📄 ‘ঈসা (আঃ) কোন্ শরীয়তের আলোকে বিচার কার্য পরিচালনা করবেন?
‘ঈসা (আঃ) মুহাম্মাদী শরীয়তের আলোকে বিচার কার্য পরিচালনা করবেন। কারণ, তিনি হবেন তখন আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) এর একান্ত অনুসারী। তিনি তখন কোন নতুন শরীয়ত নিয়ে আসবেন না। কারণ, ইসলাম ধর্মই সর্বশেষ ধর্ম। যা কিয়ামত পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। কখনো রহিত হবে না। সুতরাং ‘ঈসা (আঃ) হবেন এ উম্মতের একজন যোগ্য প্রশাসক। যিনি ইসলামের সকল বিধি-বিধানকে পুনরুজ্জীবিত করবেন। কারণ, আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) এর পর আর কোন নবী আসবেন না। তিনিই হচ্ছেন সর্বশেষ নবী।
‘ঈসা (আঃ) দুনিয়াতে অবতরণ করার পূর্বেই আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁকে মুহাম্মাদী শরীয়তের প্রয়োজনীয় সব কিছু শিখিয়ে দিবেন। যাতে তিনি তা দিয়ে মানুষের মাঝে বিচার কার্য পরিচালনা করতে পারেন এবং নিজেও তা আমল করতে পারেন। তখন মু’মিনরা তাঁর কাছেই একত্রিত হবে এবং তাঁকেই তাদের বিচারক রূপে মেনে নিবে।
‘ঈসা (আঃ) যে দুনিয়া থেকে একেবারেই জিযিয়া কর উঠিয়ে দিবেন যা ইতিপূর্বে ইসলাম ধর্মে বলবৎ থাকবে তা এ কথা প্রমাণ করে না যে, তিনি নতুন শরীয়ত নিয়ে আসবেন। বরং রাসূল (ﷺ) নিজেই জিযিয়া করের বিধানটি যে ‘ঈসা (আঃ) এর অবতরণ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে; এর পরে যে তা আর বলবৎ থাকবে না তা নিজ হাদীসে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং তিনিই তা রহিত হওয়ার সময় বাতলিয়ে দিয়েছেন এবং পরবর্তী করণীয় ঘোষণা করেছেন।
📄 ‘ঈসা (আঃ) এর যুগে সামগ্রিক নিরাপত্তা বাস্তবায়িত হবে এবং সমূহ বরকত নাযিল হবে
'ঈসা (আঃ) এর যুগটি হবে শান্তি, নিরাপত্তা ও সচ্ছলতার যুগ। আল্লাহ্ তা'আলা সে যুগে প্রচুর বৃষ্টি দিবেন। জমিন তার সকল উর্বর শক্তি বিনিয়োগ করে প্রচুর ফলন দিবে। পুরো দুনিয়া সম্পদে ভরে যাবে। সকল ধরনের শত্রুতা, হিংসা ও বিদ্বেষ তিরোহিত হবে।
নাওয়াস্ বিন্ সাম'আন (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ একদা রাসূল (সাঃ) দাজ্জال, 'ঈসা (আঃ) ও ইয়াজুজ-মা'জুজের আলোচনা করতে গিয়ে বলেনঃ অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা এমন এক বৃষ্টি দিবেন যা থেকে মাটি বা পশমের কোন ঘরই কাউকে রক্ষা করতে পারবে না। তখন জমিন ধুয়ে-মুছে একেবারে আয়নার ন্যায় চকচক করতে থাকবে। অতঃপর জমিনকে বলা হবেঃ নিজের সকল উর্বর শক্তি বিনিয়োগ করো এবং সকল প্রকারের ফল-ফলাদি উৎপন্ন করো। তখন এক গোষ্ঠী মানুষ একটি আনার খেয়ে তার খোসার নিচে ছায়া গ্রহণ করবে। এমনকি আল্লাহ্ তা'আলা গৃহ পালিত পশুর স্তনে বরকত দিয়ে দিবেন। তখন একটি উটের দুধ এক দল মানুষের জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে। একটি