📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 আলামতগুলোর ক্রম ধারাবাহিকতা

📄 আলামতগুলোর ক্রম ধারাবাহিকতা


আলামতগুলোর ক্রম ধারাবাহিকতার নির্দিষ্ট কোন প্রমাণ নেই। কারণ, হাদীসগুলোতে নিদর্শনসমূহ উল্লেখের যে ধারাবাহিকতা রয়েছে তা পরস্পর দ্বন্দ্বপূর্ণ।
'হুযাইফাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ একদা আমরা কিয়ামত সম্পর্কে পরস্পর আলোচনা করছিলাম। এমন সময় রাসূল () আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়ে বললেনঃ তোমরা কি আলাপ-আলোচনা করছিলে? আমরা বললামঃ আমরা এতক্ষণ কিয়ামত সম্পর্কেই আলাপ-আলোচনা করছিলাম। তখন রাসূল () বললেনঃ
إِنَّهَا لَنْ تَقُوْمَ حَتَّى تَرَوْنَ قَبْلَهَا عَشْرَ آيَاتٍ، فَذَكَرَ الدُّخَانَ، وَالدَّجَّالَ وَالدَّابَّةَ، وَطُلُوْعَ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا ، وَنُزُولَ عِيسَى بْنِ مَرْيَمَ، وَيَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ، وَثَلَاثَةَ خُسُوفٍ : خَسْفُ بِالْمَشْرِقِ، وَخَسْفُ بِالْمَغْرِبِ، وَخَسْفُ بِجَزِيرَةِ الْعَرَبِ، وَآخِرُ ذَلِكَ نَارُ تَخْرُجُ مِنَ الْيَمَنِ تَطْرُدُ النَّاسَ إِلَى مَحْشَرِهِمْ.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না তোমরা দশটি বড়ো বড়ো আলামত অবলোকন করবে। অতঃপর তিনি উল্লেখ করেনঃ ধোঁয়া, দাজ্জাল, একটি বিশেষ পশু, পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উঠা, ঈসা (আঃ) এর অবতরণ, ইয়াজুজ-মা'জুজ, তিন প্রকারের ভূমি ধসঃ পূর্ব দিকে ভূমি ধস, পশ্চিম দিকে ভূমি ধস, আরব উপদ্বীপে ভূমি ধস। সর্বশেষ নিদর্শনটি হচ্ছে ইয়েমেনের আগুন যা সকল মানুষকে হাশরের ময়দানের দিকে তাড়িয়ে নিবে। (মুসলিম ২৯০১)
অন্য বর্ণনায় রয়েছে,
إِنَّ السَّاعَةَ لَا تَكُونُ حَتَّى تَكُونَ عَشْرُ آيَاتٍ خَسْفُ بِالْمَشْرِقِ وَخَسْفُ بِالْمَغْرِبِ، وَخَسْفُ فِي جَزِيرَةِ الْعَرَبِ، وَالدُّخَانُ وَالدَّجَّالُ، وَدَابَّةُ الْأَرْضِ، وَيَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ ، وَطُلُوعُ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا، وَنَارٌ تَخْرُجُ مِنْ قُعْرَةِ عَدَنٍ تَرْحَلُ النَّاسَ، وَفِي رِوَايَةٍ : وَالْعَاشِرَةُ : نُزُولُ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ()
অর্থাৎ কিয়ামত আসবে না যতক্ষণ না দশটি আলামত পরিলক্ষিত হয়; পূর্ব দিকে ভূমি ধস, পশ্চিম দিকে ভূমি ধস, আরব উপদ্বীপে ভূমি ধস, ধোঁয়া, দাজ্জাল, পৃথিবীর একটি বিশেষ পশু, ইয়াজুজ-মা'জুজ, পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উঠা, 'আদানের গভীর অঞ্চল থেকে এমন এক আগুন বের হবে যা সকল মানুষকে (হাশরের মাঠের দিকে) পরিচালিত করবে। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, দশম নিদর্শন হচ্ছে ঈসা (আঃ) এর অবতরণ। (মুসলিম ২৯০১)
উপরের বর্ণনাদ্বয়ে একই ব্যক্তি একই ব্যাপারকে দু'ভাবে বর্ণনা করেছেন। যাতে উভয় বর্ণনার ক্রম ধারাবাহিকতা পরস্পর বিরোধী।
অন্য দিকে আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
بَادِرُوا بِالْأَعْمَالِ سِتًّا : طُلُوعِ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا، أَوِ الدُّخَانَ، أَوِ الدَّجَّالَ، أَوِ الدَّابَّةَ، أَوْ خَاصَّةَ أَحَدِكُمْ، أَوْ أَمْرَ الْعَامَّةِ.
অর্থাৎ তোমরা তাড়াতাড়ি আমল করো ছয়টি নিদর্শন আবির্ভূত হওয়ার পূর্বেই। সেগুলো হচ্ছে; পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উঠা, ধোঁয়া, দাজ্জাল, একটি বিশেষ পশু, তোমাদের কারোর মৃত্যু অথবা কিয়ামত। (মুসলিম ২৯৪৭)
অন্য বর্ণনায় রয়েছে,
بَادِرُوا بِالْأَعْمَالِ سِتًّا : الدَّجَّالَ، وَالدُّخَانَ، وَدَابَّةَ الْأَرْضِ، وَطُلُوْعَ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا، وَأَمْرَ الْعَامَّةِ، وَخُوَبِصَّةَ أَحَدِكُمْ.
অর্থাৎ তোমরা তাড়াতাড়ি আমল করো ছয়টি নিদর্শন আবির্ভূত হওয়ার পূর্বেই। সেগুলো হচ্ছে; দাজ্জাল, ধোঁয়া, পৃথিবীর একটি বিশেষ পশু, পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উঠা, কিয়ামত অথবা তোমাদের কারোর মৃত্যু। (মুসলিম ২৯৪৭)
