📘 কবিরা গুনাহ ইমাম যাহাবী > 📄 দাম্ভিকতা ও আভিজাত্য প্রদর্শনার্থে টাখনুর নিচ পর্যন্ত পোশাক পরা

📄 দাম্ভিকতা ও আভিজাত্য প্রদর্শনার্থে টাখনুর নিচ পর্যন্ত পোশাক পরা


সহীহ আল বুখারীতে আছে যে, রাসূল (সা) বলেছেনঃ "টাখনুর নিচে পর্যন্ত যে পোশাক পরবে সে জাহান্নামে যাবে।” মুয়াতায়ে ইমাম মালেক, সহীহ আল বুখারী, সহীহ মুসলিম, জামে তিরমিযী, সুনানে ইবনে মাজাহতে বর্ণিত আছে যে, রাসুল (সা) বলেছেনঃ "যার পোশাক অহংকারবশত টাখনুর নিচে গাঁড়িয়ে পড়ে, আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না।" সুনানে আবু দাউদে আছে যে, এক ব্যক্তি টাখনুর নিচে গড়ানো পোশাক পরে নামাজ পড়ছিল। এই সময় রাসূল (সা) তাকে বললেনঃ যাও ওযু করে এস। সে ওযু করে এলে আবার বললেনঃ যাও ওযু করে এস। এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলোঃ হে রাসূল! আপনি ওকে ওযু করতে বললেন কেন? রাসূল (সা) চুপ করে রইলেন। কিছুক্ষণ পর বললেনঃ সে টাখনুর নিচে গড়ানো পোশাক পরে নামায পড়ছিল। এ ধরনের নামায আল্লাহ কবুল করেন না।

"সহীহ আল বুখারী, সহীহ মুসলিম! সুনানে আবু দাউদ সুনান্নে ইবনে মাজাহতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা) যখন বললেনঃ যার পোশাক অহংকারবশত টাখনুর নিচে গড়ায়, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দিকে তাকাবেন না; তখন হযরত-আবু বকর (রা) বললেনঃ হে রাসূল, 'আমার পাজামা আমি শক্ত করে কী বাঁধলে ঢিল হয়ে গড়িয়ে পড়ে। রাসূল (সা) বললেনঃ "যারা অহংকারী বশে এ কাজ করে, তুমি তাঁদের অন্তর্ভুক্ত নও।

উল্লেখ্য যে এই সম্পর্কিত বেশী কিছু হাদীস "দান্তিকতা ও আভিজাত্য প্রদর্শনার্থে" কথাগুলো নেই। অনুবাদক

📘 কবিরা গুনাহ ইমাম যাহাবী > 📄 পুরুষের স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করা

📄 পুরুষের স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করা


সহীহ আদা কুখায়ী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা) বলেছেনঃ "যে ব্যক্তি দুনিয়ায় রেশম ব্যবহার করবে, সে আখিরাতে রেশম ব্যবহার করতে পারবেনা।” সুনানে আবু দাউদ ও সুনানে নাসায়ীতে বর্ণিত আছে যে, স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার আমার উম্মাতের পুরুষদের ওপর হারাম করা হয়েছে।" সামরিক ও বেসামরিক উভয় প্রকারের লোকদের বেলায় এটা প্রযোজ্য।

সহীহ আল বুখারীতে আরো বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা) স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্রে পানাহার করতে, রেশমী পোশাক পরিধান করতে ও রেশমী বিছানায় বসতে নিষেধ করেছেন।

যে ব্যক্তি পুরুষের রেশম ব্যবহার করাকে হালাল মনে করে অথবা অন্য কোন হারামকে হালাল মনে করে সে কাফের। শুধুমাত্র রোগগ্রস্ত ব্যক্তি (ডাক্তারের মতে অনিবার্য হলে) এটা ব্যবহার করতে পারে। আর যুদ্ধ ক্ষেত্রে সৈনিকরাও প্রয়োজনে তা ব্যবহার করতে পারে। নিছক সখ ও সৌন্দর্যের জন্য পুরুষের পক্ষে রেশম ও স্বর্ণ ব্যবহার করা সর্বসম্মত ভাবে হারাম। অনুরূপভাবে যে বস্ত্রের অধিকাংশ সূতো রেশমী তাও পুরুষের ব্যবহার করা হারাম। সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূল (সা) এক ব্যক্তির হাতে সোনার আংটি দেখে তা খুলে ফেললেন এবং বললেনঃ "তোমাদের এই ব্যক্তির নিজ হাতে জাহান্নামের আগুন পরার সখ হয়েছে।" অনুরূপভাবে স্বর্ণ ও রেশমের নক্শা এবং এমব্রয়ডারীও পুরুষের জন্য হারাম। তবে শিশুদের স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করানো সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। ইমাম আহমদ বিন হাম্বলসহ অধিকাংশ ইমামের মতে পুরুষ শিশুদের জন্যও এটা হারাম।

