📄 রোমানদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া এবং মুসলমানদের সঙ্গে তাদের যুদ্ধ করা
কখনো কখনো জীবন পরিচালনার ক্লান্তি সহ্য করতে না পেরে কেউ কেউ দাজ্জালের আবির্ভাব কামনা করবে। 'হুযাইফাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ يَتَمَنَّوْنَ فِيْهِ الدَّجَّالَ، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ بِأَبِي وَأُتِي مِمَّ ذَاكَ؟ قَالَ: مِمَّا يَلْقَوْنَ مِنَ الْعَنَاءِ وَالْعَنَاءِ.
অর্থাৎ এমন এক সময় আসবে যখন মানুষ দাজ্জালের আবির্ভাব কামনা করবে। বর্ণনাকারী বলেনঃ আমি বললামঃ হে আল্লাহ্'র রাসূল ()! আমার মাতা-পিতা আপনার উপর কুরবান হোক! তা কেন হবে? রাসূল () বলেনঃ কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করতে না পেরে। (মাজমা'উয যাওয়ায়িদ ৭/২৮৪-২৮৫)
রোমানদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া এবং মুসলমানদের সঙ্গে তাদের যুদ্ধ করা কিয়ামতের আরেকটি আলামত। মুস্তাওরিদ কুরাশী থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ( ইরশাদ করেন:
.تَقُوْمُ السَّاعَةُ وَالرُّوْمُ أَكْثَرُ النَّاسِ
অর্থাৎ কিয়ামত যখন কায়িম হবে তখন রোমানরা থাকবে সংখ্যায় অনেক। (মুসলিম ২৮৯৮)
'আউফ্ বিন্ মালিক থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ( ইরশাদ করেনঃ
ثُمَّ هُدْنَةٌ تَكُونُ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ بَنِي الْأَصْفَرِ فَيَغْدِرُوْنَ، فَيَأْتُونَكُمْ تَحْتَ ثَمَانِينَ غَايَةٍ، تَحْتَ كُلِّ غَايَةٍ اثْنَا عَشَرَ أَلْفًا.
অতঃপর তোমাদের মাঝে ও রোমানদের মাঝে একটি চুক্তি সম্পাদিত হবে। কিন্তু তারা উক্ত চুক্তি ভঙ্গ করে আশিটি ঝাণ্ডার অধীনে যুদ্ধ করবে। প্রত্যেক ঝাণ্ডার অধীনে থাকবে বারো হাজার সৈন্য। (বুখারী ৩১৭৬)
নাফি' বিন্ 'উদ্বাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
تَغْزُونَ جَزِيرَةَ الْعَرَبِ فَيَفْتَحُهَا اللهُ، ثُمَّ فَارِسَ فَيَفْتَحُهَا اللهُ، ثُمَّ تَغْزُونَ الرُّوْمَ فَيَفْتَحُهَا اللهُ، ثُمَّ تَغْزُوْنَ الدَّجَّالَ فَيَفْتَحُهُ اللهُ، قَالَ: فَقَالَ نَافِعُ: يَا جَابِرُ لَا نَرَى الدَّجَّالَ يَخْرُجُ حَتَّى تُفْتَحَ الرُّوْمُ.
