📄 বেশি বৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও জমিনে ফলন কম হওয়া
বেশি বৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও জমিনে ফলন কম হওয়া কিয়ামতের আরেকটি আলামত।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى تُمْطِرَ السَّمَاءُ مَطَرًا، لَا تُكِنُّ مِنْهَا بُيُوتُ الْمَدَرِ، وَلَا تُكِنُّ مِنْهَا إِلَّا بُيُوتُ الشَّعْرِ.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না আকাশ প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করে। তা থেকে মাটির ঘর কিছুতেই রক্ষা করতে পারবে না। তবে তখনকার তাঁবু এবং বর্তমান যুগের পাকা ঘরই তা থেকে রক্ষা করতে পারবে। (আহমাদ ১৩/২৯১)
আনাস্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يُمْطَرَ النَّاسُ مَطَرًا عَامًّا، وَلَا تُنْبِتُ الْأَرْضُ شَيْئًا.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না ভারী বর্ষণ হয়। তবে সে বৃষ্টিতে জমিন কোন কিছুই ফলাবে না। (আহমাদ ৩/১৪০)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
لَيْسَتِ السَّنَةُ بِأَنْ لَا تُمْطَرُوْا، وَلَكِنِ السَّنَةُ أَنْ تُمْطَرُوا وَتُمْطَرُوْا، وَلَا تُنْبِتُ الْأَرْضُ شَيْئًا.
অর্থাৎ দুর্ভিক্ষ মানে বৃষ্টি না হওয়া নয়। বরং অচিরেই এমন দুর্ভিক্ষ আসবে যখন বৃষ্টি হতেই থাকবে। তবে জমিন তখন কোন কিছুই ফলাবে না। (মুসলিম ২৯০৪)
📄 ফোরাত নদীর তলদেশে স্বর্ণের পাহাড় আবির্ভূত হওয়া
ফোরাত নদীর তলদেশে স্বর্ণের পাহাড় আবির্ভূত হওয়া কিয়ামতের আরেকটি আলামত।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يَحْسِرَ الْفُرَاتُ عَنْ جَبَلٍ مِنْ ذَهَبٍ، يَقْتَتِلُ النَّاسُ عَلَيْهِ، فَيُقْتَلُ مِنْ كُلِّ مِئَةٍ تِسْعَةٌ وَتِسْعُوْنَ، وَيَقُولُ كُلُّ رَجُلٍ مِنْهُمْ : لَعَلِّي أَكُوْنُ أَنَا الَّذِي أَنْجُو.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না ফোরাত নদীর তলদেশে স্বর্ণের পাহাড় আবির্ভূত হয় যার দখল নিয়ে মানুষ পরস্পর যুদ্ধে মেতে উঠবে এবং যার ভয়াবহ পরিণতিতে শতকরা নিরানব্বই জন মানুষই নিহত হবে। তাদের প্রত্যেকেরই একটি কথা, হয়তো বা আমিই বেঁচে যাবো। (মুসলিম ২৮৯৪)
এ অশুভ পরিণতির কথা খেয়াল করেই রাসূল () উক্ত পাহাড় থেকে কিছু সংগ্রহ করতে নিষেধ করেন।
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
يُوشِكُ الْفُرَاتُ أَنْ يَحْسِرَ عَنْ جَبَلٍ مِنْ ذَهَبٍ، فَمَنْ حَضَرَهُ فَلَا يَأْخُذْ مِنْهُ شَيْئًا.
অর্থাৎ অচিরেই ফোরাত নদীর তলদেশে স্বর্ণের পাহাড় আবির্ভূত হবে। কেউ সেখানে উপস্থিত থাকলে সে যেন কিছু না নেয়। (মুসলিম ২৮৯৪)
📄 হিংস্র পশু ও জড় পদার্থের মানুষের সাথে কথা বলা
হিংস্র পশু ও জড়ো পদার্থের মানুষের সাথে কথা বলা কিয়ামতের আরেকটি আলামত। জড়ো পদার্থ তখন বলে দিবে কার অনুপস্থিতিতে কি ঘটেছে। মানুষের উরু তখন বলে দিবে তার অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী কি করেছে।
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ একদা এক বাঘ জনৈক রাখালের পাশ দিয়ে যেতেই তার ছাগল পাল থেকে একটি ছাগল ছিনিয়ে নেয়। রাখাল বাঘটিকে তাড়িয়ে তার হাত থেকে ছাগলটিকে উদ্ধার করে। বাঘটি একটি টিলার উপর চড়ে লেজ গুটিয়ে বসে রাখালটিকে উদ্দেশ্য করে বললোঃ তুমি আমার রিযিকটুকু ছিনিয়ে নিলে যা আল্লাহ্ তা'আলা আমার জন্য ব্যবস্থা করেছেন। রাখালটি তা শুনে বললোঃ আল্লাহ্'র কসম! আমি আজকের মতো কখনো কোন বাঘকে মানুষের সঙ্গে কথা বলতে দেখিনি। বাঘটি বললোঃ এর চাইতে আরো আশ্চর্য হচ্ছে দু'টি মরু প্রান্ত রের মধ্যকার খেজুর গাছ বিশিষ্ট জনপদের সে জনৈক ব্যক্তি যিনি আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছায় পূর্বাপর সবকিছুই বলে দিতে পারেন। রাখালটি ছিলো ইহুদি। সে নবী () কে ঘটনাটি জানালে নবী () তাকে সত্যবাদী বলে আখ্যায়িত করেন। অতঃপর বলেনঃ
إِنَّهَا أَمَارَةٌ مِنْ أَمَارَاتٍ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ، قَدْ أَوْشَكَ الرَّجُلُ أَنْ يَخْرُجَ فَلَا يَرْجِعَ حَتَّى تُحَدِّثَهُ نَعْلَاهُ وَسَوْطُهُ مَا أَحْدَثَ أَهْلُهُ بَعْدَهُ.
অর্থাৎ এটি তো কিয়ামতের আলামতগুলোর একটি আলামত। অচিরেই এমন হবে যে, কোন ব্যক্তি ঘর থেকে বের হয়ে আবার ঘরে ফিরে আসলে তার জুতা ও হাতের ছড়ি বলে দিবে তার স্ত্রী তার অনুপস্থিতিতে কি করেছে। (আহমাদ, হাদীস ৮০৪৯)
আবূ সা'ঈদ খুদ্রীর বর্ণনায় রয়েছে,
صَدَقَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ ! لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يُكَلِّمَ السَّبَاعُ الْإِنْسَ، وَيُكَلِّمَ الرَّجُلَ عَذَبَةُ سَوْطِهِ وَشِرَاكَ نَعْلِهِ، وَيُخْبِرُهُ فَخِذُهُ بِمَا أَحْدَثَ أَهْلُهُ بَعْدَهُ.
অর্থাৎ সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন! লোকটি তো সত্য কথাই বলেছে। কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না হিংস্র পশু মানুষের সাথে কথা বলে, কোন ব্যক্তির ছড়ির মাথা ও জুতার পিতা তার সাথে কথা বলে এবং কোন ব্যক্তির উরু বলে দেয় তার স্ত্রী তার অনুপস্থিতিতে কি করেছে। (আহমাদ ৩/৮৩-৮৪)
📄 কঠিন পরিস্থিতির দরুন নিজের মৃত্যু নিজেই কামনা করা
কঠিন পরিস্থিতির দরুন নিজের মৃত্যু নিজেই কামনা করা কিয়ামতের আরেকটি আলামত।
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يَمُرَّ الرَّجُلُ بِقَبْرِ الرَّجُلِ، فَيَقُولُ: يَا لَيْتَنِي مَكَانَهُ.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না কোন ব্যক্তি অন্যের কবরের পাশ দিয়ে যেতেই বলে উঠবেঃ আহ্! আমি যদি তার জায়গায় হতাম। (বুখারী ৭১১৫, ৭১২১; মুসলিম ১৫৭)
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ ! لَا تَذْهَبُ الدُّنْيَا حَتَّى يَمُرَّ الرَّجُلُ عَلَى الْقَبْرِ، فَيَتَمَرَّغُ عَلَيْهِ وَيَقُولُ: يَا لَيْتَنِي كُنْتُ مَكَانَ صَاحِبِ هَذَا الْقَبْرِ، وَلَيْسَ بِهِ الدِّينُ إِلَّا الْبَلَاءُ.
অর্থাৎ সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন! দুনিয়া নিঃশেষ হবে না যতক্ষণ না কোন পুরুষ কবরের পাশ দিয়ে যেতেই তার উপর গড়াগড়ি করে বলেঃ আহ্! আমি যদি কবরে শায়িত ব্যক্তিটির জায়গায় হতাম; অথচ এ কামনা ধর্মীয় কোন কারণে নয়। বরং তা হবে অধিক বিপদাপদের দরুন। (মুসলিম ১৫৭)