📄 ‘ঈসা (আঃ) এর অবতরণের প্রমাণসমূহ
'ঈসা (আঃ) এর অবতরণ কুর'আন ও বিশুদ্ধ মুতাওয়াতির হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। যা কিয়ামতের বড়ো আলামতগুলোর অন্যতম।
📄 ‘ঈসা (আঃ) এর অবতরণের ব্যাপারে কুর’আনের প্রমাণ
১. আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ
وَلَمَّا ضُرِبَ ابْنُ مَرْيَمَ مَثَلًا إِذَا قَوْمُكَ مِنْهُ يَصِدُّوْنَ... وَإِنَّهُ لَعِلْمُ لِلسَّاعَةِ فَلَا تَمْتَرُنَّ بِهَا.
অর্থাৎ যখন 'ঈসা বিন্ মাইয়ামের দৃষ্টান্ত উপস্থান করা হলো তখন তোমার বংশ তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলো।... নিশ্চয়ই 'ঈসা'র (অবতরণ) কিয়ামতের একটি বিশেষ নিদর্শন। সুতরাং তোমরা কিয়ামতের ব্যাপারে কোন সন্দেহ পোষণ করো না। (যুখরুফঃ ৫৭-৬১)
উক্ত আয়াতটির দ্বিতীয় কিরাত ব্যাপারটিকে আরো শক্তিশালী করে। যা নিম্নরূপঃ
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَإِنَّهُ لَعَلَمُ لِلسَّاعَةِ.
অর্থাৎ নিশ্চয়ই 'ঈসা'র (অবতরণ) কিয়ামতের একটি বিশেষ নিদর্শন। (কুরতুবী ১৬/১০৫)
২. আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ
وَقَوْلِهِمْ إِنَّا قَتَلْنَا الْمَسِيحَ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ رَسُولَ اللَّهِ، وَمَا قَتَلُوهُ وَمَا صَلَبُوهُ وَلَكِنْ شُبِّهَ لَهُمْ... بَلْ رَّفَعَهُ اللهُ إِلَيْهِ، وَكَانَ اللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا، وَإِنْ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ إِلَّا لَيُؤْمِنَنَّ بِهِ قَبْلَ مَوْتِهِ، وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يَكُونُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا.
অর্থাৎ উপরন্তু তাদের (ইহুদিদের) এ কথা 'বলার জন্য যে, আমরা আল্লাহ্'র রাসূল 'ঈসা বিন্ মাইয়ামকে হত্যা করেছি। মূলতঃ তারা ওকে হত্যা করেনি এবং তাকে ক্রুশবিদ্ধও করেনি। বরং হত্যাকৃত ব্যক্তিটিকে 'ঈসার আকৃতি দিয়ে তাদেরকে সংশয়ে ফেলা হয়েছে।... বরং আল্লাহ্ তা'আলা তাকে নিজের কাছে উঠিয়ে নিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা পরাক্রমশালী মহাজ্ঞানী। আহলে কিতাবদের প্রত্যেকেই 'ঈসা'র মৃত্যুর পূর্বে তার প্রতি ঈমান আনবে এবং কিয়ামতের দিন 'ঈসাই তাদের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিবে। (নিসা': ১৫৭-১৫৯)
'হাসান বস্ত্রী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ আল্লাহ্'র কসম! 'ঈসা (আঃ) আল্লাহ্ তা'আলার নিকট এখনো জীবিত। যখন তিনি আবারো দুনিয়াতে অবতরণ করবেন তখন তাঁর প্রতি সবাই ঈমান আনবে। (ত্বাবারী ১/১৮)
📄 ‘ঈসা (আঃ) এর অবতরণের ব্যাপারে হাদীসের প্রমাণ
'ঈসা (আঃ) এর অবতরণের ব্যাপারে হাদীসের প্রমাণগুলো অনেক বেশি ও মুতাওয়াতির। নিম্নে কয়েকটি হাদীস উল্লিখিত হলো।
১. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ
وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ ! لَيُوْشِكَنَّ أَنْ يَنْزِلَ فِيْكُمْ ابْنُ مَرْيَمَ حَكَمًا عَدْلًا، فَيَكْسِرَ الصَّلِيبَ، وَيَقْتُلَ الْخِنْزِيرَ، وَيَضَعَ الجِزْيَةَ، وَيَفِيضَ الْمَالُ حَتَّى لَا يَقْبَلَهُ أَحَدٌ، حَتَّى تَكُونَ السِّجْدَةُ الْوَاحِدَةُ خَيْرًا مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا.
