📄 বিনা ওযরে রমযানের রোযা ভঙ্গ করা
আল্লাহ তায়ালা বলেন: “হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর রোযা ফরয করা হয়েছে, যেমন পূর্ববর্তীদের ওপরে ফরয করা হয়েছিল। আশা করা যায় যে, তোমরা মুত্তাকী হবে। কতিপয় দিন, এ সময় যদি কেউ রোগাক্রান্ত হয় কিংবা প্রবাসে থাকে, তা হলে অন্য দিনগুলোতে রোযা রাখবে।"
সহী আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে এ হাদীস বর্ণিত হয়েছে যে, “ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি জিনিস: আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (সা) তাঁর রাসূল এই মর্মে সাক্ষ্য দেয়া, নামায কায়েম করা, যাকাত দেয়া, হজ্জ করা ও রমযানের রোযা রাখা।"
রাসূল (সা) আরো বলেছেন: যে ব্যক্তি বিনা ওজরে রমযানের একটি রোযাও পরিত্যাগ করবে, সে যদি এরপর সারা জীবন রোযা রাখে তথাপি তার ক্ষতিপূরণ হবেনা।” (তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ)
বস্তুত কাফফারা দ্বারা রোযা ভাংগার গুনাহ মাফ হলেও রমযানের রোযার সওয়াব ও মর্যাদা লাভ করা সম্ভব হবেনা।
📄 সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ্জ না করা
আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ "যে ব্যক্তি হজ্জ করার সামর্থ রাখে, তার ওপর হজ্জ করা ফরয।" রাসূল (সা) বলেন: "আল্লাহর ঘর পর্যন্ত পৌছে হজ্জ করার জন্য প্রয়োজনীয় বাহন ও পাথেয় যার রয়েছে, সে যদি হজ্জ না করে, তবে সে ইহুদী হয়ে মরুক কিংবা খৃস্টান হয়ে, তাতে আল্লাহর কিছু আসে যায়না।"
হযরত উমর (রা) বলেন: যারা ক্ষমতা থাকা সত্বেও হজ্জ করেনা, আমার ইচ্ছা হয় তাদের ওপর জিযিয়া বসিয়ে দেই। কারণ তারা মুসলমান নয়।" হযরত ইবনে আব্বাস (রা) বলেন: সামর্থ থাকা সত্ত্বেও যাকাত দেয়না ও হজ্জ করেনা, এমন ব্যক্তি মৃত্যুর সময় নিজের আয়ু বৃদ্ধির জন্য আক্ষেপ করবে। তাকে প্রশ্ন করা হলো যে, এরূপ আক্ষেপ তো কাফিরদের করার কথা।” তিনি বললেনঃ আমি যে কথা বলেছি তা কুরআনে রয়েছে। এই বলে তিনি নিম্নের আয়াত কয়টি পড়লেন: "হে মুমিনগণ: তোমাদের ধনসম্পদ ও সন্তান সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীন করে না দেয়। আর যারা উদাসীন হবে, তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তোমরা সেই সময়টি ঘনিয়ে আসার আগে আমার দেয়া সম্পদ থেকে দান কর, যখন তোমাদের কারো মৃত্যু এসে যাবে তখন সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক, তুমি কেন আমাকে আর অল্প কিছু সময় বাড়িয়ে দিলেনা, তাহলে আমি সদকা করতাম (অর্থাৎ যাকাত দিতাম) এবং সৎকর্মশীলদের (অর্থাৎ হজ্জ আদায়কারীদের) অন্তর্ভুক্ত হতাম।" তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, যাকাত কিসে ফরয হয়? তিনি বললেন: দুইশত দিরহাম অথবা অনুরূপ মূল্যের স্বর্ণ থাকলে। অতঃপর জিজ্ঞাসা করা হলো: হজ্জ কিসে ফরয হয়? তিনি বললেন, আসা যাওয়ার পথ খরচ ও যানবাহন সংগৃহীত হলেই হজ্জ ফরয হয়। হযরত সাঈদ বিন জুবাইর (রা) বলেন: "আমার এক ধনী প্রতিবেশী হজ্জ না করে মারা গেলে আমি তার জানাযার নামায পড়িনি।"
📄 আত্মহত্যা করা
আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ "তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করোনা। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর দয়ালু। আর যে ব্যক্তি বাড়াবাড়ি ও জুলমের মাধ্যমে এ কাজ করবে, তাকে আমি আগুনে পোড়াবো। এ কাজ আল্লাহর পক্ষে সহজ।” (সূরা আন নিসা)
ইমাম ওয়াহেদী ও ইবনে আব্বাস প্রমুখ এ আয়াতের তাফসীর প্রসংগে বলেছেন যে, এর অর্থ তোমরা একে অপরকে হত্যা করোনা। কেননা তোমরা একই ধর্মের অনুসারী। তাই তোমরা যেন একই ব্যক্তি। কিন্তু অন্যরা বলেছেন যে, এ আয়াতে আত্মহত্যাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই শেষোক্ত মতটিই সঠিক। কেননা অন্য মানুষকে হত্যার ব্যাপারে আল কুরআন ও হাদীসে আরো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং তা স্বতন্ত্রভাবে আলোচিত হয়েছে। তা ছাড়া আবু দাউদ শরীফে উদ্ধৃত হযরত আমর ইবনুল আসের বর্ণিত হাদীসও এই মতের বিশুদ্ধতার অন্যতম প্রমাণ। হযরত আমর ইবনুল আ'স বলেন: রাসূল (সা) এর নেতৃত্বে পরিচালিত যাতুস সালাসিল যুদ্ধ চলাকালে এক হিমেল রাতে আমার স্বপ্নদোষ হয়। সেই রাতে গোসল করলে ঠান্ডায় আমার মারা যাওয়ার আশংকা ছিল। তাই আমি তায়াম্মুম করলাম এবং আমার সংগীদের নিয়ে ফজরের নামায পড়লাম। পরে রাসূলকে (সা) ঘটনাটা জানালাম। তিনি বললেনঃ "ওহে আমর। তুমি তোমার সাথীদের নিয়ে নাপাক শরীরে নামায পড়লে? আমি কী কারণে গোসল করিনি তা তাঁকে অবহিত করলাম। সেই সাথে বললাম: আমি কুরআনে আল্লাহর এই বানী পড়েছি যে, "তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করোনা, আল্লাহ তোমাদের ওপর দয়ালু।” এ কথা শুনে রাসূল (সা) হেসে দিলেন এবং আর কিছুই বললেন না। এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, হযরত আমর এই আয়াত দ্বারা আত্মহত্যা বুঝেছেন, অন্যকে হত্যা করা নয়। অথচ রাসূল (সা) তাঁর এই ব্যাখ্যায় আপত্তি করেননি।
অপর এক হাদীসে রাসূল (সা) বলেনঃ তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের মধ্যে এক ব্যক্তি আহত হয়ে কষ্ট পাচ্ছিল। তাই সে একখানা ছুরি দ্বারা নিজের দেহে আঘাত করলো। ফলে রক্তপাত হয়ে সে মারা গেল। তখন আল্লাহ তায়ালা বললেন। "আমার বান্দা আমাকে ডিংগিয়ে নিজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম।" (সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিম)
অপর এক হাদীসে রাসূল (সা) বলেন: যে ব্যক্তি কোন লোহার অস্ত্র দিয়ে নিজেকে হত্যা করবে, সে জাহান্নামের আগুনে বসে অনন্তকাল ধরে সেই অস্ত্র দিয়েই নিজেকে কোপাতে থাকবে। আর যে ব্যক্তি বিষ পানে আত্মহত্যা করবে, জাহান্নামের মধ্যে বসেও সে অনন্তকাল ধরে বিষ পান করতে থাকবে। আর যে ব্যক্তি পাহাড়ের ওপর থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করবে, দোযখে বসেও সে অনবরত উচ্চ স্থান থেকে লাফিয়ে পড়তে থাকবে। এভাবে অনন্তকাল ধরে সে নিজেকে কষ্ট দিতে থাকবে। (সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিম)
