📄 ইহুদিদের সাথে যুদ্ধ
ইহুদিদের সাথে যুদ্ধ কিয়ামতের আরেকটি আলামত। কারণ, শেষ যুগে ইহুদিরা হবে দাজ্জালের অনুসারী। আর মুসলমানরা হবে 'ঈসা (আঃ) এর অনুসারী। তখন মুসলমানরা 'ঈসা (আঃ) এর পক্ষ হয়ে ইহুদিদের সাথে যুদ্ধ করবে। এমনকি যে কোন ইহুদি কোন গাছ বা পাথরের পেছনে লুকিয়ে থাকলে সে গাছ বা পাথর বলবেঃ হে মুসলিম! হে আল্লাহ্'র বান্দাহ্! এই যে জনৈক ইহুদি আমার পেছনে লুকিয়ে আছে। আসো তাকে হত্যা করো।
সামুরাহ্ বিন্ জুন্দাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ একদা রাসূল (ﷺ) দাজ্জালের আলোচনা করতে গিয়ে বলেনঃ দাজ্জাল মু'মিনদেরকে বাইতুল মাকদিসে ঘেরাও করে রাখবে। তখন মু'মিনদের মাঝে এক ভারী প্রকম্পন সৃষ্টি হবে। অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা তাকে ও তার অনুসারীদেরকে ধ্বংস করে দিবেন। এমনকি যে কোন দেয়াল বা গাছ ডেকে ডেকে বলবেঃ হে মু'মিন! হে মুসলমান! এই যে ইহুদি। এই যে কাফির আমার পেছনে লুকিয়ে আছে। আসো তাকে হত্যা করো। (আহমাদ ৫/১৬)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يُقَاتِلَ الْمُسْلِمُوْنَ الْيَهُودَ، فَيَقْتُلُهُمُ الْمُسْلِمُونَ حَتَّى يَخْتَبِئَ الْيَهُودِيُّ مِنْ وَرَاءِ الْحَجَرِ وَالشَّجَرِ، فَيَقُولُ الْحَجَرُ أَوِ الشَّجَرُ : يَا مُسْلِمُ يَا عَبْدَ اللهِ! هَذَا يَهُودِيُّ خَلْفِي، فَتَعَالَ فَاقْتُلْهُ إِلَّا الْغَرْقَدَ، فَإِنَّهُ مِنْ شَجَرِ الْيَهُودِ.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না মুসলমানরা ইহুদিদের সাথে যুদ্ধ করবে। তখন মুসলমানরা ইহুদিদেরকে হত্যা করবে। এমনকি যে কোন ইহুদি কোন গাছ বা পাথরের পেছনে লুকিয়ে থাকলে সে গাছ বা পাথর বলবেঃ হে মুসলিম! হে আল্লাহ্'র বান্দাহ্! এই যে ইহুদি আমার পেছনে লুকিয়ে আছে। আসো তাকে হত্যা করো। কিন্তু গারক্বাদ নামক গাছটি। সে তো তাদেরই গাছ। তাই সে তাদের ব্যাপারে মুসলমানদেরকে কিছুই বলবে না। (বুখারী ২৯২৬; মুসলিম ২৯২২)
আবূ উমামাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (স) একদা আমাদের সামনে আলোচনা করছিলেন। তাঁর আলোচনার অধিকাংশই ছিলো দাজ্জাল সম্পর্কীয়। তিনি দাজ্জাল থেকে আমাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করলেন। দাজ্জালের আবির্ভাব, 'ঈসা (আ) এর অবতরণ এবং দাজ্জালকে হত্যা নিয়ে তিনি আলোচনা করছিলেন। আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি বলেনঃ একদা 'ঈসা (আ) বলবেনঃ (বাইতুল মাকদিসের) দরোজা খোলো। তখন দরোজা খোলা হবে। তাঁর পেছনে থাকবে দাজ্জাল এবং দাজ্জালের সাথে থাকবে সত্তর হাজার ইহুদি। তাদের প্রত্যেকেই থাকবে তলোয়ারধারী এবং মোটা ছাদর পরিহিত। দাজ্জাল যখনই 'ঈসা (আ) কে দেখবে তখনই সে চুপসে বা গলে যাবে যেমনিভাবে গলে যায় পানিতে লবন এবং সে ভাগতে শুরু করবে। তখন 'ঈসা (আ) বলবেনঃ তোমার জন্য আমার পক্ষ থেকে একটি