📘 কবিরা গুনাহ ইমাম যাহাবী > 📄 বিচার কার্যে অসততা ও দুর্নীতি

📄 বিচার কার্যে অসততা ও দুর্নীতি


আল্লাহ তায়ালা সূরা আল মায়েদায় বলেন: "আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুসারে যারা বিচার ও শাসন করে না তারা জালেম"... "আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুসারে যারা বিচার ও শাসন করেনা তারা কাফের"... "যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুসারে বিচার ও শাসন করে না তারা ফাসেক।" রাসূল (সা) বলেছেন: যে বিচারক বা শাসক আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুসারে ফায়সালা করে না, আল্লাহ তার নামায কবুল করেন না। (হাকেম) রাসূল (সা) আরো বলেছেন: বিচারক তিন প্রকারের: তন্মধ্যে দুপ্রকারের বিচারক জাহান্নামে যাবে এবং এক প্রকারের বিচারক জান্নাতে যাবে। যে বিচারক সত্য ও ন্যায় কি, তা জানে এবং তদনুযায়ী বিচার করে সে জান্নাতে যাবে। আর যে বিচারক সত্য ও ন্যায় কি তা জানে না, আর যে বিচারক সত্য ও ন্যায় কি তা জেনেও ন্যায়বিচার করেনা, এরা উভয়ে দোজখবাসী। জিজ্ঞাসা করা হলো যে, যে জানেনা তার কি দোষ? রাসূল (সা) বললেন: "সে না জেনে বিচারক হয়েছে এটাই তার দোষ।" (হাকেম, আবু দাউদ, তিরমিযী) হযরত আবু হুরাইয়া (রা) বলেন: যাকে বিচারক নিয়োগ করা হলো, তাকে যেন ছুরি ছাড়াই যবাই করা হলো।” হযরত ফযীল বিন ইয়ায বলেন: "একজন বিচারপতির উচিত একদিন বিচারকার্য পরিচালনা করা, আর একদিন নিজের জন্য কান্নাকাটি করা।" ইমাম মুহাম্মাদ বিন ওয়াসে (রহ) বলেন: কিয়ামতের দিন সবার আগে বিচারকদেরকেই হিসাবের জন্য ডাকা হবে।" রাসূল (সা) বলেছেন: একজন ন্যায় বিচারককে যখন কিয়ামতের দিন হিসাবের সম্মুখীন করা হবে তখন হিসাবের কঠোরতা দেখে সে আক্ষেপ করবে যে, একটা খোরমা সংক্রান্ত বিবাদেও যদি আমি দু'জনের বিচার না করতাম।" হযরত আলী (রা) বলেন: রাসূল (সা) কে বলতে শুনেছি যে, প্রত্যেক শাসক ও বিচারককে কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে পুলসিরাতে দাঁড় করিয়ে সমগ্র মানব জাতির সামনে তার গোপন আমলনামা পাঠ করা হবে। অতঃপর সে যদি ন্যায় বিচারক সাব্যস্ত হয়, তবে আল্লাহ তাকে মুক্তি দেবেন, নচেত পুলসিরাত সহ সে জাহান্নামে পতিত হবে।