অপর হাদীসে রাসূল (সা) বলেন : "কোন মুমিনকে অভিশাপ দেয়া তাকে হত্যা করার শামিল। কোন মুমিনকে মিথ্যামিথ্যি কাফির বলা তাকে হত্যা করার শামিল। আর যে ব্যক্তি কোন জিনিস দ্বারা নিজেকে হত্যা করবে, কিয়ামতের দিনও তাকে সেই জিনিস দ্বারাই শাস্তি দেয়া হবে।" (সহীহ আল বুখারী, সহীহ মুসলিম, নাসায়ী, তিরমিযী)
অপর একটি সহীহ হাদীসে বর্ণিত আছে যে, এক ব্যক্তি নিজের ক্ষত স্থানের যন্ত্রণা সইতে না পেরে নিজ তরবারী দ্বারা আত্মহত্যা করে। রাসূল (সা) তার কথা শুনে বলেন, সে জাহান্নামী।
বস্তুত আল্লাহর দেয়া প্রাণ ও আয়ুষ্কাল একটি মস্ত বড় নিয়ামত এবং আখিরাতের জন্য নেক কাজ করার সীমিত অবকাশ। একে যারা স্বহস্তে খতম করে, তাদের ওপর আল্লাহর ক্রোধ আপতিত হওয়া অবশ্যম্ভাবী। আল্লাহ আমাদেরকে এই ভয়ংকর কবীরা গুনাহ থেকে রক্ষা করুন।
📄 পিতামাতার অবাধ্য হওয়া
আল্লাহ তায়ালা সূরা বনী ইসরাইলে এরশাদ করেন : "তোমার প্রতিপালক ফায়সালা করেছেন যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদাত করবেনা এবং পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করবে।" অর্থাৎ তাদের উভয়ের সেবাযত্ন করবে ও তাদের প্রতি ভালোবাসা ও সহানুভূতিপূর্ণ আচরণ করবে। "তোমার কাছে তাদের দু'জনের কেউ বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদেরকে উহ্ বলোনা এবং ধমক দিওনা।" অর্থাৎ কোন রূঢ় ও কর্কশ ভাষা প্রয়োগ করোনা। বস্তুত তারা উভয়ে যখন তোমার সেবাযত্ন করেছে, তখন তোমারও তাদের সেবাযত্ন করা উচিত। স্মরণ রাখা উচিত যে, তারা প্রথমে তোমার সেবাযত্ন করে চরম নিঃস্বার্থতা ও মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছে এবং তুমি সেবাযত্ন করলেও তাদের সমকক্ষ হতে পারবেনা। পরিতাপের বিষয় যে, শৈশবে পিতামাতা সন্তানের কাছ থেকে কষ্ট পেয়েও সেবাযত্ন করে সন্তানের সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন কামনা করতো। আর সন্তান বৃদ্ধ পিতামাতার কাছ থেকে একটু কষ্ট পেলেই তার তাড়াতাড়ি মৃত্যু কামনা করে। এরপর আল্লাহ বলেন: “তাদের উভয়ের সাথে কোমল ভাষায় কথা বল।" অর্থাৎ বিনয়ের সাথে ও আন্তরিক সহানুভূতির সাথে কথা বল। তাদের ওপর মমতাপূর্ণ ডানা বিস্তার করে দাও এবং বল, হে আমার প্রতিপালক, আমার পিতামাতা শৈশবে আমাকে যেরূপ স্নেহ মমতা সহকারে লালন পালন করেছেন, আপনিও তাদেরকে তদ্রূপ করুণা ও দয়া সহকারে লালন পালন করুন।"
সূরা লুকমানে আল্লাহ বলেন: “তুমি আমার কাছে কৃতজ্ঞ হও এবং তোমার পিতামাতার কাছেও কৃতজ্ঞ হও।” লক্ষণীয় যে, আল্লাহ তায়ালা কীভাবে নিজের প্রতি কৃতজ্ঞতার সাথে পিতামাতার প্রতি কৃতজ্ঞতাকে যুক্ত করেছেন। হযরত ইবনে আব্বাস (রা) বলেন: তিনটি আয়াত তিনটি জিনিসের সাথে যুক্ত হয়ে নাযিল হয়েছে। এর একটি বাদে অপরটি কবুল হয়না। প্রথমটিতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: "আল্লাহর আনুগত্য কর ও রাসূলের আনুগত্য কর।" যে ব্যক্তি আল্লাহকে মানবে ও রাসূলকে মানবেনা, তার আল্লাহকে মানা কবুল হবেনা। দ্বিতীয়টিতে আল্লাহ বলেন: "তোমরা নামায কায়েম কর ও যাকাত দাও।" যে ব্যক্তি নামায পড়বে ও যাকাত দেবেনা, তার নামায কবুল হবেনা। তৃতীয়টিতে আল্লাহ বলেন: 'তুমি আমার