📘 কবিরা গুনাহ ইমাম যাহাবী > 📄 মুসলমানকে তিরষ্কার করা ও গালি দেয়া

📄 মুসলমানকে তিরষ্কার করা ও গালি দেয়া


আল্লাহ তায়ালা বলেছেনঃ "হে মুমীনগণ! তোমরা একদল অপর দলকে উপহাস করোনা। কেননা যাদেরকে উপহাস করা হয় তারা উপহাসকারীদের চেয়ে ভালোও হতে পারে। তোমরা এক দল মহিলা আর এক দল মহিলাকে উপহাস করোনা। কেননা যাদেরকে উপহাস করা হয় তারা উপহাসকারীদের চেয়ে ভালোও হতে পারে। আর তোমরা পরষ্পরের দুর্নাম বা কুৎসা রটিও না এবং পরস্পরকে খারাপ নামে ডেকো না। ঈমানের পর খারাপ নামে ডাকা খুবই জঘন্য কাজ, যারা ঐ কাজ থেকে বিরত হয়না তারা যালিম।" (সূরা আল হুজরাত)

আল্লাহ আরো বলেছেনঃ “একে অপরের দোষ খুঁজে বেড়িও না এবং অসাক্ষাতে নিন্দা করোনী। "সহীহ আল বুখারী' ও সহীহ মুসলিমে স্বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আল্লাহর দৃষ্টিতে সবচেয়ে ধিকৃত হবে সেই ব্যক্তি, যার অশালীন ও অশ্রাব্য কথাবার্তা শোনার ভয়ে জনগণ তার সংগ ত্যাগ করে।

রাসূল (সা) আরো বলেছেনঃ হে আল্লাহর বান্দাগণ! আল্লাহ তোমাদের ওপর থেকে সংকীর্ণতা দূর করে দিয়েছেন। তবে যে ব্যক্তি তার মুসলমান ভাই'এর মানসম্ভ্রম নিয়ে ছিনিমিনি খেলে তার কথা ভিন্ন। সে সংকীর্ণতার শিকার হবে।

সহীহ মুসলিম ও সুনানে তিরমিযীতে রয়েছে যে, রাসুল (সা) বলেছেন তার মুসলমানের পক্ষে অপর মুসলমানের জান, মাল ও সম্ভ্রমের ক্ষতি করা হারাম।

সহীহ মুসলিমে আরো বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূল (সা) বলেছেনঃ মুসলমান মুসলমানের ভাই। সে কারো ওপর যুলুম করেনা, কাউকে অপমান করেনা এবং তুচ্ছ করেনা। কোন মুসলমানের পক্ষে এর চেয়ে খারাপ কাজ আর কিছু হতে পারেনা যে, সে তার মুসলমান ভাইকে তুচ্ছ বা হেয় জ্ঞান করে। সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত অপর হাদীসে আছে: মুসলমানকে গালি দেয়া ফাসেকী এবং তার সাথে যুদ্ধ বাধানো কুফরী।

হাকেম ইবনে হাব্বান, আহমাদ ও বায়যার বর্ণনা করেন যে, একবার রাসূলকে (সা) বলা হলো যে, "অমুক মহিলা রাত জেগে নামায পড়ে এবং দিনের পর দিন রোযা রাখে, কিন্তু তার পার্শ্ববর্তী লোকজনকে কটু কথা দ্বারা কষ্ট দেয়। রাসূল (সা) বললেনঃ তার কোন ভালাই হবে না। সে জাহান্নামে যাবে।" হাদীসে আরো আছে যে, "তোমরা তোমাদের মৃত ব্যক্তিদের শুধু গুণাবলী বর্ণনা কর এবং দোষ বর্ণনা থেকে বিরত থাক। কেননা সে তো তার কর্মফলের জায়গায় পৌঁছে গেছে।” (হাকেম) রাসূল (সা) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কাউকে "কাফের” অথবা 'আল্লাহর দুশমন" বলে আখ্যায়িত করে অথচ আসলে সে তা নয়, তার আরোপিত উক্ত আখ্যা তার কাছেই ফিরে আসবে।" অর্থাৎ সে নিজেই কাফের ও আল্লাহর দুশমন হয়ে যাবে। (সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিম) সুনানে আবু দাউদ গ্রন্থে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা) বলেছেনঃ "মিরাজের রাত্রে আমি একদল লোক দেখেছি, যাদের হাতে তামার নখ ছিল এবং তা দ্বারা তারা নিজেদের মুখমন্ডল খামচাচ্ছিল। আমি জিজ্ঞাসা করলামঃ হে জিবরীল, এরা কারা? তিনি বললেনঃ "যারা মানুষের নিন্দা ও কুৎসা রটিয়ে বেড়াতো এবং তাদের মানসম্ভ্রম নিয়ে ছিনিমিনি খেলতো।"

