📄 সৎ ও খোদাভীরু বান্দাদেরকে কষ্ট দেয়া
আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ "যারা মুমিন নরনারীদেরকে তারা যা করেনি, তাই প্রচার করে কষ্ট দেয়, তারা অপবাদ রটায় এবং সুস্পষ্ট গুনাহর কাজ করে।” (সূরা আল আহযাব) "তোমরা অনুগত মুমিনদের প্রতি যত্নশীল থাক।" (সূরা আল-হিজর)
হযরত আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা) বলেছেনঃ “আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: যে ব্যক্তি আমার কোন ওলীকে (বন্ধুকে) কষ্ট দেয়, তার বিরুদ্ধে আমি যুদ্ধ ঘোষণা করে রেখেছি।" সহীহ মুসলিমের এক হাদীসে আছে যে, একবার সালমান ফাসী, সুহাইব ও বিলাল (রা) এই তিন সাহাবী এক জায়গায় রয়েছিলেন। এই সময়ে তাদের সামনে দিয়ে আবু সুফিয়ান ও তার দল গেলে তাঁরা বললেনঃ আল্লাহর তরবারীগুলো আল্লাহর শত্রুর কাছ থেকে উপযুক্ত প্রতিশোধ নেয়নি। সেখানে উপস্থিত হযরত আবু বকর (রা) এ কথা শুনে বললেনঃ কুরাইশ বংশের প্রবীণ নেতা সম্পর্কে তোমরা এই মন্তব্য করলে? অতঃপর তিনি রাসূল (সা) এর কাছে এসে তাঁকে পুরো ব্যাপারটা জানালেন। রাসূল (সা) বললেনঃ হে আবু বকর, তুমি সম্ভবতঃ তাদেরকে রাগান্বিত করেছ এবং আল্লাহকেও ক্রুদ্ধ করেছ। (অর্থাৎ তুমি ভালো করনি।) হযরত আবু বকর তৎক্ষণাৎ ঐ তিন সাহাবীর নিকট গেলেন এবং বললেনঃ আমার কথায় কি তোমরা রাগ করেছ? তাঁরা বললেনঃ না, ভাই, আল্লাহ আপনাকে মাফ করুন।
উল্লেখ্য যে, রাসূল (সা) এর প্রতি সর্বপ্রথম যারা ঈমান এনেছিল তারা দরিদ্র শ্রেণীর লোক ছিল। শুধু তাঁর প্রতি নয়, প্রত্যেক নবীর প্রতিই সর্বপ্রথম দরিদ্র লোকেরাই ঈমান এনেছিল। রাসূল (সা) প্রায় সময়ই তাঁর এই সব দরিদ্র সাহাবী যথা সালমান, সুহাইব, বিলাল, আম্মার প্রমুখের কাছে বসতেন। মুশরিকরা ইহুদী আলেমদের কাছ থেকে জানতে পারলো যে, নবী রাসূলদের আলামতই এই যে, তাদের প্রথম অনুসারী দরিদ্র লোকেরাই হয়ে থাকে। তাই তারা দরিদ্রদেরকে তাঁর কাছ থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য কৌশল তৈরী করলো। মুশরিকদের কতিপয় নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি রাসূল (সা) এর কাছে এসে বললোঃ হে মুহাম্মাদ, তোমার চারপাশ থেকে গরীবদেরকে সরিয়ে দাও। কেননা ওদের সাথে ওঠাবসা আমাদের জন্য ঘৃণার বিষয়। ওদেরকে সরিয়ে দিলে সমাজের গণ্যমান্য ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা তোমার ওপর ঈমান আনবে। এর জবাবে আল্লাহ আয়াত নাযিল করলেনঃ "যারা তাদের প্রতিপালককে খুশী করার জন্য সকাল বিকাল তাঁকে ডাকে তাদেরকে তাড়িয়ে দিওনা।" (আল-আনয়াম)
মুশরিকদের প্রথম ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবার পর তারা বললঃ হে মুহাম্মাদ, ওদেরকে যদি তুমি তাড়াতে না চাও তাহলে আমাদের জন্য একদিন এবং ওদের জন্য একদিন নির্ধারণ কর। তার জবাবে আল্লাহ নাযিল করলেনঃ “যিনি এমন লোকদের সাথে আছেন, যারা আপন প্রতিপালকরে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে সকাল সন্ধ্যা তাঁকে ডাকে, তুমি ধৈর্য ধারণ করে তাদের সাথে থাকো, দুনিয়ার জাকজমকের আকাংখায় তোমার নজরে তারা যেন উপেক্ষিত না হয়।" (সূরা আল কাহফ)
