📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা

📄 দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা


আমাদের প্রিয় নবী (ﷺ) দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিজ উম্মতদেরকে রক্ষা করার জন্য কিছু পথ বাতলিয়েছেন যা নিম্নে উল্লিখিত হলোঃ
১. ইসলামকে আঁকড়ে ধরবে, ঈমানের বলে বলীয়ান হবে এবং আল্লাহ্ তা'আলার সকল নাম ও গুণাবলী সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিবে। যে গুলোর মধ্যে তাঁর সাথে আর কেউ শরীক নেই। তা হলে বুঝতে পারবে যে, আরে দাজ্জাল তো মানুষ। সে তো খায় এবং পান করে। আর আল্লাহ্ তা'আলা তো খানও না এবং পানও করেন না। দাজ্জال তো কানা। আর আল্লাহ্ তা'আলা তো কানা নন। দাজ্জালকে তো সবাই দেখতে পাচ্ছে। আর আল্লাহ্ তা'আলাকে তো মৃত্যুর পূর্বে কেউই দেখতে পাবে না।
২. দাজ্জালের ফিতনা থেকে সর্বদা আল্লাহ্ তা'আলার একান্ত আশ্রয় কামনা করবে। বিশেষ করে নামাযের শেষ বৈঠকে।
'আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) সর্বদা নামাযের মধ্যে নিম্নোক্ত দো'আটি পড়তেনঃ
اَللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُبِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَأَعُوْذُبِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيْحِ الدَّجَّالِ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ.
অর্থাৎ হে আল্লাহ্! নিশ্চয়ই আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি কবরের আযাব, মাসীহ্ নামক দাজ্জালের ফিতনা এবং জীবদ্দশা ও মৃত্যুকালীন ফিতনা থেকে। হে আল্লাহ্! নিশ্চয়ই আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি সর্ব প্রকার গুনাহ্ ও ঋণ থেকে। (বুখারী ৮৩২; মুসলিম ৫৮৯)
আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) আমাদেরকে নিম্নোক্ত দো'আ শিক্ষা দিতেন যেমনিভাবে শিক্ষা দিতেন নামাযের কোন সূরা। তিনি বলতেনঃ বলোঃ
اللَّهُمَّ إِنَّا نَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ.
অর্থাৎ হে আল্লাহ্! নিশ্চয়ই আমরা আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি জাহান্নামের শাস্তি, কবরের আযাব, মাসীহ্ নামক দাজ্জালের ফিতনা এবং জীবদ্দশা ও মৃত্যুকালীন ফিতনা থেকে। (মুসলিম ৫৯০)
ইমাম ত্বাউস (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ছেলেকে দ্বিতীয়বার নামায পড়তে আদেশ করতেন যদি সে নামাযে উক্ত দো'আ না পড়তো।
এ থেকে বুঝা যায়, আমাদের সাল্ফে সালিহীনগণ নিজ সন্তানদেরকে উক্ত দো'আ শিক্ষা দেয়ার ব্যাপারে কতোই না যত্নবান ছিলেন।
'আল্লামাহ্ সাফারিনী বলেনঃ প্রত্যেক আলিমের জন্য উচিত সর্ব স্তরের পুরুষ, মহিলা ও বাচ্চাদের মাঝে দাজ্জালের হাদীসসমূহের প্রচার-প্রসার করা। কারণ, দাজ্জال বের হওয়ার অন্যতম আলামত হচ্ছে মানুষ তার ব্যাপার ভুলে যাওয়া এবং মসজিদের মিম্বরে তাকে নিয়ে আলোচনা না হওয়া।
তিনি আরো বলেনঃ বিশেষ করে আমাদের এ বিপদ সঙ্কুল ফিতনার যুগে দাজ্জال সংক্রান্ত হাদীসসমূহের প্রচার-প্রসার অত্যাবশ্যক। যাতে সুন্নাতের কোন প্রচার-প্রসার নেই। বরং বহু সুন্নাতই এ যুগে বিদ'আতের রূপ ধারণ করেছে এবং বিদ'আত হয়ে গেছে এ যুগের অনুকরণীয় শরীয়ত। (লাওয়ামি' ২/১০৬-১০৭)
৩. সূরা কাহাফের প্রথম ও শেষ দশটি আয়াত মুখস্থ করে নিবে এবং • দাজ্জال বের হলে তার উপর তা পড়বে। রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
فَمَنْ أَدْرَكَهُ مِنْكُمْ فَلْيَقْرَأُ عَلَيْهِ فَوَاتِحَ سُورَةِ الْكَهْفِ.