গাভীর দুধ একটি বড়ো বংশের জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে। একটি ছাগলের দুধ একটি ছোট বংশের জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে। (মুসলিম ২৯৩৭)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ নবীগণ একে অপরের বিমাতা ভাই। তাঁদের মা ভিন্ন। তবে ধর্ম এক। আমি 'ঈসা (আঃ) এর অতি নিকটবর্তী ব্যক্তি। কারণ, আমি ও তাঁর মাঝে আর কোন নবী আসেননি। তিনি আবারো (আকাশ থেকে) দুনিয়াতে অবতীর্ণ হবেন। তাঁর যুগেই আল্লাহ্ তা'আলা দাজ্জالকে ধ্বংস করবেন। দুনিয়ার বুকে তখন পূর্ণ নিরাপত্তা বিরাজ করবে। এমনকি তখন উট ও সিংহ, গাভী ও চিতা বাঘ, ছাগল ও নেকড়ে একই সাথে চারণ ভূমিতে বিচরণ করবে এবং বাচ্চারা সাপ নিয়ে খেলা করবে; অথচ একে অপরের কোন ক্ষতিই করবে না। (আহমাদ ২/৪০৬)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ আল্লাহ্'র কসম! নিশ্চয়ই 'ঈসা বিন্ মারইয়াম (আঃ) (তোমাদের মাঝে) এক জন ইনসাফ প্রতিষ্ঠাকারী প্রশাসক রূপে অবতীর্ণ হবেন। তিনি ক্রুশ চিহ্ন ভেঙ্গে ফেলবেন, শূকরকে হত্যা করবেন এবং জিযিয়া কর দুনিয়া থেকে একেবারেই উঠিয়ে দিবেন। সতেজ উটও তখন পরিত্যক্ত হবে। তার পিঠে তখন আর কেউ চড়বে না। সকল ধরনের হিংসা, বিদ্বেষ, শত্রুতা তখন তিরোহিত হবে। তিনি তখন মানুষদেরকে ধন-সম্পদ নিতে ডাকবেন; অথচ কেউই তা নিতে আসবে না। (মুসলিম ২৪৩)
📄 ‘ঈসা (আঃ) এর জীবন ও মৃত্যু
কোন কোন বর্ণনায় রয়েছে, 'ঈসা (আ.) আকাশ থেকে অবতীর্ণ হওয়ার পর সাত বছর দুনিয়াতে অবস্থান করবেন। আবার কোন কোন বর্ণনায় রয়েছে চার বছর।
আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা 'ঈসা (আ.) কে দুনিয়াতে পাঠাবেন। দেখতে যেন তিনি সাহাবী 'উরওয়াহ্ বিন্ মাস্'ঊদ। অতঃপর তিনি দাজ্জালকে খুঁজে বের করে তাকে হত্যা করবেন। তখন সাত বছর যাবত মানুষ দুনিয়াতে এমনভাবে অবস্থান করবে যে, পাশাপাশি অবস্থানরত দু' জনের মধ্যে কোন শত্রুতাই থাকবে না। অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা সিরিয়ার দিক থেকে এমন একটি ঠাণ্ডা বাতাস প্রবাহিত করবেন। যার দরুন তখন দুনিয়ার বুকে এমন কোন ব্যক্তি বেঁচে থাকবে না যার অন্ত রে সামান্যটুকু ঈমান বা কল্যাণ রয়েছে।
ইমাম আহমাদ ও আবূ দাউদের বর্ণনায় রয়েছে, অতঃপর তিনি ('ঈসা (আ.)) দুনিয়াতে চল্লিশ বছর অবস্থান করে পরিশেষে মৃত্যু বরণ করবেন। মুসলমানরাই তখন তাঁর জানাযার নামায আদায় করবে। (আহমাদ্ ২/৪০৬ আবূ দাউদ, হাদীস ৪৩২৪)
উপরের দু'টো বর্ণনাই সঠিক। তবে উভয়ের মাঝে সমন্বয় সাধন এ ভাবেই সম্ভব যে, 'ঈসা (আ.) আকাশ থেকে অবতীর্ণ হওয়ার পর দুনিয়াতে সাত বছরই অবস্থান করেন। আর তাঁকে আকাশে উঠিয়ে নেয়া হয় তেত্রিশ বছর বয়সে। তা হলে তাঁর সর্বমোট বয়স চল্লিশ বছর যা দ্বিতীয় বর্ণনায় বর্ণিত হয়েছে।