📄 দাজ্জাল অস্বীকারকারীদের উত্তর
১. দাজ্জালের অলৌকিক ক্ষমতা সংক্রান্ত হাদীসগুলো সঠিক ও বিশুদ্ধ। সুতরাং কিছু ছুতা-নাতা দেখিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করা এবং এর অপব্যাখ্যা দেয়া কোনভাবেই ঠিক হবে না। মূলতঃ দাজ্জال সংক্রান্ত হাদীসগুলোর মাঝে এমন কোন বৈপরীত্য নেই যে, যার কোন সহজ সমাধান বের করা সম্ভবপর নয়।
এ দিকে মুগীরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটির শেষাংশের অর্থ এই যে, বরং আল্লাহ্ তা'আলার নিকট তার অবস্থান এতো নিম্নে যে, তিনি তাকে এ সকল ক্ষমতা দিয়ে কোন ঈমানদারকে পথভ্রষ্ট করবেন এমন কোন প্রশ্নই আসে না। বরং এতে করে মু'মিনদের ঈমান আরো বেড়ে যাবে। সন্দেহে পড়বে শুধু ওরাই যাদের ঈমান ঠিক নেই। এ কারণেই তো দাজ্জাল যাকে হত্যা করবে সে জীবিত হয়ে বলবেঃ ইতিপূর্বে তোমার সম্পর্কে আমার এতো অভিজ্ঞতা ছিলো যা এখন অর্জিত হয়েছে।
২. উক্ত হাদীসটিকে যদি তার প্রকাশ্য অর্থে ধরা যায় তা হলে এমনো তো হতে পারে যে, রাসূল () ওহীর মাধ্যমে দাজ্জালের অলৌকিক ক্ষমতাগুলো জানার পূর্বেই এমন কথা বলেছেন। কারণ, হযরত মুগীরা নিজেই বলেছেনঃ আমি লোকমুখে শুনতে পেয়েছি যে, তার সাথে থাকবে রুটির পাহাড় ও পানির নদী।
৩. দাজ্জালের অলৌকিক ক্ষমতাগুলো সত্যিই বাস্তব। তবে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে এ সকল ক্ষমতা দিবেন মানুষের পরীক্ষার জন্য। নবীদের মু'জিযাহ্'র সাথে তা কখনো মিশে যাবে না। কারণ, এমন কোন বর্ণনা নেই যে, দাজ্জাল তখন নবুওয়াতের দাবি করবে। বরং সে তখন প্রভু বলে দাবি করবে।
৪. 'আল্লামাহ্ রশিদ রেযা যে, শুধু চল্লিশ দিনের মধ্যে দাজ্জালের মক্কা-মদীনা ছাড়া পুরো বিশ্ব ভ্রমণ করা অসম্ভব মনে করলেন তা ঠিক নয়। কারণ, তা শুধুমাত্র চল্লিশ দিন নয়। বরং এর কোন কোন দিন এক বছরের সমতুল্য। আবার কোন কোন দিন এক মাসের এবং কোন কোন দিন এক সপ্তাহের সমতুল্য হবে।
৫. দাজ্জালের অলৌকিক ক্ষমতা আল্লাহ্ তা'আলার একান্ত নিয়ম বহির্ভূত নয়। কারণ, তা হলে আপাত দৃষ্টিতে নবীদের মু'জিযাহগুলোও আল্লাহ্ তা'আলার একান্ত নিয়ম বহির্ভূত বলে মনে হবে। মূলতঃ যখন তা নিয়ম বহির্ভূত নয় তখন দাজ্জালের ব্যাপারটিও নিয়ম বহির্ভূত হবে কেন?
