📄 দাজ্জালের ফিতনা
দাজ্জালের ফিতনা হলো আদম সৃষ্টির পর থেকে কিয়ামত পর্যন্ত আসা সকল ফিতনার বড়ো ফিতনা। কারণ, আল্লাহ্ তা'আলা তাকে এমন এক বিশেষ অলৌকিক ক্ষমতা দিবেন যা একজন বুদ্ধিমান মানুষকেও বোকা বানিয়ে ছাড়বে।
তার সাথে থাকবে জান্নাত ও জাহান্নাম। তার জান্নাত হবে বাস্তবে জাহান্নাম এবং তার জাহান্নام হবে বাস্তবে জান্নাত। তার সাথে থাকবে অনেকগুলো নদ-নদী এবং রুটির পাহাড়। সে আকাশকে বৃষ্টি বর্ষণ করতে বললে আকাশ তখন বৃষ্টি বর্ষণ করবে। সে জমিনকে ফসল ফলাতে বললে জমিন তখন ফসল ফলাবে। জমিনের সকল ধন-ভাণ্ডার তার পিছে পিছে চলবে। পুরো বিশ্ব সে অতি অল্প সময়ে বিচরণ করবে। যেমন বাতাস তাড়িত বৃষ্টি অতি দ্রুত বয়ে যায়।
'হুযাইফাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
দাজ্জালের বাম চোখ হবে কানা। চুল হবে এলোমেলো। তার সাথে থাকবে জান্নাত ও জাহান্নام। তার জাহান্নام হবে বাস্তবে জান্নাত এবং তার জান্নাত হবে বাস্তবে জাহান্নাম। (মুসলিম ২৯৩৪)
'হুযাইফাহ্ (রাঃ) থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
আমি নিশ্চয়ই জানি দাজ্জালের সাথে কি থাকবে। তার সাথে থাকবে দু'টি প্রবহমান নদী। একটির দিকে তাকালে মনে হবে তাতে রয়েছে স্বচ্ছ সাদা পানি। অন্যটির দিকে তাকালে মনে হবে তাতে রয়েছে জ্বলন্ত আগুন। তোমাদের কেউ তার সাক্ষাৎ পেলে সে যেন চোখ বন্ধ করে উক্ত নদীতে নেমে পড়ে যাতে জ্বলন্ত আগুন রয়েছে বলে মনে হয়। মাথা নিচু করে সে যেন তা থেকে পানি পান করে। কারণ, সেটিই হবে তখনকার ঠাণ্ডা পানি। (মুসলিম ২৯৩৪)
নাওয়াস্ বিন্ সাম্'আন (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ সাহাবাগণ রাসূল (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করলেনঃ হে আল্লাহ্'র রাসূল! দাজ্জাল দুনিয়াতে কতো দিন অবস্থান করবে? রাসূল (ﷺ) বললেনঃ চল্লিশ দিন। তার মধ্যে এক দিন হবে এক বছরের ন্যায়। আরেক দিন হবে এক মাসের ন্যায়। আরেক দিন হবে এক সপ্তাহের ন্যায়। আর বাকী দিনগুলো হবে এখনকার দিনের ন্যায়। সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেনঃ হে আল্লাহ্'র রাসূল! সে কতো দ্রুত জমিনে বিচরণ করবে? রাসূল (ﷺ) বললেনঃ হাওয়া তাড়িত বৃষ্টি তথা তুফানের ন্যায়। সে কিছু লোকের কাছে গিয়ে তাদেরকে তার উপর ঈমান আনার আহ্বান করলে তারা তার উপর ঈমান আনবে। তখন সে আকাশকে আদেশ করলে আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করবে। জমিনকে আদেশ করলে জমিন প্রচুর ফসল ফলাবে। তাদের গৃহ পালিত পশুগুলোর স্তনসমূহ দুধে ভরে যাবে। মোটা-তাজা ও হৃষ্ট-পুষ্ট হবে। আরো কিছু লোকের কাছে গিয়ে তাদেরকে তার উপর ঈমান আনার আহ্বান করলে তারা তার উপর ঈমান আনবে