📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 ‘ঈসা (আঃ) এর অবতরণ সংক্রান্ত হাদীসগুলো সত্যিই মুতাওয়াতির

📄 ‘ঈসা (আঃ) এর অবতরণ সংক্রান্ত হাদীসগুলো সত্যিই মুতাওয়াতির


ইতিপূর্বে 'ঈসা (আঃ) এর অবতরণ সংক্রান্ত কিছু হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এ ক্ষুদ্র পুস্তিকায় এতদ্‌ সংক্রান্ত সকল হাদীস উল্লেখ করা সত্যিই অপ্রয়োজনীয়। কারণ, এ সংক্রান্ত হাদীসগুলো আপনি যে কোন সহীহ হাদীস গ্রন্থ, সুনান, মাসানীদ ইত্যাদিতে সহজেই পেয়ে যাবেন। এখন আমাদের যা জানার বিষয় তা হচ্ছে এ সংক্রান্ত হাদীসগুলো সত্যিই মুতাওয়াতির। যা যুগ শ্রেষ্ঠ বিশিষ্ট আলিমগণ স্বীকার করেছেন। নিম্নে তাঁদের কয়েকটি উক্তি উদ্ধৃত হলোঃ
'আল্লামাহ্ ইবনু জরীর (রাহিমাহুল্লাহ( إِنِّي مُتَوَفِّيكَ وَرَافِعُكَ إِلَيَّ
আয়াতের ব্যাখ্যায় 'ঈসা (আঃ) এর মৃত্যুর ব্যাপারে আলিমদের অনৈক্য উল্লেখের পর বলেনঃ উক্ত আয়াতের সঠিক অর্থ হচ্ছে আমি তোমাকে দুনিয়া থেকে আমার কাছে উঠিয়ে নিয়ে আসবো। উক্ত অর্থ এ জন্যই বলতে হবে যে, কারণ শেষ যুগে 'ঈসা (আঃ) এর অবতরণ এবং দাজ্জালকে হত্যা করার ব্যাপারটি রাসূল (সাঃ) এর পক্ষ থেকে মুতাওয়াতির রিওয়াতে বর্ণিত। অতঃপর তিনি এ সংক্রান্ত কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করেন। (ত্বাবারী ৩/২৯১)
'আল্লামাহ্ ইব্‌দু কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ রাসূল (সাঃ) এর পক্ষ থেকে মুতাওয়াতির রিওয়াতে বর্ণিত হয়েছে যে, 'ঈসা (আঃ) কিয়ামতের পূর্বক্ষণে ন্যায়পরায়ণ প্রশাসক রূপে দুনিয়াতে অবতীর্ণ হবেন। অতঃপর তিনি এ সংক্রান্ত আঠারোটি হাদীস বর্ণনা করেন। (ইবনু কাসীর: ৭/২২৩)
'আল্লামাহ্ সিদ্দীক হাসান খান (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ 'ঈসা (আঃ) এর অবতরণ সংক্রান্ত হাদীস অনেক বেশি। 'আল্লামাহ্ শওকানী (রাহিমাহুল্লাহ) এ সংক্রান্ত উনত্রিশটি হাদীস উল্লেখ করেন। যা সহীহ, হাসান ও গ্রহণযোগ্য দুর্বল। এর কিছু দাজ্জাল সংক্রান্ত হাদীসের অধীনে উল্লিখিত হয়েছে। আর কিছু মাহ্দী সংক্রান্ত হাদীসের অধীনে। এর পাশাপাশি এ ব্যাপারে সাহাবাদেরও অনেকগুলো বর্ণনা রয়েছে। যা তাঁরা রাসূল (সাঃ) থেকে শুনেছেন বলে ধরে নেয়া হয়। অতঃপর তিনি অনেকগুলো হাদীস বর্ণনা করে বলেনঃ আমি ইতিপূর্বে যা বর্ণনা করেছি তা মুতাওয়াতিরের পর্যায়ে পড়ে। (আল-ইযা'আহ্ ১৬০)
'আল্লামাহ্ গুমারী বলেনঃ 'ঈসা (আঃ) এর অবতরণ সংক্রান্ত কথা সাহাবা, তাবি'য়ীন, তাবে' তাবি'য়ীন এবং সকল মাযহাবের ইমাম ও আলিমগণ যুগ যুগ ধরে বলে আসছেন।
