📄 পশুটির ধরন
पशुটির ধরন নিয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। যা নিম্নে উল্লিখিত হলোঃ
১. আল্লামাহ্ कुरতুবী বলেনঃ এ সম্পর্কে আলেমদের সর্ব প্রথম কথা হলোঃ पशुটি সালিহ্ (আঃ) এর উটের বংশধর এবং এটিই সঠিক মন্তব্য।
২. উক্ত पशुটি হচ্ছে তামীমে দারীর হাদীসে উল্লিখিত সংবাদবাহী पशुটি। উক্ত মতটি আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত বলে মনে করা হয়।
তবে তামীমে দারীর, হাদীসে উল্লিখিত সংবাদবাহী पशुটি যে কিয়ামতের পূর্বে আবারো বেরুবে উক্ত হাদীসে এর কোন উল্লেখ নেই। অন্য দিকে উক্ত पशुটি কাফিরদেরকে কুফরির জন্য ধমকাবে যা সংবাদবাহী पशुটির চরিত্র নয়।
৩. উক্ত পশুটি সেই विषधर সাপ যা কা'বা শরীফের দেয়ালে একদা অবস্থান করছিলো। কুরাইশদের কা'বা নির্মাণের সময় যাকে একটি শকুন এসে উড়িয়ে নিয়ে যায়। উক্ত মতটি আব্দুল্লাহ্ বিন্ আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত বলে মনে করা হয়।
৪. উক্ত পশুটি এমন একজন মানুষ যিনি একদা কাফির ও বিদ'আতপন্থীদের সাথে বাহাসে লিপ্ত হবেন।
উক্ত पशुটি যদি মানুষই হয়ে থাকে তা হলে তাতে কিয়ামতের বড়ো আলামত রূপে অলৌকিক আর কিছুই থাকে না। আর যদি তিনি মানুষই হয়ে থাকেন তা হলে তাঁকে ইমাম বা আলিম না বলে পশুই বা বলা হবে কেন?
৫. উক্ত पशुটি কোন পশু বিশেষের নাম নয়। বরং তা জমিনে বিচরণশীল যে কোন পশুই হতে পারে। আবার হয়তো বা पशु বলতে সে বিষাক্ত জীবাণুসমূহকেই বুঝানো হচ্ছে যা মানুষের জীবন, শরীর ও স্বাস্থ্যকে ক্ষত-বিক্ষত করে একেবারেই ধ্বংস করে দিবে। সেই ক্ষত-বিক্ষত স্থান গুলোই মানুষের জন্য নিরবে-নিঃশব্দে অনেক উপদেশ বাণী বহন করবে। যা প্রকাশ্য উপদেশের চাইতেও অধিক গুরুত্বপূর্ণ। উক্ত মতটি আল্লামাহ্ ইবনু কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) লিখিত "নিহায়াহ্” কিতাবের টীকাকার আবূ 'উবাইয়ার মত।
উক্ত মতটি একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। যা নিম্নে বর্ণিত হলোঃ
ক. আরে এ জাতীয় জীবাণু তো অনেক পূর্ব থেকেই রয়েছে। আর উক্ত পশুটি তো এখনো বের হয়নি।
খ. জীবাণু তো অনেক সময় খালী চোখে দেখা যায় না। আর উক্ত पशुটিকে তো সবাই দেখতে পাবে। কারো কারোর মতে তার সাথে থাকবে মূসা (আঃ) এর লাঠি এবং সুলাইমান (আঃ) এর আংটি।
গ. উক্ত पशुটি তো কাফিরের নাকে আংটি দিয়ে দাগ দিবে এবং মু'মিনের চেহারা লাঠি দিয়ে (কপালের দিক থেকে) সাদা করে দিবে। আর জীবাণুগুলো তো তা করতে পারবে না।