অর্থাৎ তোমাদের কেউ তার সাথে সাক্ষাত করলে তার উপর সূরা কাহাফের শুরুর কিছু আয়াত পাঠ করবে। (মুসলিম ২৯৩৭)
আবূ দ্দারদা' (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
مَنْ حَفِظَ عَشْرَ آيَاتٍ مِنْ أَوَّلِ سُورَةِ الْكَهْفِ عُصِمَ مِنَ الدَّجَّالِ، قَالَ شُعْبَةُ : مِنْ آخِرِ الْكَهْفِ، وَقَالَ هَمَّامٌ مِنْ أَوَّلِ الْكَهْفِ.
অর্থাৎ যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করে নিবে তাকে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা করা হবে। বর্ণনাকারী শু'বাহ্ বলেনঃ সূরা কাহাফের শেষের দশটি আয়াত। হাম্মام বলেনঃ সূরা কাহাফের শুরুর দশটি আয়াত। (মুসলিম ৮০৯)
৪. দাজ্জাল থেকে সম্পূর্ণরূপে দূরে থাকবে। এ ব্যাপারে সর্বোৎকৃষ্ট সিদ্ধান্ত হচ্ছে এখন থেকেই মক্কা-মদীনায় স্থায়ী বসবাস শুরু করা। কারণ, উক্ত পবিত্র স্থানদ্বয়ে দাজ্জال কখনো ঢুকতে পারবে না। দাজ্জال থেকে দূরে থাকা আবশ্যক এ জন্য যে, দাজ্জাল হবে আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছায় তখনকার এক অলৌকিক ক্ষমতার অধীকারী। যা সকল মানুষের জন্য পরীক্ষা সরূপ। দেখা যাবে তখনকার একজন স্থীর ঈমানের দাবিদার ব্যক্তিও নিজের অজান্তে তার অনুসারী হয়ে যাবে। তাই তার থেকে সর্বাত্মক দূরবর্তী মানুষই হবে তখনকার সব চাইতে নিরাপদ ব্যক্তি।
'ইমরান বিন্ 'হুস্বাইন থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
مَنْ سَمِعَ بِالدَّجَّالِ فَلْيَنَا عَنْهُ، فَوَاللَّهِ إِنَّ الرَّجُلَ لَيَأْتِيْهِ وَهُوَ يَحْسِبُ أَنَّهُ مُؤْمِنٌ، فَيَتَّبِعُهُ مِمَّا يُبْعَثُ بِهِ مِنَ الشُّبُهَاتِ أَوْ لِمَا يُبْعَثُ بِهِ مِنَ الشُّبُهَاتِ.
অর্থাৎ কেউ দাজ্জালের খবর পেলে সে যেন তার থেকে বহু দূরে অবস্থান করে। কারণ, আল্লাহ্'র কসম খেয়ে বলছি, জনৈক ব্যক্তি তার কাছে আসবে। তার বিশ্বাস সে একজন খাঁটি মু'মিন। অতঃপর সে দাজ্জালের অনুসারী হয়ে যাবে। কারণ, সে দাজ্জালের নিকট কিছু সন্দেহ মূলক কর্মকাণ্ড দেখতে পাবে। (স'হী'হুল-জা'মি', হাদীস ৬১৭৭)

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 কুর’আনে দাজ্জালের উল্লেখ্য

📄 কুর’আনে দাজ্জালের উল্লেখ্য


আমাদের পবিত্র কুর'আন মাজীদে দাজ্জালের ব্যাপারটি কেন উল্লিখিত হয়নি এ ব্যাপারে বিজ্ঞ আলিমগণ কয়েকটি মন্তব্য ব্যক্ত করেছেন যা নিম্নে প্রদত্ত হলোঃ
১. নিম্নোক্ত আয়াতে দাজ্জালের ব্যাপারটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যদিও তা প্রকাশ্যভাবে নয়। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ
يَوْمَ يَأْتِي بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيْمَانِهَا خَيْرٌ.
অর্থাৎ যে দিন তোমার প্রভুর কয়েকটি নিদর্শন প্রকাশিত হবে সে দিন আর এমন কোন লোকের ঈমান তার ফায়েদায় আসবে না যে ইতিপূর্বে ঈমান আনেনি অথবা ঈমান আনার পর কোন নেক আমল করেনি। (আন্‌'আম: ১৫৮)
রাসূল () উক্ত কয়েকটি নিদর্শনের বর্ণনায় তিনিটি বস্তু উল্লেখ করেছেন যার মধ্যে দাজ্জাল হচ্ছে একটি।
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
ثَلَاثُ إِذَا خَرَجْنَ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيْمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيْمَانِهَا خَيْرًا : طُلُوعُ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا، وَالدَّجَّالُ، وَدَابَّةُ الْأَرْضِ.