না। যখন সে উক্ত এলাকা ছেড়ে যাবে তখন সে এলাকায় আর বৃষ্টি হবে না। মানুষের হাতে কোন সম্পদ থাকবে না। সে কোন মরুভূমি অতিক্রম করার সময় মরুভূমিকে আদেশ করবে তার সকল ধন-ভাণ্ডার বের করে দিতে। তখন মরুভূমির সকল গুপ্ত ধন-ভাণ্ডার মৌমাছির ন্যায় তার পিছু নিবে। অতঃপর সে জনৈক সুঠাম দেহের যুবককে ডেকে কাছে আনবে এবং তাকে তলোয়ার মেরে দু' টুকরো করে ফেলবে। অতঃপর তাকে আবারো ডাকলে সে হাঁসতে হাঁসতে তার দিকে আসবে। (মুসলিম ২৯৩৭)
আবূ সা'ঈদ খুদ্রী এর বর্ণনায় রয়েছে, দাজ্জাল যাঁকে হত্যা করবে তিনি হবেন সে যুগের সর্ব শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি অথবা সর্ব শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের অন্যতম। তিনি মদীনা থেকে বের হয়ে দাজ্জালকে বলবেনঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি সেই দাজ্জাল যার সম্পর্কে রাসূল () আমাদেরকে ইতিপূর্বে সংবাদ দিয়েছেন। তখন দাজ্জাল উপস্থিত লোকদেরকে উদ্দেশ্য করে বলবেঃ আমি যদি একে হত্যা করে আবারো জীবিত করতে পারি তবুও কি তোমরা আমার প্রভু হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করবে? সবাই বলবেঃ না, তখন সে লোকটিকে হত্যা করে আবারো জীবিত করবে। তখন লোকটি বলবেনঃ আল্লাহ্'র কসম! আজ আমি তোমার ব্যাপারে পূর্বের চাইতে আরো বেশি অভিজ্ঞতা লাভ করেছি। তখন দাজ্জাল তাঁকে আবারো হত্যা করতে চাইবে। কিন্তু সে আর তাঁকে হত্যা করতে পারবে না। (বুখারী ৭১৩২; মুসলিম ২৯৩৮)
📄 দাজ্জালকে অস্বীকারকারীগণ
ইতপূর্বের হাদীসসমূহ থেকে আমরা বুঝতে পারলাম, দাজ্জال সংক্রান্ত হাদীসগুলো মুতাওয়াতির। সে বাস্তব এক মানুষ। তাকে আল্লাহ্ তা'আলা অনেকগুলো অলৌকিক ক্ষমতা দিবেন। কিন্তু শায়েখ মুহাম্মাদ 'আব্দুহ্ তা অস্বীকার করেন। তিনি বলেনঃ দাজ্জালের ব্যাপারটি একটি ডাহা মিথ্যা ও বানোয়াট কাহিনী। শায়েখ আবূ 'উবায়্যাহ্ও উক্ত মত পোষণ করেন। তিনি বলেনঃ দাজ্জাল একটি বাতিল শক্তির নাম। সে মানুষ নয়।
আমরা বলবোঃ হাদীসগুলো এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট যে, দাজ্জال একজন মানুষ এবং এ সংক্রান্ত হাদীসগুলোর মাঝে বাস্তবে কোন দ্বন্দ্ব নেই। এ ছাড়া শায়েখ আবূ 'উবায়্যাহ্ নিজেই ইবনু কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) এর "আল-ফিতানু ওয়াল-মালা'হিম" কিতাবে দাজ্জালের দু' চোখের মাঝখানে কাফির শব্দটি লেখা থাকা এবং কেউ যে মৃত্যুর পূর্বে তার প্রভুকে দেখবে না এ সংক্রান্ত হাদীসটির টীকায় তিনি বলেনঃ উক্ত হাদীসটি এ কথাই প্রমাণ করে যে, দাজ্জালের প্রভু দাবি করাটা নিতান্তই মিথ্যা। আল্লাহ্ তা'আলা তাকে লাঞ্ছিত করুক এবং তার উপর তাঁর পূর্ণ অসন্তুষ্টি ও অভিশাপ নাযিল হোক!
