📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 ইয়া’জূজ-মা’জূজের আবির্ভাবের প্রমাণসমূহ

📄 ইয়া’জূজ-মা’জূজের আবির্ভাবের প্রমাণসমূহ


কুর'আনের প্রমাণসমূহঃ

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 কুর’আনের প্রমাণসমূহ

📄 কুর’আনের প্রমাণসমূহ


১. আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ
حَتَّى إِذَا فُتِحَتْ يَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ وَهُمْ مِّنْ كُلِّ حَدَبٍ يَنْسِلُونَ، وَاقْتَرَبَ الْوَعْدُ الْحَقُّ، فَإِذَا هِيَ شَاخِصَةٌ أَبْصَارُ الَّذِينَ كَفَرُوْا، يَا وَيْلَنَا قَدْ كُنَّا فِي غَفْلَةٍ مِّنْ هَذَا بَلْ كُنَّا ظَالِمِينَ.
অর্থাৎ এমনকি যখন ইয়াজুজ-মা'জুজকে মুক্তি দেয়া হবে এবং তারা প্রত্যেক উঁচু ভূমি থেকে নিচে ছুটে আসবে। আর তখনই অমোঘ প্রতিশ্রুতি তথা কিয়ামত আসন্ন হবে। তখন অকস্মাৎ কাফিরদের চক্ষু স্থির হয়ে যাবে। তারা বলবেঃ হায় দুর্ভোগ আমাদের! আমরা তো ছিলাম এ ব্যাপারে একেবারেই উদাসীন। বরং আমরা ছিলাম সরাসরি যালিম। (আম্বিয়া': ৯৬-৯৭)
২. আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ
ثُمَّ أَتْبَعَ سَبَبًا، حَتَّى إِذَا بَلَغَ بَيْنَ السَّدَّيْنِ وَجَدَ مِنْ دُونِهِمَا قَوْمًا لَا يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ قَوْلًا، قَالُوا يَا ذَا الْقَرْنَيْنِ إِنَّ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ مُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ، فَهَلْ نَجْعَلُ لَكَ خَرْجًا، عَلَى أَنْ تَجْعَلَ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمْ سَدًّا، قَالَ مَا مَكَّنِّي فِيْهِ رَبِّي خَيْرٌ ، فَأَعِيْنُونِي بِقُوَّةٍ أَجْعَلْ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُمْ رَدْمًا، آتُونِي زُبَرَ الْحَدِيدِ حَتَّى إِذَا سَاوَى بَيْنَ الصَّدَفَيْنِ قَالَ انْفُخُوْا، حَتَّى إِذَا جَعَلَهُ نَارًا قَالَ آتُونِي