অর্থাৎ তোমরা আরব দ্বীপের সাথে যুদ্ধ করবে এবং আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদেরকে জয় দিবেন। তোমরা পারস্যের সাথে যুদ্ধ করবে এবং আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদেরকে জয় দিবেন। তোমরা রোমের সাথে যুদ্ধ করবে এবং আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদেরকে জয় দিবেন। অতঃপর তোমরা দাজ্জালের সাথে যুদ্ধ করবে এবং আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদেরকে জয় দিবেন। বর্ণনাকারী বলেনঃ নাফি' বললোঃ হে জাবির! আমাদের ধারণা, দাজ্জাল বেরুবে না যতক্ষণ না রোম পরাজিত হয়। (মুসলিম ২৯০০)
রোমানদের সাথে মুসলমানদের যুদ্ধের বিস্তারিত বিবরণ নিম্নে দেয়া হলোঃ
ইয়াসীর বিন্ জাবির থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ একদা কুফায় অগ্নিবায়ু দেখা দিলে জনৈক ব্যক্তি আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ্ কে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ হে আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'ঊদ্ ! কিয়ামত তো এসেই গেলো। তখনো আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'ঊদ্ হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলেন। এ কথা শুনে তিনি সোজা হয়ে বসে বললেনঃ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না মিরাস অবন্টিত থেকে যায়। যুদ্ধলব্ধ ধন-সম্পদ পেয়েও মানুষ অসন্তুষ্ট হয়। অতঃপর তিনি সিরিয়ার দিকে ইশারা করে বললেনঃ শত্রু একত্রিত হবে এবং মুসলমানরাও একত্রিত হবে। বর্ণনাকারী বলেনঃ আপনি কি রোমানদের কথা বলছেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। উক্ত যুদ্ধের সময় অস্ত্রের ভয়ঙ্কর প্রতিধ্বনি বহু দূর থেকে শুনা যাবে। তখন মুসলমানরা মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত এমন একটি সেনা দল তৈরি করবে। যারা জয়যুক্ত না হয়ে ঘরে ফিরবে না। যুদ্ধ চলতে থাকবে। আর ইতিমধ্যে রাত্রি এসে যাবে। তখন এরাও নিজ তাঁবুতে ফিরে আসবে এবং ওরাও নিজ তাঁবুতে ফিরে যাবে। পরিস্থিতি এমন হবে যে, তখনো কেউ কারোর উপর জয়যুক্ত হতে পারেনি। এ দিকে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত সেনা দলটি নিঃশেষ হয়ে যাবে। তখন মুসলমানরা মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত এমন আরেকটি সেনা দল তৈরি করবে। যারা জয়যুক্ত না হয়ে ঘরে ফিরবে না। যুদ্ধ চলতে থাকবে। আর ইতিমধ্যে রাত্রি এসে যাবে। তখন এরাও নিজ তাঁবুতে ফিরে আসবে এবং ওরাও নিজ তাঁবুতে ফিরে যাবে। পরিস্থিতি এমন হবে যে, তখনো কেউ কারোর উপর জয়যুক্ত হতে পারেনি। এ দিকে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত সেনা দলটি নিঃশেষ হয়ে যাবে। তখন মুসলমানরা মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত এমন আরেকটি সেনা দল তৈরি করবে। যারা জয়যুক্ত না হয়ে ঘরে ফিরবে না। যুদ্ধ চলতে থাকবে। আর ইতিমধ্যে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। তখন এরাও নিজ তাঁবুতে ফিরে আসবে এবং ওরাও নিজ তাঁবুতে ফিরে যাবে। পরিস্থিতি এমন হবে যে, তখনো কেউ কারোর উপর জয়যুক্ত হতে পারেনি। এ দিকে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত সেনা দলটি নিঃশেষ হয়ে যাবে। যখন চতুর্থ দিন হবে তখন বাকি সব মুসলমান শত্রুর উপর একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়বে। তবে তারা এ যুদ্ধেও পরাজিত হবে। তারা এমন এক যুদ্ধে মেতে উঠবে যা ইতিপূর্বে কখনো দেখা যায়নি। এমনকি কোন পাখি তাদেরকে অতিক্রম করতে না করতেই সে মরে গিয়ে নিচে পড়বে। তখন একই বংশের একশত জন গণে দেখা যাবে তাদের মধ্যে একজনই বেঁচে আছে। তখন যুদ্ধ লব্ধ সম্পদ নিয়ে খুশি হওয়ারই বা কি থাকবে এবং কোন্ উত্তরাধিকার সম্পদই বা বন্টন করা হবে।
এমতাবস্থায় তারা আরো এক কঠিন বিপদের কথা শুনতে পাবে। তারা শুনতে পাবে, দাজ্জাল তাদের স্ত্রী-সন্তানদের উপর এক ভীষণ তাণ্ডবলীলা চালাচ্ছে। তখন তারা সবকিছু ফেলে রেখেই ওদিকে দৌড়াতে থাকবে। সর্ব প্রথম তারা তাদের মধ্য থেকে দশ জন অগ্রগামী অশ্বারোহী পাঠাবে। রাসূল () বলেনঃ আমি তাদের নাম এবং তাদের বাপ-দাদার নামও জানি। এমনকি তাদের ঘোড়ার রংও এবং তারাই হবে সে যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ অশ্বারোহী। (মুসলিম ২৮৯৯)