কঠিন মার রয়েছে যা তুমি কখনো এড়াতে পারবে না। অতঃপর তিনি তাকে পূর্ব দিকের লুদ্দ নামক গেইটের পাশেই হত্যা করবেন। আর তখনই ইহুদিরা পরাজিত হবে। এ দুনিয়াতে আল্লাহ্ তা'আলার যে কোন সৃষ্টির পেছনে কোন ইহুদি লুকিয়ে থাকলে আল্লাহ্ তা'আলা সে বস্তুকে কথা বলার শক্তি দিবেন এবং বস্তুটি তার সম্পর্কে মুসলমানদেরকে বলে দিবে। চাই তা পাথর, গাছ, দেয়াল কিংবা যে কোন পশুই হোক না কেন। কিন্তু গারক্বাদ নামক গাছটি। সে তো তাদেরই গাছ। তাই সে তাদের ব্যাপারে মুসলমানদেরকে কিছুই বলবে না। (ইবনু মাজাহ্, হাদীস ৪০৭৭)
📄 মদীনার খারাপ লোকদেরকে সেখান থেকে বের করে দিয়ে তা একদম ধ্বংস হয়ে যাওয়া
মদীনার খারাপ লোকদেরকে সেখান থেকে বের করে দিয়ে তার একদা জনশূন্য হয়ে যাওয়া কিয়ামতের আরেকটি আলামত।
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ يَدْعُو الرَّجُلُ ابْنَ عَمِّهِ وَقَرِيبَهُ : هَلُمَّ إِلَى الرَّخَاءِ ! هَلُمَّ إِلَى الرَّخَاءِ وَالْمَدِينَةُ خَيْرٌ لَهُمْ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُوْنَ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِلَّا يَخْرُجُ مِنْهُمْ أَحَدٌ رَغْبَةً عَنْهَا إِلَّا أَخْلَفَ اللَّهُ فِيهَا خَيْرًا مِنْهُ، أَلَا إِنَّ الْمَدِينَةَ كالكير، تُخْرِجُ الْخَبِيثَ، لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى تَنْفِي الْمَدِينَةُ شِرَارَهَا كَمَا يَنْفِي الْكِيْرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ.
অর্থাৎ এমন এক সময় আসবে যখন জনৈক ব্যক্তি তার চাচাতো ভাই এবং নিকটাত্মীয়কে বলবেঃ মদীনা ছেড়ে সচ্ছলতার দিকে আসো! মদীনা ছেড়ে সচ্ছলতার দিকে আসো! অথচ মদীনা তাদের জন্য অনেক ভালো যদি তারা জানতো। সে সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন! তাদের কেউ মদীনা ছেড়ে চলে গেলে আল্লাহ্ তা'আলা তার চাইতেও আরো উত্তম ব্যক্তি সেখানে নিয়ে আসবেন। আরে মদীনা তো হাপরের মতো যা খারাপকে বের করে দিবে। কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না মদীনা তার খারাপ লোকগুলোকে সেখান থেকে বের করে দেয় যেমনিভাবে হাপর লোহার জং দূর করে। (মুসলিম ১৩৮১)
মদীনা থেকে খারাপ লোকদেরকে বের করে দেয়ার ব্যাপারটি বিশেষ বিশেষ সময় এবং বিশেষ বিশেষ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। যা একদা রাসূল () এর সে যুগের জনৈক বেদুইনের ক্ষেত্রে সংঘটিত হয়েছে।
জাবির থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ
جَاءَ أَعْرَابِيُّ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ: بَايِعْنِي عَلَى الْإِسْلَامِ، فَبَاعَهُ عَلَى الْإِسْلَامِ، ثُمَّ جَاءَ الْغَدَ مَحْمُومًا، فَقَالَ: أَقِلْنِي، فَأَبَى، فَلَمَّا وَلَّى قَالَ: الْمَدِينَةُ كَالْكِيْرِ، تَنْفِي خَبَثَهَا، وَيَنْصَعُ طَيِّبُهَا.