অর্থাৎ সে সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন! অচিরেই তোমাদের মাঝে ন্যায়পরায়ণ প্রশাসক রূপে 'ঈসা বিন্ মারইয়াম (আঃ) অবতরণ করবেন। তিনি ক্রুশ চিহ্ন ভেঙ্গে ফেলবেন, শূকরকে হত্যা করবেন এবং জিযিয়া কর দুনিয়া থেকে একেবারেই উঠিয়ে দিবেন। মানুষের ধন-সম্পদ তখন এতো বেড়ে যাবে যে, তা গ্রহণ করার আর কেউ থাকবে না। তখন আল্লাহ্ তা'আলার জন্য একটি সিজদাহ্ দুনিয়া ও তার মধ্যকার সকল বস্তুর চাইতেও উত্তম বলে বিবেচিত হবে। (বুখারী ৩৪৪৮; মুসলিম ১৫৫)
২. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ
كَيْفَ أَنْتُمْ إِذَا نَزَلَ ابْنُ مَرْيَمَ فِيكُمْ، وَإِمَامُكُمْ مِنْكُمْ؟!
অর্থাৎ তোমাদের তখন কেমন লাগবে যখন 'ঈসা বিন্ মারইয়াম (আঃ) তোমাদের মাঝে অবতরণ করবেন এবং তখন তোমাদের ইমাম হবেন তোমাদের মধ্য থেকেই?! (বুখারী ৩৪৪৮; মুসলিম ১৫৫)
৩. জাবির থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ( ) ইরশাদ করেনঃ
لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي يُقَاتِلُونَ عَلَى الْحَقِّ، ظَاهِرِينَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، فَيَنْزِلُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ () فَيَقُولُ أَمِيرُهُمْ: تَعَالَ صَلِّ لَنَا، فَيَقُولُ: لَا ، إِنَّ بَعْضَكُمْ عَلَى بَعْضٍ أُمَرَاءُ، تَكْرِمَةَ اللَّهِ هَذِهِ الْأُمَّةَ.
অর্থাৎ আমার উম্মতের একদল সর্বদা সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ করে যাবে। কিয়ামত পর্যন্ত তারা বিশ্বের বুকে নিজেদের মাথা উঁচু করে সম্মানের জীবন যাপন করবে। ইতিমধ্যে 'ঈসা বিন্ মারইয়াম (আঃ) দুনিয়াতে অবতরণ করবেন। তখন তাদের আমীর 'ঈসা (আঃ) কে উদ্দেশ্য করে বলবেনঃ আসুন, আমাদেরকে নামায পড়িয়ে দিন। তখন তিনি বলবেনঃ না, আমি নামায পড়াবো না। তোমরা একে অপরের আমীর। এটি হচ্ছে আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে এ উম্মতের জন্য এক বিশেষ সম্মান। (মুসলিম ১৫৬)
৪. আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ( ইরশাদ করেনঃ
الْأَنْبِيَاءُ إِخْوَةٌ لِعَلَّاتٍ، أُمَّهَاتُهُمْ شَتَّى، وَدِينُهُمْ وَاحِدٌ، وَإِنِّي أَوْلَى النَّاسِ بِعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ؛ لِأَنَّهُ لَمْ يَكُنْ بَيْنِي وَبَيْنَهُ نَبِيٌّ، وَإِنَّهُ نَازِلُ، فَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَاعْرِفُوهُ.
