📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 দাজ্জাল কি জীবিত? দাজ্জাল কি রাসূলের যুগেও ছিলো?

📄 দাজ্জাল কি জীবিত? দাজ্জাল কি রাসূলের যুগেও ছিলো?


উক্ত প্রশ্ন দু'টির উত্তরের পূর্বে ইনু স্বাইয়াদের ব্যাপারটি ভালোভাবে জানা দরকার। সে কি দাজ্জাল ছিলো? না কি নয়। ইব্‌দু স্বাইয়াদ যদি দাজ্জাল না হয়ে থাকে তা হলে দাজ্জাল নামের কেউ কি এখন জীবিত আছে? না কি সে সময় মতো জন্ম নিবে? এ প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়ার পূর্বে এখন ইবনু স্বাইয়াদ সম্পর্কে কিছু জানা যাক।

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 ইবনু ছাইয়‍্যাদ কি সেই প্রসিদ্ধ দাজ্জাল যে কিয়ামতের পূর্বক্ষণে আসবে

📄 ইবনু ছাইয়‍্যাদ কি সেই প্রসিদ্ধ দাজ্জাল যে কিয়ামতের পূর্বক্ষণে আসবে


ইনু স্বাইয়াদের ঘটনা ও রাসূল () তাকে পরীক্ষা করার ব্যাপারটি এটাই প্রমাণ করে যে, রাসূল (স) তার ব্যাপারে ওহীর মাধ্যমে সঠিক কিছু জানেননি। 'উমার তার ব্যাপারে আল্লাহ্'র কসম খেয়ে বলতেন যে, সে সত্যিই দাজ্জাল। আর রাসূল () তাকে কিছুই বলতেন না। হযরত জাবির, আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'উমার এবং আবূ যরও এমন মন্তব্য করেন।
মুহাম্মাদ বিন্ মুন্কাদির (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ একদা আমি জাবির বিন্ আব্দুল্লাহ্ কে আল্লাহ্'র কসম খেয়ে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেনঃ ইবনু স্বাইয়াদই সত্যিকার দাজ্জাল। আমি বললামঃ আপনি আল্লাহ্'র কসম খেয়ে বলছেন? তিনি বলেনঃ আমি 'উমরকে রাসূল () এর সামনে এভাবে কসম খেয়ে বলতে শুনেছি; অথচ রাসূল () তাকে কিছুই বলেননি। (বুখারী ৭৩৫৫; মুসলিম ২৯২৯)
নাফি' (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলতেনঃ আল্লাহ্'র কসম! আমি এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ করছি না যে, ইনু স্বাইয়াদই প্রকৃত দাজ্জال। (আবূ দাউদ ১১/৪৮৩)
যায়েদ বিন্ ওয়াহাব (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ একদা আবু যর) বলেনঃ ইব্‌দু স্বাইয়াদ দাজ্জাল বলে দশ বার কসম খাওয়া আমার নিকট অধিক পছন্দনীয় সে দাজ্জাল নয় বলে এক বার কসম খাওয়ার চাইতে। (আহমাদ ৫/১৯৭-১৯৮)