৬. দাজ্জালের ব্যাপারটিকে যদি নিয়ম বহির্ভূতই মনে করা হয় তা হলে বলতে হবে, তখনকার সময়টিতে তো এ ছাড়া আরো অনেকগুলো নিয়ম বহির্ভূত কাজও সংঘটিত হবে। যা ইতিপূর্বে কখনো সংঘটিত হয়নি। তখনকার সময়টিই তো হবে ফিতনার সময়। তখন আল্লাহ্ তা'আলা যে, দাজ্জালকে অনেকগুলো অলৌকিক ক্ষমতা দিয়ে মানুষদেরকে পরীক্ষা করবেন তা কখনো তাঁর দয়া বিরোধী নয়। কারণ, তিনি ইতিপূর্বে তাঁর নবীর মাধ্যমে সতর্ক করেছেন। তার ফিতনা থেকে বাঁচার পথ শিখিয়েছেন।
📄 দাজ্জালের অলৌকিক ক্ষমতাগুলো যে সত্য এবং বাস্তব এ সংক্রান্ত আলেমদের কিছু কথা
কাযী 'ইয়ায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ দাজ্জাল সংক্রান্ত হাদীসগুলো যা ইমাম মুসলিম ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন তা সত্যপন্থীদের জন্য এ ব্যাপারে এক বিরাট প্রমাণ যে, দাজ্জাল একদা অবশ্যই দুনিয়াতে পদার্পণ করবে। সে এক বাস্তব মানুষ। আল্লাহ্ তা'আলা তাকে পাঠিয়ে তাঁর বান্দাহদেরকে পরীক্ষা করবেন এবং তিনি নিজেই তাকে এমন কিছু ক্ষমতা দিবেন যা উক্ত পরীক্ষার জন্য একান্ত সহায়ক। সে মানুষ মেরে তাকে আবারো জীবিত করবে। পুরো দুনিয়া তখন হবে সুজলা সুফলা। তার সাথে থাকবে জান্নাত ও জাহান্নام। আরো থাকবে দু'টি নদী। দুনিয়ার সকল ধন-ভাণ্ডার তার পিছু নিবে। তার আদেশেই আকাশ বৃষ্টি ও জমিন ফসল দিবে। এ সব কিছু আল্লাহ্ তা'আলার একান্ত ক্ষমতা ও তাঁর ইচ্ছাধীন। তাই তো তিনি পরিশেষে তাকে অক্ষম বানিয়ে দিবেন। তখন সে আর কাউকে হত্যা করতে পারবে না। বরং তাকেই তখন হত্যা করবেন 'ঈসা (আঃ)।
এটিই হচ্ছে আহলে সুন্নাত ওয়াল-জামা'আত এবং সকল মুহাদ্দিস ও মুফতিদের একান্ত মতাদর্শ। তবে খারিজী, জাহ্মী এবং কিছু মু'তাযিলাহ্ এ ব্যাপারে ভিন্ন মত পোষণ করে। তাদের ধারণা, সে যদি সত্যই হতো তা হলে তাকে নবীদের মতো মু'জিযাহ্ দিয়ে এতো শক্তিশালী করা হতো না। তবে তাদের উক্ত মতামতের সত্য কোন ভিত্তি নেই। কারণ, সে তো আর নিজকে তখন নবী বলে দাবি করছে না। বরং সে তো তখন নিজকে ইলাহ্ বলেই দাবি করবে এবং তার এ দাবি যে অসত্য তা তার শরীরই প্রমাণ করবে। কারণ, সে কানা হবে এবং তার কপালেই লেখা থাকবে সে কাফির।
এরপরও যে তাকে দিয়ে ধোঁকা খাবে সে অবশ্যই অত্যন্ত ভীতু, দুনিয়ালোভী এবং ঈমানশূন্য। সত্যিকার মু'মিন ব্যক্তি তাকে দিয়ে কখনো ধোঁকা খাবে না। (শর'হন-নাওয়াওয়ী ১৮/৫৮-৫৯ ফাত'হুল-বারী ১৩/১০৫)