তিনি আরো বলেনঃ 'ঈসা (আঃ) এর অবতরণের ব্যাপারটি মুতাওয়াতির হাদীস কর্তৃক প্রমাণিত। যা একমাত্র গণ্ড মূর্খ ছাড়া আর কেউই অস্বীকার করতে পারেন না। কারণ, তা প্রতি যুগে একটি বড়ো দল অন্য আরেকটি বড়ো দল থেকে বর্ণনা করেছে। এমনকি তা পরিশেষে হাদীসের কিতাবগুলোতে অবস্থান নিয়েছে। যা এক প্রজন্মের পর অন্য প্রজন্ম সঠিক বলে গ্রহণ করে নিয়েছে।
('আক্বীদাতু আহলিস-সুন্নাহ্ ওয়াল-জামা'আহ্: ৫, ১২)
অতঃপর তিনি পঁচিশ জনেরও বেশি সাহাবীর নাম উল্লেখ করেন। যাঁরা উক্ত বিষয়ে রাসূল () এর হাদীস বর্ণনা করেন। তাঁদের থেকে বর্ণনা করেন ত্রিশ জনেরও বেশি তাবি'য়ী। এর চাইতেও আরো বেশি বর্ণনা করেন তাবে' তাবি'য়ীন।... এমনকি তা হাদীসের ইমামগণ তাঁদের কিতাবসমূহে উল্লেখ করেন। যা সহীহ হাদীস বিশারদ ইমাম বুখারী, মুসলিম, ইবনু খুযাইমাহ্, ইবনু হিব্বান, 'হাকিম, আবূ 'আওয়ানাহ্, ইসমা'ঈলী, যিয়া' আল-মাক্বদিসী সহ আরো অন্যন্যরা বর্ণনা করেন। অন্য দিকে মুস্লাদ গ্রন্থকার ইমাম তুয়ালিসী, ইস'হাক্ব বিন্ রাহুয়া, আহমাদ বিন্ 'হাম্বাল, 'উসস্মান বিন্ আবূ শাইবাহ্, আবূ ইয়া'লা, বায্যার, দাইলামী সহ আরো অন্যান্যরাও হাদীসটি বর্ণনা করেন। এ ছাড়া জাওয়ামি', মুস্বান্নাফাত, সুনান, তাফসীর বিল-মা'সূর, মা'আজিম, আজযা', গারা'ইব, মু'জিযাত, তাবাক্বাত এবং মালা'হিম লেখকরাও উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেন।
'আল্লামাহ্ আনোয়ার শাহ্ কাশ্মিরী (রাহিমাহুল্লাহ) "আত-তাস্বরীহ্ বিমা তাওয়াতারা ফী নুযূলিল মাসীহ্" কিতাবে এ সংক্রান্ত সত্তরটিরও বেশি হাদীস উল্লেখ করেন।
'আল্লামাহ্ শামসুল হকু আযীম আবাদী (রাহিমাহুল্লাহ) ""আউনুল মা'বৃদ" কিতাবে লিখেনঃ কিয়ামতের পূর্বে স্বশরীরে আকাশ থেকে 'ঈসা বিন্ মারইয়াম (আঃ) এর অবতরণ মুতাওয়াতির হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। যা আহলে সুন্নাত ওয়াল-জামা'আতের বিশেষ মতবাদ। ('আউনুল-মা'বুদ: ১১/৪৫৭)
শায়েখ আহমেদ শাকির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ শেষ যুগে 'ঈসা (আঃ) এর অবতরণের ব্যাপারে সকল মুসলমান একমত। কারণ, এ ব্যাপারে রাসূল () এর পক্ষ থেকে অনেকগুলো বিশুদ্ধ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। উপরন্তু এ ব্যাপারটি ইসলামের একটি সুস্পষ্ট বিষয়। যা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। বরং কেউ তা অস্বীকার করলে সে কাফির হয়ে যাবে। (কুরতুবী/টিকা ৬/৪৬০)
তিনি আরো বলেনঃ বর্তমান যুগের কিছু সংস্কারপন্থী আলিমের দাবিদাররা কিয়ামতের পূর্বে তথা দুনিয়ার শেষ লগ্নে 'ঈসা (আঃ) এর অবতরণ সংক্রান্ত সুস্পষ্ট হাদীসগুলোর কখনো অপব্যাখ্যা আবার কখনো সরাসরি অস্বীকার করেছে। মূলতঃ তারা গায়েবে বিশ্বাস করে না অথবা বিশ্বাস করতে চায় না; অথচ এ সংক্রান্ত হাদীসগুলো আর্থিক মুতাওয়াতির। যা ইসলামের একটি সুস্পষ্ট ব্যাপারও বটে। সুতরাং এর অপব্যাখ্যা বা অস্বীকার কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। (আহমাদ/টিকা ১২/২৫৭)