নাফি' (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ একদা আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) মদীনার কোন এক গলিতে ইবনু স্বাইয়াদকে দেখে তাকে এমন এক কথা বললেন যা শুনে সে ইবনু 'উমরের উপর খুব রাগান্বিত হয়। সে এমনভাবে রাগে ফুলে গিয়েছে যে, যেন গলিটি তাকে দিয়ে পুরো ভর্তি হয়ে যায়। অতঃপর তিনি তাঁর বোন 'হাফসা এর নিকট গেলে তিনি তাঁকে বলেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা তোমার উপর দয়া করুন! ইবনু স্বাইয়াদের সাথে তোমার কি?! তুমি কি জানো না রাসূল () বলেছেনঃ একদা কোন এক রাগের মাথায় ইনু স্বাইয়াদ দাজ্জাল রূপে আবির্ভূত হবে। (মুসলিম ২৯৩২)
নাফি' (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেনঃ আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেনঃ ইবনু স্বাইয়াদের সাথে আমার দু' বার সাক্ষাৎ হয়। একদা আমি তার সাথে সাক্ষাৎ করে জনৈক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করলামঃ তুমি কি বলোঃ এ দাজ্জাল। সে বললোঃ না, আল্লাহ্'র কসম! সে দাজ্জাল নয়। আমি বললামঃ তুমি মিথ্যা বলেছো। আল্লাহ্'র কসম! তোমাদের কেউ কেউ আমাকে বলেছেঃ সে কখনো মরবে না যতক্ষণ না সে তোমাদের সবার চাইতে বেশি সন্তান ও সম্পদশালী হয়। সে আজ তেমনই হয়েছে। তিনি বলেনঃ এভাবে তাদের সাথে কিছুক্ষণ আলোচনার পর আমি সে স্থান ত্যাগ করলাম। এরপর তার সাথে দ্বিতীয়বার সাক্ষাৎ হলে দেখলাম, তার চোখটি বিকৃত হয়ে গেলো। আমি বললামঃ তোমার চোখটি কখন এমন হলো? সে বললোঃ আমি জানি না। আমি বললামঃ তুমি জানো না? অথচ চোখটি তোমারই মাথায়। সে বললোঃ আল্লাহ্ তা'আলা চাইলে তোমার এ লাঠির মাথায় দু'টো চোখ লাগিয়ে দিতে পারেন। অতঃপর সে গাধার ন্যায় এক কঠিন চিৎকার করলো। আমার কোন কোন সাথী ধারণা করেছে, আমি তাকে মারতে মারতে আমার লাঠিটি ভেঙ্গে ফেলেছি। আল্লাহ্'র কসম! আমি এমন হবে বলে ইতিপূর্বে এতটুকুও ধারণা করতে পারিনি। অতঃপর ইবনু 'উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর বোন হাফসার নিকট গেলে তিনি বলেনঃ ইব্‌নু স্বাইয়াদের সাথে তোমার কি?! তুমি কি জানো না রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ একদা কোন এক রাগের মাথায় ইব্‌নু স্বাইয়াদ দাজ্জال রূপে আবির্ভূত হবে।
ইবনু স্বাইয়াদ মানুষের এ সকল মন্তব্য শুনে খুবই কষ্ট পেতো। সে বলতোঃ আমি দাজ্জাল নই। রাসূল (ﷺ) দাজ্জালের যে বর্ণনা দিয়েছেন তা আমার উপর প্রযোজ্য নয়।
আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমরা একদা হজ্জ বা 'উমরাহ্ করতে বের হয়েছিলাম। তখন ইব্‌নু স্বাইয়াদ আমাদের সাথে ছিলো। পথিমধ্যে আমরা এক জায়গায় মঞ্জিল করলে সবাই বিক্ষিপ্ত হয়ে যায়। শুধু আমি আর ইব্‌নু স্বাইয়াদই যথাস্থানে ছিলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে আমি তার ব্যাপারে খুব অস্বস্তি বোধ করছিলাম। কারণ, তার ব্যাপারে মানুষ অনেক