উক্ত টীকায় তিনি দাজ্জال মানুষ হওয়ার বিষয়টি অকপটে স্বীকার করলেন। আশা করি নিম্নোক্ত হাদীসটি তাঁদের উপর বর্তাবে না। কারণ, তাঁরা গবেষণাগত ভুল করেছেন। ইচ্ছাকৃত নয়।
রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
তোমাদের ইন্তিকালের পর অচিরেই এমন এক সম্প্রদায় জন্ম গ্রহণ করবে। যারা রজম তথা বিবাহিত ব্যভিচারীকে পাথর মেরে হত্যা, দাজ্জাল, পরকালের সুপারিশ, কবরের শাস্তি এবং পুড়ে যাওয়ার পর জাহান্নাম থেকে কিছু লোকের বের হওয়ার ব্যাপারটিকে অস্বীকার করবে। (আহমাদ, হাদীস ১৫৭)
কারো কারোর নিকট উপরোক্ত হাদীসটি দুর্বল। তবে আল্লামাহ্ আহমাদ শাকির হাদীসটিকে বিশুদ্ধ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
📄 দাজ্জালের অলৌকিক ব্যাপারগুলো সত্যিই বাস্তব
ইতিপূর্বে দাজ্জালের যে অলৌকিক ক্ষমতাগুলো উল্লিখিত হয়েছে তা সত্যিই বাস্তব। তা কোন কাল্পনিক কথা নয়।
তবে 'আল্লামাহ্ ইব্দু 'হায্য এবং ইমাম ত্বা'হাভী (রাহিমাহুমাল্লাহ) তা অস্বীকার করেন। আবূ 'আলী আল-জুব্বায়ী আল-মু'তাযিলীও বলেনঃ এগুলো বাস্তব নয়। নতুবা রাসূলের মু'জিযাহ্ এবং যাদুকরের অলৌকিক ক্ষমতার মাঝে কোন পার্থক্যই থাকে না। এরপর 'আল্লামাহ্ শায়েখ রশিদ রেযাও দাজ্জালের অলৌকিক ক্ষমতাকে অস্বীকার করেন। তিনি বলেনঃ এটি আল্লাহ্ তা'আলার একান্ত নিয়ম বহির্ভূত। কারণ, তা নবীদের মু'জিযাহ্ সমতুল্য অথবা তারও ঊর্ধ্বে; অথচ আল্লাহ্ তা'আলা মানুষের উপর অত্যন্ত দয়া করে তাদেরই হিদায়াতের জন্য নবীদেরকে মু'জিযাহ্ দিয়ে পাঠিয়েছেন। কুর'আনের ভাষায় যে নিয়মের কোন ব্যতিক্রম হবে না। সুতরাং তিনি তাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য আরো বড়ো অলৌকিক ক্ষমতা দিয়ে দাজ্জালকে পাঠাবেন তা কখনো হতে পারে না। কারণ, কোন কোন বর্ণনায় রয়েছে, সে চল্লিশ দিনের মধ্যে মক্কা-মদীনা ছাড়া পুরো বিশ্ব ভ্রমণ করবে। অন্য দিকে দাজ্জال সংক্রান্ত বিপরীতমুখী হাদীসগুলো কুর'আনকে বিশেষিত বা রহিত করতে পারে না। তিনি বিপরীতমুখী হাদীসগুলোর দৃষ্টান্ত দিতে গিয়ে বলেনঃ কোন কোন হাদীসে রয়েছে তার সাথে থাকবে রুটির পাহাড় এবং মধু ও পানির নদী। জান্নাত ও জাহান্নام। আবার অন্য বর্ণনায় রয়েছে, রাসূল (ﷺ) একদা হযরত মুগীরাকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ দাজ্জال তোমার কি ক্ষতিটুকুই না করবে বলো তো? কারণ, তিনি রাসূল (ﷺ) কে দাজ্জال সম্পর্কে সব চাইতে বেশি জিজ্ঞাসা করতেন। তখন তিনি বললেনঃ আমি লোকমুখে শুনতে পেলাম যে, তার সাথে থাকবে রুটির পাহাড় ও পানির নদী। রাসূল (ﷺ) বললেনঃ বরং আল্লাহ্ তা'আলার নিকট তার অবস্থান এতো নিম্নে যে, তিনি তাকে এ সকল ক্ষমতা দিয়ে আবার তার সত্যতাও প্রমাণ করবেন এমন কোন প্রশ্নই আসে না। বরং তার সাথে থাকবে মিথ্যা ও কুফরির সুস্পষ্ট প্রমাণ। (বুখারী ৭১২২; মুসলিম ২১৫২)