অর্থাৎ একদা জনৈক বেদুইন নবী () এর নিকট এসে বললোঃ আমাকে ইসলামের উপর বায়'আত করুন। তখন রাসূল (স) তাকে ইসলামের উপর বায়'আত করেন। পরদিন সে জ্বরাক্রান্ত হয়ে রাসূল () এর নিকট এসে বললোঃ আমার বায়'আত খানা ফিরিয়ে নিন। রাসূল () তা ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানান। সে ফিরে গেলে রাসূল (স) বললেনঃ মদীনা তো হাপরের ন্যায়। সে খারাপকে দূরীভূত করে এবং ভালো তাতে আরো ভালো হয়ে দেখা দেয়। (বুখারী ৭২১৬; মুসলিম ১৩৮৩)
দাজ্জাল বের হওয়ার পরও তা আবার সংঘটিত হবে।
আনাস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ নবী () ইরশাদ করেনঃ
لَيْسَ مِنْ بَلَدٍ إِلَّا سَيَطَؤُهُ الدَّجَّالُ إِلَّا مَكَّةَ وَالْمَدِينَةَ لَيْسَ مِنْ نِقَابِهَا نَقْبُ إِلَّا عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ صَافِينَ يَحْرُسُوْنَهَا، ثُمَّ تَرْجُفُ الْمَدِينَةُ بِأَهْلِهَا ثَلَاثَ رَجَفَاتٍ، فَيُخْرِجُ اللَّهُ كُلَّ كَافِرٍ وَمُنَافِقِ.
অর্থাৎ এমন কোন শহর থাকবে না যেখানে দাজ্জাল প্রবেশ করবে না। তবে মক্কা ও মদীনাতে সে প্রবেশ করতে পারবে না। সেখানকার প্রতিটি গলি পথকে ফিরিস্তাগণ সারিবদ্ধভাবে পাহারা দিবে। অতঃপর তিন তিন বার মদীনা কেঁপে উঠবে এবং আল্লাহ্ তা'আলা সেখান থেকে প্রতিটি কাফির ও মুনাফিককে বের করে দিবেন। (বুখারী ১৮৮১; মুসলিম ২৯৪৩)
তবে একদা কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে মদীনার সকল লোক মদীনা ছেড়ে চলে যাবে।
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
يَتْرُكُونَ الْمَدِينَةَ عَلَى خَيْرِ مَا كَانَتْ، لَا يَغْشَاهَا إِلَّا الْعَوَافِي - يُرِيدُ عَوَافِي السَّبَاعِ وَالطَّيْرِ - وَآخِرُ مَنْ يُحْشَرُ رَاعِيَانِ مِنْ مُزَيْنَةَ، يُرِيْدَانِ الْمَدِينَةَ، يَنْعِقَانِ بِغَنَمِهِمَا فَيَجِدَانِهَا وَحْشًا، حَتَّى إِذَا بَلَغَا ثَنِيَّةَ الْوَدَاعِ خَرَّا عَلَى وُجُوهِهِمَا.
অর্থাৎ একদা সবাই এ সর্বশ্রেষ্ঠ মদীনা শহরটি ছেড়ে চলে যাবে। তখন তাতে থাকবে শুধু বুনো হিংস্র পশু ও পাখি। সর্বশেষ যাদের হাশর হবে তারা হবে মুযাইনাহ্ গোত্রের দু'জন রাখাল। তারা মদীনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করবে। মদীনায় পৌঁছে যখন তারা তাদের চাগলপালকে ডাকবে তখন সেগুলো তাদেরকে দেখে দিকবিদিক ভাগতে থাকবে। পরিশেষে যখন তারা সানিয়াতুল ওদা' নামক স্থানে পৌঁছুবে তখন তারা উপুড় হয়ে পড়ে যাবে। (বুখারী ১৮৭৪; মুসলিম ১৩৮৯)
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَتَتْرُكُنَّ الْمَدِينَةَ عَلَى أَحْسَنِ مَا كَانَتْ، حَتَّى يَدْخُلَ الْكَلْبُ أَوِ الذِّئْبُ فَيَغْذِي عَلَى بَعْضِ سَوَارِي الْمَسْجِدِ أَوْ عَلَى الْمِنْبَرِ، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ! فَلِمَنْ تَكُونُ السَّمَارُ ذَلِكَ الزَّمَانِ؟ قَالَ: لِلْعَوَافِي : الطَّيْرِ وَالسَّبَاعِ.