অর্থাৎ দুনিয়াতে যখন তিনটি বস্তু প্রকাশ পাবে তখন আর এমন কোন লোকের ঈমান তার ফায়েদায় আসবে না যে ইতিপূর্বে ঈমান আনেনি অথবা ঈমান আনার পর কোন নেক আমল করেনি। উক্ত বস্তু তিনটি হচ্ছে, পশ্চিম তথা সূর্যাস্তের দিক থেকে সূর্য উঠা, দাজ্জাল ও জমিনের এক অলৌকিক প্রাণী। (মুসলিম ১৫৮)
২. কুর'আন মাজীদে 'ঈসা (আঃ) এর অবতরণের কথা উল্লিখিত হয়েছে। এ দিকে 'ঈসা (আঃ) ই তো দাজ্জالকে হত্যা করবেন। সুতরাং হিদায়েতের মাসীহ্ তথা 'ঈসা (আঃ) এর ব্যাপারটি উল্লেখ করে ভ্রষ্টতার মাসীহ্ তথা দাজ্জালের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। আরবী ভাষায় এমন প্রচলন রয়েছে যে, কোন বস্তুকে উল্লেখ করে তার বিপরীতের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়।
৩. নিম্নোক্ত আয়াতেও দাজ্জালের ব্যাপারটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যদিও তা প্রকাশ্যভাবে নয়। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ
لخَلْقُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ أَكْبَرُ مِنْ خَلْقِ النَّاسِ، وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ.
অর্থাৎ মানব সৃষ্টি অপেক্ষা ভূমণ্ডল ও নভোমণ্ডল সৃষ্টি অবশ্যই কঠিন। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না। (গাফির/মু'মিন: ৫৭)
উক্ত আয়াতে মানুষ সৃষ্টি বলতে দাজ্জাল সৃষ্টির কথা বুঝানো হয়েছে।
আবূ ল-'আলিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ মানব সৃষ্টির মধ্যে দাজ্জালের চাইতেও আরো বড়ো সৃষ্টি আর কি হতে পারে? তাই তো একদা ইহুদিরা তাকে মহান ভেবে তার পিছু নিবে। (কুরতুবী ১৫/৩২৫)
'আল্লামাহ্ ইবনু 'হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ যদি উক্ত কথা সঠিক হয়ে থাকে তা হলে তা হবে সত্যিই একটি সুন্দর উত্তর। যার বর্ণনার দায়িত্ব রাসূল () নিজেই গ্রহণ করেছেন। (ফাত্হুল-বারী ১৩/৯২)
৪. কুর'আন মাজীদে দাজ্জালের ব্যাপারটি এ জন্যই উল্লিখিত হয়নি কারণ সে তো আল্লাহ্ তা'আলার নিকট এক লাঞ্ছিত ও অপদস্থ সৃষ্টি। সে প্রভুত্বের দাবি করবে; অথচ সে একজন মানুষ।
এ দিকে ফির'আউন প্রভুত্বের দাবিদার হলেও তার কথা কুর'আন মাজীদে এ জন্যই উল্লেখ করা হয়েছে কারণ সে তো গত হয়ে গিয়েছে এবং তার ব্যাপারটি মানুষের জন্য একটি শিক্ষণীয় বিষয়। কিন্তু দাজ্জালের ব্যাপারটি তেমন নয়। কারণ, সে শেষ যুগে আসবে। সুতরাং তার ব্যাপারটি সবার জন্য পরীক্ষা সরূপ। উপরন্তু তার প্রভুত্বের দাবির ব্যাপারটিও বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ, তার শরীরই হবে প্রকাশ্য ত্রুটিযুক্ত। যা তার প্রভুত্বের দাবির জন্য কোনভাবেই মানানসই নয়। আর এ কথা সবারই জানা যে, কখনো কোন বস্তুর উল্লেখ এ জন্যই করা হয় না কারণ তা সবার নিকট সুস্পষ্ট। যেমনিভাবে রাসূল () হযরত আবূ বকর এর খিলাফতের ব্যাপারটি নিজের জীবদ্দশায় লিখে যাননি। কারণ, তা সবার নিকটই সুস্পষ্ট। তাঁর সম্মান সবার মনে সুপ্রতিষ্ঠিত। এ জন্যই রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
يَأْبَى اللَّهُ وَالْمُؤْمِنُونَ إِلَّا أَبَا بَكْرٍ.
