📄 ইমাম মাহ্দী সংক্রান্ত বিশেষ কয়েকটি কিতাব
হাদীসের কিতাবসমূহ। যেমনঃ আবূ দাউদ, নাসায়ী, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ্, মুস্লাদে আহমাদ, মুস্লাদে বায্যার, মুস্নাদে আবী ইয়া'লা, মুস্লাদে 'হারিস্ বিন আবী উসামাহ্, মুস্তাদ্রাকে 'হাকিম, মুসান্নাফে ইব্দু আবী শাইবাহ্, স'হীহ্ ইবনু খুযাইমাহ্ ইত্যাদি ইত্যাদি।
এ ছাড়াও যে কিতাবগুলো শুধু ইমাম মাহদীর উপরেই লেখা হয়েছে তার কিছু নিম্নরূপঃ
১. হাফিয আবূ বকর ইবনু আবী খাইসামাহ্'র "আহাদীসুল-মাহ্দী"।
২. ইমাম সুয়ূতীর "আল-'উফুল-ওয়ার্দী ফী আখবারিল-মাহ্দী"।
৩. ইবনু কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) এর "আল-মাহ্দী"।
৪. 'আলী মুত্তাক্বীর "আল-ইমামুল-মাহ্দী"।
৫. ইবনু 'হাজার মাক্কীর "আল-ক্বাওলুল-মুখতাসার ফী 'আলামাতিল-মাহ্দী আল-মুন্তাযার"।
৬. মোল্লা 'আলী আল-ক্বারীর "আল-মাশ্রাবুল-ওয়ার্দী ফী মাযহাবিল-মাহ্দী"।
৭. মার'য়ী বিন্ ইউসুফের "ফাওয়াইদুল-ফিক্স ফী যুহুরিল-মুন্তাযার"।
৮. ইমাম শাওকানীর "আত-তাওযীহ্ ফী তাওয়াতুরি মা জাআ ফিল-মাহদিল-মুন্তাযারি ওয়াদ্দাজ্জালি ওয়াল-মাসীহ্"।
৯. মুহাম্মাদ বিন্ ইসস্মা'ঈল্ আল-ইয়ামানীর "আহাদীসুল-মাহ্দী”।
📄 মাহ্দীর হাদীস অস্বীকারকারীদের সন্দেহের উত্তর
পূর্বের হাদীসসমূহ থেকে এ কথা নিশ্চিতভাবে জানা গেলো যে, শেষ যুগে ইমাম মাহদী (রাহিমাহুল্লাহ) আবির্ভূত হবেন। তিনি হবেন একজন ইনসাফ প্রতিষ্ঠাকারী শাসক। এ কথাও জানা হলো যে, এ সংক্রান্ত হাদীসগুলো অর্থের দিক দিয়ে মুতাওয়াতির।
এরপরও আফসোসের সাথে বলতে হয় যে, বর্তমান যুগের কিছু সংখ্যক আলিম এ সংক্রান্ত হাদীসগুলোকে পরস্পর বিরোধী এবং বাতিল বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁরা বলেনঃ মাহ্দীর ব্যাপারটি শিয়াদের কল্পকাহিনী মাত্র। পরবর্তীতে তা সুন্নীদের কিতাবে জায়গা করে নিয়েছে।
কেউ কেউ এ ব্যাপারে ঐতিহাসিক ইনু খালদূনের কথাও উল্লেখ করেন। কারণ, তিনি মাহ্দী সংক্রান্ত অনেকগুলো হাদীসকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন। মূলতঃ ইব্ন খালদুন (রাহিমাহুল্লাহ) ঐতিহাসিক ছিলেন সত্যিই। তবে তিনি হাদীস শুদ্ধাশুদ্ধ নির্ণয়ের ব্যাপারে কখনো চূড়ান্ত গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন না। সুতরাং দ্বন্দ্বের সময় তাঁর কথা এ ব্যাপারে কখনো মানা যাবে না। এরপরও তিনি বলেনঃ
فَهِذِهِ جُمْلَةُ الْأَحَادِيثِ الَّتِي خَرَّجَهَا الْأَئِمَّةُ فِي شَأْنِ الْمَهْدِي وَخُرُوجِهِ آخِرَ الزَّمَانِ، وَهِيَ - كَمَا رَأَيْتَ - لَمْ يَخْلُصُ مِنْهَا مِنَ النَّقْدِ إِلَّا الْقَلِيلُ أَوِ الْأَقَلُّ مِنْهُ.