ইমাম ইবনু কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা দাজ্জালকে কিছু অলৌকিক ক্ষমতা দিয়ে তাঁর বান্দাহদেরকে পরীক্ষা করবেন। যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। কেউ তার কথা শুনলে সে আকাশকে আদেশ করা মাত্রই আকাশ বৃষ্টি দিবে। জমিনকে আদেশ করা মাত্রই জমিন এতো বেশি ফলন দিবে যে, যা তাদের এবং তাদের চতুষ্পদ জন্তুগুলোর জন্য একেবারেই যথেষ্ট। যা খেয়ে তাদের চতুষ্পদ জন্তুগুলো দুধেল ও মোটা-তাজা হয়ে যাবে। যে তার কথা শুনবে না সে তো অনাবৃষ্টি, দুর্ভিক্ষ, চতুষ্পদ জন্তুর মৃত্যু, জান-মালের ঘাটতি ইত্যাদিতে ভুগবে। মৌমাছির দলের ন্যায় দুনিয়ার সকল ধন-ভাণ্ডার তার পিছু নিবে। জনৈক যুবককে হত্যা করে তাকে আবার পুনরুজ্জীবিত করবে। এ সব কিন্তু কোন কল্পকাহিনী নয়। বরং তা নিতান্ত সত্য। যা কর্তৃক আল্লাহ্ তা'আলা নিজ বান্দাদেরকে পরীক্ষা করবেন। তাতে সন্দেহকারীরা পথভ্রষ্ট হবে। ঈমানদারদের ঈমান আরো বেড়ে যাবে। (নিহাইয়াহ/আল-ফিতানু ওয়াল-মালা'হিম ১/১২১)
📄 দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা
আমাদের প্রিয় নবী (ﷺ) দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিজ উম্মতদেরকে রক্ষা করার জন্য কিছু পথ বাতলিয়েছেন যা নিম্নে উল্লিখিত হলোঃ
১. ইসলামকে আঁকড়ে ধরবে, ঈমানের বলে বলীয়ান হবে এবং আল্লাহ্ তা'আলার সকল নাম ও গুণাবলী সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিবে। যে গুলোর মধ্যে তাঁর সাথে আর কেউ শরীক নেই। তা হলে বুঝতে পারবে যে, আরে দাজ্জাল তো মানুষ। সে তো খায় এবং পান করে। আর আল্লাহ্ তা'আলা তো খানও না এবং পানও করেন না। দাজ্জال তো কানা। আর আল্লাহ্ তা'আলা তো কানা নন। দাজ্জালকে তো সবাই দেখতে পাচ্ছে। আর আল্লাহ্ তা'আলাকে তো মৃত্যুর পূর্বে কেউই দেখতে পাবে না।
২. দাজ্জালের ফিতনা থেকে সর্বদা আল্লাহ্ তা'আলার একান্ত আশ্রয় কামনা করবে। বিশেষ করে নামাযের শেষ বৈঠকে।
'আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) সর্বদা নামাযের মধ্যে নিম্নোক্ত দো'আটি পড়তেনঃ
اَللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُبِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَأَعُوْذُبِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيْحِ الدَّجَّالِ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ.
অর্থাৎ হে আল্লাহ্! নিশ্চয়ই আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি কবরের আযাব, মাসীহ্ নামক দাজ্জালের ফিতনা এবং জীবদ্দশা ও মৃত্যুকালীন ফিতনা থেকে। হে আল্লাহ্! নিশ্চয়ই আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি সর্ব প্রকার গুনাহ্ ও ঋণ থেকে। (বুখারী ৮৩২; মুসলিম ৫৮৯)
আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) আমাদেরকে নিম্নোক্ত দো'আ শিক্ষা দিতেন যেমনিভাবে শিক্ষা দিতেন নামাযের কোন সূরা। তিনি বলতেনঃ বলোঃ
اللَّهُمَّ إِنَّا نَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ.