বস্তুতঃ সলমানদের মধ্যে বিভেদ, অনৈক্য ও গোলযোগ সৃষ্টি এবং জীবজন্তুর মধ্যে লড়াই বাধানো ভয়ংকর কবীরা গুনাহ। রাসূল (সা) বলেনঃ "শয়তান এখন আর এ আশা করেনা যে, আরব উপদ্বীপের মুসলমানরা তাকে পূজা করবে। তবে তাদের মধ্যে বিভেদ অনৈক্য ও কোন্দল সৃষ্টির আশা সে এখনও পোষণ করে।" এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, দুই ব্যক্তি বা দুই দলের মধ্যে যে গন্ডগোল ও কলহ সৃষ্টি করে এবং তাদের মধ্যে কষ্টদায়ক ও উস্কানীমূলক কথার আদান প্রদান করে, সে শয়তানের দলভূক্ত চোগলখোর ও নিকৃষ্টতম মানুষ। অনুরূপভাবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে, চাকর ও মনিবের মধ্যে এবং শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে সম্পর্ক বিনষ্টকারীও শয়তানের দলভুক্ত চোগলখোর। চাই তা যতই ভালো কাজের মোড়কে করা হোকনা কেন। রাসূল (সা) বলেছেনঃ "সেই ব্যক্তি অভিশপ্ত, যে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ও চাকর মনিবের মধ্যে বিভেদ ও কোন্দল বাধায়।” (সুনানে আবু দাউদ) অনুরূপভাবে আমোদ প্রমোদের উপকরণ হিসাবে মোরগ লড়াই, কুকুর লড়াই, ষাঁড় লড়াই ইত্যাদি অনুষ্ঠিত করতে রাসূল (সা) কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। (একই কারণে মুষ্ঠিযুদ্ধ এবং দৈহিক ক্ষতি ও আর্থিক অপচয়ের ঝুঁকিপূর্ণ যাবতীয় খেলা ও প্রতিযোগিতা নিষিদ্ধ হওয়া উচিত। -অনুবাদক)

পক্ষান্তরে দুই পক্ষের বিবাদ মীমাংসা করে দিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা অত্যন্ত মহৎ কাজ। এরূপ মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে গোপন শলাপরামর্শ করতেও ক্ষতি নেই। নচেৎ গোপন শলাপরামর্শ সন্দেহ সংশয় ও বিভেদ সৃষ্টি হতে পারে। সূরা আন নিসার এক আয়াতে আল্লাহ বলেনঃ "তাদের বহু গোপন সলাপরামর্শে কোন কল্যাণ নেই, তবে যে ব্যক্তি সদকা, সৎকাজ কিংবা জনগণের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের উদ্দেশ্যে এটা করে তার কথা স্বতন্ত্র। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এরূপ কাজ করে তাকে আমি বিরাট প্রতিদান দেব।” রাসূল (সা) মানুষের বিবাদ মীমাংসা, কোন্দল নিরসন, ঐক্য সংহতকরণ ও সম্পর্ক ঘনিষ্ঠকরণে বিশেষ উৎসাহ দিয়েছেন। তিনি হযরত আবু আইয়ূব আনসারীকে বলেছিলেনঃ তোমাকে লাল উটের পাল অপেক্ষা ভালো এমন সদকার সন্ধান দেব কি? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, হে রাসূল। রাসূল (সা) বললেনঃ মানুষের মধ্যে যখন পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায় তখন তা শুধরে দেবে, এবং তারা যখন পরস্পর থেকে দূরে সরে যায়, তখন তাদেরকে পরস্পরের ঘনিষ্ঠতর করে দেবে।"