অর্থাৎ তোমরা একদা অবশ্যই এ সুন্দর মদীনা শহরটি ছেড়ে চলে যাবে। এমনকি তখন কুকুর অথবা বাঘ মসজিদে নববীর কোন না কোন পিলার কিংবা মিম্বারের গোড়ায় প্রস্রাব করে দিবে। সাহাবাগণ বললেনঃ হে আল্লাহ্'র রাসূল! তখন এ ফল-ফলাদির মালিক হবে কে? রাসূল ( বললেনঃ সেগুলো তখন হিংস্র পশু ও পাখিরই খাদ্য হবে। (মালিক: ২/৮৮৮)
জাবির থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَيَسِيرَنَّ الرَّاكِبُ بِجَنَبَاتِ الْمَدِينَةِ، ثُمَّ لَيَقُولَنَّ : لَقَدْ كَانَ فِي هَذَا حَاضِرٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ كَثِيرٌ.
অর্থাৎ জনৈক আরোহী মদীনার আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়াবে অতঃপর বলবেঃ এতে তো একদা অনেক মুসলমানই না বসবাস করতো। (আহমাদ ১/১২৪)
ইমাম ইবনু কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ দাজ্জাল এবং 'ঈসা (আঃ) এর যুগেও মদীনায় জনবসতি থাকবে। 'ঈসা (আঃ) সেখানেই মৃত্যু বরণ করবেন এবং সেখানেই তাঁকে দাফন করা হবে। এরপরই মদীনা ধ্বংস হয়ে যাবে।
📄 এমন এক পবিত্র বায়ু প্রবাহিত হওয়া যার দরুন সকল মুমিন ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করবে
এমন এক পবিত্র বায়ু প্রবাহিত হওয়া যার দরুন সকল মুমিন ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করবে কিয়ামতের আরেকটি আলামত। যখন এমন হবে তখন এ দুনিয়াতে আল্লাহ্ আল্লাহ্ বলার আর কেউই থাকবে না। যারা তখন অবশিষ্ট থাকবে তারাই হবে দুনিয়ার সর্বনিকৃষ্ট মানুষ এবং এদের উপরই তখন কিয়ামত কায়িম হবে। এ বায়ু হবে রেশমের চাইতেও অতি নরম।
নাউয়াস্ বিন্ সাম'আন ( থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ একদা রাসূল () দাজ্জাল, 'ঈসা (আঃ) ও ইয়াজুজ-মা'জুজ এর কথা উল্লেখ করার পর বলেনঃ
فَبَيْنَمَا هُمْ كَذَلِكَ إِذْ بَعَثَ اللهُ رِيحًا طَيِّبَةً، فَتَأْخُذُهُمْ تَحْتَ آبَاطِهِمْ، فَتَقْبِضُ رُوحَ كُلِّ مُؤْمِنٍ وَكُلِّ مُسْلِمٍ، وَيَبْقَى شِرَارُ النَّاسِ يَتَهَا رَجُوْنَ فِيهَا تَهَارُجَ الْحُمُرِ، فَعَلَيْهِمْ تَقُوْمُ السَّاعَةُ.
অর্থাৎ তারা দাজ্জাল, 'ঈসা (আঃ) ও ইয়াজুজ-মা'জুজ নিয়ে ব্যস্ত থাকবে এমতাবস্থায় আল্লাহ্ তা'আলা এমন এক পবিত্র বায়ু প্রবাহিত করবেন যা তাদের বগলের নিচে এমন এক রোগের জন্ম দিবে যার দরুন সকল মু'মিন- মুসলমান মৃত্যু বরণ করবে। যারা বেঁচে থাকবে তারা হবে সে যুগের দুনিয়ার সর্ব নিকৃষ্ট মানুষ। তারা গাধার মতো নির্লজ্জভাবে প্রকাশ্যে ব্যবিচারে লিপ্ত হবে এবং তাদের উপরই কিয়ামত কায়িম হবে। (মুসলিম ২৯৩৭)
আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
يَخْرُجُ الدَّجَّالُ فِي أُمَّتِي فَيَمْكُثُ أَرْبَعِينَ، فَيَبْعَثُ اللَّهُ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ كَأَنَّهُ عُرْوَةُ بْنُ مَسْعُودٍ، فَيَطْلُبُهُ، فَيُهْلِكُهُ ثُمَّ يَمْكُتُ النَّاسُ سَبْعَ سِنِينَ، لَيْسَ بَيْنَ اثْنَيْنِ عَدَاوَةً، ثُمَّ يُرْسِلُ اللهُ رِيحًا بَارِدَةً مِنْ قِبَلِ الشَّامِ، فَلَا يَبْقَى عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ أَحَدٌ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ خَيْرٍ أَوْ إِيْمَانٍ إِلَّا قَبَضَتْهُ، حَتَّى لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ دَخَلَ كَبِدَ جَبَلٍ لَدَخَلَتْهُ عَلَيْهِ حَتَّى تَقْبِضَهُ.