أُفْرِغْ عَلَيْهِ قِطْرًا، فَمَا اسْطَاعُوا أَنْ يَظْهَرُوهُ وَمَا اسْتَطَاعُوا لَهُ نَقْبًا، قَالَ هَذَا رَحْمَةً مِنْ رَّبِّي، فَإِذَا جَاءَ وَعْدُ رَبِّي جَعَلَهُ دَكَّاءَ، وَكَانَ وَعْدُ رَبِّي حَقًّا، وَتَرَكْنَا بَعْضَهُمْ يَوْمَئِذٍ يَمُوْجُ فِي بَعْضٍ وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَجَمَعْنَاهُمْ جَمْعًا.
অর্থাৎ আবার সে অন্য পথ ধরলো। যখন সে দু' পর্বত প্রাচীরের মাঝখানে পৌঁছুলো তখন সে এগুলোর পেছনে এমন এক সম্প্রদায়কে দেখতে পেলো যারা তার কথা একেবারেই বুঝতে পারছিলো না। তারা বললোঃ হে যুল-কারনাইন! নিশ্চয়ই ইয়াজুজ-মা'জুজরা দুনিয়াতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তাই আমরা আপনাকে কিছু কর দিলে আপনি কি আমাদের ও তাদের মাঝে একটি প্রাচীর বানিয়ে দেবেন? সে বললোঃ আমার প্রতিপালক আমাকে যে ক্ষমতা দিয়েছেন তা আমার জন্য অনেক উত্তম। সুতরাং তোমরা আমাকে শক্তি ও শ্রম দিয়ে সহযোগিতা করো যাতে আমি তোমাদের ও তাদের মাঝে একটি শক্ত প্রাচীর তৈরি করতে পারি। তোমরা আমার নিকট অনেকগুলো লৌহ টুকরো নিয়ে আসো। যখন লৌহ প্রস্তগুলো উভয় পাড়ের সমান্তরাল হলো তখন সে বললোঃ তোমরা তাতে ফুঁ দিতে থাকো। যখন তা আগুনের ন্যায় উত্তপ্ত হবে তখন তোমরা আমার নিকট অনেকগুলো গলিত তামা নিয়ে আসবে যা আমি লৌহপ্রস্তগুলোর উপর ঢেলে দেবো। এরপর ইয়াজুজ-মা'জুজ তা আর অতিক্রম করতে পারলো না; না পারলো তা ভেদ করতে। তখন যুল-ক্বারনাইন বললোঃ উক্ত কাজের সফলতা আমার প্রভুর নিছক অনুগ্রহ ছাড়া আর কিছুই নয়। যখন আমার প্রভুর প্রতিশ্রুতি (কিয়ামত) ঘনিয়ে আসবে তখন তিনি তা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিবেন। আর আমার প্রভুর প্রতিশ্রুতি অবশ্যই সত্য। সে দিন আমি তাদেরকে ছেড়ে দেবো। তখন তারা দলের পর দল তরঙ্গের ন্যায় মানব বসতির উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। আর তখনই শিঙ্গায় ফুঁ দিয়ে সবাইকে একত্রিত করা হবে। (কাহফঃ ৯২-৯৯)