এরপর রাসূল (সা) দরিদ্র সাহাবীদের প্রতি অধিকতর যত্নশীল হতেন এবং তাদেরকে অধিকতর গুরুত্ব ও মর্যাদা দেন। সেই থেকে এটা ইসলামের চিরস্থায়ী নীতি হয়ে দাঁড়ায় যে, মর্যাদা ও ভক্তি শ্রদ্ধার মাপকাঠি হবে ঈমান, সৎকর্মশীলতা, তাকওয়া ও খোদাভীতি। পার্থিব জাকজমক, শান শওকত, ধনসম্পদ ও প্রভাব প্রতিপত্তি নয়। যারা তাকওয়া ও খোদাভীতিতে অগ্রসর ও উন্নত চরিত্রের অধিকারী, তারা দরিদ্র হলেও তাদেরকে অবজ্ঞা, অবহেলা ও উপেক্ষা করা যাবেনা এবং কোনভাবেই তাদেরকে কষ্ট দেয়া যাবেনা।
📄 দাম্ভিকতা ও আভিজাত্য প্রদর্শনার্থে টাখনুর নিচ পর্যন্ত পোশাক পরা
সহীহ আল বুখারীতে আছে যে, রাসূল (সা) বলেছেনঃ "টাখনুর নিচে পর্যন্ত যে পোশাক পরবে সে জাহান্নামে যাবে।” মুয়াতায়ে ইমাম মালেক, সহীহ আল বুখারী, সহীহ মুসলিম, জামে তিরমিযী, সুনানে ইবনে মাজাহতে বর্ণিত আছে যে, রাসুল (সা) বলেছেনঃ "যার পোশাক অহংকারবশত টাখনুর নিচে গাঁড়িয়ে পড়ে, আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না।" সুনানে আবু দাউদে আছে যে, এক ব্যক্তি টাখনুর নিচে গড়ানো পোশাক পরে নামাজ পড়ছিল। এই সময় রাসূল (সা) তাকে বললেনঃ যাও ওযু করে এস। সে ওযু করে এলে আবার বললেনঃ যাও ওযু করে এস। এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলোঃ হে রাসূল! আপনি ওকে ওযু করতে বললেন কেন? রাসূল (সা) চুপ করে রইলেন। কিছুক্ষণ পর বললেনঃ সে টাখনুর নিচে গড়ানো পোশাক পরে নামায পড়ছিল। এ ধরনের নামায আল্লাহ কবুল করেন না।
"সহীহ আল বুখারী, সহীহ মুসলিম! সুনানে আবু দাউদ সুনান্নে ইবনে মাজাহতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা) যখন বললেনঃ যার পোশাক অহংকারবশত টাখনুর নিচে গড়ায়, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দিকে তাকাবেন না; তখন হযরত-আবু বকর (রা) বললেনঃ হে রাসূল, 'আমার পাজামা আমি শক্ত করে কী বাঁধলে ঢিল হয়ে গড়িয়ে পড়ে। রাসূল (সা) বললেনঃ "যারা অহংকারী বশে এ কাজ করে, তুমি তাঁদের অন্তর্ভুক্ত নও।
উল্লেখ্য যে এই সম্পর্কিত বেশী কিছু হাদীস "দান্তিকতা ও আভিজাত্য প্রদর্শনার্থে" কথাগুলো নেই। অনুবাদক
📄 পুরুষের স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করা
সহীহ আদা কুখায়ী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা) বলেছেনঃ "যে ব্যক্তি দুনিয়ায় রেশম ব্যবহার করবে, সে আখিরাতে রেশম ব্যবহার করতে পারবেনা।” সুনানে আবু দাউদ ও সুনানে নাসায়ীতে বর্ণিত আছে যে, স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার আমার উম্মাতের পুরুষদের ওপর হারাম করা হয়েছে।" সামরিক ও বেসামরিক উভয় প্রকারের লোকদের বেলায় এটা প্রযোজ্য।