অর্থাৎ হে আল্লাহ্! নিশ্চয়ই আমরা আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি জাহান্নামের শাস্তি, কবরের আযাব, মাসীহ্ নামক দাজ্জালের ফিতনা এবং জীবদ্দশা ও মৃত্যুকালীন ফিতনা থেকে। (মুসলিম ৫৯০)
ইমাম ত্বাউস (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ছেলেকে দ্বিতীয়বার নামায পড়তে আদেশ করতেন যদি সে নামাযে উক্ত দো'আ না পড়তো।
এ থেকে বুঝা যায়, আমাদের সাল্ফে সালিহীনগণ নিজ সন্তানদেরকে উক্ত দো'আ শিক্ষা দেয়ার ব্যাপারে কতোই না যত্নবান ছিলেন।
'আল্লামাহ্ সাফারিনী বলেনঃ প্রত্যেক আলিমের জন্য উচিত সর্ব স্তরের পুরুষ, মহিলা ও বাচ্চাদের মাঝে দাজ্জালের হাদীসসমূহের প্রচার-প্রসার করা। কারণ, দাজ্জال বের হওয়ার অন্যতম আলামত হচ্ছে মানুষ তার ব্যাপার ভুলে যাওয়া এবং মসজিদের মিম্বরে তাকে নিয়ে আলোচনা না হওয়া।
তিনি আরো বলেনঃ বিশেষ করে আমাদের এ বিপদ সঙ্কুল ফিতনার যুগে দাজ্জال সংক্রান্ত হাদীসসমূহের প্রচার-প্রসার অত্যাবশ্যক। যাতে সুন্নাতের কোন প্রচার-প্রসার নেই। বরং বহু সুন্নাতই এ যুগে বিদ'আতের রূপ ধারণ করেছে এবং বিদ'আত হয়ে গেছে এ যুগের অনুকরণীয় শরীয়ত। (লাওয়ামি' ২/১০৬-১০৭)
৩. সূরা কাহাফের প্রথম ও শেষ দশটি আয়াত মুখস্থ করে নিবে এবং • দাজ্জال বের হলে তার উপর তা পড়বে। রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
فَمَنْ أَدْرَكَهُ مِنْكُمْ فَلْيَقْرَأُ عَلَيْهِ فَوَاتِحَ سُورَةِ الْكَهْفِ.
অর্থাৎ তোমাদের কেউ তার সাথে সাক্ষাত করলে তার উপর সূরা কাহাফের শুরুর কিছু আয়াত পাঠ করবে। (মুসলিম ২৯৩৭)
আবূ দ্দারদা' (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
مَنْ حَفِظَ عَشْرَ آيَاتٍ مِنْ أَوَّلِ سُورَةِ الْكَهْفِ عُصِمَ مِنَ الدَّجَّالِ، قَالَ شُعْبَةُ : مِنْ آخِرِ الْكَهْفِ، وَقَالَ هَمَّامٌ مِنْ أَوَّلِ الْكَهْفِ.