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 হাদীসের প্রমাণসমূহ

📄 হাদীসের প্রমাণসমূহ


ইয়াজুজ-মা'জুজ সংক্রান্ত হাদীসের সংখ্যা সত্যিই অনেক বেশি। যা মুতাওয়াতিরের পর্যায় পড়ে। নিম্নে এ সংক্রান্ত কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করা হলো।
১. যায়নাব বিন্তে জা'হশ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ একদা রাসূল () ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে আমার নিকট উপস্থিত হয়ে বললেনঃ একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া সত্যিকার কোন মা'বুদ নেই। আরবদের জন্য বড়ো আফসোস! কারণ, তাদের জন্য এক কঠিন অকল্যাণ অপেক্ষা করছে। আজ ইয়াজুজ-মা'জুজের প্রাচীর এতটুকু খুলে ফেলা হয়েছে। রাসূল () শাহাদাত ও বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বয় গোলাকার করে দেখিয়েছেন। যায়নাব বিন্তে জা'হশ বলেনঃ আমি বললামঃ হে আল্লাহ্'র রাসূল! আমরা সবাই কি একেবারেই ধ্বংস হয়ে যাবো; অথচ আমাদের মাঝে নেককার লোকও রয়েছেন। রাসূল () বললেনঃ অবশ্যই, যখন অশ্লীলতা ও অপকর্ম সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিস্তৃতি লাভ করবে। (বুখারী ৩৩৪৬, ৩৫৯৮; মুসলিম ২৮৮০)
২. নাওয়াস্ বিন্ সাম্'আন থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () 'ঈসা (আঃ) এর বর্ণনা শেষে ইরশাদ করেনঃ অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা 'ঈসা (আঃ) এর নিকট এ মর্মে অহী পাঠাবেন যে, আমি দুনিয়াতে আমার এমন কিছু বান্দাহ্ পাঠাচ্ছি যাদের মুকাবিলা করা কারোর পক্ষেই সম্ভবপর নয়। সুতরাং তুমি আমার মু'মিন বান্দাহদেরকে নিয়ে তুর পাহাড়ে উঠে যাও। অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা ইয়াজুজ-মা'জুজকে পাঠাবেন। তারা প্রত্যেক উঁচু জায়গা থেকে নিচের দিকে দ্রুত অবতরণ করবে। তাদের প্রথম দলটি ত্বাবারিয়া উপসাগরের সকল পানি পান করে ফেলবে। অতঃপর শেষ দলটি এসে বলবেঃ এ উপসাগরে তো একদা পানি ছিলো। এখন কোথায়?! এরা 'ঈসা (আঃ) ও তাঁর সাথীদেরকে ঘেরাও করে ফেলবে। এখনকার এক শত দীনার চাইতেও তখনকার একটি ষাঁড়ের মাথা তাদের জন্য অনেক উত্তম বলে বিবেচিত হবে। তখন 'ঈসা (আঃ) ও তাঁর সাথীরা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার দিকে ধাবিত হবেন। তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাদের ঘাড়ে এক ধরনের পোকা সৃষ্টি করবেন। তখন তারা এক মুহূর্তে সবাই মরে যাবে। অতঃপর 'ঈসা (আঃ) ও তাঁর সাথীরা জমিনে অবতরণ করবেন। তাঁরা জমিনে এমন এক বিঘা জায়গাও খালি পাবেন না যেখানে তাদের গায়ের চর্বি ও দুর্গন্ধ নেই। তখন 'ঈসা (আঃ) ও তাঁর সাথীরা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার দিকে ধাবিত হবেন। অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা এমন এক দল পাখী পাঠাবেন যেগুলো দেখতে বস্তী উটের ঘাড়ের ন্যায়। পাখীগুলো এদেরকে উঠিয়ে নিয়ে যাবে এবং সেখানে নিক্ষেপ করবে যেখানে নিক্ষেপ করা আল্লাহ্ তা'আলা চান। (মুসলিম ২৯৩৭)
