📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ 📄 এমন এক পবিত্র বায়ু প্রবাহিত হওয়া যার দরুন সকল মুমিন ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করবে

📄 এমন এক পবিত্র বায়ু প্রবাহিত হওয়া যার দরুন সকল মুমিন ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করবে


এমন এক পবিত্র বায়ু প্রবাহিত হওয়া যার দরুন সকল মুমিন ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করবে কিয়ামতের আরেকটি আলামত। যখন এমন হবে তখন এ দুনিয়াতে আল্লাহ্ আল্লাহ্ বলার আর কেউই থাকবে না। যারা তখন অবশিষ্ট থাকবে তারাই হবে দুনিয়ার সর্বনিকৃষ্ট মানুষ এবং এদের উপরই তখন কিয়ামত কায়িম হবে। এ বায়ু হবে রেশমের চাইতেও অতি নরম।
নাউয়াস্ বিন্ সাম'আন ( থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ একদা রাসূল () দাজ্জাল, 'ঈসা (আঃ) ও ইয়াজুজ-মা'জুজ এর কথা উল্লেখ করার পর বলেনঃ
فَبَيْنَمَا هُمْ كَذَلِكَ إِذْ بَعَثَ اللهُ رِيحًا طَيِّبَةً، فَتَأْخُذُهُمْ تَحْتَ آبَاطِهِمْ، فَتَقْبِضُ رُوحَ كُلِّ مُؤْمِنٍ وَكُلِّ مُسْلِمٍ، وَيَبْقَى شِرَارُ النَّاسِ يَتَهَا رَجُوْنَ فِيهَا تَهَارُجَ الْحُمُرِ، فَعَلَيْهِمْ تَقُوْمُ السَّاعَةُ.
অর্থাৎ তারা দাজ্জাল, 'ঈসা (আঃ) ও ইয়াজুজ-মা'জুজ নিয়ে ব্যস্ত থাকবে এমতাবস্থায় আল্লাহ্ তা'আলা এমন এক পবিত্র বায়ু প্রবাহিত করবেন যা তাদের বগলের নিচে এমন এক রোগের জন্ম দিবে যার দরুন সকল মু'মিন- মুসলমান মৃত্যু বরণ করবে। যারা বেঁচে থাকবে তারা হবে সে যুগের দুনিয়ার সর্ব নিকৃষ্ট মানুষ। তারা গাধার মতো নির্লজ্জভাবে প্রকাশ্যে ব্যবিচারে লিপ্ত হবে এবং তাদের উপরই কিয়ামত কায়িম হবে। (মুসলিম ২৯৩৭)
আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
يَخْرُجُ الدَّجَّالُ فِي أُمَّتِي فَيَمْكُثُ أَرْبَعِينَ، فَيَبْعَثُ اللَّهُ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ كَأَنَّهُ عُرْوَةُ بْنُ مَسْعُودٍ، فَيَطْلُبُهُ، فَيُهْلِكُهُ ثُمَّ يَمْكُتُ النَّاسُ سَبْعَ سِنِينَ، لَيْسَ بَيْنَ اثْنَيْنِ عَدَاوَةً، ثُمَّ يُرْسِلُ اللهُ رِيحًا بَارِدَةً مِنْ قِبَلِ الشَّامِ، فَلَا يَبْقَى عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ أَحَدٌ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ خَيْرٍ أَوْ إِيْمَانٍ إِلَّا قَبَضَتْهُ، حَتَّى لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ دَخَلَ كَبِدَ جَبَلٍ لَدَخَلَتْهُ عَلَيْهِ حَتَّى تَقْبِضَهُ.
অর্থাৎ আমার উম্মতের মধ্যেই দাজ্জাল বের হবে এবং সে চল্লিশ দিন অবস্থান করবে। অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা 'ঈসা (আঃ) কে পাঠাবেন। দেখতে যেন তিনি 'উরওয়াহ্ বিন্ মাস'ঊদ । তখন তিনি দাজ্জালকে খুঁজে বের করে তাকে হত্যা করবেন। অতঃপর সাত বছর এমন যাবে যে, কোথাও দু' ব্যক্তির মাঝে শত্রুতা থাকবে না। উপরন্তু আল্লাহ্ তা'আলা সিরিয়ার দিক থেকে এমন এক ঠাণ্ডা বাতাস পাঠাবেন যার দরুন দুনিয়াতে এমন কোন লোক বেঁচে থাকবে না যার অন্তরে এক অণু পরিমাণ ঈমান ও কল্যাণ থাকবে। এমনকি তোমাদের কেউ কোন পাহাড় গর্ভে ঢুকলেও সেখানে সে বায়ু প্রবেশ করে তার মৃত্যু ঘটাবে। (মুসলিম ২৯৪০)
এ বায়ু দাজ্জাল, 'ঈসা (আঃ) ও ইয়াজুজ-মা'জুজ বের হওয়ার পরই প্রবাহিত হবে যা উপরোক্ত হাদীসদ্বয় থেকে সহজেই বুঝা যায়। এমনকি তা কিয়ামতের সকল বড় বড় আলামত সংঘটিত হওয়ার পর কিয়ামতের কিছু পূর্বেই প্রবাহিত হবে।
এ বায়ু সিরিয়া থেকে বের হয়ে ইয়েমেন পৌঁছে সেখান থেকেই সর্ব জায়গায় ছড়িয়ে পড়বে অথবা এ জাতীয় বায়ু উক্ত দু' জায়গা থেকেই সমভাবে বের হবে।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ
إِنَّ اللَّهَ يَبْعَثُ رِيحًا مِنَ الْيَمَنِ أَلْيَنَ مِنَ الْحَرِيرِ، فَلَا تَدَعُ أَحَدًا فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ إِيْمَانٍ إِلَّا قَبَضَتْهُ.
অর্থাৎ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা ইয়েমেন থেকে এমন এক বায়ু প্রবাহিত করবেন যা রেশম চাইতেও হবে অনেক নরম। সে বায়ু এমন কাউকে না মেরে ছাড়বে না যার অন্তরে অণু পরিমাণ ঈমান রয়েছে। (মুসলিম ১১৭)
উক্ত বায়ু প্রবাহিত হওয়া পর্যন্ত দুনিয়ার বুকে এমন একটি দল সর্বদা টিকে থাকবে যারা হবে সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত।
সাউবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ
لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي ظَاهِرِينَ عَلَى الْحَقِّ، لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ وَهُمْ كَذَلِكَ.
অর্থাৎ আমার উম্মতের মধ্য থেকে একটি দল সর্বদা সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। তাদের শত্রু পক্ষ কখনো তাদের এতটুকুও ক্ষতি করতে পারবে না। যতক্ষণ না আল্লাহ্ তা'আলার আদেশ তথা উক্ত বায়ু প্রবাহিত হয়। উক্ত বায়ু প্রবাহিত হওয়া পর্যন্ত তারা জয়ীর বেশেই থেকে যাবে। (মুসলিম ১৯২০)