অর্থাৎ যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করে নিবে তাকে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা করা হবে। বর্ণনাকারী শু'বাহ্ বলেনঃ সূরা কাহাফের শেষের দশটি আয়াত। হাম্মام বলেনঃ সূরা কাহাফের শুরুর দশটি আয়াত। (মুসলিম ৮০৯)
৪. দাজ্জাল থেকে সম্পূর্ণরূপে দূরে থাকবে। এ ব্যাপারে সর্বোৎকৃষ্ট সিদ্ধান্ত হচ্ছে এখন থেকেই মক্কা-মদীনায় স্থায়ী বসবাস শুরু করা। কারণ, উক্ত পবিত্র স্থানদ্বয়ে দাজ্জال কখনো ঢুকতে পারবে না। দাজ্জال থেকে দূরে থাকা আবশ্যক এ জন্য যে, দাজ্জাল হবে আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছায় তখনকার এক অলৌকিক ক্ষমতার অধীকারী। যা সকল মানুষের জন্য পরীক্ষা সরূপ। দেখা যাবে তখনকার একজন স্থীর ঈমানের দাবিদার ব্যক্তিও নিজের অজান্তে তার অনুসারী হয়ে যাবে। তাই তার থেকে সর্বাত্মক দূরবর্তী মানুষই হবে তখনকার সব চাইতে নিরাপদ ব্যক্তি।
'ইমরান বিন্ 'হুস্বাইন থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
مَنْ سَمِعَ بِالدَّجَّالِ فَلْيَنَا عَنْهُ، فَوَاللَّهِ إِنَّ الرَّجُلَ لَيَأْتِيْهِ وَهُوَ يَحْسِبُ أَنَّهُ مُؤْمِنٌ، فَيَتَّبِعُهُ مِمَّا يُبْعَثُ بِهِ مِنَ الشُّبُهَاتِ أَوْ لِمَا يُبْعَثُ بِهِ مِنَ الشُّبُهَاتِ.
অর্থাৎ কেউ দাজ্জালের খবর পেলে সে যেন তার থেকে বহু দূরে অবস্থান করে। কারণ, আল্লাহ্'র কসম খেয়ে বলছি, জনৈক ব্যক্তি তার কাছে আসবে। তার বিশ্বাস সে একজন খাঁটি মু'মিন। অতঃপর সে দাজ্জালের অনুসারী হয়ে যাবে। কারণ, সে দাজ্জালের নিকট কিছু সন্দেহ মূলক কর্মকাণ্ড দেখতে পাবে। (স'হী'হুল-জা'মি', হাদীস ৬১৭৭)
📄 কুর’আনে দাজ্জালের উল্লেখ্য
আমাদের পবিত্র কুর'আন মাজীদে দাজ্জালের ব্যাপারটি কেন উল্লিখিত হয়নি এ ব্যাপারে বিজ্ঞ আলিমগণ কয়েকটি মন্তব্য ব্যক্ত করেছেন যা নিম্নে প্রদত্ত হলোঃ
১. নিম্নোক্ত আয়াতে দাজ্জালের ব্যাপারটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যদিও তা প্রকাশ্যভাবে নয়। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ
يَوْمَ يَأْتِي بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيْمَانِهَا خَيْرٌ.
অর্থাৎ যে দিন তোমার প্রভুর কয়েকটি নিদর্শন প্রকাশিত হবে সে দিন আর এমন কোন লোকের ঈমান তার ফায়েদায় আসবে না যে ইতিপূর্বে ঈমান আনেনি অথবা ঈমান আনার পর কোন নেক আমল করেনি। (আন্'আম: ১৫৮)
রাসূল () উক্ত কয়েকটি নিদর্শনের বর্ণনায় তিনিটি বস্তু উল্লেখ করেছেন যার মধ্যে দাজ্জাল হচ্ছে একটি।
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
ثَلَاثُ إِذَا خَرَجْنَ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيْمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيْمَانِهَا خَيْرًا : طُلُوعُ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا، وَالدَّجَّالُ، وَدَابَّةُ الْأَرْضِ.
অর্থাৎ দুনিয়াতে যখন তিনটি বস্তু প্রকাশ পাবে তখন আর এমন কোন লোকের ঈমান তার ফায়েদায় আসবে না যে ইতিপূর্বে ঈমান আনেনি অথবা ঈমান আনার পর কোন নেক আমল করেনি। উক্ত বস্তু তিনটি হচ্ছে, পশ্চিম তথা সূর্যাস্তের দিক থেকে সূর্য উঠা, দাজ্জাল ও জমিনের এক অলৌকিক প্রাণী। (মুসলিম ১৫৮)
২. কুর'আন মাজীদে 'ঈসা (আঃ) এর অবতরণের কথা উল্লিখিত হয়েছে। এ দিকে 'ঈসা (আঃ) ই তো দাজ্জالকে হত্যা করবেন। সুতরাং হিদায়েতের মাসীহ্ তথা 'ঈসা (আঃ) এর ব্যাপারটি উল্লেখ করে ভ্রষ্টতার মাসীহ্ তথা দাজ্জালের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। আরবী ভাষায় এমন প্রচলন রয়েছে যে, কোন বস্তুকে উল্লেখ করে তার বিপরীতের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়।
৩. নিম্নোক্ত আয়াতেও দাজ্জালের ব্যাপারটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যদিও তা প্রকাশ্যভাবে নয়। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ
لخَلْقُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ أَكْبَرُ مِنْ خَلْقِ النَّاسِ، وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ.