উপরোল্লিখিত যুদ্ধ সংঘটিত হবে সিরিয়া ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহে দাজ্জাল বেরুবার কিছু কাল আগেই। তবে রোমানদের উপর মুসলমানদের বিজয় কুস্তানত্বীনিয়্যাহ্ তথা ইস্তাম্বুল শহর বিজয়েরই সূচনা সংকেত।
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না রোমানরা আ'মাকু ও দাবিকু নামক এলাকাদ্বয়ে অবস্থান করবে। তখন মদীনা থেকে একটি সেনাদল তাদের উদ্দেশ্যে বেরুবে। তারাই হবে সে যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ। যখন তারা পরস্পর যুদ্ধের জন্য মুখোমুখী হবে তখন রোমানরা বলবেঃ তোমরা ওসকল ব্যক্তিদেরকে আমাদের হাতে তুলে দাও যারা ইতিপূর্বে আমাদের মধ্য থেকেই ধর্মান্তরিত হয়েছে। আমরা তাদের সাথেই যুদ্ধ করবো। তখন মুসলমানরা বলবেঃ না, তা হতে পারে না। আল্লাহ্'র কসম! আমরা আমাদের মুসলমান ভাইদেরকে তোমাদের হাতে তুলে দিতে পারবো না।
তখন তাদের পরস্পরের মধ্যে এক ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হবে। তাতে মুসলমানদের এক তৃতীয়াংশ সৈন্য পরাজিত হবে যাদের তাওবা আল্লাহ্ তা'আলা কখনো কবুল করবেন না। আরেক তৃতীয়াংশ সৈন্যকে হত্যা করা হবে যারা হবে আল্লাহ্ তা'আলার নিকট সর্বশ্রেষ্ঠ শহীদ এবং আরেক তৃতীয়াংশ সৈন্য যুদ্ধে জয়লাভ করবে যারা আর কখনো পরীক্ষার সম্মুখীন হবে না। তখন তারা কুস্তানত্বীনিয়্যাহ্ তথা ইস্তাম্বুল শহর বিজয় করবে।
যখন তারা নিজেদের তলোয়ারগুলো যায়তুন গাছে টাঙ্গিয়ে যুদ্ধ লব্ধ সম্পদগুলো নিজেদের মধ্যে বন্টন করবে তখনই শয়তান চিৎকার দিয়ে বলবেঃ দাজ্জাল তো তোমাদের স্ত্রী-সন্তানদের উপর এক ভীষণ তাণ্ডবলীলা চালাচ্ছে। তখন তারা দ্রুত তার উদ্দেশ্যে বের হবে; অথচ কথাটি একটি গুজব মাত্র। যখন মুসলমানরা সিরিয়ায় পৌঁছুবে তখনই দাজ্জাল বেরুবে। যখন তারা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিবে এবং সবাই সারিবদ্ধ হবে তখনই নামাযের ইক্বামাত দেয়া হবে এবং ঈসা (আঃ) অবতীর্ণ হবেন।
আবূ দ্দারদা' (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
إِنَّ فُسْطَاطَ الْمُسْلِمِينَ يَوْمَ الْمَلْحَمَةِ فِي أَرْضِ بِالْغُوْطَةِ فِي مَدِينَةٍ يُقَالُ لَهَا دِمَشْقُ مِنْ خَيْرِ مَدَائِنِ الشَّامِ.
অর্থাৎ সে মহা যুদ্ধের দিনে মুসলমানদের বসতি হবে নিম্ন ভূমিতে তথা দামেস্ক শহরে। যা তখনকার শ্রেষ্ঠ শহরগুলোর অন্যতম। (আবু দাউদ/আউন ১১/৪০৬)
📄 কুস্তুনতীনিয়্যাহ্ তথা ইস্তাম্বুল বিজয়
কুস্তানত্বীনিয়্যাহ্ তথা ইস্তাম্বুল বিজয় কিয়ামতের আরেকটি আলামত। যা দাজ্জাল বেরুবার পূর্বে এবং রোমানদের সাথে ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার পরেই অর্জিত হবে। তাতে কোন যুদ্ধই হবে না।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
سَمِعْتُمْ بِمَدِينَةٍ جَانِبُ مِنْهَا فِي الْبَرَ، وَجَانِبُ مِنْهَا فِي الْبَحْرِ؟ قَالُوا : نَعَمْ، يَا رَسُولَ اللهِ! قَالَ: لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يَغْزُوهَا سَبْعُوْنَ أَلْفًا مِنْ بَنِي إِسْحَاقَ، فَإِذَا جَاؤُوهَا نَزَلُوا، فَلَمْ يُقَاتِلُوا بِسَلَاحٍ وَلَمْ يَرْمُوا بِسَهُم، قَالُوا : لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ، فَيَسْقُطُ أَحَدُ جَانِبَيْهَا، قَالَ ثَوْرُ : لَا أَعْلَمُهُ إِلَّا قَالَ: الَّذِي فِي الْبَحْرِ ، ثُمَّ يَقُولُوا الثَّانِيَةَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ، فَيَسْقُطُ جَانِبُهَا الْآخِرُ، ثُمَّ يَقُولُوا الثَّالِثَةَ : لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ، فَيُفَرَّجُ لَهُمْ، فَيَدْخُلُوهَا فَيَغْنَمُوا، فَبَيْنَمَا هُمْ يَقْتَسِمُونَ الْغَنَائِمَ إِذْ جَاءَهُمُ الصَّرِيحُ فَقَالَ: إِنَّ الدَّجَّالَ قَدْ خَرَجَ، فَيَتْرُكُونَ كُلَّ شَيْءٍ وَيَرْجِعُوْنَ.