পারস্পরিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এত বড় মহৎ কাজ যে, এ জন্য রাসূল (সা) প্রয়োজনে মিথ্যা কথা বলারও অনুমতি দিয়েছেন। সহীহ আল বুখারীতে আছে যে, রাসূল (সা) বলেছেনঃ "সেই ব্যক্তি মিথ্যুক নয় যে মানুষের সম্পর্ক ভালো করার চেষ্টা করে, ফলে সে যা বলে তার ফলাফল ভালো হয়ে থাকে।" সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হাদীসে আছে যে, হযরত উম্মে কুলসুম বলেছেনঃ যুদ্ধ, পারস্পরিক সম্পর্ক শুধরানো এবং স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে ও স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে কিছু বলা—এই তিনটি ক্ষেত্রেই শুধু রাসূল (সা) মিথ্যার অনুমতি দিয়েছেন।

সহীহ আল বুখারীতে আছে যে, রাসূল (সা) বনু আমরের মধ্যে যুদ্ধ বাধার উপক্রম হয়েছে শুনে সাহাবীদের একটি দল নিয়ে সেখানে চলে যান এবং উত্তেজনা প্রশমিত করেন। রাসূল (সা) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দু'জনের গোলমাল মিটিয়ে দেয়, আল্লাহ তায়ালা তার সকল কাজ বিশুদ্ধ করে দেবেন, তার প্রতিটি কথার বিনিময়ে একটি গোলাম মুক্ত করার সওয়াব দেবেন এবং তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ হয়ে যাবে।

📘 কবিরা গুনাহ ইমাম যাহাবী > 📄 সৎ ও খোদাভীরু বান্দাদেরকে কষ্ট দেয়া

📄 সৎ ও খোদাভীরু বান্দাদেরকে কষ্ট দেয়া


আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ "যারা মুমিন নরনারীদেরকে তারা যা করেনি, তাই প্রচার করে কষ্ট দেয়, তারা অপবাদ রটায় এবং সুস্পষ্ট গুনাহর কাজ করে।” (সূরা আল আহযাব) "তোমরা অনুগত মুমিনদের প্রতি যত্নশীল থাক।" (সূরা আল-হিজর)

হযরত আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা) বলেছেনঃ “আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: যে ব্যক্তি আমার কোন ওলীকে (বন্ধুকে) কষ্ট দেয়, তার বিরুদ্ধে আমি যুদ্ধ ঘোষণা করে রেখেছি।" সহীহ মুসলিমের এক হাদীসে আছে যে, একবার সালমান ফাসী, সুহাইব ও বিলাল (রা) এই তিন সাহাবী এক জায়গায় রয়েছিলেন। এই সময়ে তাদের সামনে দিয়ে আবু সুফিয়ান ও তার দল গেলে তাঁরা বললেনঃ আল্লাহর তরবারীগুলো আল্লাহর শত্রুর কাছ থেকে উপযুক্ত প্রতিশোধ নেয়নি। সেখানে উপস্থিত হযরত আবু বকর (রা) এ কথা শুনে বললেনঃ কুরাইশ বংশের প্রবীণ নেতা সম্পর্কে তোমরা এই মন্তব্য করলে? অতঃপর তিনি রাসূল (সা) এর কাছে এসে তাঁকে পুরো ব্যাপারটা জানালেন। রাসূল (সা) বললেনঃ হে আবু বকর, তুমি সম্ভবতঃ তাদেরকে রাগান্বিত করেছ এবং আল্লাহকেও ক্রুদ্ধ করেছ। (অর্থাৎ তুমি ভালো করনি।) হযরত আবু বকর তৎক্ষণাৎ ঐ তিন সাহাবীর নিকট গেলেন এবং বললেনঃ আমার কথায় কি তোমরা রাগ করেছ? তাঁরা বললেনঃ না, ভাই, আল্লাহ আপনাকে মাফ করুন।