অন্য বর্ণনায় রয়েছে, "এ উপসাগরে তো একদা পানি ছিলো" এ কথা বলার পর তারা চলতে চলতে ঘন গাছ বিশিষ্ট একটি পাহাড়ের পাদ দেশে পৌঁছবে। যা বাইতুল মাকদিসের পাহাড় বলে পরিচিত। তখন তারা বলবেঃ আমরা জমিনের সবাইকে মেরে ফেলেছি। আসো! এবার আমরা আকাশে যাঁরা আছেন তাঁদেরকে হত্যা করবো। তখন তাদের বর্শা-বল্লম আকাশের দিকে নিক্ষেপ করবে। যা আল্লাহ্ তা'আলা রক্তাক্ত করে তাদের নিকট ফিরিয়ে দিবেন। (মুসলিম ২৯৩৭)
৩. 'হুযাইফাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ একদা আমরা কিয়ামত সম্পর্কে পরস্পর আলোচনা করছিলাম। এমন সময় রাসূল (সঃ) আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়ে বললেনঃ তোমরা কি আলাপ-আলোচনা করছিলে? আমরা বললামঃ আমরা এতক্ষণ কিয়ামত সম্পর্কেই আলাপ-আলোচনা করছিলাম। তখন রাসূল (সঃ) বললেনঃ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না তোমরা দশটি বড়ো বড়ো আলামত অবলোকন করবে। অতঃপর তিনি উল্লেখ করেনঃ ধোঁয়া, দাজ্জال, একটি বিশেষ পশু, পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উঠা, ঈসা (আঃ) এর অবতরণ, ইয়াজুজ-মা'জুজ, তিন প্রকারের ভূমি ধসঃ পূর্ব দিকে ভূমি ধস, পশ্চিম দিকে ভূমি ধস, আরব উপদ্বীপে ভূমি ধস। সর্বশেষ নিদর্শনটি হচ্ছে ইয়েমেনের আগুন যা সকল মানুষকে হাশরের ময়দানের দিকে তাড়িয়ে নিবে। (মুসলিম ২৯০১)
৪. আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস'উদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ ইস্রা'র রাত্রিতে আমাদের রাসূল (সঃ) ইব্রাহীম; মূসা ও 'ঈসা (আলাইহিমুসসালাম) এর সাথে সাক্ষাৎ করেন। তাঁরা সবাই তখন পরস্পর কিয়ামত সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। তাঁরা উক্ত আলোচনার জন্য 'ঈসা (আঃ) কে আবেদন করলে তিনি দাজ্জালের হত্যার ব্যাপারটি আলোচনা করার পর বলেনঃ এরপর মানুষ তাদের নিজ নিজ শহরে চলে যাবে। তখন হঠাৎ তাদের সম্মুখীন হবে ইয়াজুজ-মা'জুজ। তারা প্রত্যেক উঁচু জায়গা থেকে নিচের দিকে দ্রুত অবতরণ করবে। তারা কোন পানির পাশ দিয়ে যেতে না যেতেই তা পান করে নিঃশেষ করে ফেলবে এবং কোন বস্তুর পাশ দিয়ে যেতে না যেতেই তা ধ্বংস করে ফেলবে। তখন তারা আমার নিকট আশ্রয় নিলে আমি আল্লাহ্ তা'আলার নিকট দো'আ করবো। অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা তাদেরকে মেরে ফেলবেন। তখন পুরো বিশ্ব তাদের দুর্গন্ধে গন্ধময় হয়ে যাবে। পুনরায় তারা আবারো আমার নিকট আশ্রয় নিবে। তখন আমি তাদের জন্য আল্লাহ্ তা'আলার নিকট দো'আ করলে আকাশ ভারী বৃষ্টি বর্ষণ করবে। অতঃপর বৃষ্টির পানি তাদের শরীরগুলোকে স্থল ভাগ থেকে ভাসিয়ে নিয়ে নদীতে নিক্ষেপ করবে। ('হাকিম ৪/৪৮৮-৪৮৯ আহমাদ ৪/১৮৯-১৯০)
৫. আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ( ইরশাদ করেনঃ একদা ইয়াজুজ-মা'জুজ মানব সমাজে পদার্পণ করে সকল পানি পান করে ফেলবে। তাদেরকে দেখে মানুষ পালিয়ে যাবে। তখন তারা আকাশের দিকে তীর নিক্ষেপ করলে রক্তাক্ত হয়ে তীরগুলো তাদের নিকট ফিরে আসবে। তখন তারা বলবেঃ বিশ্ববাসীকে তো পরাজিতই করলাম। আর এখন আকাশবাসীর উপরও জয়ী হলাম। তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাদের ঘাড়ে এক ধরনের পোকা সৃষ্টি করবেন। তখন তারা এক মুহূর্তেই সবাই ধ্বংস হয়ে যাবে। সে সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন! বিশ্বের সকল পশু তখন এদের গোস্ত খেয়ে মোটা-তাজা হয়ে যাবে। (তিরমিযী ৮/৫৯৭-৫৯৯ ইবনু মাজাহ্ ২/১৩৬৪-১৩৬৫ 'হাকিম ৪/৪৮৮)

