📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 “লা মাহদিয়্যা ইল্লা ‘ঈসাবনু মারইয়‍্যামা” হাদীসের উত্তর

📄 “লা মাহদিয়্যা ইল্লা ‘ঈসাবনু মারইয়‍্যামা” হাদীসের উত্তর


মাহ্দী সংক্রান্ত হাদীস অস্বীকারকারী কোন কোন ব্যক্তি নিম্নোক্ত হাদীসটি তাদের প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন। যা নিম্নে উত্তর সহ বর্ণিত হলো।
আনাস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا يَزْدَادُ الْأَمْرُ إِلَّا شِدَّةً، وَلَا الدُّنْيَا إِلَّا إِدْبَارًا، وَلَا النَّاسُ إِلَّا شُحًا، وَلَا تَقُومُ السَّاعَةُ إِلَّا عَلَى شِرَارِ النَّاسِ وَلَا الْمَهْدِيُّ إِلَّا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ.
অর্থাৎ দিন দিন সকল ব্যাপার কঠিন হয়ে যাবে। দুনিয়া ক্ষয় হবে। মানুষ কৃপণ হবে। সর্ব নিকৃষ্ট মানুষসমূহের উপরই একদা কিয়ামত কায়িম হবে। আর মাহ্দী হচ্ছেন 'ঈসা বিন্ মারইয়াম (আঃ)। (ইবনু মাজাহ্ ২/১৩৪০-১৩৪১ 'হাকিম ৪/৪৪১-৪৪২)
উক্ত হাদীসটি দুর্বল। কারণ, এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে রয়েছেন মুহাম্মাদ বিন্ খালিদ আল-জুন্ন্দী।
ইমাম যাহাবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ আল্লামাহ্ আয্দী বলেনঃ মুহাম্মাদ বিন্ খালিদ আল-জুন্দী মুন্কার হাদীস বর্ণনা করে থাকেন। ইমাম আবূ আব্দুল্লাহ্ 'হাকিম বলেনঃ তিনি অজ্ঞাত। ইমাম যাহাবী বলেনঃ তাঁর হাদীস "লা মাহদিয়্যা ইল্লা 'ঈসানু মারইয়ামা" হাদীসটি মুন্কার তথা অগ্রহণযোগ্য। (মীযানুল ই'তিদাল ৩/৫৩৫)
শায়খুল ইসলাম 'আল্লামাহ্ ইবনু তাইমিয়‍্যাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ উক্ত হাদীসটি দুর্বল। তবুও আবূ মুহাম্মাদ ইব্‌দুল ওয়ালীদ আল-বাগদাদী এবং অন্যান্যরা উক্ত হাদীসটিকে নির্ভরযোগ্য হাদীস বলে ধারণা করেছেন; অথচ তা নির্ভরযোগ্য হাদীস নয়। ইমাম ইবনু মাজাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ) ইউনুস থেকে, ইউনুস হযরত ইমাম শাফি'য়ী (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে, ইমাম শাফি'য়ী মুহাম্মাদ বিন্ খালিদ আল-জুন্দী নামক জনৈক ইয়েমেনী থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেন; অথচ তার হাদীস কখনো প্রমাণযোগ্য নয় এবং উক্ত হাদীসটি ইমাম শাফি'য়ীর মুন্নাদেও পাওয়া যায় না। কেউ কেউ বলেনঃ হযরত ইমাম শাফি'য়ী (রাহিমাহুল্লাহ) উক্ত হাদীসটি সরাসরি মুহাম্মাদ বিন্ খালিদ আল-জুন্দী থেকে শুনেননি। তেমনিভাবে ইউনুসও উক্ত হাদীসটি সরাসরি ইমাম শাফি'য়ী (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে শুনেনি। (মিনহাজুস সুন্নাহ্ ৪/২১১)
আল্লামাহ্ 'হাফিয ইবনু 'হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ মুহাম্মাদ বিন্ খালিদ আল-জুন্ন্দী নামক লোকটি অজ্ঞাত। (তাক্বরীবুত তাহযীব ২/১৫৭)
তবে আল্লামাহ্ ইবনু কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) এ ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি বলেনঃ উক্ত হাদীসটি সুপ্রসিদ্ধ যা ইমাম শাফি'য়ীর উস্তাদ বিশিষ্ট মুআযযিন মুহাম্মাদ বিন্ খালিদ আল-জুন্দী আস-সান'আনী বর্ণনা করেন। তিনি ছাড়াও উক্ত হাদীসটি আরো অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। অতএব তিনি অজ্ঞাত কেউ নন। যা ইমাম 'হাকিম ধারণা করেছেন। বরং ইমাম ইবনু মা'ঈন (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁকে বিশ্বস্ত বলে আখ্যায়িত করেন। তবে কোন কোন বর্ণনাকারী উক্ত হাদীসটিকে তাঁরই মাধ্যমে আবান বিন্ আবী 'আইয়াস সূত্রে 'হাসান বসরী (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে মুরসাল রূপে বর্ণনা করেন।
আমার উস্তাদ আবূ ল 'হাজ্জাজ মিযী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর কিতাব তাহযীবুল কামালে জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন যে, একদা তিনি স্বপ্ন যোগে হযরত ইমাম শাফি'য়ী (রাহিমাহুল্লাহ) কে দেখেছেন। তিনি বলেনঃ ইউনুস বিন্ আব্দুল আ'লা স্বাদাফী আমার উপর মিথ্যারোপ করেছে। আমি এমন হাদীস কখনো বলিনি। ইবনু কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ ইউনুস নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। স্বপ্ন দিয়ে তাঁর কোন সমালোচনা করা যাবে না।
তবে উক্ত হাদীসটি প্রকাশ্য দৃষ্টিতে মাহ্দী সংক্রান্ত অন্যান্য হাদীস বিরোধী। তাই অন্যান্য হাদীসগুলোকে 'ঈসা (আঃ) অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বেরই ধরতে হবে। তবে পরের ধরলেও কোন অসুবিধে নেই। কারণ, চিন্তা করলে তা বিপরীতমুখী মনে হয় না। বরং বলতে হয়, সত্যিকার মাহ্দী হচ্ছেন 'ঈসা (আঃ)। তবে তিনি ছাড়া অন্য আরেক জনও তো মাহ্দী হতে পারেন। এতে কোন সন্দেহ নেই। (আন-নিহায়াহ্ ১/৩২)
ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ হয়তো বা উক্ত হাদীসের অর্থ এই যে, সম্পূর্ণরূপে নিষ্পাপ মাহ্দী হচ্ছেন 'ঈসা (আঃ)। আর এভাবেই তখন সব ধরনের হাদীসগুলোর মাঝে সমন্বয় সাধন করা সম্ভব হবে। তখন আর পরস্পরের মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব থাকবে না। (আত-তাযকিরাহ ফী আহওয়ালিল মাউতা' ৬১৭)
অতএব উক্ত হাদীসটিকে শুদ্ধ ধরে নিলেও তা অন্যান্য হাদীসের মুকাবিলায় কখনো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কারণ, সেগুলোর বিশুদ্ধতা নিয়ে কারোর মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব নেই যা উক্ত হাদীসটিতে বিদ্যমান।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00