📘 কবিরা গুনাহ ইমাম যাহাবী > 📄 শাসক কর্তৃপক্ষের অবাধ্য হওয়া

📄 শাসক কর্তৃপক্ষের অবাধ্য হওয়া


ইসলামী শরীয়তে তিন ধরনের কর্তৃত্ব ও নেতৃত্ব বৈধ এবং যে ব্যক্তি এর কোন একটির অধীন হবে, তার পক্ষে একতরফাভাবে উক্ত কর্তৃত্বের আনুগত্য পরিত্যাগ করা ও সম্পর্ক ছিন্ন করা হারাম। প্রথমতঃ যখন প্রচলিত রীতিপ্রথা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কারণে কেউ কারো দাসদাসীতে পরিণত হয়, তখন উক্ত মনিব তার দাসদাসী বা ভৃত্যের প্রতি অত্যাচার নির্যাতন না চালালে সেই মনিবকে একতরফাভাবে পরিত্যাগ করে পালিয়ে যাওয়া অবৈধ। তবে অত্যাচারী মনিবকে ছেড়ে পালালে তা বৈধ হবে এবং হিজরতে পরিগণিত হবে। দ্বিতীয়তঃ স্ত্রীর ওপর স্বামীর কর্তৃত্ব। স্বামী যতক্ষণ স্ত্রীর ভরন পোষণ চালাবে এবং আইন সম্মত সকল দাম্পত্য অধিকার প্রদান করতে থাকবে, ততক্ষণ স্বামীর আনুগত্য পরিত্যাগ করা, সম্পর্ক ছিন্ন করা ও অবাধ্য হওয়া স্ত্রীর পক্ষে অবৈধ। (৪৭তম কবীরা গুনাহ দ্রষ্টব্য) তৃতীয়তঃ এমন কোন নেতা বা দলের আনুগত্য, যে নেতা বা দল শরীয়ত সম্মত উপায়ে নির্দেশ প্রদান করে। এ ধরনের নেতা বা দলের আনুগত্য পরিত্যাগ করা ও সম্পর্ক ছিন্ন করা হারাম ও কবীরা গুনাহ। এই তিন ধরনের কর্তৃত্বের আনুগত্য সম্পর্কে নিম্নে কতিপয় হাদীস বর্ণনা করা যাচ্ছে।

রাসূল (সা) বলেছেন: "কোন দাসদাসী বা ভৃত্য যখন পালিয়ে যায়, তখন সে ফিরে না আসা পর্যন্ত, যে স্ত্রী স্বামীর অবাধ্য, সে স্বামীর অনুগত না হওয়া পর্যন্ত এবং মদ খেয়ে মাতাল হওয়া ব্যক্তি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তাদের নামায ও অন্য কোন সৎকর্ম কবুল হয়না।" (সহীহ মুসলিম, তাবরানী, সহীহ ইবনে খুযায়মা) রাসূল (সা) আরো বলেছেন: তিন ব্যক্তির পরিণামের জন্য কেউ দায়ী নয় : (অর্থাৎ তারা নিজেরাই দায়ী) যে ব্যক্তি আপন জামায়াত বা সংগঠন থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে ও নেতার অবাধ্য হয়, যে ভৃত্য মনিবকে ছেড়ে পালিয়ে যায় ও অবাধ্য অবস্থায় মারা যায় এবং স্বামী কর্তৃক যাবতীয় প্রয়োজন পূরণ করা সত্বেও যে স্ত্রী স্বামীর অনুপস্থিতিতে বেপর্দা চলাফেরা করে ও অনৈসলামিক পন্থায় সৌন্দর্য প্রদর্শন করে ঘুরে বেড়ায়। (সহীহ ইবনে হাববান, তাবরানী ও হাকেম)