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 ইয়া’জূজ-মা’জূজের প্রাচীর

📄 ইয়া’জূজ-মা’জূজের প্রাচীর


যুল-কারনাইন বাদশাহ্ উক্ত প্রাচীর নির্মাণ করেন। যাতে ইয়াজুজ- মা'জুজ ও তাদের প্রতিপক্ষদের মাঝে একটি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ
قَالُوا يَا ذَا الْقَرْنَيْنِ إِنَّ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ مُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ، فَهَلْ نَجْعَلُ لَكَ خَرْجًا، عَلَى أَنْ تَجْعَلَ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمْ سَدًّا، قَالَ مَا مَكَّنِي فِيْهِ رَبِّي خَيْرٌ، فَأَعِيْنُونِي بِقُوَّةٍ أَجْعَلْ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُمْ رَدْمًا.
অর্থাৎ তারা বললোঃ হে যুল-কারনাইন! নিশ্চয়ই ইয়াজুজ-মা'জুজরা দুনিয়াতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তাই আমরা আপনাকে কিছু কর দিলে আপনি কি আমাদের ও তাদের মাঝে একটি প্রাচীর বানিয়ে দেবেন? সে বললোঃ আমার প্রতিপালক আমাকে যে ক্ষমতা দিয়েছেন তা আমার জন্য অনেক উত্তম। সুতরাং তোমরা আমাকে শক্তি ও শ্রম দিয়ে সহযোগিতা করো যাতে আমি তোমাদের ও তাদের মাঝে একটি শক্ত প্রাচীর তৈরি করতে পারি। (কাহফ: ৯৪-৯৫)
উক্ত প্রাচীরটি বিশ্বের পূর্ব দিকে। যা কুর'আনের নিম্নোক্ত আয়াত থেকে বুঝা যায়। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ
حَتَّى إِذَا بَلَغَ مَطْلِعَ الشَّمْسِ وَجَدَهَا تَطْلُعُ عَلَى قَوْمٍ لَّمْ نَجْعَلْ لَّهُمْ مِّنْ دُونِهَا سِتْرًا.
অর্থাৎ চলতে চলতে যখন সে সূর্যোদয় স্থলে পৌঁছালো তখন সে দেখলো ওটা এমন এক সম্প্রদায়ের উপর উদিত হচ্ছে যাদের জন্য সূর্য তাপ থেকে আত্মরক্ষার কোন অন্তরাল আমি সৃষ্টি করিনি। (কাহফ: ৯০)
তবে উক্ত প্রাচীরের সঠিক স্থান এখনো কেউ টের করতে পারেনি। তবুও আমাদের এ কথা বিশ্বাস করতে হবে যে, প্রাচীরটি এখনো বিদ্যমান। যখন কিয়ামত ঘনিয়ে আসবে তখন ইয়াজুজ-মা'জুজ তা ভেঙ্গে চুরমার করে জনসমাজে অবতরণ করবে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ
قَالَ هَذَا رَحْمَةً مِّنْ رَّبِّي، فَإِذَا جَاءَ وَعْدُ رَبِّي جَعَلَهُ دَكَّاءَ، وَكَانَ وَعْدُ رَبِّي حَقًّا، وَتَرَكْنَا بَعْضَهُمْ يَوْمَئِذٍ يَمُوْجُ فِي بَعْضٍ، وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَجَمَعْنَاهُمْ جَمْعًا.
অর্থাৎ তখন যুল-কারনাইন বললোঃ উক্ত কাজের সফলতা আমার প্রভুর নিছক অনুগ্রহ ছাড়া আর কিছুই নয়। যখন আমার প্রভুর প্রতিশ্রুতি (কিয়ামত) ঘনিয়ে আসবে তখন তিনি তা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিবেন। আর আমার প্রভুর প্রতিশ্রুতি অবশ্যই সত্য। সে দিন আমি তাদেরকে ছেড়ে দেবো। তখন তারা দলের পর দল তরঙ্গের ন্যায় মানব বসতির উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। আর তখনই শিঙ্গায় ফুঁ দিয়ে সবাইকে একত্রিত করা হবে। (কাহফ ৯৮-৯৯)
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
তারা (ইয়াজুজ-মা'জুজ) প্রতি দিন প্রাচীরটি খনন করবে। ছিদ্র করতে একটু বাকি থাকাবস্থায় তাদের নেতা বলবেঃ এখন তোমরা চলে যাও। আগামী কাল তা তোমরা ছিদ্র করে ফেলবে। ইতিমধ্যে আল্লাহ্ তা'আলা তা আগের মতো করে শক্ত দিবেন। এভাবেই তারা প্রতিদিন করতে থাকবে। যখন তারা নির্ধারিত সময়ে পৌঁছুবে এবং আল্লাহ্ তা'আলা তাদেরকে জনসমাজে পাঠাতে ইচ্ছে করবেন তখন তাদের নেতা বলবেঃ এখন তোমরা চলে যাও। আগামী কাল ইন্‌শাআল্লাহ্ (আল্লাহ্ চায় তো) তা তোমরা ছিদ্র করে ফেলবে। তখন তারা ফিরে যাবে এবং প্রাচীরটি খনন করা অবস্থায় থেকে যাবে। অতঃপর পরের দিন তারা প্রাচীরটি ছিদ্র করে জনসমাজে বের হয়ে যাবে। তখন তারা জমিনের সকল পানি পান করে ফেলবে এবং মানুষ তাদেরকে দেখে পালিয়ে যাবে। (তিরমিযী ৮/৫৯৭-৫৯৯ ইবনু মাজাহ্ ২/১৩৬৪-১৩৬৫ 'হাকিম ৪/৪৮৮)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00