উপরোক্ত বর্ণনাদ্বয়েও একই ব্যক্তি একই ব্যাপারকে দু'ভাবে বর্ণনা করেছেন। যাতে উভয় বর্ণনার ক্রম ধারাবাহিকতা পরস্পর বিরোধী।
তবে যে ব্যাপারটি জানা সম্ভব তা হচ্ছে, কিছু কিছু বর্ণনায় কয়েকটি আলামতের সংঘটন ধারাবাহিকতা উল্লিখিত হয়েছে। যার দ্বারা সে কয়েকটির ধারাবাহিকতা তো অবশ্যই বুঝা যায়। যেমনঃ নাওয়াস্ বিন্ সাম্'আনের হাদীসে এসেছে, দাজ্জাল বেরুবে। অতঃপর 'ঈসা (আঃ) ওকে হত্যা করার জন্য অবতরণ করবেন। এরপর ইয়াজুজ-মা'জুজ বের হবে। 'ঈসা (আঃ) তাদের ধ্বংসের ব্যাপারে আল্লাহ্ তা'আলার নিকট দো'আ করবেন।
এ ছাড়াও কোন কোন হাদীসে বলা হয়েছে, এটিই সর্বপ্রথম নিদর্শন। আবার অন্য হাদীসে অন্য আরেকটিকে সর্বপ্রথম নিদর্শন বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এ জাতীয় দ্বন্দ্ব সাহাবাদের যুগ থেকেই পরিলক্ষিত হয়ে আসছে।
একদা মারওয়ান বিন্ 'হাকামের নিকট তিন জন লোক বসলে তারা শুনতে পায় যে, মারওয়ান বলছেঃ সর্বপ্রথম দাজ্জালই বের হবে। তখন আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেনঃ মারওয়ান কিছুই বলতে পারেনি। আমি রাসূল () কে বলতে শুনেছি যা আমি এখনো ভুলিনি তিনি বলেনঃ
إِنَّ أَوَّلَ الْآيَاتِ خُرُوجًا طُلُوعُ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا، وَخُرُوجُ الدَّابَّةِ عَلَى النَّاسِ ضُحًى، وَأَيُّهُمَا مَا كَانَتْ قَبْلَ صَاحِبَتِهَا، فَالْأُخْرَى عَلَى إِثْرِهَا قَرِيبًا.
অর্থাৎ সর্বপ্রথম নিদর্শন হচ্ছে, পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উঠা এবং দুপুরের আগেই এক বিশেষ পশু বের হওয়া। দু'টোর যেটিই সর্বপ্রথম বের হবে অন্যটি এর পরপরই বের হবে। (মুসলিম ২৯৪১)
তবে 'আল্লামাহ্ ইবনু হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এ জাতীয় সকল হাদীস একত্রিত করলে বুঝা যায় যে, ভূমণ্ডলের পরিবর্তন সর্বপ্রথম দাজ্জাল বের হওয়ার মাধ্যমেই শুরু হবে এবং শেষ হবে 'ঈসা (আঃ) এর মৃত্যুর মাধ্যমেই। আর নভোমণ্ডলের পরিবর্তন পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উঠার মাধ্যমেই শুরু হবে এবং শেষ হবে কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার মাধ্যমেই। এমনো হতে পারে যে, পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উঠার দিনই সে বিশেষ পশুটি বের হবে।
তিনি আরো বলেনঃ পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উঠলেই তো তাওবার দরোজা বন্ধ হয়ে যাবে। আর তখনই সে বিশেষ পশুটি বের হয়ে মু'মিনকে কাফির থেকে পৃথক করে ফেলবে।
তিনি আরো বলেনঃ দাজ্জাল বের হওয়া, 'ঈসা (আঃ) এর অবতরণ এবং ইয়াজুজ-মা'জুজ এর আবির্ভাব যদিও পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উঠা কিংবা সে বিশেষ পশুটি বের হওয়ার পূর্বেই প্রকাশ পাবে তবুও তা এমন অলৌকিক কিছু নয়। কারণ, তারা তো মানুষ। তবে তাদের কর্মকাণ্ডই হবে আশ্চর্যজনক। কিন্তু সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উঠা কিংবা সে বিশেষ পশুটি বের হওয়া তা মূলতই অলৌকিক এবং সত্যিই আশ্চর্যজনক। তাই এগুলোই সর্ব প্রথম এক একটি অলৌকিক নিদর্শন। (ফাতহুল বারী ১১/৩৫৩)
'আল্লামাহ্ ত্বীবি বলেনঃ কিয়ামতের বড়ো বড়ো আলামতগুলো আবার দু' প্রকার। কিছু কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার। আর কিছু কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার। যা নিকটবর্তী হওয়ার সেগুলো হচ্ছে, দাজ্জাল, 'ঈসা (আঃ) এর অবতরণ, ইয়াজুজ-মা'জুজ ও ভূমিধস। আর যেগুলো কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সেগুলো হচ্ছে, ধোঁয়া, পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উঠা, সে বিশেষ পশুটির আবির্ভাব এবং সে আগুন বের হওয়া যা মানুষকে 'হাশরের মাঠের দিকে তাড়িয়ে নিবে।
কিয়ামতের বড়ো বড়ো নিদর্শনগুলো বর্ণনার সময় 'আল্লামাহ্ ত্বীবির উক্ত ধারাবাহিকতাই রক্ষা করা হবে। তবে এর পূর্বে ইমাম মাহ্দীর ব্যাপারটিই সর্বপ্রথম আলোচনা করা হবে। কারণ, তাঁর আবির্ভাব এগুলোর আগেই।