সহীহ আল বুখারীতে আরো বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা) স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্রে পানাহার করতে, রেশমী পোশাক পরিধান করতে ও রেশমী বিছানায় বসতে নিষেধ করেছেন।
যে ব্যক্তি পুরুষের রেশম ব্যবহার করাকে হালাল মনে করে অথবা অন্য কোন হারামকে হালাল মনে করে সে কাফের। শুধুমাত্র রোগগ্রস্ত ব্যক্তি (ডাক্তারের মতে অনিবার্য হলে) এটা ব্যবহার করতে পারে। আর যুদ্ধ ক্ষেত্রে সৈনিকরাও প্রয়োজনে তা ব্যবহার করতে পারে। নিছক সখ ও সৌন্দর্যের জন্য পুরুষের পক্ষে রেশম ও স্বর্ণ ব্যবহার করা সর্বসম্মত ভাবে হারাম। অনুরূপভাবে যে বস্ত্রের অধিকাংশ সূতো রেশমী তাও পুরুষের ব্যবহার করা হারাম। সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূল (সা) এক ব্যক্তির হাতে সোনার আংটি দেখে তা খুলে ফেললেন এবং বললেনঃ "তোমাদের এই ব্যক্তির নিজ হাতে জাহান্নামের আগুন পরার সখ হয়েছে।" অনুরূপভাবে স্বর্ণ ও রেশমের নক্শা এবং এমব্রয়ডারীও পুরুষের জন্য হারাম। তবে শিশুদের স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করানো সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। ইমাম আহমদ বিন হাম্বলসহ অধিকাংশ ইমামের মতে পুরুষ শিশুদের জন্যও এটা হারাম।
📄 শাসক কর্তৃপক্ষের অবাধ্য হওয়া
ইসলামী শরীয়তে তিন ধরনের কর্তৃত্ব ও নেতৃত্ব বৈধ এবং যে ব্যক্তি এর কোন একটির অধীন হবে, তার পক্ষে একতরফাভাবে উক্ত কর্তৃত্বের আনুগত্য পরিত্যাগ করা ও সম্পর্ক ছিন্ন করা হারাম। প্রথমতঃ যখন প্রচলিত রীতিপ্রথা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কারণে কেউ কারো দাসদাসীতে পরিণত হয়, তখন উক্ত মনিব তার দাসদাসী বা ভৃত্যের প্রতি অত্যাচার নির্যাতন না চালালে সেই মনিবকে একতরফাভাবে পরিত্যাগ করে পালিয়ে যাওয়া অবৈধ। তবে অত্যাচারী মনিবকে ছেড়ে পালালে তা বৈধ হবে এবং হিজরতে পরিগণিত হবে। দ্বিতীয়তঃ স্ত্রীর ওপর স্বামীর কর্তৃত্ব। স্বামী যতক্ষণ স্ত্রীর ভরন পোষণ চালাবে এবং আইন সম্মত সকল দাম্পত্য অধিকার প্রদান করতে থাকবে, ততক্ষণ স্বামীর আনুগত্য পরিত্যাগ করা, সম্পর্ক ছিন্ন করা ও অবাধ্য হওয়া স্ত্রীর পক্ষে অবৈধ। (৪৭তম কবীরা গুনাহ দ্রষ্টব্য) তৃতীয়তঃ এমন কোন নেতা বা দলের আনুগত্য, যে নেতা বা দল শরীয়ত সম্মত উপায়ে নির্দেশ প্রদান করে। এ ধরনের নেতা বা দলের আনুগত্য পরিত্যাগ করা ও সম্পর্ক ছিন্ন করা হারাম ও কবীরা গুনাহ। এই তিন ধরনের কর্তৃত্বের আনুগত্য সম্পর্কে নিম্নে কতিপয় হাদীস বর্ণনা করা যাচ্ছে।