কিছুই বলে থাকে। ইতিমধ্যে সে তার জিনিসপত্রগুলো আমার জিনিসপত্রের সাথেই রাখলো। আমি তাকে বললামঃ গরম খুবই প্রচন্ড। তাই তুমি যদি জিনিসপত্রগুলো অমুক গাছের নিচে রাখতে। তখন সে তাই করলো। কিছুক্ষণের মধ্যে আমাদের নিকট একটি ছাগলপাল নিয়ে আসা হলে সে এক বড় পেয়ালা দুধ নিয়ে আসলো। বললোঃ আবূ সাঈদ! দুধ পান করো। আমি বললামঃ গরম তো খুবই বেশি। এ দিকে দুধও গরম। তাই আমি দুধ পান করবো না। মূলতঃ আমি তার হাত থেকে দুধ পান করতে চাচ্ছিলাম না। সে বললোঃ হে আবূ সাঈদ! আমার মনে চায় রশি টাঙ্গিয়ে কোন একটি গাছের সাথে ফাঁসি দেই। মানুষের এ সব মন্তব্য শুনতে আর একটুও ভালো লাগছে না। হে আবূ সাঈদ! অন্যদের কাছে রাসূল (ﷺ) এর কোন হাদীস লুকিয়ে থাকলেও আনসারীদের কাছে তো আর কোন হাদীস লুকিয়ে নেই। সে বললোঃ আপনি তো রাসূল (ﷺ) এর হাদীস সম্পর্কে ভালোই জানেন। রাসূল (ﷺ) কি বলেন নি? দাজ্জাল কাফির। আমি তো মুসলমান। রাসূল (ﷺ) কি বলেন নি? দাজ্জালের কোন সন্তান থাকবে না। আমি তো মদীনাতে আমার ছেলে-সন্তান রেখে এসেছি। রাসূল (ﷺ) কি বলেন নি? দাজ্জাল মক্কা-মদীনায় ঢুকতে পারবে না। আমি তো মদীনা থেকে বের হয়েছি মক্কার উদ্দেশ্যে। আবূ সাঈদ বলেনঃ আমি তাকে অত্যন্ত নিরুপায় মনে করছিলাম। অতঃপর সে বললোঃ আল্লাহ্'র কসম! আমি দাজ্জালকে চিনি। দাজ্জালের জন্মস্থান এবং বর্তমানের অবস্থান সবই আমি জানি। তখন আমি বললামঃ তুমি ধ্বংস হও। (মুসলিম ২৯২৭)
অন্য বর্ণনায় আছে, ইবনু স্বাইয়াদ বলেঃ আল্লাহ্'র কসম! আমি জানি সে (দাজ্জال) এখন কোথায়। এমনকি আমি তার মাতা-পিতাকেও চিনি। তখন তাকে বলা হলোঃ তোমার কি মনে চায় দাজ্জাল হতে? সে বললোঃ আমাকে দাজ্জাল হতে বলা হলে আমি তা অপছন্দ করবো না।
'উলামায়ে কেরাম ইনু স্বাইয়াদের দ্বিমত পোষণ করেন। কেউ কেউ বলেনঃ সে দাজ্জال। যা ইবনু 'উমার ও আবূ সা'ঈদ (রাঃ) এর হাদীসদ্বয় থেকে বুঝা যায় এবং এ ব্যাপারে ইতিপূর্বে কয়েকজন সাহাবার মতামতও উল্লিখিত হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেনঃ ইবনু স্বাইয়াদ দাজ্জال নয়। যা হযরত তামীম আদ-দারীর হাদীস থেকে বুঝা যায়।
ফাতিমা বিন্তে ক্বাইস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ একদা আমি রাসূল (ﷺ) এর আহ্বানকারীর ডাক শুনেছি। তিনি বলছেনঃ নামায অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তখন আমরা সবাই দ্রুত মসজিদের দিকে ছুটলাম। রাসূল (ﷺ) নামায শেষ করে মিম্বরের উপর বসে হাঁসতে শুরু করলেন এবং বললেনঃ কেউ নিজ স্থান ছাড়বে না। সবাই নিজ নিজ জায়গায় বসে থাকো। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমরা কি জানো, আমি কি জন্য তোমাদেরকে ডেকেছি? সাহাবাগণ বললেনঃ এ ব্যাপারে আল্লাহ্ তা'আলা এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেনঃ আল্লাহ্'র কসম! আমি আজ তোমাদেরকে কোন আশা বা ভয় দেখানোর জন্য একত্রিত করিনি। আমি তোমাদেরকে এ জন্যই একত্রিত করেছি যে, তামীম আদ-দারী নামক জনৈক ব্যক্তি (যে ইতিপূর্বে খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হয়েছে) আমার নিকট এমন এক ঘটনা বর্ণনা করেছে যার অনেকটা মিল খুঁজে পাওয়া যায় সে ঘটনার সাথে যা আমি ইতিপূর্বে তোমাদেরকে দাজ্জাল সম্পর্কে শুনিয়েছি। তামীম বলেছেঃ সে একদা লাখম ও জুযাম গোত্রদ্বয়ের তিরিশ জনকে নিয়ে সাগর ভ্রমনে বের হলো। পথিমধ্যে এক মাস যাবত সাগরের উত্তাল তরঙ্গ তাদেরকে কোথায় পৌঁছিয়েছে তারা কেউ তা জানে না। পরিশেষে তারা সূর্যাস্তের দিকের এক সাগর দ্বীপে পাড়ি জমালো। তারা একদা জাহাজের ছোট ছোট ডিঙ্গিতে চড়ে উক্ত দ্বীপে নেমে পড়লো। তারা দ্বীপে ঢুকতেই তাদের সাথে এমন এক প্রাণীর সাক্ষাৎ হলো যার লোমের অত্যাধিক্যের কারণে তার আগ-পাছ চেনা যাচ্ছিলো না। তারা বললোঃ তুমি ধ্বংস হও! তুমি কে? সে বললোঃ আমি জাস্সাসাহ্ তথা গোয়েন্দা তথ্য সংরক্ষণকারী। তোমরা গির্জায় বসা লোকটির নিকট যাও। সে তো তোমাদের খবর শুনতে অধীর আগ্রহী। তখন আমরা দ্রুত তার নিকট গেলাম। তাকে দেখে আমরা অত্যন্ত ভয় পেয়েছিলাম। মনে হলো সে একজন শয়তান। সে বললোঃ তোমরা কি আমাকে বাইসান শহরের খেজুর গাছগুলো সমর্কে কিছু জানাতে পারবে?
আমরা বললামঃ খেজুর গাছ সম্পর্কে তুমি কি জানতে চাচ্ছো? সে বললোঃ সেখানকার খেজুর গাছগুলোতে কি এখনো খেজুর ধরে? আমরা বললামঃ হ্যাঁ। সে বললোঃ এমন এক সময় আসবে যখন সে খেজুর গাছগুলোতে আর খেজুর ধরবে না। সে বললোঃ তোমরা কি আমাকে ত্বাবারিয়‍্যাহ্ উপসাগর সম্পর্কে কিছু জানাতে পারবে? আমরা বললামঃ ত্বাবারিয়‍্যাহ্ উপসাগর সম্পর্কে তুমি কি জানতে চাচ্ছো? সে বললোঃ সেখানে কি এখনো পানি পাওয়া যায়? আমরা বললামঃ সেখানে এখনো প্রচুর পানি? সে বললোঃ এমন এক সময় আসবে যখন সে উপসাগরে আর পানি পাওয়া যাবে না। সে বললোঃ তোমরা কি আমাকে যুগার নামক কুয়া সমর্কে কিছু জানাতে পারবে? আমরা বললামঃ যুগার নামক কুয়া সম্পর্কে তুমি কি জানতে চাচ্ছো? সে বললোঃ সেখানকার কুয়ায় কি পানি পাওয়া যায়? সে কুয়ার পানি দিয়ে কি সেখানকার লোকেরা চাষাবাদ করে? আমরা বললামঃ সে কুয়ায় এখনো প্রচুর পানি এবং সে কুয়ার পানি দিয়ে সেখানকার লোকেরা এখনো চাষাবাদ করে। সে বললোঃ তোমরা কি আমাকে অশিক্ষিতদের নবী সমর্কে কিছু জানাতে পারবে? সে এখন