উল্লেখ্য যে, রাসূল (সা) এর প্রতি সর্বপ্রথম যারা ঈমান এনেছিল তারা দরিদ্র শ্রেণীর লোক ছিল। শুধু তাঁর প্রতি নয়, প্রত্যেক নবীর প্রতিই সর্বপ্রথম দরিদ্র লোকেরাই ঈমান এনেছিল। রাসূল (সা) প্রায় সময়ই তাঁর এই সব দরিদ্র সাহাবী যথা সালমান, সুহাইব, বিলাল, আম্মার প্রমুখের কাছে বসতেন। মুশরিকরা ইহুদী আলেমদের কাছ থেকে জানতে পারলো যে, নবী রাসূলদের আলামতই এই যে, তাদের প্রথম অনুসারী দরিদ্র লোকেরাই হয়ে থাকে। তাই তারা দরিদ্রদেরকে তাঁর কাছ থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য কৌশল তৈরী করলো। মুশরিকদের কতিপয় নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি রাসূল (সা) এর কাছে এসে বললোঃ হে মুহাম্মাদ, তোমার চারপাশ থেকে গরীবদেরকে সরিয়ে দাও। কেননা ওদের সাথে ওঠাবসা আমাদের জন্য ঘৃণার বিষয়। ওদেরকে সরিয়ে দিলে সমাজের গণ্যমান্য ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা তোমার ওপর ঈমান আনবে। এর জবাবে আল্লাহ আয়াত নাযিল করলেনঃ "যারা তাদের প্রতিপালককে খুশী করার জন্য সকাল বিকাল তাঁকে ডাকে তাদেরকে তাড়িয়ে দিওনা।" (আল-আনয়াম)

মুশরিকদের প্রথম ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবার পর তারা বললঃ হে মুহাম্মাদ, ওদেরকে যদি তুমি তাড়াতে না চাও তাহলে আমাদের জন্য একদিন এবং ওদের জন্য একদিন নির্ধারণ কর। তার জবাবে আল্লাহ নাযিল করলেনঃ “যিনি এমন লোকদের সাথে আছেন, যারা আপন প্রতিপালকরে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে সকাল সন্ধ্যা তাঁকে ডাকে, তুমি ধৈর্য ধারণ করে তাদের সাথে থাকো, দুনিয়ার জাকজমকের আকাংখায় তোমার নজরে তারা যেন উপেক্ষিত না হয়।" (সূরা আল কাহফ)

এরপর রাসূল (সা) দরিদ্র সাহাবীদের প্রতি অধিকতর যত্নশীল হতেন এবং তাদেরকে অধিকতর গুরুত্ব ও মর্যাদা দেন। সেই থেকে এটা ইসলামের চিরস্থায়ী নীতি হয়ে দাঁড়ায় যে, মর্যাদা ও ভক্তি শ্রদ্ধার মাপকাঠি হবে ঈমান, সৎকর্মশীলতা, তাকওয়া ও খোদাভীতি। পার্থিব জাকজমক, শান শওকত, ধনসম্পদ ও প্রভাব প্রতিপত্তি নয়। যারা তাকওয়া ও খোদাভীতিতে অগ্রসর ও উন্নত চরিত্রের অধিকারী, তারা দরিদ্র হলেও তাদেরকে অবজ্ঞা, অবহেলা ও উপেক্ষা করা যাবেনা এবং কোনভাবেই তাদেরকে কষ্ট দেয়া যাবেনা।

📘 কবিরা গুনাহ ইমাম যাহাবী > 📄 দাম্ভিকতা ও আভিজাত্য প্রদর্শনার্থে টাখনুর নিচ পর্যন্ত পোশাক পরা