অর্থাৎ এগুলো মাহ্দী সংক্রান্ত কিছু হাদীস। যা আইম্মায়ে কিরাম উল্লেখ করেছেন এবং তাঁরা বলেছেনঃ তিনি শেষ যুগেই আবির্ভূত হবেন। তবে পাঠক সমাজ দেখতেই পাচ্ছেন, এগুলোর কিয়দংশই শুধুমাত্র ত্রুটিমুক্ত। যা একেবারে সামান্যই। (মুকাদ্দামাহ্: ৫৭৪)
তাঁর উপরোক্ত কথায় বুঝা যায় যে, কিছু হাদীস তো অবশ্যই ত্রুটিমুক্ত। যেখানে একটি হাদীসই যথেষ্ট আর সেখানে অনেকগুলো শুদ্ধ হাদীসই পাওয়া যাচ্ছে। যা অর্থের দিক দিয়ে মুতাওয়াতিরের পর্যায়ে পড়ে।
আল্লামাহ্ আহমেদ শাকির বলেনঃ ঐতিহাসিক ইব্ন খালদুন (রাহিমাহুল্লাহ) মুহাদ্দিসীনদের নিম্নোক্ত বাক্যটি ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারেননি। বাক্যটি হলোঃ "সাপোর্টের চাইতে প্রত্যাখ্যানই অগ্রগণ্য"
তিনি যদি মুহাদ্দিসীনদের কথাটি পুরোভাবে অনুধাবন করতে পারতেন তা হলে তিনি এমন কথা কখনোই বলতে পারতেন না। তবে এমনো হতে পারে যে, তিনি মুহাদ্দিসীনদের কথাটি পুরোভাবে অনুধাবন করতে পেরেছেন। তবে তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি অত্যধিক বিদ্বেষের কারণেই মাহ্দী সংক্রান্ত হাদীসগুলোকে দুর্বল ও অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যায়িত করেন।
তিনি আরো বলেনঃ ইব্ন খালদূন (রাহিমাহুল্লাহ) মাহ্দী সংক্রান্ত হাদীসগুলোর বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে অনেকগুলো ভুল তথ্য দিয়েছেন। তেমনিভাবে হাদীসগুলোর ভুলত্রুটি বর্ণনা করার ব্যাপারেও তিনি অনেকগুলো ভুলের আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি এ কথাও বলেন যে, হয়তো বা এগুলো ছাপার ভুলও হতে পারে। (মুসনাদে আহমাদের টিকা ৫/১৯৭-১৯৮)
মাহ্দী সংক্রান্ত হাদীসগুলো অস্বীকারকারীরা 'আল্লামাহ্ রশিদ রেযার কথাও উল্লেখ করে থাকেন।
'আল্লামাহ্ রশিদ রেযা বলেনঃ মাহ্দী সংক্রান্ত হাদীসগুলোর পারস্পরিক দ্বন্দ্ব অত্যন্ত শক্তিশালী। এরই চাইতে বর্ণনাগুলোর মাঝে সমন্বয় সাধন করা আরো কঠিন। তাই এর অস্বীকারকারীরাও অনেক বেশি। হয়তো বা এ কারণেই ইমাম বুখারী ও মুসলিম (রাহিমাহুমাল্লাহ) এ সংক্রান্ত কোন হাদীস এঁদের কিতাবদ্বয়ে উল্লেখ করেননি এবং এ কারণেই এ নিয়ে মুসলিম উম্মাহ্'র মাঝে বহু ফিতনা ও ফাসাদ সৃষ্টি হয়। (তাফসীরুল মানার: ৯/৪৯৯)
'আল্লামাহ্ রশিদ রেযা এ সংক্রান্ত কিছু হাদীসের পরস্পর দ্বন্দ্বও নমুনা স্বরূপ উল্লেখ করেন। তিনি বলেনঃ আহলে সুন্নাত ওয়াল-জামা'আতের নিকট প্রসিদ্ধ বর্ণনা হচ্ছে, তাঁর নাম মুহাম্মাদ বিন্ আব্দুল্লাহ্। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, আহমাদ বিন্ আব্দুল্লাহ্। শিয়ারা বলেঃ তাঁর নাম মুহাম্মাদ বিন্ 'হাসান আল-'আস্কারী। তিনি এগারো নম্বর নিষ্পাপ ইমাম। যাকে 'হুজ্জাত, ক্বায়িম এবং মুন্তাযিরও বলা হয়। কাইসানীদের নিকট তাঁর নাম মুহাম্মাদ বিন্ আল-'হানাফিয়্যাহ্। তারা বলেঃ তিনি আজও জীবিত এবং রেযওয়া পাহাড়ে বসবাসরত।