প্রতি কতৃজ্ঞ হও এবং তোমার পিতামাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও।” যে ব্যক্তি শুধু আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে এবং পিতামাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হবেনা, তার আল্লাহর কৃতজ্ঞতা অর্থহীন ও অগ্রহণযোগ্য। এ জন্যই রাসূল (সা) বলেছেন: 'পিতামাতার সন্তোষে আল্লাহর সন্তোষ নিহিত এবং পিতামাতার অসন্তোষে আল্লাহর অসন্তোষ নিহিত।” (আল জামে' আত্ মিরমিযী)
হযরত ইবনে উমার (রা) বলেন, এক ব্যক্তি এসে রাসূল (সা) এর সাথে জিহাদে যাওয়ার অনুমতি চাইল। রাসূল (সা) তাকে বললেন: তোমার পিতামাতা কি বেঁচে আছেন? সে বললো: জ্বি। রাসূল (সা) বললেনঃ "তাহলে তাদেরকে নিয়েই তুমি জিহাদ কর।" অর্থাৎ তাদের সেবাই তোমার জন্য জিহাদ। (সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিম) লক্ষণীয় যে, পিতামাতার সেবাকে জিহাদের ওপর অগ্রগণ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত অপর হাদীসে রাসূল (সা) বলেনঃ সবচেয়ে বড় কবীরা গুনাহ কী, তা কি আমি তোমাদেরকে জানাবো? তা হচ্ছেঃ আল্লাহর সাথে শিরক করা ও পিতামাতার সাথে অসদাচরণ।" এখানে লক্ষ্য করার বিষয় এই যে, পিতামাতার সাথে দুর্ব্যবহার, অযত্ন ও অবহেলাকে আল্লাহর সাথে শরীক করার সমান্তরালে রাখা হয়েছে। সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমের অপর হাদীসে রাসূল (সা) বলেন: পিতামাতার সাথে অসদাচরণকারী, দান করে খোটা দানকারী ও মদ পানকারী জান্নাতে যাবে না।" রাসূল (সা) আরো বলেন: উহ্ করার চেয়েও ক্ষুদ্র কোন কষ্টদায়ক আচরণ যদি থাকতো, তবে আল্লাহ্ তাও নিষিদ্ধ করেছেন। সুতরাং পিতামাতার সাথে অসদাচরণকারী যা ইচ্ছে তাই করুক। সে জান্নাতে কখনো যাবেনা। আর সদাচরণকারী যা খুশী করুক। সে কখনো জাহান্নামে যাবেনা।” (দায়েলামী) তিনি আরো বলেছেন: পিতামাতার সাথে অসদাচরণকারীকে আল্লাহ্ অভিসম্পাত করেছেন। ইবনে আব্বাস (রা) বর্ণিত অপর এক হাদীসে রাসূল (সা) বলেন: “যে ব্যক্তি তার পিতাকে গাল দেয় ও তিরস্কার করে তাকে আল্লাহ্ অভিসম্পাত করেছেন, যে ব্যক্তি তার মাতাকে গাল দেয় ও তিরস্কার করে, আল্লাহ্ তাকেও অভিসম্পাত করেছেন। হযরত আবু বকর (রা) বর্ণিত অপর এক হাদীসে রাসূল (সা) বলেছেন: আল্লাহ্ সকল গুনাহের শাস্তি যত দিন ইচ্ছা বিলম্বে কার্যকর করেন, এমনকি তা কিয়ামত পর্যন্ত বিলম্বিত করে থাকেন। কেবল পিতামাতার প্রতি অসদাচরণ এর ব্যতিক্রম। আল্লাহ্ এর শাস্তি অবিলম্বে কার্যকর করেন।” অর্থাৎ কিয়ামতের আগে দুনিয়ার জীবনেই সে শাস্তি পায়।
হযরত কা’ব আল-আহবার (র) বলেন: কোন বান্দা যখন তার পিতামাতার প্রতি অসদাচরণ করে, তখন তার শাস্তি ত্বরান্বিত করার জন্য আল্লাহ্ তার আয়ু কমিয়ে দেন। আর যখন কোন বান্দা তার পিতামাতার প্রতি সদাচরণ করে, তখন আল্লাহ্ তার আয়ু বাড়িয়ে দেন, যাতে সে আরো সৎ কাজ করতে পারে এবং সুখশান্তি ও কল্যান লাভ করতে পারে। পিতামাতার সাথে সদাচরণ এভাবেও করা যায় যে, তারা যখন কোন জিনিসের অভাব অনুভব করেন, তখন সন্তান তা পূরণ করবে। এক ব্যক্তি রাসূল (সা) এর কাছে এসে বললো: হে রাসূল! আমার