ইসলামী শরীয়তে তিন ধরনের কর্তৃত্ব ও নেতৃত্ব বৈধ এবং যে ব্যক্তি এর কোন একটির অধীন হবে, তার পক্ষে একতরফাভাবে উক্ত কর্তৃত্বের আনুগত্য পরিত্যাগ করা ও সম্পর্ক ছিন্ন করা হারাম। প্রথমতঃ যখন প্রচলিত রীতিপ্রথা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কারণে কেউ কারো দাসদাসীতে পরিণত হয়, তখন উক্ত মনিব তার দাসদাসী বা ভৃত্যের প্রতি অত্যাচার নির্যাতন না চালালে সেই মনিবকে একতরফাভাবে পরিত্যাগ করে পালিয়ে যাওয়া অবৈধ। তবে অত্যাচারী মনিবকে ছেড়ে পালালে তা বৈধ হবে এবং হিজরতে পরিগণিত হবে। দ্বিতীয়তঃ স্ত্রীর ওপর স্বামীর কর্তৃত্ব। স্বামী যতক্ষণ স্ত্রীর ভরন পোষণ চালাবে এবং আইন সম্মত সকল দাম্পত্য অধিকার প্রদান করতে থাকবে, ততক্ষণ স্বামীর আনুগত্য পরিত্যাগ করা, সম্পর্ক ছিন্ন করা ও অবাধ্য হওয়া স্ত্রীর পক্ষে অবৈধ। (৪৭তম কবীরা গুনাহ দ্রষ্টব্য) তৃতীয়তঃ এমন কোন নেতা বা দলের আনুগত্য, যে নেতা বা দল শরীয়ত সম্মত উপায়ে নির্দেশ প্রদান করে। এ ধরনের নেতা বা দলের আনুগত্য পরিত্যাগ করা ও সম্পর্ক ছিন্ন করা হারাম ও কবীরা গুনাহ। এই তিন ধরনের কর্তৃত্বের আনুগত্য সম্পর্কে নিম্নে কতিপয় হাদীস বর্ণনা করা যাচ্ছে।

রাসূল (সা) বলেছেন: "কোন দাসদাসী বা ভৃত্য যখন পালিয়ে যায়, তখন সে ফিরে না আসা পর্যন্ত, যে স্ত্রী স্বামীর অবাধ্য, সে স্বামীর অনুগত না হওয়া পর্যন্ত এবং মদ খেয়ে মাতাল হওয়া ব্যক্তি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তাদের নামায ও অন্য কোন সৎকর্ম কবুল হয়না।" (সহীহ মুসলিম, তাবরানী, সহীহ ইবনে খুযায়মা) রাসূল (সা) আরো বলেছেন: তিন ব্যক্তির পরিণামের জন্য কেউ দায়ী নয় : (অর্থাৎ তারা নিজেরাই দায়ী) যে ব্যক্তি আপন জামায়াত বা সংগঠন থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে ও নেতার অবাধ্য হয়, যে ভৃত্য মনিবকে ছেড়ে পালিয়ে যায় ও অবাধ্য অবস্থায় মারা যায় এবং স্বামী কর্তৃক যাবতীয় প্রয়োজন পূরণ করা সত্বেও যে স্ত্রী স্বামীর অনুপস্থিতিতে বেপর্দা চলাফেরা করে ও অনৈসলামিক পন্থায় সৌন্দর্য প্রদর্শন করে ঘুরে বেড়ায়। (সহীহ ইবনে হাববান, তাবরানী ও হাকেম)

📘 কবিরা গুনাহ ইমাম যাহাবী > 📄 আল্লাহর ছাড়া আর কারো নামে জন্তু যবাই করা

📄 আল্লাহর ছাড়া আর কারো নামে জন্তু যবাই করা


সূরা আল আনয়ামে আল্লাহ বলেন: "যে জন্তুকে আল্লাহর নাম নিয়ে যবাই করা হয়নি, তা খেয়োনা, এটা গুরুতর পাপ। ....." হযরত ইবনে আব্বাস, কালবী, আতা প্রমুখ ইমাম এ আয়াতের তাফসীর প্রসংগে বলেছেন যে, এ দ্বারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে কাফির ও মুশরিকদের যবাই করা জন্তুকে বুঝানো হয়েছে। নচেৎ মুসলমানদের যবাই করা জন্তু সর্ব সম্মতভাবে হালাল, চাই তাতে আল্লাহর নাম নেয়া হোক বা না হোক। তাবরানী বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলো: হে রাসূল! আমাদের কেউ যদি যবাই করার সময় আল্লাহর নাম নিতে ভুলে যায়, তা হলে কি হবে? রাসূল (সা) বললেনঃ "প্রত্যেক মুসলমানের মুখে আল্লাহর নাম থাকে। মুয়াত্তায়ে ইমাম মালিক ও সহীহ আল বুখারীতে বর্ণিত আছে যে, কিছু মুসলমান বললোঃ হে রাসূল, লোকেরা আমাদেরকে গোস্ত দিতে আসে। কিন্তু আমরা জানি না, ঐ সব জন্তু আল্লাহর নাম নিয়ে যবাই করা হয়েছে কিনা। রাসূল বললেন: তোমরা আল্লাহর নাম নাও এবং খাও।"

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00