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 কিয়ামতের বড়ো বড়ো আলামতগুলো খুব দ্রুতই সংঘটিত হবে

📄 কিয়ামতের বড়ো বড়ো আলামতগুলো খুব দ্রুতই সংঘটিত হবে


যখন কিয়ামতের একটি বড়ো আলামত দেখা দিবে তখন এর পরপরই খুব দ্রুত অন্যগুলোও সংঘটিত হবে। যেমন মুক্তা, হীরা, জাওয়াহিরের হার ছিঁড়ে গেলে একটি দানার পরপরই আরেকটি দানা ছিটকে পড়ে।
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
خُرُوجُ الْآيَاتِ بَعْضُهَا عَلَى إِثْرِ بَعْضٍ يَتَتَابَعْنَ كَمَا تَتَابَعُ الْخَرْزُ فِي النِّظَامِ.
অর্থাৎ কিয়ামতের বড়ো বড়ো আলামতগুলো একটার পর আরেকটা এমনভাবে সংঘটিত হবে যেমন হীরা-জাওয়াহিরের হার ছিঁড়ে গেলে একটির পর আরেকটি دানা খুব দ্রুত ছিটকে পড়ে। (মাজমা'উয যাওয়ায়িদ: ৭/৩৩১)
আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
الْآيَاتُ خَرَزَاتٌ مَنْظُومَاتٌ فِي سِلْكٍ، فَإِنْ يُقْطَعِ السِّلْكُ يَتْبَعْ بَعْضُهَا بَعْضًا.
অর্থাৎ কিয়ামতের বড়ো বড়ো আলামতগুলো হারে গাঁথা হীরা-জাওয়াহিরের মতো। হারটি ছিঁড়ে গেলে যেমন একটির পর আরেকটি দানা দ্রুত ছিঁটকে পড়বে তেমনিভাবে কিয়ামতের বড়ো বড়ো আলামতগুলোর যে কোন একটি দেখা দিলে অন্যগুলোও একটির পর আরেকটি দ্রুত দেখা দিবে। (আহমাদ ১২/৬-৭)
'ঈসা (আঃ) ইয়াজুজ-মা'জুজ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর বলবেনঃ
فَفِيْمَا عَهِدَ إِلَيَّ رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ أَنَّ ذَلِكَ إِذَا كَانَ كَذَلِكَ؛ فَإِنَّ السَّاعَةَ كَالْحَامِلِ الْمُتِمَ الَّتِي لَا يَدْرِي أَهْلُهَا مَتَى تَفْجَؤُهُمْ بِوِلَادِهَا لَيْلًا أَوْ نَهَارًا.
অর্থাৎ আমার প্রভু আমার কাছে যে ওহী পাঠিয়েছেন তার মধ্যে এটাও যে, যখন পরিস্থিতি এমন হবে তথা ইয়াজুজ-মা'জুজ ধ্বংস হয়ে যাবে তখন কিয়ামত এতোই নিকটবর্তী হবে যেমন কোন পূর্ণ গর্ভবতী মহিলার পরিবারবর্গ জানে না যে, দিন-রাতের কখন যে সে হঠাৎ সন্তানটি প্রসব করে বসে। (আহমাদ ৫/১৮৯-১৯০)
কারো কারোর মতে উপরোক্ত হাদীসটি দুর্বল। তবে আল্লামাহ্ আহমাদ শাকির হাদীসটিকে বিশুদ্ধ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
অতএব 'ঈসা (আঃ) এর ইন্তিকালের পর পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উঠা, ধোঁয়া, সে বিশেষ পশুটির আবির্ভাব এবং সে আগুন বের হওয়া যা মানুষকে 'হাশরের মাঠের দিকে তাড়িয়ে নিবে অতি দ্রুত সংঘটিত হবে।