'আল্লামাহ্ শায়েখ মুহাম্মাদ না'সিরুদ্দীন আল্ল্বানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এ কথা জেনে রাখো যে, দাজ্জال ও 'ঈসা (আ.) এর অবতরণ সংক্রান্ত হাদীসগুলো মুতাওয়াতির। সুতরাং এগুলোর উপর ঈমান আনা ওয়াজিব। ওদের কথায় কখনো ধোঁকা খাবে না যারা বলেঃ এ সংক্রান্ত হাদীসগুলো একক ব্যক্তি কর্তৃক বর্ণিত। মূলতঃ এরা হাদীস সম্পর্কে একেবারেই মূর্খ। কারণ, তারা এ হাদীসগুলোর সকল বর্ণনধারা সম্পর্কে অবগত নয়।
বিষয়টি কিন্তু সাধারণ নয়। যা অবহেলা করা যায়। বরং তা একান্ত 'আক্বীদাগত ব্যাপার। যা আহলে সুন্নাত ওয়াল-জামা'আতের একটি বিশেষ 'আক্বীদা বলে পরিগণিত।
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল (রাহিমাহুল্লাহ) আহলে সুন্নাত ওয়াল-জামা'আতের 'আক্বীদা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনঃ আরেকটি আক্বীদা হলো এ কথা বিশ্বাস করা যে, দাজ্জال একদা বেরুবে। যার দু' চোখের মাঝখানে লেখা থাকবে "কাফির"। এ সংক্রান্ত হাদীসগুলো বিশ্বাস করবে এবং এ কথাও বিশ্বাস করবে যে, ব্যাপারটি অবশ্যই ঘটবে। ইতিমধ্যে 'ঈসা (আ.) অবতীর্ণ হবেন এবং তিনি লুদ্দ নামক গেইটের নিকট তাকে হত্যা করবেন। (ত্বাবাকাতুল-'হানাবিলাহ্ ১/২৪৩)
ইমাম আবূ ল-'হাসান আশ'আরী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ আহলে সুন্নাত ওয়াল-জামা'আতের 'আক্বীদা হলো এই যে,... তারা দাজ্জালের বের হওয়া স্বীকার করে এবং 'ঈসা (আ.) যে তাকে হত্যা করবেন তাও বিশ্বাস করে। (মাক্বালাতুল-ইসলামিয়িয়ন ১/৩৪৫-৩৪৮)
ইমাম ত্বা'হাওয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ আমরা কিয়ামতের সকল আলামতে বিশ্বাসী। যেমনঃ দাজ্জালের বের হওয়া এবং আকাশ থেকে 'ঈসা (আ.) এর অবতরণ। (শর'হুল-আক্বীদাতিত-ত্বা'হাওয়িয়‍্যাহ / আলবানী ৫৬৪)
'আল্লামাহ্ ক্বাযী 'ইয়ায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ 'ঈসা (আ.) এর অবতরণ এবং তাঁর দাজ্জালকে হত্যা করার বিষয়টি বাস্তব সত্য। কারণ, এ ব্যাপারে অনেকগুলো বিশুদ্ধ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। মানুষের বিবেক-বুদ্ধি এবং শরীয়তও এর বিরোধিতা করে না। সুতরাং তা মানতেই হবে। (শরহু সহীহি মুসলিম ১৮/৭৫)
'আল্লামাহ্ শাইখুল-ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ 'ঈসা (আঃ) অবশ্যই দুনিয়াতে অবতরণ করবেন।... যা অনেকগুলো বিশুদ্ধ হাদীস কর্তৃক প্রমাণিত। আর এ কারনেই তিনি দ্বিতীয় আকাশে অবস্থান করছেন; অথচ তিনি ইউসুফ, ইদ্রীস ও হারুন (আলাইহিসসালাম) চেয়েও উত্তম। আদম (আঃ) তো দুনিয়ার আকাশে এ জন্যই আছেন। কারণ, তাঁর নিকট তাঁর সকল সন্তানের রূহ্ উপস্থাপন করা হয়। (ফাতাওয়া ৪/৩২৯)