তিনি আরো বলেনঃ প্রসিদ্ধ কথা হচ্ছে, তিনি 'আলীর সন্তান 'হাসানের বংশধর। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তিনি 'আলীর সন্তান 'হুসাইনের বংশধর। যা শিয়াদেরও কথা। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তিনি 'আব্বাসের বংশধর।
তিনি আরো বলেনঃ এ কথা অকাট্য সত্য যে, অনেকগুলো ইসরাঈলী বর্ণনা হাদীসের কিতাবসমূহে অবস্থান করে নিয়েছে। অতএব মাহ্দী সংক্রান্ত হাদীসগুলোর অধিকাংশই হয়তো বা এ ধরনেরই। অনুরূপভাবে 'আলাভী, 'আব্বাসী ও পারসীক হঠকারিতাও মাহ্দী সংক্রান্ত হাদীসগুলোর জন্ম দিতে পারে। কারণ, তাদের প্রত্যেক দলই বিশ্বাস করে যে, একদা ইমাম মাহ্দী তাদের মধ্য থেকেই আসবেন। ইহুদী ও পারস্যবাসীরা হয়তো বা এমন হাদীস এ জন্যই রচনা করেছে যেন মুসলমানরা মাহ্দীর উপর নির্ভরশীল হয়ে ধর্মীয় ব্যাপারে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকে। কারণ, তিনিই তো একদা পুরো বিশ্বে ইসলাম ধর্ম প্রতিষ্ঠা করবেন।
আমরা ইতিপূর্বে জেনেছি যে, মাহ্দী সংক্রান্ত হাদীসগুলো শুদ্ধ এবং তা অর্থের দিক দিয়ে মুতাওয়াতির। যদিও অন্যান্য বিষয়ের মতো এ বিষয়েও যয়ীফ এবং জাল হাদীস থাকতে পারে। আর সকল শুদ্ধ হাদীস যে বুখারী এবং মুসলিমেই রয়েছে তাও কিন্তু সঠিক কথা নয়। বরং অনেকগুলো শুদ্ধ হাদীস সুনান, মাসানীদ, মা'আজিম ইত্যাদিতেও রয়েছে।
ইমাম ইবনু কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ ইমাম বুখারী ও মুসলিম এমন দায়িত্ব তো নেননি যে, তাঁরা সকল শুদ্ধ হাদীসসমূহ নিজ কিতাবদ্বয়ে উল্লেখ করবেন। বরং এমন অনেক হাদীসও তো পাওয়া যায় যা তাঁরা শুদ্ধ বলেছেন; অথচ তাঁরা তা বুখারী ও মুসলিমে উল্লেখ করেননি। যেমনঃ ইমাম তিরমিযী (রাহিমাহুল্লাহ) এ জাতীয় কিছু হাদীস তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেন। (আল-বা'য়িসুল 'হাসীস ২৫)
হাদীস ভাণ্ডারে যে ইসরাঈলী বর্ণনা এবং কট্টরপন্থীদের বর্ণনাও স্থান করে নিয়েছে তা অবশ্যই সঠিক। তবে হাদীস বিশারদগণ তো তা যাচাই- বাছাই করে সেগুলোর শুদ্ধাশুদ্ধ নির্ণয় করেছেন। এমনকি তাঁরা জাল ও দুর্বল হাদীস সম্পর্কে অনেকগুলো গ্রন্থও রচনা করেছেন। উপরন্তু তাঁরা হাদীস বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে অনেকগুলো সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম সূত্রও রচনা করেছেন। যার দরুন এমন কোন বিদ'আতী বা মিথ্যুক বাকি থাকেনি যাদের কুৎসিত চেহারা জনসমক্ষে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়নি। এভাবেই আল্লাহ্ তা'আলা হাদীস ভাণ্ডারটিকে বাতিলপন্থীদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাই আমরা মাহদী সংক্রান্ত কিছু জাল হাদীস অবলোকন করে এ সংক্রান্ত সঠিক ও শুদ্ধ হাদীসগুলো কখনো প্রত্যাখ্যান করতে পারি না। যে হাদীসগুলোতে মাহ্দী ও তাঁর পিতার নাম এবং তাঁর বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা করা হয়েছে। সুতরাং মাহ্দী সংক্রান্ত কারোর অমূলক দাবি যেন আমাদেরকে বিচলিত না করে। কারণ, যখন আল্লাহ্ তা'আলা চাবেন তখনই তিনি মাহ্দীর প্রকাশ ঘটাবেন এবং মানুষও তাঁর গুণ-বৈশিষ্ট্য দেখেই তাঁকে চিনে ফেলবে। এ জন্য কারোর সমর্থন যোগানোর কোন প্রয়োজন হবে না।
আর এ সংক্রান্ত শুদ্ধ হাদীসগুলোও কখনো পরস্পর দ্বন্দ্বপূর্ণ নয়। বরং দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে শুদ্ধাশুদ্ধ সকল প্রকারের হাদীসসমূহের মাঝে। যা আমাদের কোন চিন্তারই বিষয় নয়। তেমনিভাবে এ বিষয়ে শিয়া-সুন্নী দ্বন্দ্বও কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। আমাদের যা দেখার বিষয় তা হচ্ছে একমাত্র কুর'আন মাজীদ ও প্রিয় নবীর বিশুদ্ধ হাদীস ভাণ্ডার।
এ জন্যই 'আল্লামাহ্ ইবনুল কায়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ শিয়া ইমামীরা বলে থাকে যে, মাহ্দী হচ্ছেন মুহাম্মাদ বিন্ 'হাসান আল-'আস্কারী। যাঁর অপেক্ষায় তারা সর্বদা ব্যস্ত রয়েছে। যিনি 'আলীর সন্তান 'হুসাইনের বংশধর। 'হাসানের বংশধর নয়। তিনি এখনো বেঁচে আছেন। তবে সবার চোখেরই অন্তরালে। ছোট বেলায় তিনি সামুরা' নামক সুড়ঙ্গে অবস্থান নিয়েছেন। যা আজ থেকে প্রায় আরো পাঁচ শত বছর আগের কথা। তাঁকে এরপর আর কখনো দেখা যায়নি। এমনকি তাঁর কোন খবরাখবরও পাওয়া যায়নি। তবুও তারা প্রতিদিন একটি সুসজ্জিত ঘোড়া নিয়ে উক্ত সুড়ঙ্গের দরোজায় তাঁর অপেক্ষায় রয়েছে। চিৎকার দিয়ে তাঁকে ডাকছে, হে আমাদের মাওলা! আপনি তাড়াতাড়ি বের হয়ে আসুন; অথচ তারা তাঁকে না পেয়ে বার বার নিষ্ফল হয়ে ফিরে আসছে। তারা আদম সন্তানের জন্য এক বড়ো লজ্জা। যা শুনে যে কোন বুদ্ধিমান না হেঁসে পারে না। (আল-মানারুল মুনীফ ১৫২-১৫৩)
📄 “লা মাহদিয়্যা ইল্লা ‘ঈসাবনু মারইয়্যামা” হাদীসের উত্তর
