📘 কবিরা গুনাহ ইমাম যাহাবী > 📄 শাসক কর্তৃপক্ষের অবাধ্য হওয়া

📄 শাসক কর্তৃপক্ষের অবাধ্য হওয়া


ইসলামী শরীয়তে তিন ধরনের কর্তৃত্ব ও নেতৃত্ব বৈধ এবং যে ব্যক্তি এর কোন একটির অধীন হবে, তার পক্ষে একতরফাভাবে উক্ত কর্তৃত্বের আনুগত্য পরিত্যাগ করা ও সম্পর্ক ছিন্ন করা হারাম। প্রথমতঃ যখন প্রচলিত রীতিপ্রথা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কারণে কেউ কারো দাসদাসীতে পরিণত হয়, তখন উক্ত মনিব তার দাসদাসী বা ভৃত্যের প্রতি অত্যাচার নির্যাতন না চালালে সেই মনিবকে একতরফাভাবে পরিত্যাগ করে পালিয়ে যাওয়া অবৈধ। তবে অত্যাচারী মনিবকে ছেড়ে পালালে তা বৈধ হবে এবং হিজরতে পরিগণিত হবে। দ্বিতীয়তঃ স্ত্রীর ওপর স্বামীর কর্তৃত্ব। স্বামী যতক্ষণ স্ত্রীর ভরন পোষণ চালাবে এবং আইন সম্মত সকল দাম্পত্য অধিকার প্রদান করতে থাকবে, ততক্ষণ স্বামীর আনুগত্য পরিত্যাগ করা, সম্পর্ক ছিন্ন করা ও অবাধ্য হওয়া স্ত্রীর পক্ষে অবৈধ। (৪৭তম কবীরা গুনাহ দ্রষ্টব্য) তৃতীয়তঃ এমন কোন নেতা বা দলের আনুগত্য, যে নেতা বা দল শরীয়ত সম্মত উপায়ে নির্দেশ প্রদান করে। এ ধরনের নেতা বা দলের আনুগত্য পরিত্যাগ করা ও সম্পর্ক ছিন্ন করা হারাম ও কবীরা গুনাহ। এই তিন ধরনের কর্তৃত্বের আনুগত্য সম্পর্কে নিম্নে কতিপয় হাদীস বর্ণনা করা যাচ্ছে।

রাসূল (সা) বলেছেন: "কোন দাসদাসী বা ভৃত্য যখন পালিয়ে যায়, তখন সে ফিরে না আসা পর্যন্ত, যে স্ত্রী স্বামীর অবাধ্য, সে স্বামীর অনুগত না হওয়া পর্যন্ত এবং মদ খেয়ে মাতাল হওয়া ব্যক্তি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তাদের নামায ও অন্য কোন সৎকর্ম কবুল হয়না।" (সহীহ মুসলিম, তাবরানী, সহীহ ইবনে খুযায়মা) রাসূল (সা) আরো বলেছেন: তিন ব্যক্তির পরিণামের জন্য কেউ দায়ী নয় : (অর্থাৎ তারা নিজেরাই দায়ী) যে ব্যক্তি আপন জামায়াত বা সংগঠন থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে ও নেতার অবাধ্য হয়, যে ভৃত্য মনিবকে ছেড়ে পালিয়ে যায় ও অবাধ্য অবস্থায় মারা যায় এবং স্বামী কর্তৃক যাবতীয় প্রয়োজন পূরণ করা সত্বেও যে স্ত্রী স্বামীর অনুপস্থিতিতে বেপর্দা চলাফেরা করে ও অনৈসলামিক পন্থায় সৌন্দর্য প্রদর্শন করে ঘুরে বেড়ায়। (সহীহ ইবনে হাববান, তাবরানী ও হাকেম)