কি করছে? আমরা বললামঃ সে এখন মক্কা ছেড়ে ইয়াসরিব তথা মদীনায় পাড়ি জমিয়েছে। সে বললোঃ আরবরা কি তার সাথে যুদ্ধ করেছে? আমরা বললামঃ হ্যাঁ। সে বললোঃ যুদ্ধ কেমন চলছে? আমরা বললামঃ সে তার আশপাশের আরবদের উপর জয়ী হয়েছে এবং তারা তার আনুগত্য স্বীকার করেছে। সে বললোঃ তাই কি? আমরা বললামঃ হ্যাঁ। সে বললোঃ তার আনুগত্য স্বীকার করা তাদের জন্য অনেক ভালো। আমি কি তোমাদেরকে আমার সম্পর্কে কিছু বলবো? আমি হলাম মাসী'হুদ-দাজ্জাল। আমাকে অচিরেই বের হওয়ার অনুমতি দেয়া হবে। তখন আমি বের হবো এবং বিশ্বের সর্ব জায়গায় ঘুরে বেড়াবো। এমন কোন এলাকা বাকি থাকবে না যেখানে আমি চল্লিশ দিনের মধ্যেই অবতরণ করবো না। তবে মক্কা-মদীনায় প্রবেশ করা আমার জন্য হারাম। যখনই আমি এর কোনটিতে ঢুকতে যাবো তখনই জনৈক ফিরিস্তা খোলা তলোয়ার নিয়ে আমাকে প্রতিরোধ করবে। সেখানকার প্রত্যেক গিরি পথে থাকবে অনেকগুলো ফিরিস্তা যারা আমার প্রবেশ থেকে শহরটিকে রক্ষা করবে।
ফাতিমা বিন্ত ক্বাইস বলেনঃ রাসূল () নিজ হাতের লাঠি দিয়ে মিম্বরে আঘাত করে বলেনঃ এটিই তো তাইবাহ্, এটিই তো তাইবাহ্, এটিই তো তাইবাহ্। আরে আমি কি তোমাদেরকে ঘটনাটি বলেছি। সাহাবাগণ বললেনঃ হ্যাঁ। মূলতঃ আমি তামীম দারীর ঘটনা শুনে সত্যিই আশ্চর্য হয়োছ। কারণ, তার ঘটনার সাথে আমার বর্ণিত ঘটনার হুবহু মিল রয়েছে। এমনকি মক্কা-মদীনার ব্যাপারটিও। সে সিরিয়া বা ইয়েমেন সাগরে অবস্থানরত। না, বরং সে পূর্ব দিক থেকেই আবির্ভূত হবে। (মুসলিম ২৯৪২)

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 ইবনু ছাইয়‍্যাদ সম্পর্কে আলেমদের ভক্তিসমূহ

📄 ইবনু ছাইয়‍্যাদ সম্পর্কে আলেমদের ভক্তিসমূহ


ইমাম কুরত্ববী বলেনঃ সত্য কথা এই যে, ইব্‌দু স্বাইয়াদই হলো দাজ্জال। এটা কখনো অসম্ভব নয় যে, সে কখনো দ্বীপে অবস্থান করবে। আর কখনো সাহাবাদের মাঝে। (আত-তাযকিরাহ্ ৭০২)
ইমাম নববী বলেনঃ বিশিষ্ট আলিম সম্প্রদায় ধারণা করেন যে, ইব্‌দু স্বাইয়াদের ব্যাপারটি খুবই জটিল। সে কি প্রশিদ্ধ দাজ্জাল না কি অন্য কেউ। তবে সে নিঃসন্দেহে দাজ্জালসমূহের একজন।
আলিম সম্প্রদায় আরো বলেনঃ হাদীসগুলোর বর্ণনা দেখলে মনে হয়, রাসূল () এর নিকট ইনু স্বাইয়াদের ব্যাপারে এমন কোন ওহী আসে নাই যে, সে কি দাজ্জাল না কি নয়। তবে তাঁকে ওহীর মাধ্যমে দাজ্জালের কিছু বৈশিষ্ট্য অবশ্যই জানিয়ে দেয়া হয়েছে। আর ইব্‌দু স্বাইয়াদের মাঝে এ জাতীয় কিছু বৈশিষ্ট্য সম্ভাবনাময়ভাবে বিদ্যমান ছিলো। তাই রাসূল () তার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারেননি যে, সে দাজ্জال না কি নয়।