📄 দাম্ভিকতা ও আভিজাত্য প্রদর্শনার্থে টাখনুর নিচ পর্যন্ত পোশাক পরা


সহীহ আল বুখারীতে আছে যে, রাসূল (সা) বলেছেনঃ "টাখনুর নিচে পর্যন্ত যে পোশাক পরবে সে জাহান্নামে যাবে।” মুয়াতায়ে ইমাম মালেক, সহীহ আল বুখারী, সহীহ মুসলিম, জামে তিরমিযী, সুনানে ইবনে মাজাহতে বর্ণিত আছে যে, রাসুল (সা) বলেছেনঃ "যার পোশাক অহংকারবশত টাখনুর নিচে গাঁড়িয়ে পড়ে, আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না।" সুনানে আবু দাউদে আছে যে, এক ব্যক্তি টাখনুর নিচে গড়ানো পোশাক পরে নামাজ পড়ছিল। এই সময় রাসূল (সা) তাকে বললেনঃ যাও ওযু করে এস। সে ওযু করে এলে আবার বললেনঃ যাও ওযু করে এস। এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলোঃ হে রাসূল! আপনি ওকে ওযু করতে বললেন কেন? রাসূল (সা) চুপ করে রইলেন। কিছুক্ষণ পর বললেনঃ সে টাখনুর নিচে গড়ানো পোশাক পরে নামায পড়ছিল। এ ধরনের নামায আল্লাহ কবুল করেন না।

"সহীহ আল বুখারী, সহীহ মুসলিম! সুনানে আবু দাউদ সুনান্নে ইবনে মাজাহতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা) যখন বললেনঃ যার পোশাক অহংকারবশত টাখনুর নিচে গড়ায়, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দিকে তাকাবেন না; তখন হযরত-আবু বকর (রা) বললেনঃ হে রাসূল, 'আমার পাজামা আমি শক্ত করে কী বাঁধলে ঢিল হয়ে গড়িয়ে পড়ে। রাসূল (সা) বললেনঃ "যারা অহংকারী বশে এ কাজ করে, তুমি তাঁদের অন্তর্ভুক্ত নও।

উল্লেখ্য যে এই সম্পর্কিত বেশী কিছু হাদীস "দান্তিকতা ও আভিজাত্য প্রদর্শনার্থে" কথাগুলো নেই। অনুবাদক

📘 কবিরা গুনাহ ইমাম যাহাবী > 📄 পুরুষের স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করা

📄 পুরুষের স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করা


সহীহ আদা কুখায়ী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা) বলেছেনঃ "যে ব্যক্তি দুনিয়ায় রেশম ব্যবহার করবে, সে আখিরাতে রেশম ব্যবহার করতে পারবেনা।” সুনানে আবু দাউদ ও সুনানে নাসায়ীতে বর্ণিত আছে যে, স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার আমার উম্মাতের পুরুষদের ওপর হারাম করা হয়েছে।" সামরিক ও বেসামরিক উভয় প্রকারের লোকদের বেলায় এটা প্রযোজ্য।

সহীহ আল বুখারীতে আরো বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা) স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্রে পানাহার করতে, রেশমী পোশাক পরিধান করতে ও রেশমী বিছানায় বসতে নিষেধ করেছেন।

যে ব্যক্তি পুরুষের রেশম ব্যবহার করাকে হালাল মনে করে অথবা অন্য কোন হারামকে হালাল মনে করে সে কাফের। শুধুমাত্র রোগগ্রস্ত ব্যক্তি (ডাক্তারের মতে অনিবার্য হলে) এটা ব্যবহার করতে পারে। আর যুদ্ধ ক্ষেত্রে সৈনিকরাও প্রয়োজনে তা ব্যবহার করতে পারে। নিছক সখ ও সৌন্দর্যের জন্য পুরুষের পক্ষে রেশম ও স্বর্ণ ব্যবহার করা সর্বসম্মত ভাবে হারাম। অনুরূপভাবে যে বস্ত্রের অধিকাংশ সূতো রেশমী তাও পুরুষের ব্যবহার করা হারাম। সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূল (সা) এক ব্যক্তির হাতে সোনার আংটি দেখে তা খুলে ফেললেন এবং বললেনঃ "তোমাদের এই ব্যক্তির নিজ হাতে জাহান্নামের আগুন পরার সখ হয়েছে।" অনুরূপভাবে স্বর্ণ ও রেশমের নক্শা এবং এমব্রয়ডারীও পুরুষের জন্য হারাম। তবে শিশুদের স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করানো সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। ইমাম আহমদ বিন হাম্বলসহ অধিকাংশ ইমামের মতে পুরুষ শিশুদের জন্যও এটা হারাম।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00