📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 মানুষের মাঝে শত্রুতা ও পরস্পর সম্পর্কহীনতা

📄 মানুষের মাঝে শত্রুতা ও পরস্পর সম্পর্কহীনতা


মানুষে মানুষে শত্রুতা ও পরস্পর সম্পর্কহীনতা কিয়ামতের আরেকটি আলামত। 'হুযাইফাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ একদা রাসূল () কে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ
عِلْمُهَا عِنْدَ رَبِّي لَا يُجَلِّيْهَا لِوَقْتِهَا إِلَّا هُوَ، وَلَكِنْ أُخْبِرُكُمْ بِمَشَارِيطِهَا، وَمَا يَكُونُ بَيْنَ يَدَيْهَا، إِنَّ بَيْنَ يَدَيْهَا فِتْنَةٌ وَهَرْجًا، قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ الْفِتْنَةُ قَدْ عَرَفْنَاهَا، فَالْهَرْجُ مَا هُوَ؟ قَالَ : بِلِسَانِ الْحَبَشَةِ : الْقَتْلُ، وَيُلْقَى بَيْنَ النَّاسِ التَّنَاكُرُ، فَلَا يَكَادُ أَحَدٌ أَنْ يَعْرِفَ أَحَدًا.
অর্থাৎ কিয়ামতের জ্ঞান তো একমাত্র আমার প্রভুর নিকটেই। সময় মতো তা উদ্ভাসিত করবেন একমাত্র তিনিই। তবে আমি তোমাদেরকে কিয়ামতের কিছু আলামত বলবো। যা কিয়ামতের পূর্বেই দেখা দিবে। কিয়ামতের পূর্বে দেখা দিবে ফিতনা এবং হারজ। সাহাবাগণ বললেনঃ হে আল্লাহ্'র রাসূল! ফিতনা তো বুঝলাম। কিন্তু হারজ কি? রাসূল () বললেনঃ ইথিওপীয়দের ভাষায় হারজ মানে হত্যা। আর তখন মানুষের মাঝে সম্পর্কহীনতা ঢেলে দেয়া হবে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে দাঁড়াবে যে, তখন কেউ আর কাউকে চিনবে না। (আহমাদ ৫/৩৮৯)
বর্তমান যুগে প্রতিটি ব্যক্তি সর্বদা নিজের লাভকেই অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। যথাসম্ভব সে অন্যের লাভকে এতটুকুও গুরুত্ব দিতে চায় না। তাই একের উপর অন্যের বিশ্বাস এখন তিরোহিত প্রায়। ভাবখানা এমন যে কেউ আর এখন কাউকে চিনে না।

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 আরব ভূমি নদ-নদী ও রবিশস্যে ভরে যাওয়া

