📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 নবী (ﷺ) তাকে পরীক্ষা করেন

📄 নবী (ﷺ) তাকে পরীক্ষা করেন


ইনু স্বাইয়াদের ব্যাপারটি যখন মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে এবং সে দাজ্জাল নামে আখ্যায়িত হয় তখন রাসূল () তার ব্যাপারটি বিশেষভাবে খতিয়ে দেখার দৃঢ় ইচ্ছা পোষণ করেন। তাই তিনি লুক্কায়িতভাবে মাঝে মাঝে তার নিকট এমনভাবে উপস্থিত হতেন যাতে সে রাসূল () এর অবস্থান টের না পায়। যেন সরাসরি তার কথা শুনে তার ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া যায়। আবার কখনো কখনো তিনি তাকে সরাসরি প্রশ্ন করে তার ব্যাপার জানতে চাইতেন।
আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ একদা 'উমার ও কিছু সংখ্যক সাহাবা রাসূল (স) এর সাথে ইব্‌দু স্বাইয়াদের সাক্ষাতে গেলেন। তখন সে বিন্ মাগালা গোত্রের বাসস্থানের পার্শ্বে কিছু বাচ্চাদেরকে নিয়ে খেলা করছিলো। তখন সে সাবালক হতে যাচ্ছিলো। সে রাসূল এর প্রতি দৃষ্টিপাত করেনি। রাসূল (স) তার হাতে মৃদু আঘাত করে বলেনঃ তুমি কি এ কথা সাক্ষ্য দাও যে, আমি আল্লাহ্'র রাসূল? তখন সে বললোঃ আমি সাক্ষ্য দিই যে, আপনি এক অশিক্ষিত সম্প্রদায়ের রাসূল। অতঃপর ইনু স্বাইয়াদ রাসূল () কে উদ্দেশ্য করে বলেঃ আপনি কি এ কথার সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, আমি আল্লাহ্'র রাসূল। রাসূল () তার রিসালাত অস্বীকার করে বলেনঃ বরং আমি আল্লাহ্ তা'আলা ও তাঁর সকল রাসূলে বিশ্বাসী। রাসূল () তাকে আরো জিজ্ঞাসা করেন যে, তুমি কি দেখতে পাও? সে বললোঃ আমার কাছে কখনো সত্যবাদী আসে। আবার কখনো মিথ্যাবাদী। রাসূল () বললেনঃ তুমি ব্যাপারটি সঠিকভাবে ধরতে পারোনি। অতঃপর রাসূল () তাকে আরো বললেনঃ আমি মনে মনে একটি কথা ভাবছি সেটা কি তুমি বলতে পারো? তখন সে বললোঃ আপনি দুখ তথা দুখান শব্দটি ভাবছেন। রাসূল (স) বললেনঃ তুমি ধ্বংস হও। তুমি তোমার নির্দিষ্ট গণ্ডী কখনো এড়াতে পারবে না। তখন হযরত 'উমার (রা) বললেনঃ হে রাসূল! আপনি অনুমতি দিলে আমি তাকে হত্যা করে দেবো। রাসূল () বললেনঃ যদি সে দাজ্জালই হয় তা হলে তুমি তাকে হত্যা করতে পারবে না। আর যদি সে দাজ্জালই না হয় তা হলে তাকে হত্যা করে কোন লাভ নেই।
আবূ সা'ঈদ খুদ্রী থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ একদা পথি মধ্যে ইনু স্বাইয়াদের সাথে রাসূল (), আবূ বকর ও 'উমরের সাক্ষাৎ হয়। তখন রাসূল () তাকে বললেনঃ তুমি কি এ কথার সাক্ষ্য দেও যে, আমি আল্লাহ্'র রাসূল? সে বললোঃ আপনি কি এ কথার সাক্ষ্য দেন যে, আমি আল্লাহ্'র রাসূল? তখন রাসূল() বললেনঃ আমি আল্লাহ্ তা'আলা, তাঁর ফিরিশ্তা ও কিতাবসমূহের উপর ঈমান এনেছি। তবে তুমি কি দেখতে পাচ্ছো তাই বলোঃ তখন সে বললোঃ আমি পানির উপর একটি সিংহাসন দেখতে পাচ্ছি। রাসূল () বললেনঃ তুমি সাগর বক্ষে ইবলিসের সিংহাসন দেখতে পাচ্ছো। আর কি দেখতে পাচ্ছো তাই বলোঃ সে বললোঃ আমি দু' জন সত্যবাদী এবং এক জন মিথ্যাবাদী অথবা দু' জন মিথ্যাবাদী এবং এক জন সত্যবাদী দেখতে পাচ্ছি। রাসূল () বললেনঃ তার ব্যাপারটি এলোমেলো। সুতরাং তাকে পরিত্যাগ করো। (বুখারী ১৩৫৪; মুসলিম ২৯৩০)
আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেনঃ একদা রাসূল () উবাই বিন্ কা'বকে নিয়ে ইনু স্বাইয়াদের বাগান বাড়ির দিকে রওয়ানা করলেন। তিনি চাচ্ছেন ইব্‌দু স্বাইয়াদ তাঁকে দেখার পূর্বেই তিনি তার কিছু কথা শুনুক। অতঃপর রাসূল (স) তাকে দেখলেন, সে চাদর মুড়ে কাত হয়ে শুয়ে আছে এবং তার মুখ থেকে রামযাহ্ অথবা যামরাহ্ শব্দ বেরুচ্ছে। ইতিমধ্যে ইনু স্বাইয়াদের মা রাসূল () কে খেজুর গাছের গোড়ার পেছনে লুকিয়ে থাকতে দেখে ইনু স্বাইয়াদকে উদ্দেশ্য করে বললোঃ হে স্বাফ! এই যে মুহাম্মাদ তোমার পার্শ্বে। এ কথা শুনে ইবনু স্বাইয়াদ লাফিয়ে উঠলো। তখন নবী() বললেনঃ তার মা যদি তাকে সতর্ক না করতো তা হলে তার ব্যাপারটা জানা সম্ভব হতো। (বুখারী ১৩৫৫; মুসলিম ২৯৩১)