ঘ. আমার মনে হয়, জনাব আবু 'উবাইয়াহ্ উক্ত ব্যাখ্যাটি এ জন্যই দিয়েছেন যে, কারণ উক্ত পশুটির বর্ণনায় অনেক অলৌকিক কথাই পাওয়া যায়। তবে আমাদের অবশ্যই এ কথা বিশ্বাস করতে হবে যে, আল্লাহ্ তা'আলা তো সবই পারেন। আর রাসূল () থেকে বর্ণিত শুদ্ধ হাদীসগুলো তো অবশ্যই মেনে নিতে হবে।
এ দিকে আরবী ভাষার যে কোন শব্দকে তার স্বাভাবিক মূল অর্থেই মেনে নেয়া উচিৎ। যতক্ষণ না তা মেনে নেয়া অসম্ভবপর হয়। আর এখানে উক্ত শব্দটিকে তার মূল অর্থে মেনে নেয়া কখনোই অসম্ভবপর নয়।
উক্ত पशुটি যে সত্যিই অলৌকিক এবং মানুষের সাথেও কথা বলবে তা সম্ভব এ জন্যও যে, কারণ উক্ত পশুটির কথা সূরা নামে বর্ণিত হয়েছে। আর উক্ত সূরাটিতে পিপীলিকাদের পরস্পর কথাবার্তা, সুলাইমান (আ.) এর সাথে হুদহুদ ও জ্বিনের অলৌকিক কথোপকথনের বিষয়টিও উল্লিখিত হয়েছে। যা একই ধরনের অলৌকিকতায় ভরা। সুতরাং এ প্রেক্ষাপটে মানুষের সাথে পশুটির কথাবার্তা বলা মেনে নেয়া অসম্ভব কিছু নয়।
📄 পশুটি বের হওয়ার স্থান
पशुটির বের হওয়ার স্থান নিয়ে আলেমদের মাঝে কিছু মতোভেদ রয়েছে যা নিম্নে প্রদত্ত হলোঃ
১. পশুটি মক্কার সর্ব বৃহৎ মসজিদ থেকে বের হবে। 'হুযাইফাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ पशुটি বের হবে সর্ব বৃহৎ মসজিদ থেকে। তা হঠাৎ মাটি ফেটে বের হবে। (মাজমা'উয-যাওয়ায়িদ ৮/৭-৮)
২. পশুটি তিনবার বের হবে। একবার কোন এক মরু এলাকায় বের হয়ে আবার লুকিয়ে যাবে। অতঃপর কোন এক জন বসতিতে বের হবে। সর্ব শেষে মসজিদে হারামে বের হবে।
📄 পশুটি যা করবে
পশুটি বের হয়ে মু'মিন ও কাফিরদেরকে দাগ লাগিয়ে দিবে। মু'মিনের চেহারা মূসা (আ.) এর লাঠি দিয়ে (কপালের দিক থেকে) সাদা করে দিবে। অতঃপর তা চকমক করতে থাকবে। আর এটিই হচ্ছে তার ঈমানের পরিচায়ক। অন্য দিকে কাফিরের নাকে সুলাইমান (আ.) এর আংটি দিয়ে দাগ দিবে যা হবে তার কুফরির আলামত।
সে মানুষের সাথে কথা বলবে। যা নিম্নোক্ত আয়াতে উবাই বিন্ কা'ব এর কিরাত প্রমাণ করে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ
وَإِذَا وَقَعَ الْقَوْلُ عَلَيْهِمْ أَخْرَجْنَا لَهُمْ دَابَّةً مِّنَ الْأَرْضِ تُكَلِّمُهُمْ أَنَّ النَّاسَ كَانُوا بِآيَاتِنَا لَا يُوقِنُونَ.
অর্থাৎ যখন তাদের উপর ঘোষিত শাস্তি এসে যাবে তথা কিয়ামত ঘনিয়ে আসবে তখন আমি (আলামত স্বরূপ) তাদের জন্য জমিন থেকে একটি পশু বের করবো। যা তাদের সাথে এ কথা বলবে যে, মানুষ আমার (আল্লাহ্'র) নিদর্শনে অবিশ্বাসী। (নাম্ল: ৮২)
সে কাফিরদেরকে জখম করে দাগ দিবে। যা উপরোক্ত আয়াতে আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আব্বাসের কিরাত প্রমাণ করে। তিনি পড়েনঃ تُكَلِّمُهُمْ ।