📄 কুস্তুনতীনিয়্যাহ্ তথা ইস্তাম্বুল বিজয়
কুস্তানত্বীনিয়্যাহ্ তথা ইস্তাম্বুল বিজয় কিয়ামতের আরেকটি আলামত। যা দাজ্জাল বেরুবার পূর্বে এবং রোমানদের সাথে ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার পরেই অর্জিত হবে। তাতে কোন যুদ্ধই হবে না।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
سَمِعْتُمْ بِمَدِينَةٍ جَانِبُ مِنْهَا فِي الْبَرَ، وَجَانِبُ مِنْهَا فِي الْبَحْرِ؟ قَالُوا : نَعَمْ، يَا رَسُولَ اللهِ! قَالَ: لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يَغْزُوهَا سَبْعُوْنَ أَلْفًا مِنْ بَنِي إِسْحَاقَ، فَإِذَا جَاؤُوهَا نَزَلُوا، فَلَمْ يُقَاتِلُوا بِسَلَاحٍ وَلَمْ يَرْمُوا بِسَهُم، قَالُوا : لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ، فَيَسْقُطُ أَحَدُ جَانِبَيْهَا، قَالَ ثَوْرُ : لَا أَعْلَمُهُ إِلَّا قَالَ: الَّذِي فِي الْبَحْرِ ، ثُمَّ يَقُولُوا الثَّانِيَةَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ، فَيَسْقُطُ جَانِبُهَا الْآخِرُ، ثُمَّ يَقُولُوا الثَّالِثَةَ : لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ، فَيُفَرَّجُ لَهُمْ، فَيَدْخُلُوهَا فَيَغْنَمُوا، فَبَيْنَمَا هُمْ يَقْتَسِمُونَ الْغَنَائِمَ إِذْ جَاءَهُمُ الصَّرِيحُ فَقَالَ: إِنَّ الدَّجَّالَ قَدْ خَرَجَ، فَيَتْرُكُونَ كُلَّ شَيْءٍ وَيَرْجِعُوْنَ.
অর্থাৎ তোমরা কি এমন একটি শহরের নাম শুনেছো যার এক ভাগ স্থলে; আরেক ভাগ জলে। সাহাবাগণ বললেনঃ হ্যাঁ, শুনেছি; হে আল্লাহ্'র রাসূল ()! অতঃপর রাসূল () বললেনঃ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না এ শহরে অভিযান চালাবে সত্তর হাজার ইস'হাকু (আঃ) এর বংশধর তথা রোমানরা যারা ইতিপূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছে। তারা যখন উক্ত এলাকায় পৌঁছুবে তখন না তারা যুদ্ধের জন্য কোন অস্ত্র ব্যবহার করবে না কোন তীর। তারা শুধু বলবেঃ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার। যার অর্থঃ আল্লাহ্ ছাড়া সত্য কোন মা'বুদ নেই এবং তিনিই সুমহান। আর তখনই শহরের একাংশ তথা সাগরের তীরবর্তী এলাকা মুসলমানদের হাতে আত্মসমর্পণ করবে। দ্বিতীয় বারও তারা একই কালিমা উচ্চারণ করবে। আর তখনই শহরের দ্বিতীয়াংশ মুসলমানদের হাতে আত্মসমর্পণ করবে। তৃতীবারও তারা একই কালিমা উচ্চারণ করবে। আর তখনই তাদের জন্য শহরের গেইটগুলো খুলে দেয়া হবে। তারা তখন তাতে প্রবেশ করে কাফিরদের প্রচুর ধন-সম্পদ সংগ্রহ করবে। যখন তারা উক্ত সম্পদগুলো বন্টনে ব্যস্ত হয়ে যাবে এমন সময় দূর থেকে চিৎকার আসবে, দাজ্জাল বেরিয়েছে। তখন তারা সকল ধন-সম্পদ ছেড়ে দিয়ে সেখান থেকে ফিরে আসবে। (মুসলিম ২৯২০)
📄 জনৈক ক্বাহতানীর আবির্ভাব
শেষ যুগে জনৈক ক্বাহ্তানীর আবির্ভাব কিয়ামতের আরেকটি আলামত। তিনি হবেন একজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিত্ব। তিনি যখন বেরুবেন তখন সে যুগের সবাই তাঁর একচ্ছত্র আনুগত্য করবে এবং তাঁকে কেন্দ্র করেই তারা সবাই একত্রিত হবে। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَخْرُجَ رَجُلٌ مِنْ قَحْطَانَ يَسُوقُ النَّاسُ بِعَصَاهُ.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়েম হবে না যতক্ষণ না জনৈক ক্বাহ্তানী বের হয়; যিনি সবাইকে একচ্ছত্র নেতৃত্ব দিবেন। (বুখারী ৩৫১৭, ৭১১৭; মুসলিম ২৯১০)