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 তার মৃত্যু

📄 তার মৃত্যু


আবু যর বলেনঃ রাসূল () একদা আমাকে ইবনু স্বাইয়াদের মায়ের নিকট পাঠিয়ে বললেনঃ তার মাকে জিজ্ঞাসা করবে তাকে কত মাস পেটে ধারণ করেছে। তার মা বললোঃ আমি তাকে বারো মাস পেটে ধারণ করেছি। আরেকবার আমাকে পাঠিয়ে বললেনঃ তার মাকে জিজ্ঞাসা করবে সে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর কি ধরনের আওয়াজ করলো। তার মা বললোঃ সে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরপরই এক মাসের সন্তানের ন্যায় চিৎকার করে উঠলো। অতঃপর রাসূল () তাকে বললেনঃ আমি মনে মনে একটি কথা ভাবছি সেটা কি তুমি বলতে পারো? তখন সে বললোঃ আপনি আমার জন্য একটি ধূসর বর্ণের ছাগলের চেহারা ও দুখানের কথা ভাবছেন। সে দুখান বলতে চেয়েছিলো। কিন্তু তা বলতে পারেনি। বরং বললোঃ দুখ, দুখ। রাসূল () দুখান শব্দ দিয়ে তাকে পরীক্ষা করেছেন। যেন তার ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়। রাসূল () দুখান বলতে নিম্নোক্ত আয়াতের দুখান শব্দটির প্রতি ইঙ্গিত করেন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ
فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُّبِينٍ.
অর্থাৎ অতএব তুমি অপেক্ষা করো সেই দিনের যেদিন আকাশ প্রকটভাবে ধুম্রাচ্ছন্ন হবে। (দুখান: ১০)
মূলতঃ ইব্‌দু স্বাইয়াদ গণকদের ন্যায় জিনের ভাষায় কথা বলে। যা ভাঙ্গা ভাঙ্গা কথা। তখন রাসূল () ভালোভাবে বুঝতে পারলেন যে, তার মূলে রয়েছে জিন শয়তান।
জাবির এর বর্ণনায় পাওয়া যায় যে, সে হারা'র যুদ্ধে একদা আত্মগোপন করে। আল্লামাহ্ ইবনু হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) উক্ত বর্ণনাকে শুদ্ধ বলেছেন। কারো কারোর বর্ণনায় সে মদীনাতেই মৃত্যু বরণ করে এবং সবাই তার নামাযে জানাযায় অংশ গ্রহণ করে। তবে এ বর্ণনাটি দুর্বল বলে প্রমাণিত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00