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 অন্য কেউ নন শুধুমাত্র ‘ঈসা (আঃ) ই কিয়ামতের পূর্বে দুনিয়াতে অবতরণ করবেন এমন কেন?

📄 অন্য কেউ নন শুধুমাত্র ‘ঈসা (আঃ) ই কিয়ামতের পূর্বে দুনিয়াতে অবতরণ করবেন এমন কেন?


উপরোক্ত প্রশ্নের উত্তরে বিশিষ্ট আলিমগণ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মত ব্যক্ত করেন যা নিম্নে প্রদত্ত হলোঃ
১. 'ঈসা (আঃ) সম্পর্কে ইহুদিদের ধারণা এই যে, তারা তাঁকে হত্যা করেছে। তাই আল্লাহ্ তা'আলা তাদের কথা মিথ্যা প্রমাণিত করার জন্যই তাঁকে দুনিয়াতে পাঠাবেন। তিনিই তাদেরকে হত্যা করবেন। যেমনিভাবে হত্যা করবেন তাদের গুরু মিথ্যুক দাজ্জالকে।
২. 'ঈসা (আঃ) একদা ইঞ্জিলের মধ্যে মুহাম্মাদ (সঃ) এর উম্মতের শ্রেষ্ঠত্ব অবলোকন করে তাঁর উম্মত হওয়ার আশা প্রকাশ করেন। আল্লাহ্ তা'আলার নিকট এ ব্যাপারে দু'আ করলে তিনি তা কবুল করেন। তাই তিনি শেষ যুগে দুনিয়াতে অবতরণ করে ইসলামের সকল বিধি-বিধানকে পুনর্জীবিত করবেন।
'আল্লামাহ্ ইমাম যাহাবী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর "তাজরীদু আসমা'ইস- সাহাবাহ্” নামক কিতাবে 'ঈসা (আঃ) এর জীবনী উল্লেখ করতে গিয়ে বলেনঃ 'ঈসা বিন্ মারইয়াম একজন সাহাবী। তিনি একদা একজন গুরুত্বপূর্ণ নবীও ছিলেন। তিনি ইসরা' এর রাত্রিতে আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁদের মধ্যে পরস্পর সালাম বিনিময় হয়। তাই তিনি রাসূল (সঃ) এর সর্বশেষ সাহাবী।
৩. 'ঈসা (আঃ) তাঁর মৃত্যুর পূর্বে দুনিয়াতে অবতরণ করবেন। যাতে তাঁকে জমিনেই দাফন করা সম্ভব হয়। কারণ, মাটির সৃষ্টি মাটিতেই মৃত্যু বরণ করবে। অন্য কোথাও নয়।
৪. 'ঈসা (আঃ) খ্রিস্টানদেরকে মিথ্যুক প্রমাণিত করতেই শেষ যুগে দুনিয়াতে অবতরণ করবেন। তিনি তাদের বাতিল দাবিগুলোর অসারতা প্রমাণ করবেন। তখন ইসলাম ছাড়া আর কোন ধর্মই থাকবে না। তিনি ক্রুশ চিহ্ন ভেঙ্গে ফেলবেন, শূকরকে হত্যা করবেন এবং জিযিয়া কর দুনিয়া থেকে একেবারেই উঠিয়ে দিবেন তথা তিনি ইসলাম ছাড়া জিযিয়া কর গ্রহণ করবেন না।
৫. ‘ঈসা (আঃ) এর উক্ত বিশেষত্ব এ জন্যই যে, আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) একদা তাঁর সম্পর্কে বলেনঃ আমি মানুষদের মধ্যে ‘ঈসা (আঃ) এর সব চাইতে অধিক নিকটবর্তী ব্যক্তি। কারণ, তাঁর ও আমার মাঝে আর কোন নবী আসেননি। (বুখারী ৩৪৪২; মুসলিম ২৩৬৫)
তেমনিভাবে ‘ঈসা (আঃ) ও আমাদের রাসূল (ﷺ) এর আগমন সম্পর্কে মানুষদেরকে সুসংবাদ দিয়েছেন এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনতে সবাইকে উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
রাসূল (ﷺ) কে একদা তাঁর নিজের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, আমি তো ইব্রাহীম (আঃ) এর দো‘আ এবং ‘ঈসা (আঃ) এর সুসংবাদ। (আহমাদ ৪/১২৭, ৫/২৬২)