📘 কবিরা গুনাহ ইমাম যাহাবী > 📄 ঘুষ খাওয়া

📄 ঘুষ খাওয়া


আল্লাহ তায়ালা বলেন : 'তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের অর্থ আত্মসাৎ করোনা, শাসকদের কাছে অর্থ নিয়ে যেওনা, যাতে তোমরা মানুষের অর্থের একাংশ অন্যায় পন্থায় ভোগ করতে পার। অথচ তোমরা জান।” অর্থাৎ তোমরা শাসকদেরকে উৎকোচ দিয়ে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করার ব্যবস্থা করোনা, অথচ তোমরা তো জান যে, এ রকম করা বৈধ নয়। রাসূল (সা) বলেছেন : আল্লাহ ঘুষদাতা ও ঘুষখোর উভয়কে অভিসম্পাত দিয়েছেন। ইমামগণ একমত হয়ে বলেছেন যে, ঘুষদাতার ওপর অভিসম্পাত তখনই পতিত হবে, যখন সে তা দ্বারা অন্যের ক্ষতি সাধনে ব্রতী হবে অথবা নিজের প্রাপ্য নয় এমন কোন সুবিধা আদায় করতে চাইবে। কিন্তু সে যদি নিজের কোন ন্যায্য প্রাপ্য জিনিস বা অধিকার আদায়ের জন্য অনন্যোপায় হয়ে ঘুষ দেয় এবং কারো জুলুম থেকে বাঁচার জন্য ঘুষ দেয়, তবে তার ওপর অভিসম্পাত পতিত হবেনা। এ সংক্রান্ত যে হাদীস আবু দাউদ ও তিরমিযী উদ্ধৃত করেছেন, তাতে ঘুষদাতা ও ঘুষখোরের মাঝে তৃতীয় যে ব্যক্তি উভয়কে সাহায্য করে, তাকেও অভিশপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ব্যক্তি যদি ঘুষদাতা কর্তৃক নিযুক্ত হয়, তবে ন্যায্য অধিকার আদায় ও জুলুম থেকে আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে তার অবস্থা ঘুষদাতার মত হবে এবং সে অভিসম্পাতের যোগ্য হবেনা। নচেত অভিসম্পাতের যোগ্য হবে। তবে শাসকের জন্য ঘুষ আদান প্রদান সর্বাবস্থায় হারাম- চাই তা কারো অধিকার বিনষ্ট করার মাধ্যমেই করুক, অথবা কোন জুলুম প্রতিহত করার জন্যই করুক।

রাসূল (সা) আরো বলেছেন : যে ব্যক্তি কারো জন্য সুপারিশ করলো, অতঃপর যার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে, সে তাকে কোন হাদিয়া বা উপহার দিল, সে যদি এই হাদিয়া গ্রহণ করে, তবে তা হবে একটি বড় ধরনের সুদ খাওয়ার পর্যায়ভুক্ত। হযরত ইবনে মাসউদ (রা) বলেন: "তোমার ভাই এর প্রয়োজন পূরণ করে দিয়ে তার কাছ থেকে যদি উপহার গ্রহণ কর তবে তা হবে হারাম।" (উল্লেখ থাকে যে, যে ব্যক্তি কোন কাজের জন্য বেতনভুক্ত কর্মচারী হিসাবে নিযুক্ত থাকে, সে যদি তার দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত কোন কাজ করে দিয়ে যার জন্য কাজ করেছে তার কাছ থেকে কোন বিনিময় গ্রহণ করে, তবে সেটা সর্বসম্মতভাবে ঘুষ- চাই তা উপহার, উপঢৌকন, হাদিয়া বা বখশিস যে নামেই প্রদত্ত হোক না কেন। আর যদি দায়িত্বের অতিরিক্ত হয় এবং চাকুরীর সময়ের বাইরে করা হয় তবে সে জন্য পারিশ্রমিক বা পারিতোষিক নিলে তা ঘুষ হবেনা। -অনুবাদক)

বর্ণিত আছে যে, একবার একজন খৃষ্টান বৈরুতে ইমাম আওযায়ীর সাথে সাক্ষাত করে অভিযোগ করলো যে, বা'লাবাকের শাসক তার ওপর অন্যায়ভাবে অতিরিক্ত খাজনা আরোপ করেছে। সে এই জুলুমের প্রতিকারে সুপারিশমূলক চিঠি লেখার জন্য ইমাম সাহেবকে অনুরোধ করলো এবং তাকে হাদিয়া হিসাবে এক বোতল মধু দিল। ইমাম আওযায়ী তাকে বললেন: আমি চিঠি লিখে দেব এবং মধুর বোতলটি তোমাকে ফেরত দিব। লোকটি মধুর বোতল ও চিঠি নিয়ে চলে গেল এবং ইমাম সাহেবের অনুরোধক্রমে বা'লাবাকের শাসক তার খাজনা থেকে ৩০ দিরহাম কমিয়ে দিল।

📘 কবিরা গুনাহ ইমাম যাহাবী > 📄 নারীর সাথে পুরুষের এবং পুরুষের সাথে নারীর সাদৃশ্যপূর্ণ বেশভূষা

📄 নারীর সাথে পুরুষের এবং পুরুষের সাথে নারীর সাদৃশ্যপূর্ণ বেশভূষা


সহীহ বুখারী, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী ও ইবনে মাজাতে হযরত ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা) বলেছেন: "যেসব পুরুষ নারীর সাথে এবং যে সব নারী পুরুষের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ বেশভূষা গ্রহণ করে তাদের ওপর আল্লাহর অভিসম্পাত।" উল্লেখ্য যে, পুরুষ কর্তৃক নারীর এবং নারী কর্তৃক পুরুসের কন্ঠস্বর অনুকরণও এর আওতাভুক্ত।