📄 ইহুদিদের সাথে যুদ্ধ
ইহুদিদের সাথে যুদ্ধ কিয়ামতের আরেকটি আলামত। কারণ, শেষ যুগে ইহুদিরা হবে দাজ্জালের অনুসারী। আর মুসলমানরা হবে 'ঈসা (আঃ) এর অনুসারী। তখন মুসলমানরা 'ঈসা (আঃ) এর পক্ষ হয়ে ইহুদিদের সাথে যুদ্ধ করবে। এমনকি যে কোন ইহুদি কোন গাছ বা পাথরের পেছনে লুকিয়ে থাকলে সে গাছ বা পাথর বলবেঃ হে মুসলিম! হে আল্লাহ্'র বান্দাহ্! এই যে জনৈক ইহুদি আমার পেছনে লুকিয়ে আছে। আসো তাকে হত্যা করো।
সামুরাহ্ বিন্ জুন্দাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ একদা রাসূল (ﷺ) দাজ্জালের আলোচনা করতে গিয়ে বলেনঃ দাজ্জাল মু'মিনদেরকে বাইতুল মাকদিসে ঘেরাও করে রাখবে। তখন মু'মিনদের মাঝে এক ভারী প্রকম্পন সৃষ্টি হবে। অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা তাকে ও তার অনুসারীদেরকে ধ্বংস করে দিবেন। এমনকি যে কোন দেয়াল বা গাছ ডেকে ডেকে বলবেঃ হে মু'মিন! হে মুসলমান! এই যে ইহুদি। এই যে কাফির আমার পেছনে লুকিয়ে আছে। আসো তাকে হত্যা করো। (আহমাদ ৫/১৬)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يُقَاتِلَ الْمُسْلِمُوْنَ الْيَهُودَ، فَيَقْتُلُهُمُ الْمُسْلِمُونَ حَتَّى يَخْتَبِئَ الْيَهُودِيُّ مِنْ وَرَاءِ الْحَجَرِ وَالشَّجَرِ، فَيَقُولُ الْحَجَرُ أَوِ الشَّجَرُ : يَا مُسْلِمُ يَا عَبْدَ اللهِ! هَذَا يَهُودِيُّ خَلْفِي، فَتَعَالَ فَاقْتُلْهُ إِلَّا الْغَرْقَدَ، فَإِنَّهُ مِنْ شَجَرِ الْيَهُودِ.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না মুসলমানরা ইহুদিদের সাথে যুদ্ধ করবে। তখন মুসলমানরা ইহুদিদেরকে হত্যা করবে। এমনকি যে কোন ইহুদি কোন গাছ বা পাথরের পেছনে লুকিয়ে থাকলে সে গাছ বা পাথর বলবেঃ হে মুসলিম! হে আল্লাহ্'র বান্দাহ্! এই যে ইহুদি আমার পেছনে লুকিয়ে আছে। আসো তাকে হত্যা করো। কিন্তু গারক্বাদ নামক গাছটি। সে তো তাদেরই গাছ। তাই সে তাদের ব্যাপারে মুসলমানদেরকে কিছুই বলবে না। (বুখারী ২৯২৬; মুসলিম ২৯২২)
আবূ উমামাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (স) একদা আমাদের সামনে আলোচনা করছিলেন। তাঁর আলোচনার অধিকাংশই ছিলো দাজ্জাল সম্পর্কীয়। তিনি দাজ্জাল থেকে আমাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করলেন। দাজ্জালের আবির্ভাব, 'ঈসা (আ) এর অবতরণ এবং দাজ্জালকে হত্যা নিয়ে তিনি আলোচনা করছিলেন। আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি বলেনঃ একদা 'ঈসা (আ) বলবেনঃ (বাইতুল মাকদিসের) দরোজা খোলো। তখন দরোজা খোলা হবে। তাঁর পেছনে থাকবে দাজ্জাল এবং দাজ্জালের সাথে থাকবে সত্তর হাজার ইহুদি। তাদের প্রত্যেকেই থাকবে তলোয়ারধারী এবং মোটা ছাদর পরিহিত। দাজ্জাল যখনই 'ঈসা (আ) কে দেখবে তখনই সে চুপসে বা গলে যাবে যেমনিভাবে গলে যায় পানিতে লবন এবং সে ভাগতে শুরু করবে। তখন 'ঈসা (আ) বলবেনঃ তোমার জন্য আমার পক্ষ থেকে একটি কঠিন মার রয়েছে যা তুমি কখনো এড়াতে পারবে না। অতঃপর তিনি তাকে পূর্ব দিকের লুদ্দ নামক গেইটের পাশেই হত্যা করবেন। আর তখনই ইহুদিরা পরাজিত হবে। এ দুনিয়াতে আল্লাহ্ তা'আলার যে কোন সৃষ্টির পেছনে কোন ইহুদি লুকিয়ে থাকলে আল্লাহ্ তা'আলা সে বস্তুকে কথা বলার শক্তি দিবেন এবং বস্তুটি তার সম্পর্কে মুসলমানদেরকে বলে দিবে। চাই তা পাথর, গাছ, দেয়াল কিংবা যে কোন পশুই হোক না কেন। কিন্তু গারক্বাদ নামক গাছটি। সে তো তাদেরই গাছ। তাই সে তাদের ব্যাপারে মুসলমানদেরকে কিছুই বলবে না। (ইবনু মাজাহ্, হাদীস ৪০৭৭)
