📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 উক্ত ‘হাশর দুনিয়াতেই হবে

📄 উক্ত ‘হাশর দুনিয়াতেই হবে


উক্ত 'হাশর দুনিয়াতেই সংঘটিত হবে। আখিরাতে নয়। কারণ, 'হাশর মানে একত্রিত করা। উক্ত অর্থে 'হাশর চার প্রকার। দু' প্রকার দুনিয়াতে। আর দু' প্রকার আখিরাতে। দুনিয়ার দু' প্রকার 'হাশর নিম্নে উল্লিখিত হলোঃ
১. ইহুদি গোত্র বনুন-নযীরকে মদীনা থেকে তাড়িয়ে শাম দেশে একত্রিত করা।
২. কিয়ামতের পূর্বে সকল মানুষকে শাম দেশে একত্রিত করা। যা ইতঃপূর্বে উল্লিখিত হয়েছে।
উক্ত 'হাশর যে দুনিয়াতে হবে এ ব্যাপারে আলিমদের ঐকমত্য রয়েছে। যা 'আল্লামাহ্ ইমাম কুরতুবী, ইবনু কাসীর ও ইবনু 'হাজার (রাহিমাহুমুল্লাহ) নিজ নিজ কিতাবে উল্লেখ করেছেন।
আবার কোন কোন আলিম যেমনঃ গাযালী ও 'হুলাইমী তাঁরা বলেনঃ উক্ত 'হাশর দুনিয়াতে হবে না। বরং তা হবে আখিরাতেই। তাঁরা আরো বলেনঃ বিশুদ্ধ হাদীসে বর্ণিত নেই। সুতরাং দুনিয়াতেই গুনাহগারদেরকে আগুন দিয়ে শাস্তি দেয়ার ব্যাপারটি কোন ভাবেই মেনে নেয়া যাচ্ছে না।
৪. একটি হাদীস আরেকটি হাদীসের ব্যাখ্যার কাজ করে। অতএব আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনায় রয়েছে, মানুষ তিনভাগে বিভক্ত হবে। কেউ আরোহণ করবে। কেউ পায়ে হেঁটে যাবে। আবার কাউকে টেনে-হেঁচড়ে উপস্থিত করা হবে। আর উক্ত বর্ণনার সাথে সূরা ওয়াক্বি'আর সাত নম্বর আয়াতের সাথে খুব একটা মিল রয়েছে। যা পরকালের 'হাশর সংক্রান্ত। সুতরাং উক্ত হাদীসকেও পরকালের 'হাশর সংক্রান্ত বলে ধরে নিতে হবে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ
وَ كُنْتُمْ أَزْوَاجًا ثَلَاثَةً.
অর্থাৎ তখন তোমরা তিনটি শ্রেণীতে বিভক্ত হয়ে পড়বে। (ওয়াক্বি'আহ্: ৭)

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 তাঁদের প্রমাণগুলোর উত্তর

📄 তাঁদের প্রমাণগুলোর উত্তর


১. বিশুদ্ধ হাদীসগুলো তো এটাই প্রমাণ করে যে, উক্ত 'হাশর দুনিয়াতেই হবে। আখিরাতে নয়।
২. সূরা ওয়াক্বি'আয় বর্ণিত প্রকারগুলো এবং হাদীসে বর্ণিত প্রকারগুলো এক হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। কারণ, হাদীসে বর্ণিত প্রকারগুলো ফিতনা থেকে বাঁচার জন্যই বলা হয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি খাদ্য ও আরোহণ পর্যাপ্ত থাকা অবস্থায় সফর করবে সেই হচ্ছে প্রথম শ্রেণীর। আর যে ব্যক্তি অলসতা করে প্রথমেই সফর করেনি বরং যখন আরোহণের সঙ্কট দেখা দিয়েছে তখন সে সফর করেছে সেই হচ্ছে দ্বিতীয় শ্রেণীর। আর যে ব্যক্তি তাও করেনি তাকেই আগুন হাঁকিয়ে নিবে এবং ফিরিস্তাগণ তাকে টেনে-হেঁচড়ে উপস্থিত করবে।
৩. হাদীস কর্তৃক এ কথা সুস্পষ্ট যে, উক্ত আগুন আখিরাতের আগুন নয়। বরং তা দুনিয়ার আগুন। রাসূল (ﷺ) এ ব্যাপারে নিজ উম্মতকে সতর্ক করে দিয়েছেন এবং এর কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও অভিহিত করেছেন।
৪. হযরত 'আলী বিন যায়েদ থেকে বর্ণিত হাদীসটি দুনিয়ার 'হাশর সংক্রান্ত হাদীসগুলোর সাথে সাংঘর্ষিক নয়। কারণ, হযরত 'আলী বিন যায়েদের হাদীসে বর্ণিত রয়েছে, টেনে-হেঁচড়ে নেয়ার সময় মানুষ তার চেহারা দিয়ে টিলা ও কাঁটা থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করবে। আর কিয়ামতের মাঠ হবে সমতল মসৃণ। তাতে কোন উঁচু-নিচু, টিলা-টঙ্কর বা কাঁটা নেই।
'আল্লামাহ্ ইবনু কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) দুনিয়ার 'হাশর' সংক্রান্ত হাদীসগুলোর ব্যাখ্যায় বলেনঃ উক্ত হাদীসগুলোর বর্ণনশৈলী এটাই প্রমাণ করে যে, বর্ণিত 'হাশরটি দুনিয়ার 'হাশর'। দুনিয়ার শেষ যুগের মানুষগুলোকেই শাম দেশে একত্রিত করা হবে। যখন খাদ্য-পানীয় সবই থাকবে। থাকবে নিজের কেনা আরোহণ। এমনকি পিছে পড়া লোকদেরকে আগুন খেয়ে ফেলবে। অথচ মূল কিয়ামতের সময় খাদ্য-পানীয়, পোশাক, আরোহণ, মৃত্যু কিছুই থাকবে না। (নিহায়াহ/আল-ফিতানু ওয়াল-মালাহিম ১/৩২০-৩২১)
ইবনু 'হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ যাদেরকে কিয়ামতের দিন জুতোহীন বিবস্ত্র উঠানো হবে তারা আবার বাগান পাবে কোথায় যা দিয়ে তারা উট কিনবে। (ফাত'হল-বারী ১১/৩৮২)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00