পিতা আমার ধনসম্পদ নষ্ট করে দিতে চান। রাসূল (সা) বললেন: “তুমি ও তোমার ধনসম্পদ তোমার পিতার।” হযরত কা’ব আল-আহবারকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, পিতামাতার সাথে অসদাচরণ বলতে কি বুঝায়? তিনি জবাব দিলেন: পিতামাতা যদি সন্তানের জন্য কোন কসম খায় বা মানত মানে, তবে সন্তান কর্তৃক তা পুরা না করা, তারা কোন আদেশ দিলে তা না মানা, তারা কোন কিছু চাইলে তা না দেয়া (ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও) এবং তারা সন্তানের কাছে কোন জিনিস গচ্ছিত রাখলে সন্তান কর্তৃক তা আত্মসাৎ করা। (ইবনে মাজাহ)
ইবনে মাজাহসহ একাধিক হাদীস গ্রন্থে হযরত ইবনে আব্বাস ও অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে আছে যে, হযরত ইবনে আব্বাস (রা) কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, ‘আ’রাফ কী এবং কারা তাতে বাস করবে? হযরত ইবনে আব্বাস জবাব দিলেন যে, আ’রাফ হচ্ছে জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝে অবস্থিত একটি পাহাড়। এই পাহাড় থেকে জান্নাত ও জাহান্নাম দেখা যায় এবং এর ওপর ... বহু ফলবান গাছপালা ও ঝর্ণা রয়েছে বলে এর নাম আ'রাফ রাখা হয়েছে। যারা পিতামাতার সম্মতি ছাড়া জিহাদে গিয়ে শহীদ হয় তারা সাময়িকভাবে এইখানে থাকবে। কেননা আল্লাহর পথে শাহাদাত লাভ তাদের জাহান্নামে প্রবেশের পথ বন্ধ করবে। আর পিতামাতার অসন্তুষ্টি তাদের জান্নাতে যাওয়ার পথ আগলে রাখবে। কিছুকাল এখানে থাকার পর আল্লাহ তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবেন।
সহীহ আল-বুখারী ও সহীহ মুসলিমের হাদীসে আছে যে, এক ব্যক্তি রাসূল (সা) এর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলো যে, হে রাসূলুল্লাহ! কোন্ ব্যক্তি আমার সদ্ব্যবহার পাওয়ার সবচেয়ে বেশী অধিকারী? তিনি বললেন: তোমার মাতা। সে বললো: তার পর কে? তিনি বললেন: তোমার মাতা। সে পুনরায় বললো: তারপর কে? রাসূল (সা) বললেন: তোমার মাতা। সে বললো: তারপর কে? তিনি বললেন: তোমার পিতা। অতঃপর পর্যায়ক্রমে তোমার সর্বাধিক আপন ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগণ।” এভাবে তিনি মায়ের সাথে সদ্ব্যবহারে তিনবার এবং পিতার সাথে সদ্ব্যবহারে একবার তাকিদ দিলেন। এর একমাত্র কারণ এই যে, মাতা সন্তানের জন্য সর্বাধিক উদ্বিগ্ন থাকে এবং তাকে সর্বাধিক স্নেহ ও আদর যত্ন করে। সন্তান ধারণ, দুধ খাওয়ানো, লালন-পালন এবং রাত জেগে তত্ত্বাবধান এই কষ্টকর কাজগুলো একমাত্র মা-ই সন্তানের জন্য করে থাকেন।
একবার হযরত ইবনে উমার (রা) দেখতে পেলেন যে, এক ব্যক্তি নিজের মাকে কাঁধের ওপর বহন করে কা'বা শরীফের তওয়াফ করছে। সে বললো: ওহে ইবনে উমার, আপনি কি মনে করেন যে, এভাবে আমি নিজের মাকে কাঁধে বহন করে তওয়াফ করার মাধ্যমে তাঁর কিছু ঋণ পরিশোধ করতে পেয়েছি? ইবনে উমার বললেন: কখখনো না। এমনকি তোমাকে পেটে বহন করে যতগুলো দিন তিনি কষ্ট সহ্য করেছেন, তার একটি দিনেরও ঋণ শোধ করতে পারনি। তবে তুমি যেটুকু করেছ, ভালই করেছ। আল্লাহ তোমাকে এই অল্প কাজে বেশী প্রতিদান দেবেন।"