ইসলামী শরীয়তে তিন ধরনের কর্তৃত্ব ও নেতৃত্ব বৈধ এবং যে ব্যক্তি এর কোন একটির অধীন হবে, তার পক্ষে একতরফাভাবে উক্ত কর্তৃত্বের আনুগত্য পরিত্যাগ করা ও সম্পর্ক ছিন্ন করা হারাম। প্রথমতঃ যখন প্রচলিত রীতিপ্রথা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কারণে কেউ কারো দাসদাসীতে পরিণত হয়, তখন উক্ত মনিব তার দাসদাসী বা ভৃত্যের প্রতি অত্যাচার নির্যাতন না চালালে সেই মনিবকে একতরফাভাবে পরিত্যাগ করে পালিয়ে যাওয়া অবৈধ। তবে অত্যাচারী মনিবকে ছেড়ে পালালে তা বৈধ হবে এবং হিজরতে পরিগণিত হবে। দ্বিতীয়তঃ স্ত্রীর ওপর স্বামীর কর্তৃত্ব। স্বামী যতক্ষণ স্ত্রীর ভরন পোষণ চালাবে এবং আইন সম্মত সকল দাম্পত্য অধিকার প্রদান করতে থাকবে, ততক্ষণ স্বামীর আনুগত্য পরিত্যাগ করা, সম্পর্ক ছিন্ন করা ও অবাধ্য হওয়া স্ত্রীর পক্ষে অবৈধ। (৪৭তম কবীরা গুনাহ দ্রষ্টব্য) তৃতীয়তঃ এমন কোন নেতা বা দলের আনুগত্য, যে নেতা বা দল শরীয়ত সম্মত উপায়ে নির্দেশ প্রদান করে। এ ধরনের নেতা বা দলের আনুগত্য পরিত্যাগ করা ও সম্পর্ক ছিন্ন করা হারাম ও কবীরা গুনাহ। এই তিন ধরনের কর্তৃত্বের আনুগত্য সম্পর্কে নিম্নে কতিপয় হাদীস বর্ণনা করা যাচ্ছে।

রাসূল (সা) বলেছেন: "কোন দাসদাসী বা ভৃত্য যখন পালিয়ে যায়, তখন সে ফিরে না আসা পর্যন্ত, যে স্ত্রী স্বামীর অবাধ্য, সে স্বামীর অনুগত না হওয়া পর্যন্ত এবং মদ খেয়ে মাতাল হওয়া ব্যক্তি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তাদের নামায ও অন্য কোন সৎকর্ম কবুল হয়না।" (সহীহ মুসলিম, তাবরানী, সহীহ ইবনে খুযায়মা) রাসূল (সা) আরো বলেছেন: তিন ব্যক্তির পরিণামের জন্য কেউ দায়ী নয় : (অর্থাৎ তারা নিজেরাই দায়ী) যে ব্যক্তি আপন জামায়াত বা সংগঠন থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে ও নেতার অবাধ্য হয়, যে ভৃত্য মনিবকে ছেড়ে পালিয়ে যায় ও অবাধ্য অবস্থায় মারা যায় এবং স্বামী কর্তৃক যাবতীয় প্রয়োজন পূরণ করা সত্বেও যে স্ত্রী স্বামীর অনুপস্থিতিতে বেপর্দা চলাফেরা করে ও অনৈসলামিক পন্থায় সৌন্দর্য প্রদর্শন করে ঘুরে বেড়ায়। (সহীহ ইবনে হাববান, তাবরানী ও হাকেম)