তাই তো রাসূল () একদা হযরত 'উমার কে বললেনঃ সে যদি দাজ্জাল হয়ে থাকে তা হলে তুমি তাকে কখনোই হত্যা করতে পারবে না।
আর ইব্‌নু স্বাইয়াদ যে বললোঃ সে মুসলমান। আর দাজ্জال তো কাফির। তার সন্তান আছে; অথচ দাজ্জال হবে নিঃসন্তান। সে মদীনায় বসবাসরত এবং মক্কার দিকে রওয়ানা দিয়েছে। এতে কোন অসুবিধে নেই। কারণ, রাসূল () দাজ্জালের যে বেশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন তা সে যখন দাজ্জال রূপে বের হবে তখনকার এবং যখন তার ফিতনা শুরু হবে।
তার ব্যাপারটি যে জটিল এবং সে যে একজন দাজ্জাল তা এ জন্য যে, সে একদা রাসূল () কে উদ্দেশ্য করে বলেঃ আপনি কি সাক্ষ্য দেন যে, আমি নিশ্চয়ই আল্লাহ্'র রাসূল। সে দাবি করেছে যে, তার নিকট সত্য ও মিথ্যাবাদী আসে। সে পানির উপর আর্শ দেখতে পায়। সে দাজ্জাল হওয়া অপছন্দ করছে না। সে দাজ্জাল ও দাজ্জালের জন্মস্থান চিনে এবং দাজ্জال এখন কোথায় তাও সে বলতে পারে। সে রাগে ফুলে-ফেঁপে যেন পুরো গলি ভরে দেয়।
তার ইসলাম, হজ্জ ও জিহাদ এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট নয় যে, সে দাজ্জال নয়। (শর্'হুন-নববী লি মুসলিম ১৮/৪৬-৪৭)
ইমাম শওকানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ ইব্‌নু স্বাইয়াদকে নিয়ে আলিমদের খুব মতানৈক্য রয়েছে এবং তার ব্যাপারটি খুবই জটিল। তার ব্যাপারে সব ধরনের কথাই বলা হয়েছে। তার ব্যাপারে হাদীসগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, রাসূল () তার ব্যাপারে কোন নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। সে কি দাজ্জال না কি নয়। তবে রাসূল (স) এর সন্দেহের দু'টি উত্তর দেয়া যেতে পারে। তার একটি হচ্ছে, রাসূল () ইবনু স্বাইয়াদের ব্যাপারে ততক্ষণ পর্যন্ত সন্দেহ পোষণ করেছিলেন যতক্ষণ না আল্লাহ্ তা'আলা তাঁকে ওহীর মাধ্যমে জানিয়ে দেন যে, সে নিশ্চয়ই দাজ্জাল। তবে তিনি যখন ওহীর মাধ্যমে জেনেছেন যে, সে দাজ্জال তখন তিনি ইব্‌নু স্বাইয়াদ দাজ্জাল হওয়ার ব্যাপারে হযরত 'উমরের কসমকে অস্বীকার করেননি। আরেক উত্তর এভাবে দেয়া যায় যে, আরবরা কখনো কখনো সন্দেহজনকভাবে কথা বলে; অথচ উক্ত কথায় কোন সন্দেহ নেই। (নাইলুল-আওতার ৭/২৩০-২৩১),
ইমাম বায়হাক্বী তামীম দারীর হাদীসটি আলোচনা করতে গিয়ে বলেনঃ উক্ত হাদীস থেকে এ কথা বুঝা যায় যে, শেষ যুগের বড় দাজ্জাল কিন্তু ইব্‌নু স্বাইয়াদ নয়। বরং সে অনেকগুলো মিথ্যুক দাজ্জালের একজন যাদের ব্যাপারে রাসূল () ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন।
মনে হয়, যাঁরা ইব্‌নু স্বাইয়াদকে দাজ্জال বলে নিশ্চিত হয়েছেন তাঁরা তামীম দারীর হাদীসটি শুনেননি। কারণ, এতদুভয়ের মাঝে সমন্বয় সাধন খুবই কঠিন। এমন তো হওয়া সত্যিই অসম্ভব যে, রাসূল (স) এর যুগে যে লোকটি ছেলে বয়সী ছিলো যার সাথে রাসূল () স্বয়ং কথা বলেছেন সে লোকটিই রাসূল () এর শেষ যুগে বুড়ো হয়ে সাগরের কোন এক উপদ্বীপে লোহার শিকল দিয়ে বন্দী অবস্থায় বসবাস করবে এবং রাসূল() আবির্ভূত হয়েছেন কি না সে ব্যাপারে কাউকে জিজ্ঞাসা করবে।
'উমর( এর কসম খাওয়ার ব্যাপরটিও এমন। তিনিও প্রথমে তামীম দারীর হাদীসটি শুনেননি। যখন শুনেছেন তখন আর কসম খাননি।
তবে জাবির এ ব্যাপারে কঠিন সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, ইব্‌নু স্বাইয়াদই দাজ্জال। যদিও সে মুসলমান এবং যদিও সে মদীনায় প্রবেশ করেছে। এমনকি যদিও সে মৃত্যু বরণ করেছে। আর তিনি তামীম দারীর হাদীসটিরও অন্যতম বর্ণনাকারী। তা হলে তিনি হাদীসটি শুনেননি বলাও অসম্ভব। তিনি এও বলতেনঃ আমরা ইব্‌নু স্বাইয়াদকে হারার দিন খুঁজে পাইনি।
হাসান বিন্ আব্দুর রহমান তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেনঃ যখন ইস্পাহান শহর বিজয় হয় তখন আমাদের সেনা ঘাঁটি ও ইয়াহুদিয়‍্যাহ্ এলাকার মাঝে বেশি দূরত্ব ছিলো না। তখন আমরা মাঝে মাঝে সে এলাকায় যেতাম এবং আমাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র চয়ন করে আনতাম। একদা আমি অত্র এলাকায় গেলে দেখি ইহুদিরা ঢোল-ঢক্কর বাজাচ্ছে এবং খুব নাচানাচি করছে। আমি তাদের মধ্যকার আমার এক বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করলে সে বললোঃ আজ আমাদের সেই রাষ্ট্রপতির আগমন। যাঁকে নিয়ে আমরা আরবদের উপর বিজয়ী হবো। অতঃপর আমি তারই বাড়ির ছাদে রাত্রি যাপন করি। সেখানেই আমি ফজরের নামায আদায় করলাম। যখন সূর্য উঠলো তখন আমি তাদের সৈন্যদের মাঝে খুব শোরগোল এবং সেদিক থেকে প্রচুর ধূলিকনা উড়তে দেখলাম। তাকিয়ে দেখি জনৈক ব্যক্তি রায়হানের তৈরি একটি গম্বুজের নিচে বসা। আর ইহুদিরা তার আশে-পাশে ঢোল-ঢক্কর বাজাচ্ছে এবং খুব নাচানাচি করছে। ভালো করে দেখি সেই লোকটিই তো ইব্‌নু স্বাইয়াদ। অতঃপর ইব্‌নু স্বাইয়াদ উক্ত শহরে ঢুকে পড়লো। আর কখনো সে সেখান থেকে বের হলো না। (ফাতহুল-বারী ৩/৩২৭-৩২৮)
শাইখুল-ইসলাম 'আল্লামাহ্ ইবনু তাইমিয়্যাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ ইবনু স্বাইয়াদের ব্যাপারটি জটিল হওয়ার দরুন কোন কোন সাহাবী তাকে দাজ্জال বলে ধারণা করেছেন। রাসূল (ﷺ) সর্ব প্রথম তার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করলেও পরবর্তীতে তিনি জেনেছেন যে, সে দাজ্জال নয়। বরং সে শয়তান প্রকৃতির জ্যোতিষী। এ কারণে রাসূল (ﷺ) তাকে মাঝে মাঝে পরীক্ষা করতে যেতেন। (আল-ফুরক্বান ৭৭)