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 তিনটি ভূমিধ্বস

📄 তিনটি ভূমিধ্বস


কিয়ামতের পূর্বে তিনটি ভয়াবহ ভূমিধস দেখা দিবে। 'হুযাইফাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
إِنَّ السَّاعَةَ لَا تَكُوْنُ حَتَّى تَكُونَ عَشْرُ آيَاتٍ خَسْفُ بِالْمَشْرِقِ وَخَسْفُ بِالْمَغْرِبِ، وَخَسْفُ فِي جَزِيرَةِ الْعَرَبِ، وَالدُّخَانُ وَالدَّجَّالُ، وَدَابَّةُ الْأَرْضِ، وَيَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ ، وَطُلُوعُ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا، وَنَارُ تَخْرُجُ مِنْ قُعْرَةِ عَدَنٍ تَرْحَلُ النَّاسَ، وَفِي رِوَايَةٍ : وَالْعَاشِرَةُ : نُزُولُ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ (আ.)
অর্থাৎ কিয়ামত আসবে না যতক্ষণ না দশটি আলামত পরিলক্ষিত হয় ; পূর্ব দিকে ভূমি ধস, পশ্চিম দিকে ভূমি ধস, আরব উপদ্বীপে ভূমি ধস, ধোঁয়া, দাজ্জাল, পৃথিবীর একটি বিশেষ পশু, ইয়াজুজ-মা'জুজ, পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উঠা, 'আদানের গভীর অঞ্চল থেকে এমন এক আগুন বের হবে যা সকল মানুষকে (হাশরের মাঠের দিকে) পরিচালিত করবে। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, দশম নিদর্শন হচ্ছে ঈসা (আ.) এর অবতরণ। (মুসলিম ২৯০১)
উম্মু সালামাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
سَيَكُونُ بَعْدِي خَسْفُ بِالْمَشْرِقِ، وَخَسْفُ بِالْمَغْرِبِ، وَخَسْفُ فِي جَزِيرَةِ الْعَرَبِ، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ! أَيُخْسَفُ بِالْأَرْضِ وَفِيهَا الصَّالِحُونَ؟ قَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ : إِذَا أَكْثَرَ أَهْلُهَا الْخَبَثَ.
অর্থাৎ আমার মৃত্যুর পর অচিরেই তিনটি ভূমিধস দেখা দিবে। পূর্ব দিকে ভূমি ধস, পশ্চিম দিকে ভূমি ধস, আরব উপদ্বীপে ভূমি ধস। হযরত উম্মু সালামাহ্ বললেনঃ হে আল্লাহ্'র রাসূল! বিশ্ব কি ধসে যাবে; অথচ তাতে থাকবে অনেকগুলো নেককার লোক? রাসূল() বললেনঃ অবশ্যই, যখন বিশ্ববাসী অশ্লীলতা বাড়িয়ে দিবে। (মাজমা'উয-যাওয়ায়িদ ৮/১১)
উক্ত তিনটি ভূমিধস এখনো ঘটেনি।
আল্লামাহ্ ইবনু 'হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ ভূমিধস বিশ্বের অনেক জায়গায়ই সংঘটিত হয়েছে। তবে উক্ত তিনটি ভূমিধস সেগুলোর চাইতেও অনেক ভয়াবহ এবং সুবিস্তৃত। (ফাত্হুল-বারী ১৩/৮৪)