সুতরাং নারী যখন পুরুষের মত আটশাট, পাতলা ও শরীরের আবরণযোগ্য অংশ অনাবৃত থাকে এমন পোশাক পরে, তখন সে পুরুষের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করে এবং অভিসম্পাতের যোগ্য হয়। তার এই আচরণ যদি তার স্বামী মেনে নেয় এবং তাকে এ থেকে বিরত না রাখে, তবে সেও অভিসম্পাতের যোগ্য হবে। কেননা স্ত্রীকে আল্লাহর আদেশের অনুগত রাখতে এবং তার নাফরমানী থেকে বিরত রাখতে সে আদিষ্ট। আল্লাহ বলেছেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার পরিজনকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা কর.." অর্থাৎ তাদেরকে সদাচরণ শিক্ষা দাও, আল্লাহর আনুগত্য করতে আদেশ দাও এবং আল্লাহর নাফরমানী থেকে বিরত রাখ, যেমন তোমাদের নিজেদের বেলায় এসব জরুরী। তাছাড়া রাসূল (সা) বলেছেন: "তোমাদের সকলেই দায়িত্বশীল, প্রত্যেক নিজ নিজ অধিনস্থ সম্পর্কে দায়ী। পুরুষ তার পরিবার সম্পর্কে দায়ী এবং কিয়ামতের দিন জিজ্ঞাসিত হবে।" (সহীহ আল বুখারী ও মুসলিম) রাসূল (সা) আরো বলেছেন: পুরুষরা যখন স্ত্রীদের আজ্ঞাবহ হবে, তখন পুরুষরা ধ্বংস হবে।” এ হাদীস থেকে বুঝা যায় যে, নারীর শাসনকর্ত্রী হওয়াও পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বনের পর্যায়ে পড়ে এবং পুরুষ কর্তৃক নারীর আজ্ঞাবহ হওয়াও নারীর অনুকরণের পর্যায়ভুক্ত। রাসূল (সা) বলেন: "দুই শ্রেণীর মানুষ জাহান্নামী হবে: যারা গরুর লেজ সদৃশ বেত দ্বারা মানুষকে প্রহার করে এবং যে সব নারী এত পাতলা পোশাক পরে যে তার ভেতর দিয়ে শরীরের রং দেখা যায় এবং অহংকারীর বেশে হেলে দুলে পথ চলে। এই সকল নারী জান্নাতের ঘ্রাণও পাবেনা, যা বহুদূর থেকে পাওয়া যায়।" (সহীহ মুসলিম) হযরত নাফে' (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, একদিন হযরত ইবনে উমার ও আবদুল্লাহ ইবনে আমর হযরত যুবাইরের কাছে ছিলেন। এমতাবস্থায় এক মহিলা ঘাড়ে ধনুক বহন করে মেষ পাল হাকাতে হাকাতে এগিয়ে এল। আবদুল্লাহ ইবনে উমার তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: তুমি পুরুষ না মহিলা? সে বললো: মহিলা। তখন তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমরের দিকে তাকালে তিনি বললেন: আল্লাহ তায়ালা স্বীয় নবীর মুখ দিয়ে পুরুষদের সাথে সাদৃশ অবলম্বনকারী মহিলাদেরকে এবং মহিলাদের সাথে সাদৃশ অবলম্বনকারী পুরুষদেরকে অভিসম্পাত করেছেন। এ থেকে বুঝা গেল, পুরুষসুলভ পেশা অবলম্বন করে পুরুষোচিত ভংগীতে বেপর্দাভাবে চলাফেরা ও কাজ করা নারীদের জন্য পুরুষের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বনের পর্যায়ে পড়ে। তবে পর্দা সহকারে পেশা অবলম্বন করা ও তার কাজ করা যায়।