মাহ্দী সংক্রান্ত হাদীস অস্বীকারকারী কোন কোন ব্যক্তি নিম্নোক্ত হাদীসটি তাদের প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন। যা নিম্নে উত্তর সহ বর্ণিত হলো।
আনাস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا يَزْدَادُ الْأَمْرُ إِلَّا شِدَّةً، وَلَا الدُّنْيَا إِلَّا إِدْبَارًا، وَلَا النَّاسُ إِلَّا شُحًا، وَلَا تَقُومُ السَّاعَةُ إِلَّا عَلَى شِرَارِ النَّاسِ وَلَا الْمَهْدِيُّ إِلَّا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ.
অর্থাৎ দিন দিন সকল ব্যাপার কঠিন হয়ে যাবে। দুনিয়া ক্ষয় হবে। মানুষ কৃপণ হবে। সর্ব নিকৃষ্ট মানুষসমূহের উপরই একদা কিয়ামত কায়িম হবে। আর মাহ্দী হচ্ছেন 'ঈসা বিন্ মারইয়াম (আঃ)। (ইবনু মাজাহ্ ২/১৩৪০-১৩৪১ 'হাকিম ৪/৪৪১-৪৪২)
উক্ত হাদীসটি দুর্বল। কারণ, এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে রয়েছেন মুহাম্মাদ বিন্ খালিদ আল-জুন্ন্দী।
ইমাম যাহাবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ আল্লামাহ্ আয্দী বলেনঃ মুহাম্মাদ বিন্ খালিদ আল-জুন্দী মুন্কার হাদীস বর্ণনা করে থাকেন। ইমাম আবূ আব্দুল্লাহ্ 'হাকিম বলেনঃ তিনি অজ্ঞাত। ইমাম যাহাবী বলেনঃ তাঁর হাদীস "লা মাহদিয়্যা ইল্লা 'ঈসানু মারইয়ামা" হাদীসটি মুন্কার তথা অগ্রহণযোগ্য। (মীযানুল ই'তিদাল ৩/৫৩৫)
শায়খুল ইসলাম 'আল্লামাহ্ ইবনু তাইমিয়্যাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ উক্ত হাদীসটি দুর্বল। তবুও আবূ মুহাম্মাদ ইব্দুল ওয়ালীদ আল-বাগদাদী এবং অন্যান্যরা উক্ত হাদীসটিকে নির্ভরযোগ্য হাদীস বলে ধারণা করেছেন; অথচ তা নির্ভরযোগ্য হাদীস নয়। ইমাম ইবনু মাজাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ) ইউনুস থেকে, ইউনুস হযরত ইমাম শাফি'য়ী (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে, ইমাম শাফি'য়ী মুহাম্মাদ বিন্ খালিদ আল-জুন্দী নামক জনৈক ইয়েমেনী থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেন; অথচ তার হাদীস কখনো প্রমাণযোগ্য নয় এবং উক্ত হাদীসটি ইমাম শাফি'য়ীর মুন্নাদেও পাওয়া যায় না। কেউ কেউ বলেনঃ হযরত ইমাম শাফি'য়ী (রাহিমাহুল্লাহ) উক্ত হাদীসটি সরাসরি মুহাম্মাদ বিন্ খালিদ আল-জুন্দী থেকে শুনেননি। তেমনিভাবে ইউনুসও উক্ত হাদীসটি সরাসরি ইমাম শাফি'য়ী (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে শুনেনি। (মিনহাজুস সুন্নাহ্ ৪/২১১)
আল্লামাহ্ 'হাফিয ইবনু 'হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ মুহাম্মাদ বিন্ খালিদ আল-জুন্ন্দী নামক লোকটি অজ্ঞাত। (তাক্বরীবুত তাহযীব ২/১৫৭)