📘 কবিরা গুনাহ ইমাম যাহাবী > 📄 আল্লাহর ছাড়া আর কারো নামে জন্তু যবাই করা

📄 আল্লাহর ছাড়া আর কারো নামে জন্তু যবাই করা


সূরা আল আনয়ামে আল্লাহ বলেন: "যে জন্তুকে আল্লাহর নাম নিয়ে যবাই করা হয়নি, তা খেয়োনা, এটা গুরুতর পাপ। ....." হযরত ইবনে আব্বাস, কালবী, আতা প্রমুখ ইমাম এ আয়াতের তাফসীর প্রসংগে বলেছেন যে, এ দ্বারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে কাফির ও মুশরিকদের যবাই করা জন্তুকে বুঝানো হয়েছে। নচেৎ মুসলমানদের যবাই করা জন্তু সর্ব সম্মতভাবে হালাল, চাই তাতে আল্লাহর নাম নেয়া হোক বা না হোক। তাবরানী বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলো: হে রাসূল! আমাদের কেউ যদি যবাই করার সময় আল্লাহর নাম নিতে ভুলে যায়, তা হলে কি হবে? রাসূল (সা) বললেনঃ "প্রত্যেক মুসলমানের মুখে আল্লাহর নাম থাকে। মুয়াত্তায়ে ইমাম মালিক ও সহীহ আল বুখারীতে বর্ণিত আছে যে, কিছু মুসলমান বললোঃ হে রাসূল, লোকেরা আমাদেরকে গোস্ত দিতে আসে। কিন্তু আমরা জানি না, ঐ সব জন্তু আল্লাহর নাম নিয়ে যবাই করা হয়েছে কিনা। রাসূল বললেন: তোমরা আল্লাহর নাম নাও এবং খাও।"

📘 কবিরা গুনাহ ইমাম যাহাবী > 📄 জেনে শুনে নিজেকে পিতা ব্যতীত অন্যের সন্তান বলে পরিচয় দেয়া

📄 জেনে শুনে নিজেকে পিতা ব্যতীত অন্যের সন্তান বলে পরিচয় দেয়া


সহীহ আল বুখারীতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নিজের পিতা ছাড়া অন্য কাউকে পিতা বলে পরিচয় দেয়, তার জন্য জান্নাত হারাম।

সহীহ আল বুখারীর অপর হাদীসে এরূপ ব্যক্তিকে কাফির বলা হয়েছে এবং অভিশাপ ও লা'নত বর্ষণ করা হয়েছে। সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা) বলেছেন: "যে ব্যক্তি নিজের পিতা ব্যতীত অন্য কাউকে পিতা বলে পরিচয় দেয়, অথচ সে জানে যে, সে তার পিতা নয়, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং সে কাফির। যে ব্যক্তি নিজে যা নয় তাই দাবী করে, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়, তার উচিত জাহান্নামে নিজের বাসস্থান গ্রহণ করা। যে ব্যক্তি কাউকে কাফির বা আল্লাহর দুশমন বলে অভিহিত করে, অথচ আসলে সে তা নয়, তার উক্তি তার ওপরই প্রযুক্ত হবে। অর্থাৎ সে নিজেই কাফির ও আল্লাহর দুশমনে পরিণত হবে।

📘 কবিরা গুনাহ ইমাম যাহাবী > 📄 জেনে শুনে অন্যায়ের পক্ষে তর্ক, ঝগড়া ও দ্বন্দ্ব

📄 জেনে শুনে অন্যায়ের পক্ষে তর্ক, ঝগড়া ও দ্বন্দ্ব


আল্লাহ তায়ালা বলেন: মানুষের মধ্যে অনেকে এমন আছে, পার্থিব জীবন সম্পর্কে যার কথাবার্তা তোমাকে চমৎকৃত করে, এবং তাঁর অন্তরে যা আছে, সে সম্বন্ধে সে আল্লাহকে সাক্ষী রাখে। অথচ সে কট্টর দুশমন।"