অর্থাৎ নবীগণ যেন একে অপরের সৎ ভাই। তাদের মা ভিন্ন। ধর্ম এক। আর আমিই 'ঈসা বিন্ মারইয়াম (আঃ) এর সব চাইতে নিকটবর্তী ব্যক্তি। কারণ, আমি ও তাঁর মাঝে আর কোন নবী নেই। তিনি নিশ্চয়ই (কিয়ামতের পূর্বে) দুনিয়াতে অবতরণ করবেন। তোমরা যখন তাঁকে দেখবে অতিসত্বর চিনে ফেলবে। (আহমাদ ২/৪০৬)
📄 ‘ঈসা (আঃ) এর অবতরণ সংক্রান্ত হাদীসগুলো সত্যিই মুতাওয়াতির
ইতিপূর্বে 'ঈসা (আঃ) এর অবতরণ সংক্রান্ত কিছু হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এ ক্ষুদ্র পুস্তিকায় এতদ্ সংক্রান্ত সকল হাদীস উল্লেখ করা সত্যিই অপ্রয়োজনীয়। কারণ, এ সংক্রান্ত হাদীসগুলো আপনি যে কোন সহীহ হাদীস গ্রন্থ, সুনান, মাসানীদ ইত্যাদিতে সহজেই পেয়ে যাবেন। এখন আমাদের যা জানার বিষয় তা হচ্ছে এ সংক্রান্ত হাদীসগুলো সত্যিই মুতাওয়াতির। যা যুগ শ্রেষ্ঠ বিশিষ্ট আলিমগণ স্বীকার করেছেন। নিম্নে তাঁদের কয়েকটি উক্তি উদ্ধৃত হলোঃ
'আল্লামাহ্ ইবনু জরীর (রাহিমাহুল্লাহ( إِنِّي مُتَوَفِّيكَ وَرَافِعُكَ إِلَيَّ
আয়াতের ব্যাখ্যায় 'ঈসা (আঃ) এর মৃত্যুর ব্যাপারে আলিমদের অনৈক্য উল্লেখের পর বলেনঃ উক্ত আয়াতের সঠিক অর্থ হচ্ছে আমি তোমাকে দুনিয়া থেকে আমার কাছে উঠিয়ে নিয়ে আসবো। উক্ত অর্থ এ জন্যই বলতে হবে যে, কারণ শেষ যুগে 'ঈসা (আঃ) এর অবতরণ এবং দাজ্জালকে হত্যা করার ব্যাপারটি রাসূল (সাঃ) এর পক্ষ থেকে মুতাওয়াতির রিওয়াতে বর্ণিত। অতঃপর তিনি এ সংক্রান্ত কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করেন। (ত্বাবারী ৩/২৯১)
'আল্লামাহ্ ইব্দু কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ রাসূল (সাঃ) এর পক্ষ থেকে মুতাওয়াতির রিওয়াতে বর্ণিত হয়েছে যে, 'ঈসা (আঃ) কিয়ামতের পূর্বক্ষণে ন্যায়পরায়ণ প্রশাসক রূপে দুনিয়াতে অবতীর্ণ হবেন। অতঃপর তিনি এ সংক্রান্ত আঠারোটি হাদীস বর্ণনা করেন। (ইবনু কাসীর: ৭/২২৩)
'আল্লামাহ্ সিদ্দীক হাসান খান (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ 'ঈসা (আঃ) এর অবতরণ সংক্রান্ত হাদীস অনেক বেশি। 'আল্লামাহ্ শওকানী (রাহিমাহুল্লাহ) এ সংক্রান্ত উনত্রিশটি হাদীস উল্লেখ করেন। যা সহীহ, হাসান ও গ্রহণযোগ্য দুর্বল। এর কিছু দাজ্জাল সংক্রান্ত হাদীসের অধীনে উল্লিখিত হয়েছে। আর কিছু মাহ্দী সংক্রান্ত হাদীসের অধীনে। এর পাশাপাশি এ ব্যাপারে সাহাবাদেরও অনেকগুলো বর্ণনা রয়েছে। যা তাঁরা রাসূল (সাঃ) থেকে শুনেছেন বলে ধরে নেয়া হয়। অতঃপর তিনি অনেকগুলো হাদীস বর্ণনা করে বলেনঃ আমি ইতিপূর্বে যা বর্ণনা করেছি তা মুতাওয়াতিরের পর্যায়ে পড়ে। (আল-ইযা'আহ্ ১৬০)
'আল্লামাহ্ গুমারী বলেনঃ 'ঈসা (আঃ) এর অবতরণ সংক্রান্ত কথা সাহাবা, তাবি'য়ীন, তাবে' তাবি'য়ীন এবং সকল মাযহাবের ইমাম ও আলিমগণ যুগ যুগ ধরে বলে আসছেন।