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা এবং ঈমানদাররা কখনো আবু বকর ছাড়া কাউকে (প্রথম খলীফা হিসেবে) মেনে নিবে না। (মুসলিম ২৩৮৭)
এগুলোর মধ্যে প্রথম উত্তরটিই অধিক গ্রহণযোগ্য।

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 দাজ্জালের ধ্বংস

📄 দাজ্জালের ধ্বংস


অনেকগুলো বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, 'ঈসা (আঃ) ই একদা দাজ্জالকে হত্যা করবেন। আর তা এভাবে যে, দাজ্জال যখন মক্কা-মদীনা ছাড়া পুরো বিশ্ব চষে বেড়াবে, তার অনুসারীরাই সর্বাধিক হবে এবং তার ফিতনা ব্যাপক হবে, যা থেকে গুটি কয়েক ঈমানদার ছাড়া আর কেউই রক্ষা পাবে না তখনই 'ঈসা (আঃ) দামেস্কের পূর্ব মিনারায় অবতীর্ণ হবেন। তাঁকে তখন ঈমানদাররা চার দিক থেকে ঘিরে রাখবে। তখন তিনি তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে দাজ্জালকে খুঁজবেন। দাজ্জাল তখন বায়তুল মাকদিস অভিমুখে রওয়ানা করবে। আর তখনই তার সাথে 'ঈসা (আঃ) এর সাক্ষাৎ হবে লুদ্দ গেইটের নিকটে। দাজ্জال তাঁকে দেখেই গলে যাবে যেমনিভাবে গলে যায় লবণ। তখন 'ঈসা (আ.) বলবেনঃ তোমার জন্য রয়েছে আমার পক্ষ থেকে এক অব্যর্থ মার। অতঃপর 'ঈসা (আ.) তাকে নিজ বর্শা দিয়ে হত্যা করবেন এবং তার অনুসারীরা পরাজিত হবে। তখন মু'মিনরা তাদের পিছু নিবে এবং তাদেরকে হত্যা করবে। এমনকি যে কোন পাথর ও গাছপালা তখন মুসলমানদেরকে ডেকে বলবেঃ হে মুসলিম! হে আব্দুল্লাহ্! এই যে, জনৈক ইহুদি আমার পেছনে লুক্কায়িত। এসো, তাকে হত্যা করো। তবে "গারক্বাদ্" নামক গাছটি এমন কথা বলবে না। কারণ, সেটি ইহুদিদের গাছ। (আন-নিহায়াহ/আল-ফিতানু ওয়াল-মালা'হিম ১/১২৮-১২৯)
নিম্নে এ সংক্রান্ত কয়েকটি হাদীস উল্লিখিত হলোঃ
১. আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (সা.) ইরশাদ করেনঃ
يَخْرُجُ الدَّجَّالُ فِي أُمَّتِي فَيَمْكُثُ أَرْبَعِينَ، فَيَبْعَثُ اللَّهُ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ كَأَنَّهُ عُرْوَةُ بْنُ مَسْعُودٍ، فَيَطْلُبُهُ فَيُهْلِكُهُ.
অর্থাৎ আমার উম্মতের মধ্যে দাজ্জাল বেরুবে। অতঃপর সে চল্লিশ (দিন, মাস অথবা বছর) অবস্থান করবে। এরপর আল্লাহ্ তা'আলা 'ঈসা বিন্ মারইয়াম (আলাইহিমাস-সালাম) কে পাঠাবেন। দেখতে যেন তিনি 'উরওয়াহ্ বিন্ মাস্'ঊদ্‌। তখন তিনি তাকে খুঁজে হত্যা করবে। (মুসলিম ২৯৪০)
২. মুজাম্মি' বিন্ জারিয়াহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (সা.) ইরশাদ করেনঃ
يَقْتُلُ ابْنُ مَرْيَمَ الدَّجَّالَ بِبَابِ لُةٍ.
অর্থাৎ 'ঈসা বিন্ মারইয়াম (আলাইহিমাস-সালাম) লুদ্দ গেইটের নিকটেই দাজ্জালকে হত্যা করবেন। (তিরমিযী, হাদীস ২২৪৪)
নাওয়াস্ বিন্ সাম্'আন থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (সা.) 'ঈসা (আ.) এর অবতরণ এবং দাজ্জালকে হত্যা করার ব্যাপারটি বর্ণনা করতে গিয়ে ইরশাদ করেনঃ
... فَلَا يَحِلُّ لِكَافِرٍ يَجِدُ رِيحَ نَفْسِهِ إِلَّا مَاتَ، وَنَفَسُهُ يَنْتَهِي حَيْثُ يَنْتَهِي طَرْفُهُ، فَيَطْلُبُهُ حَتَّى يُدْرِكَهُ بِبَابِ لُةٍ فَيَقْتُلُهُ.