📄 আরব ভূমি নদ-নদী ও রবিশস্যে ভরে যাওয়া


আরব ভূমি নদ-নদী ও রবিশস্যে ভরে যাওয়া কিয়ামতের আরেকটি আলামত।
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يَكْثُرَ الْمَالُ وَيَفِيضَ، حَتَّى يَخْرُجَ الرَّجُلُ بِزَكَاةِ مَالِهِ فَلَا يَجِدُ أَحَدًا يَقْبَلُهَا مِنْهُ، وَحَتَّى تَعُودَ أَرْضُ الْعَرَبِ مُرُوجًا وَأَنْهَارًا.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না মানুষের ধন-সম্পদ অত্যধিক হারে বেড়ে যায়, যতক্ষণ না এমন পরিস্থিতি হয় যে, জনৈক ব্যক্তি তার সম্পদের যাকাত নিয়ে ঘর থেকে বের হবে; অথচ সে এমন কোন লোক খুঁজে পাবে না যে তার পক্ষ থেকে যাকাতটুকু গ্রহণ করবে, যতক্ষণ না আরব ভূমি নদ-নদী ও শস্যে ভরে যায়। (মুসলিম ১৫৭)
মু'আয বিন জাবাল্) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমরা একদা তাবুক যুদ্ধের বছর রাসূল () এর সাথে সফরে বের হয়েছি। তখন তিনি দু' নামায একত্রে পড়তেন। যুহর-আসর একত্রে পড়তেন এবং মাগরিব-'ইশাও একত্রে পড়তেন। একদা তিনি নামায পড়তে দেরি করলেন। অতঃপর তিনি তাঁবু থেকে বের হয়ে যুহর-আসর একত্রে পড়ালেন। পুনরায় তাঁবুতে ঢুকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে আবার বের হয়ে মাগরিব-'ইশা একত্রে পড়ালেন। অতঃপর বললেনঃ
إِنَّكُمْ سَتَأْتُونَ غَدًا إِنْ شَاءَ اللَّهُ عَيْنَ تَبُوكَ، وَإِنَّكُمْ لَنْ تَأْتُوهَا حَتَّى يُضْحِيَ النَّهَارُ، فَمَنْ جَاءَهَا مِنْكُمْ فَلَا يَمَسَّ مِنْ مَائِهَا شَيْئًا حَتَّى آتِي، فَجِئْنَاهَا، وَقَدْ سَبَقَنَا إِلَيْهَا رَجُلَانِ، وَالْعَيْنُ مِثْلُ الشَّرَاكِ تَبِضُ بِشَيْءٍ مِنْ مَاءٍ، قَالَ: فَسَأَلَهُمَا رَسُولُ اللهِ ﷺ: هَلْ مَسَسْتُمَا مِنْ مَائِهَا شَيْئًا ۚ قَالَا : نَعَمْ، فَسَبَّهُمَا النَّبِيُّ ﷺ ، وَقَالَ لَهُمَا مَا شَاءَ اللهُ أَنْ يَقُولَ، قَالَ: ثُمَّ غَرَفُوا بِأَيْدِيهِمْ مِنَ الْعَيْنِ قَلِيلًا قَلِيلًا، حَتَّى اجْتَمَعَ فِي شَيْءٍ، قَالَ: وَغَسَلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فِيهِ يَدَيْهِ وَوَجْهَهُ، ثُمَّ أَعَادَهُ فِيهَا ، فَجَرَتِ الْعَيْنُ بِمَاءٍ مُنْهَمِرٍ، حَتَّى اسْتَقَى النَّاسُ، ثُمَّ قَالَ: يَا مُعَاذَا إِنْ طَالَتْ بِكَ حَيَاةً أَنْ تَرَى مَا هَاهُنَا قَدْ مُلِئَ جِنَانًا.
অর্থাৎ তোমরা আগামী কাল তাবুক কূপে পৌঁছুবে। তোমরা সেখানে পৌঁছতে পৌঁছুতে সূর্য তখন আকাশে অনেক দূর উঠে যাবে। তোমাদের কেউ সেখানে পৌঁছুলে সে যেন উক্ত কুয়ার পানি এতটুকুও স্পর্শ না করে যতক্ষণ না আমি সেখানে পৌঁছোই। বর্ণনাকারী বলেনঃ আমরা সেখানে পৌঁছলাম। তবে আমাদের পূর্বেই সেখানে দু' জন লোক পৌঁছে যায়। কুয়োটি ছিলো এতোই সংকীর্ণ যেন জুতোর ফিতা। তা থেকে একটু একটু পানি বেরুচ্ছিলো। রাসূল (ﷺ) লোক দু'টিকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমরা কি ইতিপূর্বে এ কুয়োর পানি স্পর্শ করছিলে? তারা বললোঃ হ্যাঁ। অতঃপর রাসূল (ﷺ) তাদেরকে মন্দ-শক্ত যাই বলার বললেন। বর্ণনাকারী বলেনঃ অতঃপর সাহাবায়ে কিরাম নিজ নিজ হাতে কুয়ো থেকে একটু একটু পানি উঠাচ্ছিলেন এবং তা একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখছিলেন। রাসূল (ﷺ) তাতে তাঁর হাত ও চেহারা ধুয়ে পানিটুকু আবার কুয়োতে ঢেলে দেন। তাতে করে উক্ত কুয়ো থেকে প্রচুর পানি বের হতে শুরু করে। এমনকি সবাই নিজ নিজ প্রয়োজনীয় পানি সেখান থেকেই সংগ্রহ করে। অতঃপর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ হে মু'আহ্! তুমি আরো বয়স পেলে দেখবে অত্র এলাকা বাগ-বাগিচায় ভরে গেছে। (মুসলিম ৭০৬)