রাসূল (সা) বলেছেন: "আল্লাহ দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ যে, চার ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করতেও দেবেন না, তার নিয়ামতসমূহের স্বাদ গ্রহণেরও সুযোগ দেবেননা; মদ্য পানকারী, সুদখোর, ইয়াতিমের সম্পদ আত্মসাত্কারী এবং পিতামাতার প্রতি দুর্ব্যবহারকারী। অবশ্য এরা তাওবাহ করলে সে কথা স্বতন্ত্র।” (হাকেম) রাসূল (সা) আরো বলেছেন: "জান্নাত মায়ের পায়ের নিচে অবস্থিত।” (ইবনে মাজাহ, নাসায়ী) এক ব্যক্তি হযরত আবুদ্ দারদার (রা) কাছে এসে বললোঃ "আমি এক মহিলাকে বিয়ে করেছি। কিন্তু আমার মা তাকে তালাক দিতে বলছেন।” হযরত আবুদ্ দারদা বললেনঃ "মা জান্নাতের মধ্যবর্তী দরজা। তুমি ইচ্ছা করলে ওটা নষ্ট করে দাও, অথবা রক্ষা কর।" (আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ)
রাসূল (সা) বলেছেনঃ তিন জনের দোয়া যে কবুল হয়, তাতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। প্রবাসী বা পথিকের দোয়া, উৎপীড়িত ও নির্যাতিত মানুষের দোয়া এবং সন্তানের জন্য পিতামাতার দোয়া। (তিরমিযী, আবু দাউদ)
রাসূল (সা) আরো বলেছেনঃ খালা মায়ের মর্যাদা সম্পন্ন। অর্থাৎ তাঁর সাথে মায়ের মতই সদ্ব্যবহার, সম্মানজনক আচরণ ও উপঢৌকনাদি প্রদান করা কর্তব্য। হযরত ওহব বিন মুনাব্বিহ থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহ তা'য়ালা হযরত মুসা (আ) এর নিকট এই মর্মে ওহী পাঠিয়েছিলেন যে, হে মূসা! তুমি তোমার পিতামাতাকে সম্মান কর। কেননা যে ব্যক্তি নিজের পিতামাতাকে সম্মান করে, আমি তাকে দীর্ঘজীবী করি এবং তাকে এমন সন্তান দেই, যে তাকে সম্মান করে। আর যে ব্যক্তি নিজের পিতামাতার সাথে দুর্ব্যবহার করে, আমি তার আয়ু কমিয়ে দেই এবং তাকে বেআদব ও অবাধ্য সন্তান দান করি।
হযরত আবু বকর বিন আবু মরিয়ম (রা) বলেনঃ "আমি তাওরাতে পড়েছি, যে ব্যক্তি তার পিতাকে প্রহার করে তার শাস্তি মৃত্যুদন্ড।" হযরত ওহব বলেনঃ "আমি তাওরাতে পড়েছি যে, যে ব্যক্তি নিজের পিতাকে চপেটাঘাত করে, তাকে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করতে হবে।"
হযরত আমর বিন মুররা আল জুহানী (রা) বলেনঃ "এক ব্যক্তি রাসূল (সা) এর নিকট এসে বললোঃ হে রাসূল, আমি যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ি, রমযানের রোযা রাখি, যাকাত দেই এবং হজ্জ করি, তাহলে আমার কী লাভ হবে? তিনি বললেনঃ এসব কাজ যে ব্যক্তি ঠিকমত সম্পন্ন করবে, সে নবীগণ, সিদ্দীকগণ, শহীদগণ ও সৎকর্মশীল বান্দাহগণের সংগী হবে। তবে পিতামাতার সাথে দুর্ব্যবহার করলে এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।" (আহমাদ, তাবারানী, ইবনে হাব্বান, ইবনে খুযাইমা) রাসূল (সা) আরো বলেছেনঃ "পিতামাতার প্রতি অসদাচরণকারীকে আল্লাহ অভিসম্পাত দিয়েছেন।" রাসূল (সা) আরো বলেছেনঃ মিরাজের রাতে আমি কিছু লোককে আগুনের স্তম্ভে ঝুলন্ত দেখেছি। জিবরীলকে জিজ্ঞাসা করলামঃ এরা কারা? তিনি জবাব দিলেনঃ যারা দুনিয়ায় নিজেদের পিতামাতাকে তিরস্কার করতো।"