অর্থাৎ তোমরা কি এমন একটি শহরের নাম শুনেছো যার এক ভাগ স্থলে; আরেক ভাগ জলে। সাহাবাগণ বললেনঃ হ্যাঁ, শুনেছি; হে আল্লাহ্'র রাসূল ()! অতঃপর রাসূল () বললেনঃ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না এ শহরে অভিযান চালাবে সত্তর হাজার ইস'হাকু (আঃ) এর বংশধর তথা রোমানরা যারা ইতিপূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছে। তারা যখন উক্ত এলাকায় পৌঁছুবে তখন না তারা যুদ্ধের জন্য কোন অস্ত্র ব্যবহার করবে না কোন তীর। তারা শুধু বলবেঃ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার। যার অর্থঃ আল্লাহ্ ছাড়া সত্য কোন মা'বুদ নেই এবং তিনিই সুমহান। আর তখনই শহরের একাংশ তথা সাগরের তীরবর্তী এলাকা মুসলমানদের হাতে আত্মসমর্পণ করবে। দ্বিতীয় বারও তারা একই কালিমা উচ্চারণ করবে। আর তখনই শহরের দ্বিতীয়াংশ মুসলমানদের হাতে আত্মসমর্পণ করবে। তৃতীবারও তারা একই কালিমা উচ্চারণ করবে। আর তখনই তাদের জন্য শহরের গেইটগুলো খুলে দেয়া হবে। তারা তখন তাতে প্রবেশ করে কাফিরদের প্রচুর ধন-সম্পদ সংগ্রহ করবে। যখন তারা উক্ত সম্পদগুলো বন্টনে ব্যস্ত হয়ে যাবে এমন সময় দূর থেকে চিৎকার আসবে, দাজ্জাল বেরিয়েছে। তখন তারা সকল ধন-সম্পদ ছেড়ে দিয়ে সেখান থেকে ফিরে আসবে। (মুসলিম ২৯২০)
📄 জনৈক ক্বাহতানীর আবির্ভাব
শেষ যুগে জনৈক ক্বাহ্তানীর আবির্ভাব কিয়ামতের আরেকটি আলামত। তিনি হবেন একজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিত্ব। তিনি যখন বেরুবেন তখন সে যুগের সবাই তাঁর একচ্ছত্র আনুগত্য করবে এবং তাঁকে কেন্দ্র করেই তারা সবাই একত্রিত হবে। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَخْرُجَ رَجُلٌ مِنْ قَحْطَانَ يَسُوقُ النَّاسُ بِعَصَاهُ.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়েম হবে না যতক্ষণ না জনৈক ক্বাহ্তানী বের হয়; যিনি সবাইকে একচ্ছত্র নেতৃত্ব দিবেন। (বুখারী ৩৫১৭, ৭১১৭; মুসলিম ২৯১০)
📄 ইহুদিদের সাথে যুদ্ধ
ইহুদিদের সাথে যুদ্ধ কিয়ামতের আরেকটি আলামত। কারণ, শেষ যুগে ইহুদিরা হবে দাজ্জালের অনুসারী। আর মুসলমানরা হবে 'ঈসা (আঃ) এর অনুসারী। তখন মুসলমানরা 'ঈসা (আঃ) এর পক্ষ হয়ে ইহুদিদের সাথে যুদ্ধ করবে। এমনকি যে কোন ইহুদি কোন গাছ বা পাথরের পেছনে লুকিয়ে থাকলে সে গাছ বা পাথর বলবেঃ হে মুসলিম! হে আল্লাহ্'র বান্দাহ্! এই যে জনৈক ইহুদি আমার পেছনে লুকিয়ে আছে। আসো তাকে হত্যা করো।