আর যে সমস্ত কাজের জন্য নারীদেরকে অভিশম্পাত করা হয় তা হলো বাহিরে চলাচলের সময় দেহের সৌন্দর্য ও গহনাপত্র প্রদর্শন, সুগন্ধি দ্রব্য গায়ে বা কাপড়ে মেখে চলা এবং খাট আটসাট ও পাতলা পোশাক পরা, যা দ্বারা ছতর ঢাকে না ও পর্দা হয় না। এ সবই তাবাররুজের অন্তর্গত। যার রিরুদ্ধে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা) কঠোর সমালোচনা করেছেন। অধিকাংশ মহিলা. এগুলোতে লিপ্ত হয় বলেই রাসূল (সা) বলেছেন আমি মিরাজের রাত্রে জাহান্নাম দেখেছি এবং তার অধিকাংশ অধিবাসী দেখেছি মহিলা। তিনি একথাও বলেছেন যে, "আমি পুরুষদের জন্য নারীর চেয়ে ক্ষতিকর কোন জিনিস রেখে যাইনি।"

📘 কবিরা গুনাহ ইমাম যাহাবী > 📄 নিজ পরিবারের মধ্যে অশ্লীলতা ও পাপাচারের প্রশ্রয় দান

📄 নিজ পরিবারের মধ্যে অশ্লীলতা ও পাপাচারের প্রশ্রয় দান


রাসূল (সা) বলেছেন: "তিন ব্যক্তি জান্নাতে যাবে না। যে ব্যক্তি পিতামাতার অবাধ্য, দায়ুস অর্থাৎ পরিবারের মধ্যে অশ্লীলতা ও পাপাচারের প্রশ্রয়দাতা এবং পুরুষসুলভ আচরণকারী নারী।" নাসায়ীর বর্ণনায় রাসূল (সা) বলেন: তিন জনের ওপর আল্লাহ জান্নাত হারাম করেছেন: মদখোর, পিতামাতার অবাধ্য ও আপন পরিবারে অশ্লীলতা ও পাপাচারের প্রশ্রয়দাতা।

যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রী অশ্লীলতার মধ্যে লিপ্ত আছে বলে অনুমান করে, কিন্তু তার হাতে কোন সুস্পষ্ট প্রমাণ নেই, এবং স্ত্রীকে ভালোবাসার কারণে তাকে কিছু বলতে পারেনা, অথবা স্ত্রীর কাছে এমনভাবে ঋণগ্রস্ত আছে যে তার পরিশোধ করতে সে অপরাগ, সে বিপুল পরিমাণ দেনমোহরের দায়গ্রস্ত, অথবা বহুসংখ্যক শিশুসন্তান রয়েছে যাদের খোরপোশের দাবী নিয়ে স্ত্রী আদালতের শরণাপন্ন হবে - এরূপ আশংকা রয়েছে বলে শৈথিল্য প্রদর্শন করে তাকে দাযুস বলা যাবে না। তবে যার ভেতরে অশ্লীলতার প্রতি ঘৃণা বর্তমান নেই এবং স্ত্রী ও সন্তানদেরকে ইসলামী বিধান বিশেষত পর্দা মেনে চলতে বাধ্য করেনা তার ইহকালে ও পরকালে কোন কল্যাণ নেই এবং সে দায়ুস বলেই গণ্য হবে।

[উল্লেখ্য যে, উপরে যে ব্যতিক্রমমূলক কয়েকটি অবস্থার উল্লেখ করা হলো, তার কথা বাদ দিলে সাধারণভাবে একজন মানুষের নিজ স্ত্রী ও সন্তানদের ওপর নিরংকুশ কর্তৃত্ব ও একচ্ছত্র আধিপত্য বিদ্যমান, যা অনেকটা রাষ্ট্রীয় সার্বভৌম ক্ষমতার মতই। পিতা ও স্বামী হিসাবে সন্তান ও স্ত্রীদের প্রায় শর্তহীন ও অবাধ আনুগত্য লাভের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে শরীয়তের বিধি ও সামাজিক প্রথা উভয়ের আলোকেই। তাই নিরংকুশ কর্তৃত্বের এই পরিমন্ডলে সে যাতে নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করে পরিবারকে সৎপথের ওপর বহাল রাখে, সেজন্য পবিত্র কুরআনে এই আদেশ দেয়া হয়েছে যে, "তোমাদের নিজেদেরকে ও পরিবার পরিজনকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা কর।" আর যারা এ ব্যাপারে শৈথিল্য প্রদর্শন করে তাদেরকে দায়ুস বলা হয়। পরিবারে পর্দার ব্যাপারে ও শরিয়াতের অন্যান্য বিধানের ব্যাপারে শৈথিল্য প্রদর্শন করলে তার জন্য পরিবার-প্রধানকেই দায়ী হতে হবে এবং শরিয়তের দৃষ্টিতে সে দায়ুস হবে। - অনুবাদক]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00