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 ‘ঈসা (আঃ) কোন্ শরীয়তের আলোকে বিচার কার্য পরিচালনা করবেন?

📄 ‘ঈসা (আঃ) কোন্ শরীয়তের আলোকে বিচার কার্য পরিচালনা করবেন?


‘ঈসা (আঃ) মুহাম্মাদী শরীয়তের আলোকে বিচার কার্য পরিচালনা করবেন। কারণ, তিনি হবেন তখন আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) এর একান্ত অনুসারী। তিনি তখন কোন নতুন শরীয়ত নিয়ে আসবেন না। কারণ, ইসলাম ধর্মই সর্বশেষ ধর্ম। যা কিয়ামত পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। কখনো রহিত হবে না। সুতরাং ‘ঈসা (আঃ) হবেন এ উম্মতের একজন যোগ্য প্রশাসক। যিনি ইসলামের সকল বিধি-বিধানকে পুনরুজ্জীবিত করবেন। কারণ, আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) এর পর আর কোন নবী আসবেন না। তিনিই হচ্ছেন সর্বশেষ নবী।
‘ঈসা (আঃ) দুনিয়াতে অবতরণ করার পূর্বেই আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁকে মুহাম্মাদী শরীয়তের প্রয়োজনীয় সব কিছু শিখিয়ে দিবেন। যাতে তিনি তা দিয়ে মানুষের মাঝে বিচার কার্য পরিচালনা করতে পারেন এবং নিজেও তা আমল করতে পারেন। তখন মু’মিনরা তাঁর কাছেই একত্রিত হবে এবং তাঁকেই তাদের বিচারক রূপে মেনে নিবে।
‘ঈসা (আঃ) যে দুনিয়া থেকে একেবারেই জিযিয়া কর উঠিয়ে দিবেন যা ইতিপূর্বে ইসলাম ধর্মে বলবৎ থাকবে তা এ কথা প্রমাণ করে না যে, তিনি নতুন শরীয়ত নিয়ে আসবেন। বরং রাসূল (ﷺ) নিজেই জিযিয়া করের বিধানটি যে ‘ঈসা (আঃ) এর অবতরণ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে; এর পরে যে তা আর বলবৎ থাকবে না তা নিজ হাদীসে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং তিনিই তা রহিত হওয়ার সময় বাতলিয়ে দিয়েছেন এবং পরবর্তী করণীয় ঘোষণা করেছেন।

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 ‘ঈসা (আঃ) এর যুগে সামগ্রিক নিরাপত্তা বাস্তবায়িত হবে এবং সমূহ বরকত নাযিল হবে