ইমাম ইবনু কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ মূল কথা হচ্ছে, ইবনু স্বাইয়াদ সেই দাজ্জাল নয় যে শেষ যুগে বের হবে। যা ফাতিমা বিন্তে ক্বাইস্ তথা তামীম দারীর হাদীস থেকে বুঝা যায়। (আন-নিহায়াহ/আল-ফিতানু ওয়াল-মালাহিম ১/৭০)
'আল্লামাহ্ ইব্‌নু 'হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ দাজ্জাল তো সেই ব্যক্তি যাকে তামীম দারী বন্দী অবস্থায় দেখেছেন। আর ইবনু স্বাইয়াদ তো একজন শয়তান যে দাজ্জাল রূপে সে যুগে আবির্ভূত হয়েছে। পরিশেষে সে ইস্পাহান গিয়ে মূল দাজ্জালের সাথে গায়েব হয়ে যায়। (ফাত্হুল-বারী ১৩/৩২৮)
ইব্‌নু স্বাইয়াদ নবুওয়াতের দাবি করার পরও রাসূল (ﷺ) তখন তাকে শাস্তি দেননি এ কারণে যে, তখন মদীনার ইহুদি ও রাসূল (ﷺ) এর মাঝে একটি শান্তি চুক্তি বিদ্যমান ছিলো। আর ইব্‌নু স্বাইয়াদ তাদেরই একজন অথবা এ কারণে যে, তখনো ইব্‌নু স্বাইয়াদ সাবালক হয়নি অথবা এ জন্য যে, সে সরাসরি নবুওয়াতের দাবি করেনি। বরং সে রিসালাতের দাবির প্রতি ইঙ্গিত করেছে মাত্র যা নবুওয়াতের দাবি করা প্রমাণ করে না। কারণ, আল্লাহ্ তা'আলা যেমন দুনিয়াতে মানব জাতির হিদায়াতের জন্য নবী-রাসূল পাঠান তেমনিভাবে কাফিরদের নিকট শয়তানও পাঠান। (আল-ফাত্হুর-রাব্বানি ২৪/৬৪-৬৫ ফাত্হুল-বারী ৬/১৭২)

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 দাজ্জালের আবির্ভাব কোথায়

📄 দাজ্জালের আবির্ভাব কোথায়


দাজ্জাল পূর্ব দিক থেকে বের হবে। খুরাসান তথা ইস্পাহানের ইয়াহুদিয়‍্যাহ্ নামক এলাকা থেকে। অতঃপর সে পুরো বিশ্বে ভ্রমণ করবে। এমন কোন এলাকা বাকি থাকবে না যেখানে সে প্রবেশ করবে না। তবে মক্কা-মদীনায় সে ঢুকতে পারবে না। কারণ, ফিরিস্তাগণ উক্ত এলাকাদ্বয় পাহারা দিবেন।
ফাতিমা বিন্তে ক্বাইস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ সে (দাজ্জال) সিরিয়া বা ইয়েমেন সাগরে অবস্থানরত। না, বরং সে পূর্ব দিক থেকেই আবির্ভূত হবে। (মুসলিম ২৯৪২)
আবূ বকর সিদ্দীকু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
দাজ্জال পূর্ব এলাকা তথা খুরাসান শহর থেকে বের হবে। (তিরমিযী/তুহ্ফ্ফাহ্ ৬/৪৯৫)
আনাস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
দাজ্জال ইস্পাহান শহরের ইয়াহুদিয়‍্যাহ্ নামক এলাকা থেকে বের হবে। তার সাথে থাকবে সত্তর হাজার ইহুদি। (আল-ফাত্হুর-রাব্বানি ২৪/৭৩ ফাত্হুল-বারী ১৩/৩২৮)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00