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ 📄 কা’বা শরীফের অবমাননা ও উহার ধ্বংস

📄 কা’বা শরীফের অবমাননা ও উহার ধ্বংস


কা'বা শরীফের চরম অবমাননা একমাত্র মুসলমানরাই করবে। অন্যরা নয়। আর তখনই তাদের ধ্বংস হবে অনিবার্য। জনৈক ইথিওপীয় কা'বা শরীফকে ধ্বংস করে দিবে। তার পায়ের জংঘা দু'টি হবে ছোট ছোট। সে কা'বার পাথরগুলো একটি একটি করে খুলে ফেলবে। কা'বার গিলাফ ও অলঙ্কারাদি ছিনিয়ে নিবে। আর তা এমন এক সময় হবে যখন আল্লাহ্ আল্লাহ্ বলার আর কেউই থাকবে না। তাই কা'বা শরীফ ধ্বংস হওয়ার পর তা আর পুনঃনির্মাণ করা হবে না।
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
يُبَايِعُ لِرَجُلٍ مَا بَيْنَ الرُّكْنِ وَالْمَقَامِ، وَلَنْ يَسْتَحِلَّ الْبَيْتَ إِلَّا أَهْلُهُ، فَإِذَا اسْتَحَلُّوهُ فَلَا يُسْأَلُ عَنْ هَلَكَةِ الْعَرَبِ، ثُمَّ تَأْتِي الْحَبَشَةُ، فَيُخْرِبُونَهُ خَرَابًا لَا يُعَمَّرُ بَعْدَهُ أَبَدًا، وَهُمُ الَّذِينَ يَسْتَخْرِجُونَ كَنْزَهُ.
অর্থাৎ রুকন ও মাকামে ইব্রাহীমের মাঝে জনৈক ব্যক্তির জন্য বায়'আত গ্রহণ করা হবে। তখন কা'বা শরীফের অবমাননা একমাত্র মুসলমানরাই করবে। যখন কা'বার অবমাননা করা হবে তখন আর আরবদের ধ্বংসের কথা জিজ্ঞাসা করতে হবে না। অতঃপর ইথিওপীয়রা আসবে। তারা কা'বা শরীফ ধ্বংস করে দিবে। যার পর আর কখনো কা'বা শরীফ পুনঃনির্মাণ করা হবে না এবং তারাই কা'বার সকল রক্ষিত ধন-ভাণ্ডার বের করে নিয়ে যাবে। (আহমদ ১৫/৩৫)
'আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
يُخْرِبُ الْكَعْبَةَ ذُو السُّوَيْقَتَيْنِ مِنَ الْحَبَشَةِ، وَيَسْلُبُهَا حِلْيَتَهَا، وَيُجَرِّدُهَا مِنْ كِسْوَتِهَا، وَلَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِ : أُصَيْلِعُ أُفَيْدِعُ يَضْرِبُ عَلَيْهَا بِمِسْحَاتِهِ وَمِعْوَلِهِ.
অর্থাৎ জনৈক ইথিওপীয় কা'বা শরীফকে ধ্বংস করে দিবে। তার পায়ের জংঘা দু'টি হবে ছোট ছোট। সে কা'বার গিলাফ ও অলঙ্কারাদি ছিনিয়ে নিবে। রাসূল () বলেনঃ আমি যেন তাকে এখনই দেখতে পাচ্ছি। তার মাথায় চুল নেই। হাত-পাগুলো বাঁকা। সে কুড়াল ও শাবল দিয়ে কা'বা শরীফের উপর আঘাত হানবে। (আহমদ ১২/১৪-১৫)
আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِ أَسْوَدُ أَفْحَجُ يَنْقُضُهَا حَجَرًا حَجَرًا.
অর্থাৎ আমি যেন এখনই তাকে দেখতে পাচ্ছি। লোকটি কালো এবং তার উরুদ্বয়ের মধ্যবর্তী ফাঁকা হবে স্বাভাবিকতার চাইতেও বড়ো। সে কা'বা শরীফের পাথরগুলো একটি একটি করে সবই খুলে ফেলবে এবং এমনিভাবেই সে কা'বা শরীফকে ধ্বংস করে দিবে। (আহমাদ ৩/৩১৫-৩১৬)

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية