📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 ফোরাত নদীর তলদেশে স্বর্ণের পাহাড় আবির্ভূত হওয়া

📄 ফোরাত নদীর তলদেশে স্বর্ণের পাহাড় আবির্ভূত হওয়া


ফোরাত নদীর তলদেশে স্বর্ণের পাহাড় আবির্ভূত হওয়া কিয়ামতের আরেকটি আলামত।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يَحْسِرَ الْفُرَاتُ عَنْ جَبَلٍ مِنْ ذَهَبٍ، يَقْتَتِلُ النَّاسُ عَلَيْهِ، فَيُقْتَلُ مِنْ كُلِّ مِئَةٍ تِسْعَةٌ وَتِسْعُوْنَ، وَيَقُولُ كُلُّ رَجُلٍ مِنْهُمْ : لَعَلِّي أَكُوْنُ أَنَا الَّذِي أَنْجُو.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না ফোরাত নদীর তলদেশে স্বর্ণের পাহাড় আবির্ভূত হয় যার দখল নিয়ে মানুষ পরস্পর যুদ্ধে মেতে উঠবে এবং যার ভয়াবহ পরিণতিতে শতকরা নিরানব্বই জন মানুষই নিহত হবে। তাদের প্রত্যেকেরই একটি কথা, হয়তো বা আমিই বেঁচে যাবো। (মুসলিম ২৮৯৪)
এ অশুভ পরিণতির কথা খেয়াল করেই রাসূল () উক্ত পাহাড় থেকে কিছু সংগ্রহ করতে নিষেধ করেন।
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
يُوشِكُ الْفُرَاتُ أَنْ يَحْسِرَ عَنْ جَبَلٍ مِنْ ذَهَبٍ، فَمَنْ حَضَرَهُ فَلَا يَأْخُذْ مِنْهُ شَيْئًا.
অর্থাৎ অচিরেই ফোরাত নদীর তলদেশে স্বর্ণের পাহাড় আবির্ভূত হবে। কেউ সেখানে উপস্থিত থাকলে সে যেন কিছু না নেয়। (মুসলিম ২৮৯৪)

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 হিংস্র পশু ও জড় পদার্থের মানুষের সাথে কথা বলা

📄 হিংস্র পশু ও জড় পদার্থের মানুষের সাথে কথা বলা


হিংস্র পশু ও জড়ো পদার্থের মানুষের সাথে কথা বলা কিয়ামতের আরেকটি আলামত। জড়ো পদার্থ তখন বলে দিবে কার অনুপস্থিতিতে কি ঘটেছে। মানুষের উরু তখন বলে দিবে তার অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী কি করেছে।
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ একদা এক বাঘ জনৈক রাখালের পাশ দিয়ে যেতেই তার ছাগল পাল থেকে একটি ছাগল ছিনিয়ে নেয়। রাখাল বাঘটিকে তাড়িয়ে তার হাত থেকে ছাগলটিকে উদ্ধার করে। বাঘটি একটি টিলার উপর চড়ে লেজ গুটিয়ে বসে রাখালটিকে উদ্দেশ্য করে বললোঃ তুমি আমার রিযিকটুকু ছিনিয়ে নিলে যা আল্লাহ্ তা'আলা আমার জন্য ব্যবস্থা করেছেন। রাখালটি তা শুনে বললোঃ আল্লাহ্'র কসম! আমি আজকের মতো কখনো কোন বাঘকে মানুষের সঙ্গে কথা বলতে দেখিনি। বাঘটি বললোঃ এর চাইতে আরো আশ্চর্য হচ্ছে দু'টি মরু প্রান্ত রের মধ্যকার খেজুর গাছ বিশিষ্ট জনপদের সে জনৈক ব্যক্তি যিনি আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছায় পূর্বাপর সবকিছুই বলে দিতে পারেন। রাখালটি ছিলো ইহুদি। সে নবী () কে ঘটনাটি জানালে নবী () তাকে সত্যবাদী বলে আখ্যায়িত করেন। অতঃপর বলেনঃ
إِنَّهَا أَمَارَةٌ مِنْ أَمَارَاتٍ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ، قَدْ أَوْشَكَ الرَّجُلُ أَنْ يَخْرُجَ فَلَا يَرْجِعَ حَتَّى تُحَدِّثَهُ نَعْلَاهُ وَسَوْطُهُ مَا أَحْدَثَ أَهْلُهُ بَعْدَهُ.
অর্থাৎ এটি তো কিয়ামতের আলামতগুলোর একটি আলামত। অচিরেই এমন হবে যে, কোন ব্যক্তি ঘর থেকে বের হয়ে আবার ঘরে ফিরে আসলে তার জুতা ও হাতের ছড়ি বলে দিবে তার স্ত্রী তার অনুপস্থিতিতে কি করেছে। (আহমাদ, হাদীস ৮০৪৯)
আবূ সা'ঈদ খুদ্রীর বর্ণনায় রয়েছে,
صَدَقَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ ! لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يُكَلِّمَ السَّبَاعُ الْإِنْسَ، وَيُكَلِّمَ الرَّجُلَ عَذَبَةُ سَوْطِهِ وَشِرَاكَ نَعْلِهِ، وَيُخْبِرُهُ فَخِذُهُ بِمَا أَحْدَثَ أَهْلُهُ بَعْدَهُ.
অর্থাৎ সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন! লোকটি তো সত্য কথাই বলেছে। কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না হিংস্র পশু মানুষের সাথে কথা বলে, কোন ব্যক্তির ছড়ির মাথা ও জুতার পিতা তার সাথে কথা বলে এবং কোন ব্যক্তির উরু বলে দেয় তার স্ত্রী তার অনুপস্থিতিতে কি করেছে। (আহমাদ ৩/৮৩-৮৪)

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 কঠিন পরিস্থিতির দরুন নিজের মৃত্যু নিজেই কামনা করা

📄 কঠিন পরিস্থিতির দরুন নিজের মৃত্যু নিজেই কামনা করা


কঠিন পরিস্থিতির দরুন নিজের মৃত্যু নিজেই কামনা করা কিয়ামতের আরেকটি আলামত।
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يَمُرَّ الرَّجُلُ بِقَبْرِ الرَّجُلِ، فَيَقُولُ: يَا لَيْتَنِي مَكَانَهُ.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না কোন ব্যক্তি অন্যের কবরের পাশ দিয়ে যেতেই বলে উঠবেঃ আহ্! আমি যদি তার জায়গায় হতাম। (বুখারী ৭১১৫, ৭১২১; মুসলিম ১৫৭)
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ ! لَا تَذْهَبُ الدُّنْيَا حَتَّى يَمُرَّ الرَّجُلُ عَلَى الْقَبْرِ، فَيَتَمَرَّغُ عَلَيْهِ وَيَقُولُ: يَا لَيْتَنِي كُنْتُ مَكَانَ صَاحِبِ هَذَا الْقَبْرِ، وَلَيْسَ بِهِ الدِّينُ إِلَّا الْبَلَاءُ.
অর্থাৎ সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন! দুনিয়া নিঃশেষ হবে না যতক্ষণ না কোন পুরুষ কবরের পাশ দিয়ে যেতেই তার উপর গড়াগড়ি করে বলেঃ আহ্! আমি যদি কবরে শায়িত ব্যক্তিটির জায়গায় হতাম; অথচ এ কামনা ধর্মীয় কোন কারণে নয়। বরং তা হবে অধিক বিপদাপদের দরুন। (মুসলিম ১৫৭)

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 রোমানদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া এবং মুসলমানদের সঙ্গে তাদের যুদ্ধ করা

📄 রোমানদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া এবং মুসলমানদের সঙ্গে তাদের যুদ্ধ করা


কখনো কখনো জীবন পরিচালনার ক্লান্তি সহ্য করতে না পেরে কেউ কেউ দাজ্জালের আবির্ভাব কামনা করবে। 'হুযাইফাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ يَتَمَنَّوْنَ فِيْهِ الدَّجَّالَ، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ بِأَبِي وَأُتِي مِمَّ ذَاكَ؟ قَالَ: مِمَّا يَلْقَوْنَ مِنَ الْعَنَاءِ وَالْعَنَاءِ.
অর্থাৎ এমন এক সময় আসবে যখন মানুষ দাজ্জালের আবির্ভাব কামনা করবে। বর্ণনাকারী বলেনঃ আমি বললামঃ হে আল্লাহ্'র রাসূল ()! আমার মাতা-পিতা আপনার উপর কুরবান হোক! তা কেন হবে? রাসূল () বলেনঃ কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করতে না পেরে। (মাজমা'উয যাওয়ায়িদ ৭/২৮৪-২৮৫)
রোমানদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া এবং মুসলমানদের সঙ্গে তাদের যুদ্ধ করা কিয়ামতের আরেকটি আলামত। মুস্তাওরিদ কুরাশী থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ( ইরশাদ করেন:
.تَقُوْمُ السَّاعَةُ وَالرُّوْمُ أَكْثَرُ النَّاسِ
অর্থাৎ কিয়ামত যখন কায়িম হবে তখন রোমানরা থাকবে সংখ্যায় অনেক। (মুসলিম ২৮৯৮)
'আউফ্ বিন্ মালিক থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ( ইরশাদ করেনঃ
ثُمَّ هُدْنَةٌ تَكُونُ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ بَنِي الْأَصْفَرِ فَيَغْدِرُوْنَ، فَيَأْتُونَكُمْ تَحْتَ ثَمَانِينَ غَايَةٍ، تَحْتَ كُلِّ غَايَةٍ اثْنَا عَشَرَ أَلْفًا.
অতঃপর তোমাদের মাঝে ও রোমানদের মাঝে একটি চুক্তি সম্পাদিত হবে। কিন্তু তারা উক্ত চুক্তি ভঙ্গ করে আশিটি ঝাণ্ডার অধীনে যুদ্ধ করবে। প্রত্যেক ঝাণ্ডার অধীনে থাকবে বারো হাজার সৈন্য। (বুখারী ৩১৭৬)
নাফি' বিন্ 'উদ্বাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
تَغْزُونَ جَزِيرَةَ الْعَرَبِ فَيَفْتَحُهَا اللهُ، ثُمَّ فَارِسَ فَيَفْتَحُهَا اللهُ، ثُمَّ تَغْزُونَ الرُّوْمَ فَيَفْتَحُهَا اللهُ، ثُمَّ تَغْزُوْنَ الدَّجَّالَ فَيَفْتَحُهُ اللهُ، قَالَ: فَقَالَ نَافِعُ: يَا جَابِرُ لَا نَرَى الدَّجَّالَ يَخْرُجُ حَتَّى تُفْتَحَ الرُّوْمُ.
অর্থাৎ তোমরা আরব দ্বীপের সাথে যুদ্ধ করবে এবং আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদেরকে জয় দিবেন। তোমরা পারস্যের সাথে যুদ্ধ করবে এবং আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদেরকে জয় দিবেন। তোমরা রোমের সাথে যুদ্ধ করবে এবং আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদেরকে জয় দিবেন। অতঃপর তোমরা দাজ্জালের সাথে যুদ্ধ করবে এবং আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদেরকে জয় দিবেন। বর্ণনাকারী বলেনঃ নাফি' বললোঃ হে জাবির! আমাদের ধারণা, দাজ্জাল বেরুবে না যতক্ষণ না রোম পরাজিত হয়। (মুসলিম ২৯০০)
রোমানদের সাথে মুসলমানদের যুদ্ধের বিস্তারিত বিবরণ নিম্নে দেয়া হলোঃ
ইয়াসীর বিন্ জাবির থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ একদা কুফায় অগ্নিবায়ু দেখা দিলে জনৈক ব্যক্তি আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ্‌ কে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ হে আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'ঊদ্‌ ! কিয়ামত তো এসেই গেলো। তখনো আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'ঊদ্‌ হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলেন। এ কথা শুনে তিনি সোজা হয়ে বসে বললেনঃ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না মিরাস অবন্টিত থেকে যায়। যুদ্ধলব্ধ ধন-সম্পদ পেয়েও মানুষ অসন্তুষ্ট হয়। অতঃপর তিনি সিরিয়ার দিকে ইশারা করে বললেনঃ শত্রু একত্রিত হবে এবং মুসলমানরাও একত্রিত হবে। বর্ণনাকারী বলেনঃ আপনি কি রোমানদের কথা বলছেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। উক্ত যুদ্ধের সময় অস্ত্রের ভয়ঙ্কর প্রতিধ্বনি বহু দূর থেকে শুনা যাবে। তখন মুসলমানরা মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত এমন একটি সেনা দল তৈরি করবে। যারা জয়যুক্ত না হয়ে ঘরে ফিরবে না। যুদ্ধ চলতে থাকবে। আর ইতিমধ্যে রাত্রি এসে যাবে। তখন এরাও নিজ তাঁবুতে ফিরে আসবে এবং ওরাও নিজ তাঁবুতে ফিরে যাবে। পরিস্থিতি এমন হবে যে, তখনো কেউ কারোর উপর জয়যুক্ত হতে পারেনি। এ দিকে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত সেনা দলটি নিঃশেষ হয়ে যাবে। তখন মুসলমানরা মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত এমন আরেকটি সেনা দল তৈরি করবে। যারা জয়যুক্ত না হয়ে ঘরে ফিরবে না। যুদ্ধ চলতে থাকবে। আর ইতিমধ্যে রাত্রি এসে যাবে। তখন এরাও নিজ তাঁবুতে ফিরে আসবে এবং ওরাও নিজ তাঁবুতে ফিরে যাবে। পরিস্থিতি এমন হবে যে, তখনো কেউ কারোর উপর জয়যুক্ত হতে পারেনি। এ দিকে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত সেনা দলটি নিঃশেষ হয়ে যাবে। তখন মুসলমানরা মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত এমন আরেকটি সেনা দল তৈরি করবে। যারা জয়যুক্ত না হয়ে ঘরে ফিরবে না। যুদ্ধ চলতে থাকবে। আর ইতিমধ্যে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। তখন এরাও নিজ তাঁবুতে ফিরে আসবে এবং ওরাও নিজ তাঁবুতে ফিরে যাবে। পরিস্থিতি এমন হবে যে, তখনো কেউ কারোর উপর জয়যুক্ত হতে পারেনি। এ দিকে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত সেনা দলটি নিঃশেষ হয়ে যাবে। যখন চতুর্থ দিন হবে তখন বাকি সব মুসলমান শত্রুর উপর একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়বে। তবে তারা এ যুদ্ধেও পরাজিত হবে। তারা এমন এক যুদ্ধে মেতে উঠবে যা ইতিপূর্বে কখনো দেখা যায়নি। এমনকি কোন পাখি তাদেরকে অতিক্রম করতে না করতেই সে মরে গিয়ে নিচে পড়বে। তখন একই বংশের একশত জন গণে দেখা যাবে তাদের মধ্যে একজনই বেঁচে আছে। তখন যুদ্ধ লব্ধ সম্পদ নিয়ে খুশি হওয়ারই বা কি থাকবে এবং কোন্ উত্তরাধিকার সম্পদই বা বন্টন করা হবে।
এমতাবস্থায় তারা আরো এক কঠিন বিপদের কথা শুনতে পাবে। তারা শুনতে পাবে, দাজ্জাল তাদের স্ত্রী-সন্তানদের উপর এক ভীষণ তাণ্ডবলীলা চালাচ্ছে। তখন তারা সবকিছু ফেলে রেখেই ওদিকে দৌড়াতে থাকবে। সর্ব প্রথম তারা তাদের মধ্য থেকে দশ জন অগ্রগামী অশ্বারোহী পাঠাবে। রাসূল () বলেনঃ আমি তাদের নাম এবং তাদের বাপ-দাদার নামও জানি। এমনকি তাদের ঘোড়ার রংও এবং তারাই হবে সে যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ অশ্বারোহী। (মুসলিম ২৮৯৯)
উপরোল্লিখিত যুদ্ধ সংঘটিত হবে সিরিয়া ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহে দাজ্জাল বেরুবার কিছু কাল আগেই। তবে রোমানদের উপর মুসলমানদের বিজয় কুস্তানত্বীনিয়‍্যাহ্ তথা ইস্তাম্বুল শহর বিজয়েরই সূচনা সংকেত।
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না রোমানরা আ'মাকু ও দাবিকু নামক এলাকাদ্বয়ে অবস্থান করবে। তখন মদীনা থেকে একটি সেনাদল তাদের উদ্দেশ্যে বেরুবে। তারাই হবে সে যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ। যখন তারা পরস্পর যুদ্ধের জন্য মুখোমুখী হবে তখন রোমানরা বলবেঃ তোমরা ওসকল ব্যক্তিদেরকে আমাদের হাতে তুলে দাও যারা ইতিপূর্বে আমাদের মধ্য থেকেই ধর্মান্তরিত হয়েছে। আমরা তাদের সাথেই যুদ্ধ করবো। তখন মুসলমানরা বলবেঃ না, তা হতে পারে না। আল্লাহ্'র কসম! আমরা আমাদের মুসলমান ভাইদেরকে তোমাদের হাতে তুলে দিতে পারবো না।
তখন তাদের পরস্পরের মধ্যে এক ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হবে। তাতে মুসলমানদের এক তৃতীয়াংশ সৈন্য পরাজিত হবে যাদের তাওবা আল্লাহ্ তা'আলা কখনো কবুল করবেন না। আরেক তৃতীয়াংশ সৈন্যকে হত্যা করা হবে যারা হবে আল্লাহ্ তা'আলার নিকট সর্বশ্রেষ্ঠ শহীদ এবং আরেক তৃতীয়াংশ সৈন্য যুদ্ধে জয়লাভ করবে যারা আর কখনো পরীক্ষার সম্মুখীন হবে না। তখন তারা কুস্তানত্বীনিয়্যাহ্ তথা ইস্তাম্বুল শহর বিজয় করবে।
যখন তারা নিজেদের তলোয়ারগুলো যায়তুন গাছে টাঙ্গিয়ে যুদ্ধ লব্ধ সম্পদগুলো নিজেদের মধ্যে বন্টন করবে তখনই শয়তান চিৎকার দিয়ে বলবেঃ দাজ্জাল তো তোমাদের স্ত্রী-সন্তানদের উপর এক ভীষণ তাণ্ডবলীলা চালাচ্ছে। তখন তারা দ্রুত তার উদ্দেশ্যে বের হবে; অথচ কথাটি একটি গুজব মাত্র। যখন মুসলমানরা সিরিয়ায় পৌঁছুবে তখনই দাজ্জাল বেরুবে। যখন তারা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিবে এবং সবাই সারিবদ্ধ হবে তখনই নামাযের ইক্বামাত দেয়া হবে এবং ঈসা (আঃ) অবতীর্ণ হবেন।
আবূ দ্দারদা' (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
إِنَّ فُسْطَاطَ الْمُسْلِمِينَ يَوْمَ الْمَلْحَمَةِ فِي أَرْضِ بِالْغُوْطَةِ فِي مَدِينَةٍ يُقَالُ لَهَا دِمَشْقُ مِنْ خَيْرِ مَدَائِنِ الشَّامِ.
অর্থাৎ সে মহা যুদ্ধের দিনে মুসলমানদের বসতি হবে নিম্ন ভূমিতে তথা দামেস্ক শহরে। যা তখনকার শ্রেষ্ঠ শহরগুলোর অন্যতম। (আবু দাউদ/আউন ১১/৪০৬)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00