রাসূল (সা) বলেছেন: "কোন দাসদাসী বা ভৃত্য যখন পালিয়ে যায়, তখন সে ফিরে না আসা পর্যন্ত, যে স্ত্রী স্বামীর অবাধ্য, সে স্বামীর অনুগত না হওয়া পর্যন্ত এবং মদ খেয়ে মাতাল হওয়া ব্যক্তি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তাদের নামায ও অন্য কোন সৎকর্ম কবুল হয়না।" (সহীহ মুসলিম, তাবরানী, সহীহ ইবনে খুযায়মা) রাসূল (সা) আরো বলেছেন: তিন ব্যক্তির পরিণামের জন্য কেউ দায়ী নয় : (অর্থাৎ তারা নিজেরাই দায়ী) যে ব্যক্তি আপন জামায়াত বা সংগঠন থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে ও নেতার অবাধ্য হয়, যে ভৃত্য মনিবকে ছেড়ে পালিয়ে যায় ও অবাধ্য অবস্থায় মারা যায় এবং স্বামী কর্তৃক যাবতীয় প্রয়োজন পূরণ করা সত্বেও যে স্ত্রী স্বামীর অনুপস্থিতিতে বেপর্দা চলাফেরা করে ও অনৈসলামিক পন্থায় সৌন্দর্য প্রদর্শন করে ঘুরে বেড়ায়। (সহীহ ইবনে হাববান, তাবরানী ও হাকেম)
ইসলামী শরীয়তে তিন ধরনের কর্তৃত্ব ও নেতৃত্ব বৈধ এবং যে ব্যক্তি এর কোন একটির অধীন হবে, তার পক্ষে একতরফাভাবে উক্ত কর্তৃত্বের আনুগত্য পরিত্যাগ করা ও সম্পর্ক ছিন্ন করা হারাম। প্রথমতঃ যখন প্রচলিত রীতিপ্রথা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কারণে কেউ কারো দাসদাসীতে পরিণত হয়, তখন উক্ত মনিব তার দাসদাসী বা ভৃত্যের প্রতি অত্যাচার নির্যাতন না চালালে সেই মনিবকে একতরফাভাবে পরিত্যাগ করে পালিয়ে যাওয়া অবৈধ। তবে অত্যাচারী মনিবকে ছেড়ে পালালে তা বৈধ হবে এবং হিজরতে পরিগণিত হবে। দ্বিতীয়তঃ স্ত্রীর ওপর স্বামীর কর্তৃত্ব। স্বামী যতক্ষণ স্ত্রীর ভরন পোষণ চালাবে এবং আইন সম্মত সকল দাম্পত্য অধিকার প্রদান করতে থাকবে, ততক্ষণ স্বামীর আনুগত্য পরিত্যাগ করা, সম্পর্ক ছিন্ন করা ও অবাধ্য হওয়া স্ত্রীর পক্ষে অবৈধ। (৪৭তম কবীরা গুনাহ দ্রষ্টব্য) তৃতীয়তঃ এমন কোন নেতা বা দলের আনুগত্য, যে নেতা বা দল শরীয়ত সম্মত উপায়ে নির্দেশ প্রদান করে। এ ধরনের নেতা বা দলের আনুগত্য পরিত্যাগ করা ও সম্পর্ক ছিন্ন করা হারাম ও কবীরা গুনাহ। এই তিন ধরনের কর্তৃত্বের আনুগত্য সম্পর্কে নিম্নে কতিপয় হাদীস বর্ণনা করা যাচ্ছে।
রাসূল (সা) বলেছেন: "কোন দাসদাসী বা ভৃত্য যখন পালিয়ে যায়, তখন সে ফিরে না আসা পর্যন্ত, যে স্ত্রী স্বামীর অবাধ্য, সে স্বামীর অনুগত না হওয়া পর্যন্ত এবং মদ খেয়ে মাতাল হওয়া ব্যক্তি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তাদের নামায ও অন্য কোন সৎকর্ম কবুল হয়না।" (সহীহ মুসলিম, তাবরানী, সহীহ ইবনে খুযায়মা) রাসূল (সা) আরো বলেছেন: তিন ব্যক্তির পরিণামের জন্য কেউ দায়ী নয় : (অর্থাৎ তারা নিজেরাই দায়ী) যে ব্যক্তি আপন জামায়াত বা সংগঠন থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে ও নেতার অবাধ্য হয়, যে ভৃত্য মনিবকে ছেড়ে পালিয়ে যায় ও অবাধ্য অবস্থায় মারা যায় এবং স্বামী কর্তৃক যাবতীয় প্রয়োজন পূরণ করা সত্বেও যে স্ত্রী স্বামীর অনুপস্থিতিতে বেপর্দা চলাফেরা করে ও অনৈসলামিক পন্থায় সৌন্দর্য প্রদর্শন করে ঘুরে বেড়ায়। (সহীহ ইবনে হাববান, তাবরানী ও হাকেম)