📄 ‘ঈসা (আঃ) এর যুগে সামগ্রিক নিরাপত্তা বাস্তবায়িত হবে এবং সমূহ বরকত নাযিল হবে


'ঈসা (আঃ) এর যুগটি হবে শান্তি, নিরাপত্তা ও সচ্ছলতার যুগ। আল্লাহ্ তা'আলা সে যুগে প্রচুর বৃষ্টি দিবেন। জমিন তার সকল উর্বর শক্তি বিনিয়োগ করে প্রচুর ফলন দিবে। পুরো দুনিয়া সম্পদে ভরে যাবে। সকল ধরনের শত্রুতা, হিংসা ও বিদ্বেষ তিরোহিত হবে।
নাওয়াস্ বিন্ সাম'আন (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ একদা রাসূল (সাঃ) দাজ্জال, 'ঈসা (আঃ) ও ইয়াজুজ-মা'জুজের আলোচনা করতে গিয়ে বলেনঃ অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা এমন এক বৃষ্টি দিবেন যা থেকে মাটি বা পশমের কোন ঘরই কাউকে রক্ষা করতে পারবে না। তখন জমিন ধুয়ে-মুছে একেবারে আয়নার ন্যায় চকচক করতে থাকবে। অতঃপর জমিনকে বলা হবেঃ নিজের সকল উর্বর শক্তি বিনিয়োগ করো এবং সকল প্রকারের ফল-ফলাদি উৎপন্ন করো। তখন এক গোষ্ঠী মানুষ একটি আনার খেয়ে তার খোসার নিচে ছায়া গ্রহণ করবে। এমনকি আল্লাহ্ তা'আলা গৃহ পালিত পশুর স্তনে বরকত দিয়ে দিবেন। তখন একটি উটের দুধ এক দল মানুষের জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে। একটি গাভীর দুধ একটি বড়ো বংশের জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে। একটি ছাগলের দুধ একটি ছোট বংশের জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে। (মুসলিম ২৯৩৭)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ নবীগণ একে অপরের বিমাতা ভাই। তাঁদের মা ভিন্ন। তবে ধর্ম এক। আমি 'ঈসা (আঃ) এর অতি নিকটবর্তী ব্যক্তি। কারণ, আমি ও তাঁর মাঝে আর কোন নবী আসেননি। তিনি আবারো (আকাশ থেকে) দুনিয়াতে অবতীর্ণ হবেন। তাঁর যুগেই আল্লাহ্ তা'আলা দাজ্জالকে ধ্বংস করবেন। দুনিয়ার বুকে তখন পূর্ণ নিরাপত্তা বিরাজ করবে। এমনকি তখন উট ও সিংহ, গাভী ও চিতা বাঘ, ছাগল ও নেকড়ে একই সাথে চারণ ভূমিতে বিচরণ করবে এবং বাচ্চারা সাপ নিয়ে খেলা করবে; অথচ একে অপরের কোন ক্ষতিই করবে না। (আহমাদ ২/৪০৬)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ আল্লাহ্'র কসম! নিশ্চয়ই 'ঈসা বিন্ মারইয়াম (আঃ) (তোমাদের মাঝে) এক জন ইনসাফ প্রতিষ্ঠাকারী প্রশাসক রূপে অবতীর্ণ হবেন। তিনি ক্রুশ চিহ্ন ভেঙ্গে ফেলবেন, শূকরকে হত্যা করবেন এবং জিযিয়া কর দুনিয়া থেকে একেবারেই উঠিয়ে দিবেন। সতেজ উটও তখন পরিত্যক্ত হবে। তার পিঠে তখন আর কেউ চড়বে না। সকল ধরনের হিংসা, বিদ্বেষ, শত্রুতা তখন তিরোহিত হবে। তিনি তখন মানুষদেরকে ধন-সম্পদ নিতে ডাকবেন; অথচ কেউই তা নিতে আসবে না। (মুসলিম ২৪৩)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00