বিভিন্ন রেওয়ায়েত থেকে এও জানা যায় যে, যে ব্যক্তি নিজের পিতামাতাকে বকাঝকা করে, তার কবরে জাহান্নাম থেকে এত বিপুল সংখ্যক আগুনের জ্বলন্ত অংগার নেমে আসবে, যত বারিবিন্দু আকাশ থেকে নেমে থাকে। আরো বর্ণিত আছে যে, পিতামাতার সাথে অসদাচরণকারী সমাহিত হওয়ার পর তার কবর তাকে এত জোরে চাপ দেয় যে, তার পাজরের হাড়গোড় ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় এবং কিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তি ভোগকারী হচ্ছে মুশরিক, ব্যভিচারী ও পিতামাতার প্রতি দুর্ব্যবহারকারী।
হযরত বিশর (রা) বলেন: মায়ের গলার আওয়ায় শোনা যায় এত নিকটে যে ব্যক্তি অবস্থান করে, সে তরবারী নিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদকারীর চেয়ে উত্তম। মায়ের প্রতি ভক্তিপূর্ণ দৃষ্টি দানের চেয়ে মহৎ কাজ আর কিছু নেই।
ইমাম আহমাদ ও আবু দাউদ বর্ণিত হাদীসে আছে যে, জনৈক পুরুষ ও জনৈক মহিলা তাদের সন্তান সম্পর্কে ঝগড়া করতে রাসূল (সা) এর দরবারে হাজির হলো। পুরুষটি বললোঃ হে রাসূল, আমি এই সন্তানের জনক। মহিলাটি বললোঃ হে রাসূল! এই সন্তানের বীজ বহনে ওর কোনই কষ্ট হয়নি, উপরন্তু একে জন্ম দিতে গিয়ে সে কেবল আনন্দই উপভোগ করেছে। আর আমি সন্তানটিকে গর্ভে ধারণও করেছি কষ্টের মধ্য দিয়ে, প্রসবও করেছি কষ্টের মধ্য দিয়ে, আর তাকে দু'বছর ব্যাপী দুধও খাইয়েছি।' এ কথা শোনার পর রাসূল (সা) রায় দিলেন যে, শিশুটি তার মায়ের কাছেই থাকবে।
ইমাম তাবারানী ও ইমাম আহমাদ একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন। রাসূল (সা) এর যুগে আলকামা নামে মদীনায় এক যুবক বাস করতো। সে নামায, রোযা ও সদকার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার ইবাদাত বন্দেগীতে অতিশয় অধ্যবসায় সহকারে লিপ্ত থাকতো। একবার সে কঠিন রোগে আক্রান্ত হলো। তার স্ত্রী রাসূল (সা)-এর কাছে খবর পাঠালো যে, "আমার স্বামী আলকামা মুমূর্ষ অবস্থায় আছে। হে রাসূল, আমি আপনাকে তার অবস্থা জানানো জরুরী মনে করছি।" রাসূল (সা) তৎক্ষণাত হযরত আম্মার, সুহাইব ও বিলাল (রা) কে তার কাছে পাঠালেন। তাদেরকে বলে দিলেন যে, "তোমরা তার কাছে গিয়ে তাকে কলেমায়ে শাহাদাত পড়াও।" তারা গিয়ে দেখলেন, আলকামা মুমূর্ষ অবস্থায় রয়েছে। তাই তাঁরা তাকে "লাইলাহা ইল্লাল্লাহ" পড়াতে চেষ্টা করতে লাগলেন। কিন্তু সে কোনমতেই কলেমা উচ্চারণ করতে পারছিলনা। অগত্যা তাঁরা রাসূলকে (সা) খবর পাঠালেন যে, আলকামার মুখে কলেমা উচ্চারিত হচ্ছেনা। যে ব্যক্তি এই সংবাদ নিয়ে গিয়েছিল। তার কাছে রাসূল (সা) জিজ্ঞাসা করলেন: আলকামার পিতামাতার মধ্যেই কেউ কি জীবিত আছে? সে বললোঃ "হে রাসূল, তার কেবল বৃদ্ধা মা বেঁচে আছে।” রাসূল (সা) তৎক্ষণাত তাকে আলকামার মায়ের কাছে পাঠালেন এবং বললেনঃ "তাকে গিয়ে বল যে, তুমি যদি রাসূল (সা) এর কাছে যেতে পার তবে চল, নচেত অপেক্ষা কর। তিনি তোমার সাথে সাক্ষাত করতে আসছেন।" দূত আলকামার মায়ের কাছে উপস্থি হ’য়ে রাসূল (সা) যা বলেছিলেন তা জানালো। আলকামার মা বললেন: “রাসূল (সা) এর জন্য আমার প্রাণ উৎসর্গ হোক। তাঁর কাছে বরং আমিই যাবো।” বৃদ্ধা লাঠি ভর দিয়ে রাসূল (সা) এর কাছে এসে সালাম করলেন। রাসূল (সা) সালামের জবাব দিয়ে বললেন: ওহে আলকামার মা, আমাকে আপনি সত্য কথা বলবেন। আর যদি মিথ্যা বলেন, তবে আল্লাহর কাছ থেকে আমার কাছে ওহী আসবে। বলুন তো, আপনার ছেলে আলকামার স্বভাব চরিত্র কেমন ছিল? বৃদ্ধা বললেন: “হে আল্লাহর রাসূল, সে প্রচুর পরিমাণে নামায, রোযা ও সদকা আদায় করতো।” রাসূল (সা) বললেন: তার প্রতি আপনার মনোভাব কী? বৃদ্ধা বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল, আমি তার প্রতি অসন্তুষ্ট।" রাসূল (সা) বললেনঃ কেন? বৃদ্ধা বললেন: "সে তার স্ত্রীকে আমার ওপর অগ্রাধিকার দিত এবং আমার আদেশ অমান্য করতো।" রাসূল (সা) বললেন: "আলকামার মায়ের অসন্তোষ হেতু কলেমা উচ্চারণে আলকামার জিহবা আড়ষ্ট হ’য়ে গেছে।” তারপর রাসূল (সা) বললেন: 'হে বিলাল, যাও, আমার জন্য প্রচুর পরিমাণে কাষ্ঠ যোগাড় করে নিয়ে আস।"
বৃদ্ধা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল, কাষ্ঠ দিয়ে কী করবেন? রাসূল (সা) বললেনঃ "আমি ওকে আপনার সামনেই আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেব।" বৃদ্ধা বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল, আমার সামনেই আমার ছেলেকে আগুন দিয়ে পোড়াবেন তা আমি সহ্য করতে পারবোনা।" রাসূল (সা) বললেনঃ “ওহে আলকামার মা, আল্লাহর আযাব এর চেয়েও কঠোর এবং দীর্ঘস্থায়ী। এখন আপনি যদি চান যে, আল্লাহ আপনার ছেলেকে মাফ করে দিক, তা হলে তাকে আপনি মাফ করে দিন এবং তার ওপর সন্তুষ্ট হ’য়ে যান। নচেত যে আল্লাহর হাতে আমার প্রাণ তার কসম, যতক্ষণ আপনি তার ওপর অসন্তুষ্ট থাকবেন, ততক্ষণ নামায রোযা ও সদকা দিয়ে আলকামার কোন লাভ হবেনা।" এ কথা শুনে আলকামার মা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি আল্লাহকে, আল্লাহর ফেরেশতাদেরকে এবং এখানে যে সকল মুসলমান উপস্থিত, তাদের সকলকে সাক্ষী রেখে বলছি যে, আমি আমার ছেলে আলকামার ওপর সন্তুষ্ট হয়ে গিয়েছি।" রাসূল (সা) বললেনঃ "ওহে বিলাল, এবার আলকামার কাছে যাও। দেখ, সে লাইলাহা ইল্লাল্লাহ বলতে পারে কিনা। কেননা আমার মনে হয়, আলকামার মা আমার কাছে কোন লাজলজ্জা না রেখে যথার্থ কথাই বলেছে।" হযরত বিলাল (রা) তৎক্ষণাত গেলেন। শুনতে পেলেন, ঘরের ভেতর থেকে আলকামা উচ্চস্বরে উচ্চারণ করছে "লাইলাহা ইল্লাল্লাহ।” অতঃপর বিলাল গৃহে প্রবেশ করে উপস্থিত জনতাকে বললেন: শুনে রাখ, আলকামার মা অসন্তুষ্ট থাকার কারণে সে প্রথমে কলেমা উচ্চারণ করতে পারেনি। পরে তিনি সন্তুষ্ট হ’য়ে যাওয়ায় তার জিহ্বা কলেমা উচ্চারণে সক্ষম হয়েছে। অতঃপর আলকামা সেই দিনই মারা যায় এবং রাসূল (সা) নিজে উপস্থিত হ’য়ে তার গোসল ও কাফনের নির্দেশ দেন, জানাজার নামায পড়ান এবং দাফনে শরীক হন। অতঃপর তার কবরে দাঁড়িয়ে রাসূল (সা) বলেনঃ হে আনসার ও মুহাজিরগণ! যে ব্যক্তি মায়ের ওপর স্ত্রীকে অগ্রাধিকার দেয়, তার ওপর আল্লাহ, ফিরিশতাগণ ও সকল মানুষের অভিসম্পাত! আল্লাহ তার পক্ষে কোন সুপারিশ কবুল করবেন না। কেবল তাওবাহ করে ও মায়ের প্রতি সদ্ব্যবহার করে তাকে সন্তুষ্ট করলেই নিস্তার পাওয়া যাবে। মনে রাখবে, মায়ের সন্তুষ্টিতেই আল্লাহর সন্তোষ এবং মায়ের অসন্তোষেই আল্লাহর অসন্তোষ।"