📄 মদীনার খারাপ লোকদেরকে সেখান থেকে বের করে দিয়ে তা একদম ধ্বংস হয়ে যাওয়া
মদীনার খারাপ লোকদেরকে সেখান থেকে বের করে দিয়ে তার একদা জনশূন্য হয়ে যাওয়া কিয়ামতের আরেকটি আলামত।
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ يَدْعُو الرَّجُلُ ابْنَ عَمِّهِ وَقَرِيبَهُ : هَلُمَّ إِلَى الرَّخَاءِ ! هَلُمَّ إِلَى الرَّخَاءِ وَالْمَدِينَةُ خَيْرٌ لَهُمْ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُوْنَ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِلَّا يَخْرُجُ مِنْهُمْ أَحَدٌ رَغْبَةً عَنْهَا إِلَّا أَخْلَفَ اللَّهُ فِيهَا خَيْرًا مِنْهُ، أَلَا إِنَّ الْمَدِينَةَ كالكير، تُخْرِجُ الْخَبِيثَ، لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى تَنْفِي الْمَدِينَةُ شِرَارَهَا كَمَا يَنْفِي الْكِيْرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ.
অর্থাৎ এমন এক সময় আসবে যখন জনৈক ব্যক্তি তার চাচাতো ভাই এবং নিকটাত্মীয়কে বলবেঃ মদীনা ছেড়ে সচ্ছলতার দিকে আসো! মদীনা ছেড়ে সচ্ছলতার দিকে আসো! অথচ মদীনা তাদের জন্য অনেক ভালো যদি তারা জানতো। সে সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন! তাদের কেউ মদীনা ছেড়ে চলে গেলে আল্লাহ্ তা'আলা তার চাইতেও আরো উত্তম ব্যক্তি সেখানে নিয়ে আসবেন। আরে মদীনা তো হাপরের মতো যা খারাপকে বের করে দিবে। কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না মদীনা তার খারাপ লোকগুলোকে সেখান থেকে বের করে দেয় যেমনিভাবে হাপর লোহার জং দূর করে। (মুসলিম ১৩৮১)
মদীনা থেকে খারাপ লোকদেরকে বের করে দেয়ার ব্যাপারটি বিশেষ বিশেষ সময় এবং বিশেষ বিশেষ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। যা একদা রাসূল () এর সে যুগের জনৈক বেদুইনের ক্ষেত্রে সংঘটিত হয়েছে।
জাবির থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ
جَاءَ أَعْرَابِيُّ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ: بَايِعْنِي عَلَى الْإِسْلَامِ، فَبَاعَهُ عَلَى الْإِسْلَامِ، ثُمَّ جَاءَ الْغَدَ مَحْمُومًا، فَقَالَ: أَقِلْنِي، فَأَبَى، فَلَمَّا وَلَّى قَالَ: الْمَدِينَةُ كَالْكِيْرِ، تَنْفِي خَبَثَهَا، وَيَنْصَعُ طَيِّبُهَا.
অর্থাৎ একদা জনৈক বেদুইন নবী () এর নিকট এসে বললোঃ আমাকে ইসলামের উপর বায়'আত করুন। তখন রাসূল (স) তাকে ইসলামের উপর বায়'আত করেন। পরদিন সে জ্বরাক্রান্ত হয়ে রাসূল () এর নিকট এসে বললোঃ আমার বায়'আত খানা ফিরিয়ে নিন। রাসূল () তা ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানান। সে ফিরে গেলে রাসূল (স) বললেনঃ মদীনা তো হাপরের ন্যায়। সে খারাপকে দূরীভূত করে এবং ভালো তাতে আরো ভালো হয়ে দেখা দেয়। (বুখারী ৭২১৬; মুসলিম ১৩৮৩)
দাজ্জাল বের হওয়ার পরও তা আবার সংঘটিত হবে।
আনাস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ নবী () ইরশাদ করেনঃ
لَيْسَ مِنْ بَلَدٍ إِلَّا سَيَطَؤُهُ الدَّجَّالُ إِلَّا مَكَّةَ وَالْمَدِينَةَ لَيْسَ مِنْ نِقَابِهَا نَقْبُ إِلَّا عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ صَافِينَ يَحْرُسُوْنَهَا، ثُمَّ تَرْجُفُ الْمَدِينَةُ بِأَهْلِهَا ثَلَاثَ رَجَفَاتٍ، فَيُخْرِجُ اللَّهُ كُلَّ كَافِرٍ وَمُنَافِقِ.