তবে আল্লামাহ্ ইবনু কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) এ ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি বলেনঃ উক্ত হাদীসটি সুপ্রসিদ্ধ যা ইমাম শাফি'য়ীর উস্তাদ বিশিষ্ট মুআযযিন মুহাম্মাদ বিন্ খালিদ আল-জুন্দী আস-সান'আনী বর্ণনা করেন। তিনি ছাড়াও উক্ত হাদীসটি আরো অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। অতএব তিনি অজ্ঞাত কেউ নন। যা ইমাম 'হাকিম ধারণা করেছেন। বরং ইমাম ইবনু মা'ঈন (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁকে বিশ্বস্ত বলে আখ্যায়িত করেন। তবে কোন কোন বর্ণনাকারী উক্ত হাদীসটিকে তাঁরই মাধ্যমে আবান বিন্ আবী 'আইয়াস সূত্রে 'হাসান বসরী (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে মুরসাল রূপে বর্ণনা করেন।
আমার উস্তাদ আবূ ল 'হাজ্জাজ মিযী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর কিতাব তাহযীবুল কামালে জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন যে, একদা তিনি স্বপ্ন যোগে হযরত ইমাম শাফি'য়ী (রাহিমাহুল্লাহ) কে দেখেছেন। তিনি বলেনঃ ইউনুস বিন্ আব্দুল আ'লা স্বাদাফী আমার উপর মিথ্যারোপ করেছে। আমি এমন হাদীস কখনো বলিনি। ইবনু কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ ইউনুস নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। স্বপ্ন দিয়ে তাঁর কোন সমালোচনা করা যাবে না।
তবে উক্ত হাদীসটি প্রকাশ্য দৃষ্টিতে মাহ্দী সংক্রান্ত অন্যান্য হাদীস বিরোধী। তাই অন্যান্য হাদীসগুলোকে 'ঈসা (আঃ) অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বেরই ধরতে হবে। তবে পরের ধরলেও কোন অসুবিধে নেই। কারণ, চিন্তা করলে তা বিপরীতমুখী মনে হয় না। বরং বলতে হয়, সত্যিকার মাহ্দী হচ্ছেন 'ঈসা (আঃ)। তবে তিনি ছাড়া অন্য আরেক জনও তো মাহ্দী হতে পারেন। এতে কোন সন্দেহ নেই। (আন-নিহায়াহ্ ১/৩২)
ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ হয়তো বা উক্ত হাদীসের অর্থ এই যে, সম্পূর্ণরূপে নিষ্পাপ মাহ্দী হচ্ছেন 'ঈসা (আঃ)। আর এভাবেই তখন সব ধরনের হাদীসগুলোর মাঝে সমন্বয় সাধন করা সম্ভব হবে। তখন আর পরস্পরের মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব থাকবে না। (আত-তাযকিরাহ ফী আহওয়ালিল মাউতা' ৬১৭)
অতএব উক্ত হাদীসটিকে শুদ্ধ ধরে নিলেও তা অন্যান্য হাদীসের মুকাবিলায় কখনো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কারণ, সেগুলোর বিশুদ্ধতা নিয়ে কারোর মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব নেই যা উক্ত হাদীসটিতে বিদ্যমান।