সামুরাহ্ বিন্ জুন্দাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ একদা রাসূল (ﷺ) দাজ্জালের আলোচনা করতে গিয়ে বলেনঃ দাজ্জাল মু'মিনদেরকে বাইতুল মাকদিসে ঘেরাও করে রাখবে। তখন মু'মিনদের মাঝে এক ভারী প্রকম্পন সৃষ্টি হবে। অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা তাকে ও তার অনুসারীদেরকে ধ্বংস করে দিবেন। এমনকি যে কোন দেয়াল বা গাছ ডেকে ডেকে বলবেঃ হে মু'মিন! হে মুসলমান! এই যে ইহুদি। এই যে কাফির আমার পেছনে লুকিয়ে আছে। আসো তাকে হত্যা করো। (আহমাদ ৫/১৬)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يُقَاتِلَ الْمُسْلِمُوْنَ الْيَهُودَ، فَيَقْتُلُهُمُ الْمُسْلِمُونَ حَتَّى يَخْتَبِئَ الْيَهُودِيُّ مِنْ وَرَاءِ الْحَجَرِ وَالشَّجَرِ، فَيَقُولُ الْحَجَرُ أَوِ الشَّجَرُ : يَا مُسْلِمُ يَا عَبْدَ اللهِ! هَذَا يَهُودِيُّ خَلْفِي، فَتَعَالَ فَاقْتُلْهُ إِلَّا الْغَرْقَدَ، فَإِنَّهُ مِنْ شَجَرِ الْيَهُودِ.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না মুসলমানরা ইহুদিদের সাথে যুদ্ধ করবে। তখন মুসলমানরা ইহুদিদেরকে হত্যা করবে। এমনকি যে কোন ইহুদি কোন গাছ বা পাথরের পেছনে লুকিয়ে থাকলে সে গাছ বা পাথর বলবেঃ হে মুসলিম! হে আল্লাহ্'র বান্দাহ্! এই যে ইহুদি আমার পেছনে লুকিয়ে আছে। আসো তাকে হত্যা করো। কিন্তু গারক্বাদ নামক গাছটি। সে তো তাদেরই গাছ। তাই সে তাদের ব্যাপারে মুসলমানদেরকে কিছুই বলবে না। (বুখারী ২৯২৬; মুসলিম ২৯২২)
আবূ উমামাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (স) একদা আমাদের সামনে আলোচনা করছিলেন। তাঁর আলোচনার অধিকাংশই ছিলো দাজ্জাল সম্পর্কীয়। তিনি দাজ্জাল থেকে আমাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করলেন। দাজ্জালের আবির্ভাব, 'ঈসা (আ) এর অবতরণ এবং দাজ্জালকে হত্যা নিয়ে তিনি আলোচনা করছিলেন। আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি বলেনঃ একদা 'ঈসা (আ) বলবেনঃ (বাইতুল মাকদিসের) দরোজা খোলো। তখন দরোজা খোলা হবে। তাঁর পেছনে থাকবে দাজ্জাল এবং দাজ্জালের সাথে থাকবে সত্তর হাজার ইহুদি। তাদের প্রত্যেকেই থাকবে তলোয়ারধারী এবং মোটা ছাদর পরিহিত। দাজ্জাল যখনই 'ঈসা (আ) কে দেখবে তখনই সে চুপসে বা গলে যাবে যেমনিভাবে গলে যায় পানিতে লবন এবং সে ভাগতে শুরু করবে। তখন 'ঈসা (আ) বলবেনঃ তোমার জন্য আমার পক্ষ থেকে একটি কঠিন মার রয়েছে যা তুমি কখনো এড়াতে পারবে না। অতঃপর তিনি তাকে পূর্ব দিকের লুদ্দ নামক গেইটের পাশেই হত্যা করবেন। আর তখনই ইহুদিরা পরাজিত হবে। এ দুনিয়াতে আল্লাহ্ তা'আলার যে কোন সৃষ্টির পেছনে কোন ইহুদি লুকিয়ে থাকলে আল্লাহ্ তা'আলা সে বস্তুকে কথা বলার শক্তি দিবেন এবং বস্তুটি তার সম্পর্কে মুসলমানদেরকে বলে দিবে। চাই তা পাথর, গাছ, দেয়াল কিংবা যে কোন পশুই হোক না কেন। কিন্তু গারক্বাদ নামক গাছটি। সে তো তাদেরই গাছ। তাই সে তাদের ব্যাপারে মুসলমানদেরকে কিছুই বলবে না। (ইবনু মাজাহ্, হাদীস ৪০৭৭)