শায়েখ আবূ 'উবায়দাহ্ও দাজ্জালের অলৌকিক ক্ষমতাগুলো অস্বীকার করেন। তিনি এ সংক্রান্ত হাদীসগুলোর টিকায় বলেনঃ এ রকম মারাত্মক ফিতনার সম্মুখে বেশির ভাগ মানুষের পক্ষেই কোন ভাবে টিকে থাকা সম্ভবপর নয়। দাজ্জال আবার মানব জন সম্মুখে কাউকে জীবন দিবে আবার কাউকে মৃত্যু দিবে; অথচ আল্লাহ্ তা'আলা তাদেরকে এ জন্যই জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন যে, তারা উক্ত ফিতনার সম্মুখে এতটুকুও টিকে থাকতে পারেনি তা কিভাবে সম্ভব? কারণ, এ কথা তো সবারই জানা যে, আল্লাহ্ তা'আলা নিজ বান্দাহ্'র উপর অত্যন্ত দয়ালু এবং পরম করুণাময়। সুতরাং তিনি নিজ বান্দাহ্'র সাথে এমন নির্মম কাণ্ডই বা করতে যাবেন কেন? অন্য দিকে দাজ্জাল তো আবার আল্লাহ্ তা'আলার নিকট এতো সম্মানীও নয় যে, তিনি তাকে এতো অলৌকিক ক্ষমতা দিয়ে বেশির ভাগ মানুষের ঈমান-আক্বীদায় মারাত্মক কম্পন সৃষ্টি করবেন এবং তাদেরকে এমন কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন করবেন।
📄 দাজ্জাল অস্বীকারকারীদের উত্তর
১. দাজ্জালের অলৌকিক ক্ষমতা সংক্রান্ত হাদীসগুলো সঠিক ও বিশুদ্ধ। সুতরাং কিছু ছুতা-নাতা দেখিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করা এবং এর অপব্যাখ্যা দেয়া কোনভাবেই ঠিক হবে না। মূলতঃ দাজ্জال সংক্রান্ত হাদীসগুলোর মাঝে এমন কোন বৈপরীত্য নেই যে, যার কোন সহজ সমাধান বের করা সম্ভবপর নয়।
এ দিকে মুগীরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটির শেষাংশের অর্থ এই যে, বরং আল্লাহ্ তা'আলার নিকট তার অবস্থান এতো নিম্নে যে, তিনি তাকে এ সকল ক্ষমতা দিয়ে কোন ঈমানদারকে পথভ্রষ্ট করবেন এমন কোন প্রশ্নই আসে না। বরং এতে করে মু'মিনদের ঈমান আরো বেড়ে যাবে। সন্দেহে পড়বে শুধু ওরাই যাদের ঈমান ঠিক নেই। এ কারণেই তো দাজ্জাল যাকে হত্যা করবে সে জীবিত হয়ে বলবেঃ ইতিপূর্বে তোমার সম্পর্কে আমার এতো অভিজ্ঞতা ছিলো যা এখন অর্জিত হয়েছে।
২. উক্ত হাদীসটিকে যদি তার প্রকাশ্য অর্থে ধরা যায় তা হলে এমনো তো হতে পারে যে, রাসূল () ওহীর মাধ্যমে দাজ্জালের অলৌকিক ক্ষমতাগুলো জানার পূর্বেই এমন কথা বলেছেন। কারণ, হযরত মুগীরা নিজেই বলেছেনঃ আমি লোকমুখে শুনতে পেয়েছি যে, তার সাথে থাকবে রুটির পাহাড় ও পানির নদী।
৩. দাজ্জালের অলৌকিক ক্ষমতাগুলো সত্যিই বাস্তব। তবে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে এ সকল ক্ষমতা দিবেন মানুষের পরীক্ষার জন্য। নবীদের মু'জিযাহ্'র সাথে তা কখনো মিশে যাবে না। কারণ, এমন কোন বর্ণনা নেই যে, দাজ্জাল তখন নবুওয়াতের দাবি করবে। বরং সে তখন প্রভু বলে দাবি করবে।
৪. 'আল্লামাহ্ রশিদ রেযা যে, শুধু চল্লিশ দিনের মধ্যে দাজ্জালের মক্কা-মদীনা ছাড়া পুরো বিশ্ব ভ্রমণ করা অসম্ভব মনে করলেন তা ঠিক নয়। কারণ, তা শুধুমাত্র চল্লিশ দিন নয়। বরং এর কোন কোন দিন এক বছরের সমতুল্য। আবার কোন কোন দিন এক মাসের এবং কোন কোন দিন এক সপ্তাহের সমতুল্য হবে।
৫. দাজ্জালের অলৌকিক ক্ষমতা আল্লাহ্ তা'আলার একান্ত নিয়ম বহির্ভূত নয়। কারণ, তা হলে আপাত দৃষ্টিতে নবীদের মু'জিযাহগুলোও আল্লাহ্ তা'আলার একান্ত নিয়ম বহির্ভূত বলে মনে হবে। মূলতঃ যখন তা নিয়ম বহির্ভূত নয় তখন দাজ্জালের ব্যাপারটিও নিয়ম বহির্ভূত হবে কেন?
৬. দাজ্জালের ব্যাপারটিকে যদি নিয়ম বহির্ভূতই মনে করা হয় তা হলে বলতে হবে, তখনকার সময়টিতে তো এ ছাড়া আরো অনেকগুলো নিয়ম বহির্ভূত কাজও সংঘটিত হবে। যা ইতিপূর্বে কখনো সংঘটিত হয়নি। তখনকার সময়টিই তো হবে ফিতনার সময়। তখন আল্লাহ্ তা'আলা যে, দাজ্জালকে অনেকগুলো অলৌকিক ক্ষমতা দিয়ে মানুষদেরকে পরীক্ষা করবেন তা কখনো তাঁর দয়া বিরোধী নয়। কারণ, তিনি ইতিপূর্বে তাঁর নবীর মাধ্যমে সতর্ক করেছেন। তার ফিতনা থেকে বাঁচার পথ শিখিয়েছেন।