অর্থাৎ মানব সৃষ্টি অপেক্ষা ভূমণ্ডল ও নভোমণ্ডল সৃষ্টি অবশ্যই কঠিন। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না। (গাফির/মু'মিন: ৫৭)
উক্ত আয়াতে মানুষ সৃষ্টি বলতে দাজ্জাল সৃষ্টির কথা বুঝানো হয়েছে।
আবূ ল-'আলিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ মানব সৃষ্টির মধ্যে দাজ্জালের চাইতেও আরো বড়ো সৃষ্টি আর কি হতে পারে? তাই তো একদা ইহুদিরা তাকে মহান ভেবে তার পিছু নিবে। (কুরতুবী ১৫/৩২৫)
'আল্লামাহ্ ইবনু 'হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ যদি উক্ত কথা সঠিক হয়ে থাকে তা হলে তা হবে সত্যিই একটি সুন্দর উত্তর। যার বর্ণনার দায়িত্ব রাসূল () নিজেই গ্রহণ করেছেন। (ফাত্হুল-বারী ১৩/৯২)
৪. কুর'আন মাজীদে দাজ্জালের ব্যাপারটি এ জন্যই উল্লিখিত হয়নি কারণ সে তো আল্লাহ্ তা'আলার নিকট এক লাঞ্ছিত ও অপদস্থ সৃষ্টি। সে প্রভুত্বের দাবি করবে; অথচ সে একজন মানুষ।
এ দিকে ফির'আউন প্রভুত্বের দাবিদার হলেও তার কথা কুর'আন মাজীদে এ জন্যই উল্লেখ করা হয়েছে কারণ সে তো গত হয়ে গিয়েছে এবং তার ব্যাপারটি মানুষের জন্য একটি শিক্ষণীয় বিষয়। কিন্তু দাজ্জালের ব্যাপারটি তেমন নয়। কারণ, সে শেষ যুগে আসবে। সুতরাং তার ব্যাপারটি সবার জন্য পরীক্ষা সরূপ। উপরন্তু তার প্রভুত্বের দাবির ব্যাপারটিও বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ, তার শরীরই হবে প্রকাশ্য ত্রুটিযুক্ত। যা তার প্রভুত্বের দাবির জন্য কোনভাবেই মানানসই নয়। আর এ কথা সবারই জানা যে, কখনো কোন বস্তুর উল্লেখ এ জন্যই করা হয় না কারণ তা সবার নিকট সুস্পষ্ট। যেমনিভাবে রাসূল () হযরত আবূ বকর এর খিলাফতের ব্যাপারটি নিজের জীবদ্দশায় লিখে যাননি। কারণ, তা সবার নিকটই সুস্পষ্ট। তাঁর সম্মান সবার মনে সুপ্রতিষ্ঠিত। এ জন্যই রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
يَأْبَى اللَّهُ وَالْمُؤْمِنُونَ إِلَّا أَبَا بَكْرٍ.
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা এবং ঈমানদাররা কখনো আবু বকর ছাড়া কাউকে (প্রথম খলীফা হিসেবে) মেনে নিবে না। (মুসলিম ২৩৮৭)
এগুলোর মধ্যে প্রথম উত্তরটিই অধিক গ্রহণযোগ্য।