ইমাম গাযযালী (রহ) বলেছেন: ইসলামী শরীয়তে তর্ক তিন প্রকারের এবং তিনটিই নিন্দনীয়। একটি হচ্ছে "মিরা"। এর অর্থ হলো, কারো কথায় নিছক ভাষাগত খুঁত ধরে আপত্তি জানানো। এর উদ্দেশ্য বক্তাকে হেয় প্রতিপন্ন করা ও নিজেকে তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করা ছাড়া আর কিছু হয়না। দ্বিজীয়টি হচ্ছে "জিদাল"। এর অর্থ হলো, মতের বিভিন্নতা প্রকাশ করা এবং নিজের মতকে অগ্রগণ্য সাব্যস্ত করার চেষ্টা করা। আর তৃতীয়টি হলো "খুশুমাত”। এর উদ্দেশ্য হয়ে থাকে অর্থ বা অন্য কোন ধরনের স্বার্থ উদ্ধার। এটি কখনো গায়ে পড়ে বাঁধানো হয়। আবার কখনো অপরের কথার সূত্র ধরে বলা হয়। প্রথমটি অর্থাৎ "মিরা" কখনো প্রথমে গায়ে পড়ে করা হয় না, অন্য কোন বক্তব্যের ছুঁতো ধরেই করা হয়। আর শেষের দুটি প্রথমেও করা হয়। পরেও করা হয়। তবে তিনটিরই উদ্দেশ্য হয়ে থাকে অসৎ ও অন্যায়।

ইমাম নবাবী বলেন: তর্ক দু'রকমই হতে পারে: অন্যায়ের পক্ষে অথবা ন্যায়ের পক্ষে। আল্লাহ বলেছেন: "তোমরা আহলে কিতাবের সাথে সুন্দরতম উপায় ব্যতীত তর্ক করোনা।" "আল্লাহর আয়াতগুলো নিয়ে তর্ক করা কাফিরদের ছাড়া আর কারো কাজ নয় তর্কের উদ্দেশ্যে যদি হয় সত্যুতে জানা ও প্রতিষ্ঠিত করা তবে তা প্রশংসনীয়; আর সত্যকে প্রতিহত করার জন্য তর্ক করা এবং অজীনা বিষয়ে তর্ক করা নিন্দনীয়। এই ব্যাখ্যার আলোকেই কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত তর্ক' সংক্রান্ত উক্তিগুলোকে বুঝতে হবে। ন্যায়সংগত দাবীর পক্ষেও যদি তর্ক করা হয়, তবে তা যদি মিথ্যাচার, কষ্টদায়ক কথাবার্ত ও অশালীন কথাবার্তায় রূপ ধারণ করে, তাহলে তা নিন্দনীয়।

রাসূল (সা) বলেছেন: এক নাগাড়ে তর্ক চালিয়ে যাওয়া গুনাহে লিপ্ত হওয়ার জন্য যথেষ্ট। (তিরমিযী) রাসূল (সা) আরো বলেছেন: "যে ব্যক্তি অজানা বিষয়ে তর্ক করে, সে ঐ তর্ক পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত তার ওপর আল্লাহ অসন্তুষ্ট থাকবেন।” (তিরমিযী) রাসূল (সা) আরো বলেছেন : কোন ব্যক্তি যখনই বিপথগামী হয়, তখন সে ঝগড়াটে স্বভাবের হয়ে যায়। (তিরমিয়ী), রাসুল (সা) আরো বলেছেন: "তোমাদের সম্পর্কে আমি তিনটে জিনিসের সবচেয়ে বেশী ভয় করি: যাদের মধ্যে কুরআন ও হাদীসের পর্যাপ্ত জ্ঞান রয়েছে তাদের পদস্খলন। মুসলিম নামধারী মুনাফিক কর্তৃক কুরআন নিয়ে তর্কে লিপ্ত হওয়া। এবং দুনিয়ার লোভ-যা তোমাদের মধ্যে খুনোখুনীর প্ররোচনা দেবে।” (তাবরানী)

রাসূল (সা) বলেছেনঃ "কুরআন নিয়ে তর্ক করা কুফরী।" (আবু দাউদ) রাসূল (সা) বলেছেন: "যে ব্যক্তি নিজের মতের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও তর্ক থেকে বিরত হয়, তার বাসস্থান জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে হবে। আর যে নিজের মতের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়েই তর্ক পরিহার করে, তাকে জান্নাতের সাধারণ জায়গায় বাসস্থান দেয়া হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00