অর্থাৎ আমার উম্মতের মধ্যেই দাজ্জাল বের হবে এবং সে চল্লিশ দিন অবস্থান করবে। অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা 'ঈসা (আঃ) কে পাঠাবেন। দেখতে যেন তিনি 'উরওয়াহ্ বিন্ মাস'ঊদ । তখন তিনি দাজ্জালকে খুঁজে বের করে তাকে হত্যা করবেন। অতঃপর সাত বছর এমন যাবে যে, কোথাও দু' ব্যক্তির মাঝে শত্রুতা থাকবে না। উপরন্তু আল্লাহ্ তা'আলা সিরিয়ার দিক থেকে এমন এক ঠাণ্ডা বাতাস পাঠাবেন যার দরুন দুনিয়াতে এমন কোন লোক বেঁচে থাকবে না যার অন্তরে এক অণু পরিমাণ ঈমান ও কল্যাণ থাকবে। এমনকি তোমাদের কেউ কোন পাহাড় গর্ভে ঢুকলেও সেখানে সে বায়ু প্রবেশ করে তার মৃত্যু ঘটাবে। (মুসলিম ২৯৪০)
এ বায়ু দাজ্জাল, 'ঈসা (আঃ) ও ইয়াজুজ-মা'জুজ বের হওয়ার পরই প্রবাহিত হবে যা উপরোক্ত হাদীসদ্বয় থেকে সহজেই বুঝা যায়। এমনকি তা কিয়ামতের সকল বড় বড় আলামত সংঘটিত হওয়ার পর কিয়ামতের কিছু পূর্বেই প্রবাহিত হবে।
এ বায়ু সিরিয়া থেকে বের হয়ে ইয়েমেন পৌঁছে সেখান থেকেই সর্ব জায়গায় ছড়িয়ে পড়বে অথবা এ জাতীয় বায়ু উক্ত দু' জায়গা থেকেই সমভাবে বের হবে।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ
إِنَّ اللَّهَ يَبْعَثُ رِيحًا مِنَ الْيَمَنِ أَلْيَنَ مِنَ الْحَرِيرِ، فَلَا تَدَعُ أَحَدًا فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ إِيْمَانٍ إِلَّا قَبَضَتْهُ.
অর্থাৎ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা ইয়েমেন থেকে এমন এক বায়ু প্রবাহিত করবেন যা রেশম চাইতেও হবে অনেক নরম। সে বায়ু এমন কাউকে না মেরে ছাড়বে না যার অন্তরে অণু পরিমাণ ঈমান রয়েছে। (মুসলিম ১১৭)
উক্ত বায়ু প্রবাহিত হওয়া পর্যন্ত দুনিয়ার বুকে এমন একটি দল সর্বদা টিকে থাকবে যারা হবে সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত।
সাউবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ
لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي ظَاهِرِينَ عَلَى الْحَقِّ، لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ وَهُمْ كَذَلِكَ.