তিনি আরো বলেনঃ 'ঈসা (আঃ) এর অবতরণের ব্যাপারটি মুতাওয়াতির হাদীস কর্তৃক প্রমাণিত। যা একমাত্র গণ্ড মূর্খ ছাড়া আর কেউই অস্বীকার করতে পারেন না। কারণ, তা প্রতি যুগে একটি বড়ো দল অন্য আরেকটি বড়ো দল থেকে বর্ণনা করেছে। এমনকি তা পরিশেষে হাদীসের কিতাবগুলোতে অবস্থান নিয়েছে। যা এক প্রজন্মের পর অন্য প্রজন্ম সঠিক বলে গ্রহণ করে নিয়েছে।
('আক্বীদাতু আহলিস-সুন্নাহ্ ওয়াল-জামা'আহ্: ৫, ১২)
অতঃপর তিনি পঁচিশ জনেরও বেশি সাহাবীর নাম উল্লেখ করেন। যাঁরা উক্ত বিষয়ে রাসূল () এর হাদীস বর্ণনা করেন। তাঁদের থেকে বর্ণনা করেন ত্রিশ জনেরও বেশি তাবি'য়ী। এর চাইতেও আরো বেশি বর্ণনা করেন তাবে' তাবি'য়ীন।... এমনকি তা হাদীসের ইমামগণ তাঁদের কিতাবসমূহে উল্লেখ করেন। যা সহীহ হাদীস বিশারদ ইমাম বুখারী, মুসলিম, ইবনু খুযাইমাহ্, ইবনু হিব্বান, 'হাকিম, আবূ 'আওয়ানাহ্, ইসমা'ঈলী, যিয়া' আল-মাক্বদিসী সহ আরো অন্যন্যরা বর্ণনা করেন। অন্য দিকে মুস্লাদ গ্রন্থকার ইমাম তুয়ালিসী, ইস'হাক্ব বিন্ রাহুয়া, আহমাদ বিন্ 'হাম্বাল, 'উসস্মান বিন্ আবূ শাইবাহ্, আবূ ইয়া'লা, বায্যার, দাইলামী সহ আরো অন্যান্যরাও হাদীসটি বর্ণনা করেন। এ ছাড়া জাওয়ামি', মুস্বান্নাফাত, সুনান, তাফসীর বিল-মা'সূর, মা'আজিম, আজযা', গারা'ইব, মু'জিযাত, তাবাক্বাত এবং মালা'হিম লেখকরাও উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেন।
'আল্লামাহ্ আনোয়ার শাহ্ কাশ্মিরী (রাহিমাহুল্লাহ) "আত-তাস্বরীহ্ বিমা তাওয়াতারা ফী নুযূলিল মাসীহ্" কিতাবে এ সংক্রান্ত সত্তরটিরও বেশি হাদীস উল্লেখ করেন।
'আল্লামাহ্ শামসুল হকু আযীম আবাদী (রাহিমাহুল্লাহ) ""আউনুল মা'বৃদ" কিতাবে লিখেনঃ কিয়ামতের পূর্বে স্বশরীরে আকাশ থেকে 'ঈসা বিন্ মারইয়াম (আঃ) এর অবতরণ মুতাওয়াতির হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। যা আহলে সুন্নাত ওয়াল-জামা'আতের বিশেষ মতবাদ। ('আউনুল-মা'বুদ: ১১/৪৫৭)
শায়েখ আহমেদ শাকির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ শেষ যুগে 'ঈসা (আঃ) এর অবতরণের ব্যাপারে সকল মুসলমান একমত। কারণ, এ ব্যাপারে রাসূল () এর পক্ষ থেকে অনেকগুলো বিশুদ্ধ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। উপরন্তু এ ব্যাপারটি ইসলামের একটি সুস্পষ্ট বিষয়। যা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। বরং কেউ তা অস্বীকার করলে সে কাফির হয়ে যাবে। (কুরতুবী/টিকা ৬/৪৬০)
তিনি আরো বলেনঃ বর্তমান যুগের কিছু সংস্কারপন্থী আলিমের দাবিদাররা কিয়ামতের পূর্বে তথা দুনিয়ার শেষ লগ্নে 'ঈসা (আঃ) এর অবতরণ সংক্রান্ত সুস্পষ্ট হাদীসগুলোর কখনো অপব্যাখ্যা আবার কখনো সরাসরি অস্বীকার করেছে। মূলতঃ তারা গায়েবে বিশ্বাস করে না অথবা বিশ্বাস করতে চায় না; অথচ এ সংক্রান্ত হাদীসগুলো আর্থিক মুতাওয়াতির। যা ইসলামের একটি সুস্পষ্ট ব্যাপারও বটে। সুতরাং এর অপব্যাখ্যা বা অস্বীকার কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। (আহমাদ/টিকা ১২/২৫৭)