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 হাশরের মাঠ

📄 হাশরের মাঠ


শেষ যুগে একদা শামের দিকে মানুষগুলোকে একত্রিত করা হবে। যা হবে তখনকার হাশরের মাঠ এবং যা অনেকগুলো বিশুদ্ধ হাদীস কর্তৃক প্রমাণিত। যা নিম্নরূপঃ
১. আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
سَتَخْرُجُ نَارُ مِنْ حَضْرَ مَوْتَ أَوْ مِنْ بَحْرٍ حَضْرَ مَوْتَ قَبْلَ يَوْمِ الْقِيَامَةِ تَحْشُرُ النَّاسَ ، قَالُوا : يَا رَسُولَ اللهِ! فَمَا تَأْمُرُنَا؟ قَالَ: عَلَيْكُمْ بِالشَّامِ.
অর্থাৎ অচিরেই হাফ্রামাউত অথবা হাফ্রামাউত সাগর থেকে কিয়ামতের পূর্বে এক ধরনের আগুন বের হবে যা মানুষকে (হাশরের মাঠে) একত্রিত করবে। সাহাবাগণ বললেনঃ হে আল্লাহ্'র রাসূল! আপনি তখন আমাদেরকে কি করতে আদেশ করেন? তিনি বললেনঃ তোমরা তখন শামে চলে যাবে। (আহমাদ্ ৭/১৩৩ তিরমিযী/তুহফাহ্ ৬/৪৬৩-৪৬৪)
২. 'হাকীম বিন্ মু'আবিয়া তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেনঃ তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ এখানেই তোমাদেরকে একত্রিত করা হবে। এখানেই তোমাদেরকে একত্রিত করা হবে। এখানেই তোমাদেরকে একত্রিত করা হবে। আরোহণ করে, হেঁটে এবং চেহারার উপর টেনে-হেঁচড়ে। বর্ণনাকারী ইবনু আবী বুকাইর বলেনঃ রাসূল (ﷺ) শামের দিকে ইশারা করেই এ কথা বলেন। (আহমাদ্ ৪/৪৪৬-৪৪৭)
৩. বাহ্য বিন্ 'হাকীম তাঁর পিতা থেকে তাঁর পিতা তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেনঃ তিনি বলেনঃ আমি বললামঃ হে আল্লাহ্'র রাসূল! আপনি তখন আমাকে কোথায় যেতে আদেশ করছেন? তিনি বললেনঃ এ দিকে এবং নিজের হাত দিয়ে শামের দিকে ইশারা করলেন। (তিরমিযী/তুহফাহ্ ৬/৪৩৪-৪৩৫)
৪. আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমি রাসূল (ﷺ) কে বলতে শুনেছি তিনি বলেনঃ অচিরেই হিজরতের পর হিজরত সংঘটিত হবে। মানুষ যেতে থাকবে ইব্রাহীম (আঃ) এর হিজরতের জায়গায়। তখন দুনিয়ার বুকে শুধু নিকৃষ্ট মানুষই বেঁচে থাকবে। জমিন তাদেরকে দূরে নিক্ষেপ করবে। আগুন তাদেরকে হাঁকিয়ে নিবে শূকর ও বানরের সাথে। উক্ত আগুন তাদের সাথেই রাত্রি যাপন করবে এবং দুপুর বেলায় বিশ্রাম করবে। পেছনে পড়া সকলকে গিলে ফেলবে। (আহমাদ্ ১১/৯৯ আবূ দাউদ/'আউন ৭/১৫৮)
ইবনু 'হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ ইব্‌দু 'উয়াইনাহ্ থেকে আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আব্বাসের তাফসীরে রয়েছে, যে ব্যক্তি শাম দেশে হাশর হবে বলে সন্দেহ করে সে যেন সূরা হাশরের প্রথমাংশ পড়ে নেয়। সেই দিন রাসূল () সাহাবাদেরকে বললেনঃ তোমরা বের হয়ে যাও। সাহাবাগণ বললেনঃ কোথায় বের হয়ে যাবো? রাসূল () বললেনঃ হাশরের মাঠের দিকে। (ফাত্হুল-বারী ১১/৩৮০ ইবনু কাসীর ৮/৮৪-৮৫)