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 বেশি বৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও জমিনে ফলন কম হওয়া

📄 বেশি বৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও জমিনে ফলন কম হওয়া


বেশি বৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও জমিনে ফলন কম হওয়া কিয়ামতের আরেকটি আলামত।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى تُمْطِرَ السَّمَاءُ مَطَرًا، لَا تُكِنُّ مِنْهَا بُيُوتُ الْمَدَرِ، وَلَا تُكِنُّ مِنْهَا إِلَّا بُيُوتُ الشَّعْرِ.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না আকাশ প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করে। তা থেকে মাটির ঘর কিছুতেই রক্ষা করতে পারবে না। তবে তখনকার তাঁবু এবং বর্তমান যুগের পাকা ঘরই তা থেকে রক্ষা করতে পারবে। (আহমাদ ১৩/২৯১)
আনাস্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يُمْطَرَ النَّاسُ مَطَرًا عَامًّا، وَلَا تُنْبِتُ الْأَرْضُ شَيْئًا.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না ভারী বর্ষণ হয়। তবে সে বৃষ্টিতে জমিন কোন কিছুই ফলাবে না। (আহমাদ ৩/১৪০)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
لَيْسَتِ السَّنَةُ بِأَنْ لَا تُمْطَرُوْا، وَلَكِنِ السَّنَةُ أَنْ تُمْطَرُوا وَتُمْطَرُوْا، وَلَا تُنْبِتُ الْأَرْضُ شَيْئًا.
অর্থাৎ দুর্ভিক্ষ মানে বৃষ্টি না হওয়া নয়। বরং অচিরেই এমন দুর্ভিক্ষ আসবে যখন বৃষ্টি হতেই থাকবে। তবে জমিন তখন কোন কিছুই ফলাবে না। (মুসলিম ২৯০৪)

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 ফোরাত নদীর তলদেশে স্বর্ণের পাহাড় আবির্ভূত হওয়া

📄 ফোরাত নদীর তলদেশে স্বর্ণের পাহাড় আবির্ভূত হওয়া


ফোরাত নদীর তলদেশে স্বর্ণের পাহাড় আবির্ভূত হওয়া কিয়ামতের আরেকটি আলামত।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يَحْسِرَ الْفُرَاتُ عَنْ جَبَلٍ مِنْ ذَهَبٍ، يَقْتَتِلُ النَّاسُ عَلَيْهِ، فَيُقْتَلُ مِنْ كُلِّ مِئَةٍ تِسْعَةٌ وَتِسْعُوْنَ، وَيَقُولُ كُلُّ رَجُلٍ مِنْهُمْ : لَعَلِّي أَكُوْنُ أَنَا الَّذِي أَنْجُو.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না ফোরাত নদীর তলদেশে স্বর্ণের পাহাড় আবির্ভূত হয় যার দখল নিয়ে মানুষ পরস্পর যুদ্ধে মেতে উঠবে এবং যার ভয়াবহ পরিণতিতে শতকরা নিরানব্বই জন মানুষই নিহত হবে। তাদের প্রত্যেকেরই একটি কথা, হয়তো বা আমিই বেঁচে যাবো। (মুসলিম ২৮৯৪)
এ অশুভ পরিণতির কথা খেয়াল করেই রাসূল () উক্ত পাহাড় থেকে কিছু সংগ্রহ করতে নিষেধ করেন।
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
يُوشِكُ الْفُرَاتُ أَنْ يَحْسِرَ عَنْ جَبَلٍ مِنْ ذَهَبٍ، فَمَنْ حَضَرَهُ فَلَا يَأْخُذْ مِنْهُ شَيْئًا.
অর্থাৎ অচিরেই ফোরাত নদীর তলদেশে স্বর্ণের পাহাড় আবির্ভূত হবে। কেউ সেখানে উপস্থিত থাকলে সে যেন কিছু না নেয়। (মুসলিম ২৮৯৪)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00