অর্থাৎ ('ঈসা (আ.) এর অবতরণের পর) কোন কাফিরই তাঁর ('ঈসা (আ.) এর) শ্বাস-প্রশ্বাসের গন্ধ পেয়ে বেঁচে থাকতে পারবে না। আর তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাসের গন্ধ ততটুকু যাবে যতটুকু যাবে তাঁর দৃষ্টি। তিনি দাজ্জالকে খুঁজে বেড়াবেন এবং লুদ্দ গেইটের নিকটে পেয়ে তাকে হত্যা করবেন। (মুসলিম ২৯৩৭)
জাবির বিন্ আব্দুল্লাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (সা.) ইরশাদ করেনঃ
يَخْرُجُ الدَّجَّالُ فِي خَفَقَةٍ مِنَ الدِّينِ، وَإِدْبَارٍ مِنَ الْعِلْمِ... ثُمَّ يَنْزِلُ عِيسَى بْنُ مَرْيَمَ، فَيُنَادِي مِنَ السَّحَرِ، فَيَقُولُ: أَيُّهَا النَّاسُ! مَا يَمْنَعُكُمْ أَنْ تَخْرُجُوا إِلَى الْكَذَّابِ الْخَبِيْثِ، فَيَقُولُونَ: هَذَا رَجُلٌ جِنِّيُّ، فَيَنْطَلِقُونَ، فَإِذَا هُمْ بِعِيسَى بْنُ مَرْيَمَ (আ.), فَتُقَامُ الصَّلَاةُ، فَيُقَالُ لَهُ : تَقَدَّمْ يَا رُوحَ اللَّهِ، فَيَقُولُ : لِيَتَقَدَّمُ إِمَامُكُمْ، فَلْيُصَلِّ بِكُمْ، فَإِذَا صَلَّى صَلَاةَ الصُّبْحِ خَرَجُوا إِلَيْهِ، فَحِيْنَ يَرَى الْكَذَّابُ يَنْمَاثُ كَمَا يَنْمَاتُ الْمِلْحُ فِي الْمَاءِ، فَيَمْشِي إِلَيْهِ، فَيَقْتُلُهُ، حَتَّى إِنَّ الشَّجَرَ وَالْحَجَرَ يُنَادِي : يَا رُوحَ اللَّهِ هَذَا يَهُودِيُّ، فَلَا يَتْرُكْ مِمَّنْ كَانَ يَتَّبِعُهُ أَحَدًا إِلَّا قَتَلَهُ.
অর্থাৎ ধর্ম ও ধর্মীয় জ্ঞানের কঠিন দুর্যোগাবস্থায় 'ঈসা বিন্ মারইয়াম (আলাইহিমাস-সালাম) দুনিয়াতে অবতরণ করবেন। তিনি সেহ্রীর সময় মানুষকে ডাক দিয়ে বলবেনঃ হে মানব সকল! তোমরা কেন এ খবীস মিথ্যাবাদীকে প্রতিহত করার জন্য বের হচ্ছো না? তখন সবাই বলবেঃ আরে এ তো একজন জিন পুরুষ। তখন মানুষ সে দিকে রওয়ানা করবে এবং তাকে দেখে বলবেঃ না, আরে ইনি তো 'ঈসা বিন্ মারইয়াম (আলাইহিমাস-সালাম)! ইতিমধ্যে ফজরের নামাযের ইক্বামত দেওয়া হবে। তাঁকে বলা হবেঃ আপনিই ইমামতি করুন হে আল্লাহ্ প্রেরিত বিশেষ রূহ্! তিনি বলবেনঃ তোমাদের ইমামই তোমাদের ইমামতি করুক। যখন তিনি ফজরের নামায শেষ করবেন তখন সবাই তাঁর নিকট জড়ো হবে। মিথ্যুক (দাজ্জال) যখন তাঁকে দেখবে তখন সে গলে যাবে যেমনিভাবে গলে যায় পানিতে লবণ। তখন তিনি তার দিকে অগ্রসর হয়ে তাকে হত্যা করবেন। এমনকি যে কোন পাথর ও গাছপালা তখন তাঁকে ডেকে বলবেঃ হে আল্লাহ্ প্রেরিত বিশেষ রূহ্! এই যে, জনৈক ইহুদি আমার পেছনে লুক্কায়িত। তখন তিনি তাঁর কথিত অনুসারী বলে দাবিদার সবাইকে হত্যা করবেন। কাউকে ছাড়বেন না। (আহমাদ/আল-ফাত্হুর-রাব্বানী ২৪/৮৫-৮৬)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00