় কার্যকলাপ দেখতাম? সে বলবে: হাঁ, আমার মনিব আমি তা জানতাম। আল্লাহ বলবেন হে আমার বান্দা! তুমি কি শোননি যে, আমার অবাধ্য বান্দাকে আমি কঠিন শাস্তি দিয়ে থাকি? সে বলবে! হাঁ, শুনেছি। আল্লাহ বলবেন: আমার অনুগত বান্দার জন্য আমার কত পুরস্কার রয়েছে, তা কি শোননি? সে বলবে: হাঁ, শুনেছি। আল্লাহ বলবেন: হে আমার বান্দা, তুমি কি আমার নাফরমানী করেছ? সে বলবে! হাঁ কখনো কখনো করেছি। আল্লাই বলবেন? আজ আমার সম্পর্কে তোমার ধারণা কী? সে বলবেঃ হে আমার প্রভু! আমার ধারণা এই যে, আপনি আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। আল্লাই বলবেন হে আমার বান্দা। তুমি কি নিশ্চিত ছিলে যে, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব? সে বলবেঃ "হাঁ, কেননা আপনি আমাকে গুনাহের কাজ করতে দেখেছিলেন, কিন্তু আপনি লুকিয়ে রেখেছিলেন।” আল্লাহ বলবেনঃ তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম, এবং তোমার ধারণা সত্য প্রমাণিত করলাম। এই নাও, তোমার আমলনামা ডান হাতে নাও। এতে তোমার যে সৎকাজ আছে তা আমি কবুল করে নিয়েছি। আর যত খারাপ কাজ আছে তা মাফ করে দিয়েছি। আমি মহানুভব ও দয়ালু।

সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে যে, একবার রাসূল (সা) এর কাছে কিছু সংখ্যক বন্দীকে আনা হলো। দেখলেন, বন্দীদের মধ্যে থেকে এক মহিলা স্বীয় শিশু সন্তানকে দেখেই তাকে কোলে তুলে নিল এবং দুধ খাওয়াতে লাগল। রাসূল (সা) সাহাবীদের বললেন : তোমরা কি মনে কর যে, এই মহিলা স্বীয় সন্তানকে আগুনে নিক্ষেপ করতে পারে/ সাহাবীগণ বললেনঃ না। তখন রাসূল (সা) বললেন : এই মহিলা তার সন্তানের প্রতি যতটা দয়ালু, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি তার চেয়েও বেশী দয়ালু।"

সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত এ হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ বলেনঃ "আমার প্রতি আমার বান্দা যেমন ধারণা করে আমি তেমনি। সে যেখানে আমাকে স্মরণ করে, আমি সেখানেই তার সাথে থাকি। আল্লাহ তার গুনাহগার বান্দার তওবায় সেই ব্যক্তির চেয়েও বেশী খুশী হন, যার উট মরুভূমিতে হারিয়ে গেছে এবং হতাশায় সে যখন মৃত্যুর মুখোমুখী, তখন সেই উটকে ফিরে পেয়েছে। যে ব্যক্তি আমার দিকে এক হাত এগোয়, আমি তার দিকে দুই হাত এগোই। আর সে যখন আমার দিকে হেঁটে আসে, আমি তখন তার দিকে দৌড়ে যাই।"

সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা) বলেছেন : "মুমিন যদি জানতো আল্লাহর কাছে পাপের কি শাস্তি নির্দিষ্ট রয়েছে, তাহলে তাঁর জান্নাতের প্রত্যাশা কেউ করতোনা। আর সে যদি জানতো আল্লাহর কাছে কত দয়া ও করুণা রয়েছে, তাহলে তাঁর জান্নাত থেকে কেউ নিরাশ হতোনা।"

শুধু আখিরাতের মুক্তির ব্যাপারেই নয়, দুনিয়ার সুখশান্তির ব্যাপারেও হতাশ হওয়া উচিত নয়। আল্লাহ সব রকমের হতাশাই নিষিদ্ধ করেছেন। কেননা হতাশা মানুষকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয়। গুনাহগারকে আরো গুনাহগার হতে প্ররোচিত করে এবং বিপদ মুসিবত ও অভাব পীড়িত ব্যক্তিকে আত্মহত্যা, মৃত্যু কামনা ও অবৈধ উপায়ে অর্থোপার্জনের মত পাপকাজে উদ্বুদ্ধ করে। মানুষ যত দুরবস্থায়ই পতিত হোকনা কেন, আল্লার রহমতের আশার ওপর নির্ভর করে ধৈর্য সহকারে বৈধ পন্থায় সব রকমের পরিস্থিতি মোকাবিলা করা কর্তব্য।

টিকাঃ
১. আলোচ্য ৬৪তম কবীরা গুনাহ মূল গ্রন্থে অসম্পূর্ণ অবস্থায় ছিল। এর প্রথম হাদীসটি ব্যতীত আর কিছুই সেখানে ছিলনা। এমনকি শিরোনামও ছিলনা। কেবল প্রথম হাদীসটির বিষয়বস্তুর আলোকে ৬৪তম কবীরা গুনাহর শিরোনাম, বাদবাকী আয়াত, হাদীসসমূহ সংযোজিত করে অনুবাদক কর্তৃক পূর্ণতা দান করা হয়েছে।

📘 কবিরা গুনাহ ইমাম যাহাবী > 📄 বিনা ওযরে জামাআত ত্যাগ করা ও একাকী নামায পড়া

📄 বিনা ওযরে জামাআত ত্যাগ করা ও একাকী নামায পড়া


সহীহ মুসলিম ও সুনানে ইবনে মাজাহতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা) জামায়াত ত্যাগে অভ্যস্ত একদল লোক সম্পর্কে বলেছেন: "আমার ইচ্ছা হয়, অন্য কাউকে নামায পড়ানোর দায়িত্বে নিয়োজিত করে জামায়াত ত্যাগকারীদের ঘরবাড়ী জ্বালিয়ে দিয়ে আসি।" সহীহ মুসলিমের আর একটি হাদীসে রাসূল (সা) বলেছেনঃ "যারা জামায়াত ত্যাগে অভ্যস্ত, তাদের এই অভ্যাস ত্যাগ করতেই হবে, নচেত আল্লাহ তাদের হৃদয়ে অবশ্যই মোহর মেরে দেবেন এবং তারা অবশ্যই শিথিল হয়ে যাবে।"

সুনানে আবু দাউদ ও সুনানে ইবনে মাজাহতে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূল (সা) বলেছেন: যে ব্যক্তি অবজ্ঞার মনোভাব নিয়ে তিনটি জুময়া ত্যাগ করবে, আল্লাহ তার হৃদয়ে সিল মেরে দেবেন। রাসূল (সা) আরো বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি বিনা ওযরে ও কোন ক্ষতির আশংকা ব্যতীতই জুময়ার নামায ত্যাগ করে, তাকে এমন এক খাতায় মুনাফিক লেখা হয়, যে খাতা থেকে কিছুই মোছা হয়নি এবং কোন কিছুই রদবদল করা হয়না।"

সুনানে নাসায়ীতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা) বলেছেনঃ "প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের ওপর জুময়ার নামায পড়া অবশ্য কর্তব্য"

সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা) বলেছেন, "যে ব্যক্তি আযান শুনলো এবং কোন ওযর ছাড়াই জামায়াতে যাওয়া থেকে বিরত থাকলো, তার (ঘরের মধ্যে পড়া) নামায কবুল হবে না।"

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00