শাম দেশ 'হাশরের মাঠ এ জন্যই হবে যে, কারণ শেষ যুগে যখন পুরো বিশ্বে ফিতনা ছড়িয়ে পড়বে তখন শাম দেশে ঈমান ও নিরাপত্তা টিকে থাকবে। এ ছাড়াও শাম দেশের ফযীলত সম্পর্কে অনেকগুলো শুদ্ধ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। যা নিম্নরূপঃ
১. আবু দ্দারদা' থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ( ইরশাদ করেনঃ একদা আমি ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়েছি যে, কিতাবের খুঁটিটি আমার মাথার নিচ থেকে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। আমি ভাবলাম, তা একেবারেই উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। এরপরও আমি উহার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখলাম। দেখলাম, তা শাম দেশে গাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সুতরাং তোমরা জেনে রাখো, ফিতনা যখন সর্বদা ছড়িয়ে পড়বে তখন ঈমান থাকবে শাম দেশে। (আহমাদ্ ৫/১৯৮-১৯৯ ফাত্হুল-বারী ১২/৪০২-৪০৩)
২. আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'হাওয়ালাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ আমি ইস্রা'র (মক্কা থেকে বাইতুল-মাকুদিস অভিমুখী রাত্রি কালীন ভ্রমণ) রাত্রিতে একটি সাদা খুঁটি দেখতে পেলাম। যেন তা একটি ঝাণ্ডা যা ফিরিস্তাগণ বহন করে আছেন। আমি বললামঃ আপনারা কি বহন করছেন? তাঁরা বললেনঃ আমরা কিতাবের খুঁটি বহন করছি। আমাদেরকে আদেশ করা হয়েছে তা শাম দেশে রাখার জন্য। (ফাত্হুল-বারী ১২/৪০৩)
৩. আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'হাওয়ালাহ্ থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ অচিরেই তোমরা শৃঙ্খলাবদ্ধ কয়েকটি সেনা দলে বিভক্ত হবে। একটি দল শামে। আরেকটি দল ইয়েমেনে। আরেকটি দল ইরাকে। হযরত ইবনু 'হাওয়ালাহ্ বলেনঃ হে রাসূল! আপনি আমার জন্য এদের মধ্য থেকে একটি দল চয়ন করুন যাতে আমি তাদের সঙ্গী হতে পারি। তিনি বললেনঃ তুমি শামের দলে যোগ দিবে। কারণ, তা আল্লাহ্ তা'আলার নিকট তখনকার সর্বশ্রেষ্ঠ ভূমি। তিনি তখন তাঁর সকল প্রিয় বান্দাহদেরকে সেখানে একত্রিত করবেন। তোমরা যদি সেখানে না যেতে চাও তা হলে ইয়েমেনে যাবে। সেখানের পুকুরগুলো থেকে পানি পান করবে। কারণ, আল্লাহ্ তা'আলা আমার জন্য শাম ও তার অধিবাসীদের দায়িত্ব নিয়েছেন। (আবূ দাউদ/'আউন ৭/১৬০-১৬১)
কারো কারোর মতে উক্ত হাদীসটি দুর্বল। তবে আল্লামাহ্ আল্ল্বানী (রাহিমাহুল্লাহ) হাদীসটিকে বিশুদ্ধ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
এ ছাড়াও রাসূল (স) শামের জন্য বরকতের দো'আ করেছেন।
আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ হে আল্লাহ্! আপনি শাম দেশে বরকত দিন। হে আল্লাহ্! আপনি ইয়েমেনে বরকত দিন। (বুখারী ৭০৯৪)
এমনকি 'ঈসা (আঃ) ও কিয়ামতের পূর্বে শাম দেশেই অবতীর্ণ হবেন এবং তাঁকে নিয়েই সকল মু'মিন দাজ্জালের সাথে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00