অর্থাৎ এমন কোন শহর থাকবে না যেখানে দাজ্জাল প্রবেশ করবে না। তবে মক্কা ও মদীনাতে সে প্রবেশ করতে পারবে না। সেখানকার প্রতিটি গলি পথকে ফিরিস্তাগণ সারিবদ্ধভাবে পাহারা দিবে। অতঃপর তিন তিন বার মদীনা কেঁপে উঠবে এবং আল্লাহ্ তা'আলা সেখান থেকে প্রতিটি কাফির ও মুনাফিককে বের করে দিবেন। (বুখারী ১৮৮১; মুসলিম ২৯৪৩)
তবে একদা কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে মদীনার সকল লোক মদীনা ছেড়ে চলে যাবে।
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
يَتْرُكُونَ الْمَدِينَةَ عَلَى خَيْرِ مَا كَانَتْ، لَا يَغْشَاهَا إِلَّا الْعَوَافِي - يُرِيدُ عَوَافِي السَّبَاعِ وَالطَّيْرِ - وَآخِرُ مَنْ يُحْشَرُ رَاعِيَانِ مِنْ مُزَيْنَةَ، يُرِيْدَانِ الْمَدِينَةَ، يَنْعِقَانِ بِغَنَمِهِمَا فَيَجِدَانِهَا وَحْشًا، حَتَّى إِذَا بَلَغَا ثَنِيَّةَ الْوَدَاعِ خَرَّا عَلَى وُجُوهِهِمَا.
অর্থাৎ একদা সবাই এ সর্বশ্রেষ্ঠ মদীনা শহরটি ছেড়ে চলে যাবে। তখন তাতে থাকবে শুধু বুনো হিংস্র পশু ও পাখি। সর্বশেষ যাদের হাশর হবে তারা হবে মুযাইনাহ্ গোত্রের দু'জন রাখাল। তারা মদীনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করবে। মদীনায় পৌঁছে যখন তারা তাদের চাগলপালকে ডাকবে তখন সেগুলো তাদেরকে দেখে দিকবিদিক ভাগতে থাকবে। পরিশেষে যখন তারা সানিয়াতুল ওদা' নামক স্থানে পৌঁছুবে তখন তারা উপুড় হয়ে পড়ে যাবে। (বুখারী ১৮৭৪; মুসলিম ১৩৮৯)
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَتَتْرُكُنَّ الْمَدِينَةَ عَلَى أَحْسَنِ مَا كَانَتْ، حَتَّى يَدْخُلَ الْكَلْبُ أَوِ الذِّئْبُ فَيَغْذِي عَلَى بَعْضِ سَوَارِي الْمَسْجِدِ أَوْ عَلَى الْمِنْبَرِ، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ! فَلِمَنْ تَكُونُ السَّمَارُ ذَلِكَ الزَّمَانِ؟ قَالَ: لِلْعَوَافِي : الطَّيْرِ وَالسَّبَاعِ.
অর্থাৎ তোমরা একদা অবশ্যই এ সুন্দর মদীনা শহরটি ছেড়ে চলে যাবে। এমনকি তখন কুকুর অথবা বাঘ মসজিদে নববীর কোন না কোন পিলার কিংবা মিম্বারের গোড়ায় প্রস্রাব করে দিবে। সাহাবাগণ বললেনঃ হে আল্লাহ্'র রাসূল! তখন এ ফল-ফলাদির মালিক হবে কে? রাসূল ( বললেনঃ সেগুলো তখন হিংস্র পশু ও পাখিরই খাদ্য হবে। (মালিক: ২/৮৮৮)
জাবির থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَيَسِيرَنَّ الرَّاكِبُ بِجَنَبَاتِ الْمَدِينَةِ، ثُمَّ لَيَقُولَنَّ : لَقَدْ كَانَ فِي هَذَا حَاضِرٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ كَثِيرٌ.
অর্থাৎ জনৈক আরোহী মদীনার আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়াবে অতঃপর বলবেঃ এতে তো একদা অনেক মুসলমানই না বসবাস করতো। (আহমাদ ১/১২৪)
ইমাম ইবনু কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ দাজ্জাল এবং 'ঈসা (আঃ) এর যুগেও মদীনায় জনবসতি থাকবে। 'ঈসা (আঃ) সেখানেই মৃত্যু বরণ করবেন এবং সেখানেই তাঁকে দাফন করা হবে। এরপরই মদীনা ধ্বংস হয়ে যাবে।