অর্থাৎ আমার উম্মতের মধ্য থেকে একটি দল সর্বদা সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। তাদের শত্রু পক্ষ কখনো তাদের এতটুকুও ক্ষতি করতে পারবে না। যতক্ষণ না আল্লাহ্ তা'আলার আদেশ তথা উক্ত বায়ু প্রবাহিত হয়। উক্ত বায়ু প্রবাহিত হওয়া পর্যন্ত তারা জয়ীর বেশেই থেকে যাবে। (মুসলিম ১৯২০)
📄 কা’বা শরীফের অবমাননা ও উহার ধ্বংস
কা'বা শরীফের চরম অবমাননা একমাত্র মুসলমানরাই করবে। অন্যরা নয়। আর তখনই তাদের ধ্বংস হবে অনিবার্য। জনৈক ইথিওপীয় কা'বা শরীফকে ধ্বংস করে দিবে। তার পায়ের জংঘা দু'টি হবে ছোট ছোট। সে কা'বার পাথরগুলো একটি একটি করে খুলে ফেলবে। কা'বার গিলাফ ও অলঙ্কারাদি ছিনিয়ে নিবে। আর তা এমন এক সময় হবে যখন আল্লাহ্ আল্লাহ্ বলার আর কেউই থাকবে না। তাই কা'বা শরীফ ধ্বংস হওয়ার পর তা আর পুনঃনির্মাণ করা হবে না।
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
يُبَايِعُ لِرَجُلٍ مَا بَيْنَ الرُّكْنِ وَالْمَقَامِ، وَلَنْ يَسْتَحِلَّ الْبَيْتَ إِلَّا أَهْلُهُ، فَإِذَا اسْتَحَلُّوهُ فَلَا يُسْأَلُ عَنْ هَلَكَةِ الْعَرَبِ، ثُمَّ تَأْتِي الْحَبَشَةُ، فَيُخْرِبُونَهُ خَرَابًا لَا يُعَمَّرُ بَعْدَهُ أَبَدًا، وَهُمُ الَّذِينَ يَسْتَخْرِجُونَ كَنْزَهُ.
অর্থাৎ রুকন ও মাকামে ইব্রাহীমের মাঝে জনৈক ব্যক্তির জন্য বায়'আত গ্রহণ করা হবে। তখন কা'বা শরীফের অবমাননা একমাত্র মুসলমানরাই করবে। যখন কা'বার অবমাননা করা হবে তখন আর আরবদের ধ্বংসের কথা জিজ্ঞাসা করতে হবে না। অতঃপর ইথিওপীয়রা আসবে। তারা কা'বা শরীফ ধ্বংস করে দিবে। যার পর আর কখনো কা'বা শরীফ পুনঃনির্মাণ করা হবে না এবং তারাই কা'বার সকল রক্ষিত ধন-ভাণ্ডার বের করে নিয়ে যাবে। (আহমদ ১৫/৩৫)
'আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
يُخْرِبُ الْكَعْبَةَ ذُو السُّوَيْقَتَيْنِ مِنَ الْحَبَشَةِ، وَيَسْلُبُهَا حِلْيَتَهَا، وَيُجَرِّدُهَا مِنْ كِسْوَتِهَا، وَلَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِ : أُصَيْلِعُ أُفَيْدِعُ يَضْرِبُ عَلَيْهَا بِمِسْحَاتِهِ وَمِعْوَلِهِ.
অর্থাৎ জনৈক ইথিওপীয় কা'বা শরীফকে ধ্বংস করে দিবে। তার পায়ের জংঘা দু'টি হবে ছোট ছোট। সে কা'বার গিলাফ ও অলঙ্কারাদি ছিনিয়ে নিবে। রাসূল () বলেনঃ আমি যেন তাকে এখনই দেখতে পাচ্ছি। তার মাথায় চুল নেই। হাত-পাগুলো বাঁকা। সে কুড়াল ও শাবল দিয়ে কা'বা শরীফের উপর আঘাত হানবে। (আহমদ ১২/১৪-১৫)
আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِ أَسْوَدُ أَفْحَجُ يَنْقُضُهَا حَجَرًا حَجَرًا.
অর্থাৎ আমি যেন এখনই তাকে দেখতে পাচ্ছি। লোকটি কালো এবং তার উরুদ্বয়ের মধ্যবর্তী ফাঁকা হবে স্বাভাবিকতার চাইতেও বড়ো। সে কা'বা শরীফের পাথরগুলো একটি একটি করে সবই খুলে ফেলবে এবং এমনিভাবেই সে কা'বা শরীফকে ধ্বংস করে দিবে। (আহমাদ ৩/৩১৫-৩১৬)