'আল্লামাহ্ শায়েখ মুহাম্মাদ না'সিরুদ্দীন আল্ল্বানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এ কথা জেনে রাখো যে, দাজ্জال ও 'ঈসা (আ.) এর অবতরণ সংক্রান্ত হাদীসগুলো মুতাওয়াতির। সুতরাং এগুলোর উপর ঈমান আনা ওয়াজিব। ওদের কথায় কখনো ধোঁকা খাবে না যারা বলেঃ এ সংক্রান্ত হাদীসগুলো একক ব্যক্তি কর্তৃক বর্ণিত। মূলতঃ এরা হাদীস সম্পর্কে একেবারেই মূর্খ। কারণ, তারা এ হাদীসগুলোর সকল বর্ণনধারা সম্পর্কে অবগত নয়।
বিষয়টি কিন্তু সাধারণ নয়। যা অবহেলা করা যায়। বরং তা একান্ত 'আক্বীদাগত ব্যাপার। যা আহলে সুন্নাত ওয়াল-জামা'আতের একটি বিশেষ 'আক্বীদা বলে পরিগণিত।
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল (রাহিমাহুল্লাহ) আহলে সুন্নাত ওয়াল-জামা'আতের 'আক্বীদা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনঃ আরেকটি আক্বীদা হলো এ কথা বিশ্বাস করা যে, দাজ্জال একদা বেরুবে। যার দু' চোখের মাঝখানে লেখা থাকবে "কাফির"। এ সংক্রান্ত হাদীসগুলো বিশ্বাস করবে এবং এ কথাও বিশ্বাস করবে যে, ব্যাপারটি অবশ্যই ঘটবে। ইতিমধ্যে 'ঈসা (আ.) অবতীর্ণ হবেন এবং তিনি লুদ্দ নামক গেইটের নিকট তাকে হত্যা করবেন। (ত্বাবাকাতুল-'হানাবিলাহ্ ১/২৪৩)
ইমাম আবূ ল-'হাসান আশ'আরী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ আহলে সুন্নাত ওয়াল-জামা'আতের 'আক্বীদা হলো এই যে,... তারা দাজ্জালের বের হওয়া স্বীকার করে এবং 'ঈসা (আ.) যে তাকে হত্যা করবেন তাও বিশ্বাস করে। (মাক্বালাতুল-ইসলামিয়িয়ন ১/৩৪৫-৩৪৮)
ইমাম ত্বা'হাওয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ আমরা কিয়ামতের সকল আলামতে বিশ্বাসী। যেমনঃ দাজ্জালের বের হওয়া এবং আকাশ থেকে 'ঈসা (আ.) এর অবতরণ। (শর'হুল-আক্বীদাতিত-ত্বা'হাওয়িয়্যাহ / আলবানী ৫৬৪)
'আল্লামাহ্ ক্বাযী 'ইয়ায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ 'ঈসা (আ.) এর অবতরণ এবং তাঁর দাজ্জালকে হত্যা করার বিষয়টি বাস্তব সত্য। কারণ, এ ব্যাপারে অনেকগুলো বিশুদ্ধ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। মানুষের বিবেক-বুদ্ধি এবং শরীয়তও এর বিরোধিতা করে না। সুতরাং তা মানতেই হবে। (শরহু সহীহি মুসলিম ১৮/৭৫)
'আল্লামাহ্ শাইখুল-ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ 'ঈসা (আঃ) অবশ্যই দুনিয়াতে অবতরণ করবেন।... যা অনেকগুলো বিশুদ্ধ হাদীস কর্তৃক প্রমাণিত। আর এ কারনেই তিনি দ্বিতীয় আকাশে অবস্থান করছেন; অথচ তিনি ইউসুফ, ইদ্রীস ও হারুন (আলাইহিসসালাম) চেয়েও উত্তম। আদম (আঃ) তো দুনিয়ার আকাশে এ জন্যই আছেন। কারণ, তাঁর নিকট তাঁর সকল সন্তানের রূহ্ উপস্থাপন করা হয়। (ফাতাওয়া ৪/৩২৯)